কিঞ্চিৎ রস

ঘোষনাঃ সত্যিকার ঘটনার চরিত্রের সাথে নামের কোন মিল নেই।

 

ক্লাস সেভেন। মামুন আর দিনার রুমে টেবিল টেনিস খেলে ধরা খেল প্রচন্ড কড়া টিচার আনিস ফিরোজা ম্যাডামের কাছে। ম্যাডামের আবার একটু গুন্ডামী করার মানে পিঠে দুই চারটা দেবার অভ্যাস আছে। মামুন দেখলো কপালে মার নিশ্চিত। তো একা খাবে কেন? সাথে সাথে করুণ সুরে বলল, ম্যাডাম, আমাদের কোন দোষ নাই, আসিফ আমাদের শিখিয়ে দিয়ে রুমে খেলতে বলেছে। সাথে সাথে আসিফের ডাক। আসিফ আসা মাত্র ম্যাডাম বেত হাতে যেন ঝাপিয়ে পড়লেন, ‘একা দুষ্টামি করে পোষায় না? ক্লাসের সব গুলোকে বাদর বানানো হচ্ছে’।  আতঙ্কিত আসিফ, “ ম্যাডাম আমি কি করলাম? ম্যাডাম আমি কি করলাম?”

 

আন্তঃ হাউস ক্রিকেট টুর্নামেন্টে আমাদের মেহেদী উইকেট কিপার। প্রতিপক্ষ এক পর্যায়ে বুঝে গিয়েছে এই ভাবে ব্যাটে বলে করে রান নেবার চেষ্টা করার চেয়ে বল ছেড়ে দেয়াই উত্তম। উইকেট কিপারের কাছ দিয়ে বল গেলে চার হবার সম্ভাবনা আছে। চার না হলেও দুই রান তো দৌড়ে নিতেই পারে ব্যাটসম্যানরা।

 

রুমে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে। গার্ড রাখা হয়েছে আরিফ কে। স্যার অথবা প্রিফেক্টরা আসলে যাতে সতর্ক করে। তুমুল উত্তেজনা।  কিসের গার্ড  কিসের কি? আরিফ মনোযোগ দিয়ে খেলা দেখছে। এমন সময়ে শাহাদাত স্যার এসে ধরে ফেললেন। কিন্তু স্যার সবাইকে সতর্ক করে দিয়েই চলে গেলেন, কিছু বললেন না। খেলতে নিষেধ করে গেলেন শুধু। কে শোনে কার কথা? তুমুল উৎসাহে আবার খেলা শুরু হলো। কিন্তু খুব সতর্ক ভাবে। পালাক্রমে আবারো আরিফ গার্ডে। কিছুক্ষন খেলার পর কে যেন বলল, আরিফ দেখ স্যার আসে কিনা। আরিফ না দেখেই, আরে খেল বেটা, ভয় পাস ক্যা? সাথে সাথে আমরা আবিষ্কার করলাম, শাহাদাত স্যার আরিফের কান ধরে বলছেন, আরে খেল বেটা, ভয় পাস ক্যা?

 

ব্লকে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে। খাটের কাঠ ভেঙ্গে ব্যাট আর মোজা দিয়ে বল বানানো হয়েছে। অনেকেই খেলছে। কলেজ প্রিফেক্ট রাফি ভাই হঠাৎ করে হাজির। সবাই যে যার মত দৌড় দিয়ে নিজেদের লুকিয়ে ফেলেছে। মামুন পড়েছে সামনে। স্তুপ করা জুতা দেখিয়ে, সবাই গেলো কই? স্বভাবসিদ্ধ উত্তর, জানি না ভাইয়া। অত্যন্ত ভালো মানুষ রাফি ভাই শুধু বলে গেলেন, এই খেলিস না, স্যারেরা আসলে পানিশমেন্ট খাবি কিন্তু। আবার খেলা শুরু হল। চিৎকার চেঁচামেচিতে আবার রাফি ভাইয়ের আগমন। এসে সবাইকে বকা ঝকা করে ব্যাট হাতে নিয়ে মামুনকে বল দিয়ে বললেন, এই বল কর।

 

ক্লাস সেভেনে কালচারাল শো’র জন্য কে কি করবে ঠিক করা হচ্ছে। জুনিয়র প্রিফেক্ট জিজ্ঞাসা করলেন কে কে গান গাইবে? কেউ কোন কথা বলছে না। একমাত্র আলীম হাত তুলেছে। প্রিফেক্ট জিজ্ঞাসা করলেন, কি গান গাবা? সাথে সাথে চাপাই নবাবগঞ্জের আলীম চোখ বন্ধ করে নতুন কুড়ি স্টাইলে কাঁধ নাড়িয়ে গাওয়া শুরু করলো, শালাম শালাম হাজার শালাম…

 

আফটারনুন প্রেপ হচ্ছে। সাধারনত এই প্রেপে ক্যাডেটদের পড়াশুনার চেয়ে মাথায় থাকে কখন বেল বাজবে আর দৌড়ে মাঠে গিয়ে খেলবে। সেদিন আকাশ মেঘলা, বৃষ্টির ছিটেফোঁটাও পড়ছে। বৃষ্টি দেখার জন্য কামরুল যেই না জানালা দিয়ে বাইরে হাত দিয়েছে, অমনি একটা কাকের মুত্রত্যাগ। একদম হাতের উপর। পাশে থেকে কে যেন জিজ্ঞাসা করেছে, কি কামরুল বৃষ্টি হয় নাকি?

 

বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আমি পোল ভোল্টে  ৫ ফিট পার হতে পারি নাই। কিছুক্ষন আগে একজন হাই জাম্প দিয়ে ৫ ফিট ৬ ইঞ্ছি পার হয়ে গিয়েছিল।

 

আমি বাথরুমে সবে ঢুকেছি। এক সিনিয়র ভাই আমার পরে সিরিয়াল দিবেন বলে বললেন, ঃভিতরে কে?

আমি একটু মজা করার জন্য বললাম,

ঃভাইয়া আমি।

ঃআমি কে?

ঃ আপনি কে আমি কিভাবে বলবো?

সিনিয়র ভাই নিঃশব্দে বাথরুম ত্যাগ করে চলে গেলেন।

 

কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের ঘটনা। পুকুর পাড়ে নারকেল গাছের ভাঙ্গা ডাল ঝুলছে। ক্লাস সেভেনের ক্যাডেটরা সেই ডাল ধরে ঝোলাঝুলি করে। একদিন সবাই গেমস টাইমে ঝুলেছে। শারেক (ছদ্ম নাম) যেই না ঝুলেছে এডজুটেন্ট স্যার দেখে ফেললেন। সবাই দৌড় দিয়ে পালিয়েছে। শারেক অতীব ভদ্রছেলের মত হেটে হেটে চলে যাচ্ছিল। স্যার ডাকলেন। কাছে আসা মাত্র ঠাস করে এক চড় লাগালেন।

ঃ স্যার আমি ডালে ঝুলিনি।

আরেক চড়। ‘এম্নিতেই চেইন খোলা, তার উপর আবার আন্ডারওয়ার পড়ে নাই। আবার আর্গু করে।‘

১,৫৩৭ বার দেখা হয়েছে

১৫ টি মন্তব্য : “কিঞ্চিৎ রস”

  1. সামিউল(২০০৪-১০)

    ব্যাপক মজা পাইলাম ভাই। 😀 =))

    এইডা বেশি মারাত্মক ছিল...

    এম্নিতেই চেইন খোলা, তার উপর আবার আন্ডারওয়ার পড়ে নাই। আবার আর্গু করে।


    ... কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে!

    জবাব দিন
  2. মোকাব্বির (৯৮-০৪)
    প্রচন্ড কড়া টিচার আনিস ফিরোজা ম্যাডামের কাছে।

    মানতে পারলাম না। এই মহিলার সবকিছু মুখে মুখে। উনি মুখে মুখে ক্যাডেটদের দৈনিক ডজনখানেকবার কলেজ আউট করতেন। আর ছিল স্কেল দিয়ে পিটাপিটি। এই কারণে নাম দিয়েছিলাম দারোগা/দাঙ্গা পুলিশ। প্রেপ টাইমে ক্লাশে ঢুকে কথা বলার জন্য চিৎকার শুরু করলেই উনার সামনেই বলতাম, "এই দারোগা ম্যাডাম আসছে এইবার লাঠিচার্জ হবে।" উনি দ্বিগুণ স্বরে চিৎকার, "আমি দারোগা? আমি দারোগা? এই স্কেল দাও একজন। সবকটাকে কলেজ আউট করে দিব।" তারপরে লাঠিচার্জ শুরু!

    এই একই মহিলা প্রিন্সিপাল ইন্সপেকশানে তখন টুয়েলভে, রুমে এসে বলে জিনিসপত্র, বিড়িসিগারেট ঠিক মত লুকাইসো তো? কাছে মোবাইল থাকলে দিয়ে দাও ইন্সপেকশানের পরে পাবা।" পিটাপিটি ও আদর দুইটা সমান তালে চলতে হবে। এই না হইলে শিক্ষক! 🙂 (সম্পাদিত)


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
    • মাহমুদুল (২০০০-০৬)

      ভাই প্রেক্ষাপটটা দেখতে হবে তো। তখন আমরা কেবল ক্লাস সেভেনে। 🙂

      আর উনার জাঙ্গিয়া বচন ছিল বিখ্যাত। হাউস মাস্টার হয়েছেন। হাউস এসেম্বলিতে, 'তোমাদের জাঙ্গিয়া পরিষ্কার রাখবে' ইন্সপেকশনে সবার আগে এসে, দেখি তোমার জাঙ্গিয়া বের করো তো। :((


      মানুষ* হতে চাই। *শর্ত প্রযোজ্য

      জবাব দিন
      • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

        ‍১৮+

        ক্লাশ টুয়েলভে পরীক্ষার জন্য ১২ দিন আগে কলেজে আসলাম। এমনেও হাউজে কেউ নেই, স্যাররা যারা আছেন হাউজে ঢুঁ মারেন না, তার উপর নজরুল হাউজের তৎকালীন টুয়েলভের বেশ কয়েকজন ক্যাডেটের পোষাক পরিবর্তনের সময় তোয়ালে ব্যবহারের নজির কম। এরমাঝে একদিন জন্মদিনের পোষাককে নতুন মাত্রা দিতে, চোখের সামনে এক বন্ধু কাঁধে তোয়ালে, নিচে খালি অবস্থায় উদাস মনে দুঃখের গানের শিস বাজাতে বাজাতে গোসল করতে রুম থেকে বের হয়েছে। রুমের সামনের ছোট করিডোরের বামে বাথরুমে মোড় নেবার আগে ক্যাডেটের সামনে এসে হাজির হলো আনিস ফিরোজা ম্যাডাম। ২-৩ সেকেন্ড রিয়্যাকশান টাইমের পর প্রায় কোনমতে, অর্ধদৌড় দিয়ে হাউজমাস্টার অফিসে গিয়ে ঢুকলেন। সেই ক্যাডেট সেটা দেখল‌ো, আবার শিস বাজাতে বাজাতে বামে মোড় নিয়ে গোসলে ঢুকে গেল। তারপর রুমে এসে বোকা হাসি দিয়ে বললো, "এই ম্যাডাম আমাকে নিংটু দেখে দেখে যে দৌড়টা দিল না!" :goragori: :goragori: :goragori:


        \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
        অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

        জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।