মেলবোর্নের দিনলিপি – ৬ঃ মাউন্ট ড্যান্ডিনং রেঞ্জে এক পড়ন্ত বিকেলে

এর আগের পর্বটি দেখতে পাবেন এখানেঃ মেলবোর্নের দিনলিপি – ৫ঃ নতুন বছরের (২০২০) প্রথম কয়েকটা দিন

প্রতি বছরের জানুয়ারী, ফেব্রুয়ারী ও মার্চ মাসের প্রথম শুক্রবারে ব্রাইটন বীচের বেলাভূমি সংলগ্ন ভূমিতে খোলা আকাশের নীচে “Soul Night Market” এর আয়োজন করা হয়। Night Market বা “নৈশ বাজার” কেবল নামেই, আসলে এটা শুরু হয় মধ্যাহ্নের পর পরই, শেষ হয় সূর্যাস্তের ঘন্টাখানেকের মধ্যেই।

বিস্তারিত»

ক্যাডেট রম্যের দ্বিতীয় সংস্করণ ও ই-বুক প্রকাশ

‘ক্যাডেট রম্য’ নামে আমার একটা বই আছে। ২০১৬ সালের বইমেলায় বইপত্র প্রকাশন থেকে বইটি প্রকাশ পেয়েছিলো। মাত্র আটদিন বইটি মার্কেটে ছিলো। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও মেলার পর বিভিন্ন কারণে বইটার হার্ড কপি আর প্রকাশ করা হয় নি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষ বইটির খোঁজ করেছেন। ‘ক্যাডেট রম্য’ নামে প্রথম আলোর অধুনালুপ্ত ফান সাপ্লিমেন্ট রস+আলো এবং দৈনিক ইত্তেফাকের ফান সাপ্লিমেন্ট ঠাট্টায় ২০১১-২০১৪ সময়কালে লিখেছি। ফলে, ‘ক্যাডেট রম্য’-এর এক ধরণের পাঠক শ্রেণী গড়ে উঠেছিলো।

বিস্তারিত»

দূরের পাল্লা

আথেন্স-সভ্যতা সংস্কৃতি সৌন্দর্যের কেন্দ্রভূমি আথেন্স, আজ মৃত্যুভয়ে কম্পমান। বিশাল পারস্য বাহিনী ধেয়ে আসছে, ম্যারাথনের প্রান্তরে ক্ষুদ্র গ্রীক বাহিনী তাদের মখোমুখি। কিন্তু গ্রীসের কি সাধ্য মহাশক্তিধর পারস্যের বিজয় রথের চাকা রুখবে! পরাজয় মানেই নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ আর ধ্বংসের বর্বর তান্ডব। এমনি ঘোর দুঃসময়ে হঠাৎ নগরদ্বারে এ কার কন্ঠ? এ যে সৈনিক ফিডিপাইডিস-ম্যারাথন প্রান্তরের মরনপণ লড়াইয়ের বার্তা নিয়ে ছুটে এসেছে। কি নিদারুন সংবাদ নিয়ে এসেছে সে? “উল্লাস করো হে নগরবাসী- আমরা জিতেছি!” এটুকু বলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে বীর সৈনিক।

বিস্তারিত»

টরেটক্কা টরোন্টো – আগমন (পর্ব-১)

১লা জুলাই, ২০০৬ – ‘কানাডা দিবস’-এর শেষ বেলায় আমরা টরোন্টোর পিয়ারসন্স এয়ারপোর্টে এসে পোঁছাই। টরোন্টো শহরে এই আমাদের প্রথম আসা – তাও আবার একেবারে তল্পিতল্পাসহ। পোর্টারের সাহায্য নিয়ে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস পেরিয়ে যখন অ্যারাইভাল লাউঞ্জে এলাম, বাইরে তখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। দীর্ঘ আকাশ পথ পাড়ি দেয়ার ধকলে কিছুটা হলেও ক্লান্ত আমরা। লাউঞ্জের কাঁচের দেয়ালের বাইরে বর্ষণসিক্ত টরোন্টো শহরের প্রাণ চাঞ্চল্যপূর্ণ জীবনের চিত্র চোখে পড়তেই অনেকটা চাঙ্গা বোধ করলাম।

বিস্তারিত»

অন্য নায়কেরা

নিশুতি নিঃশব্দ রাত, গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন কান্দাই শহর। হঠাৎ রাতের আঁধার চীরে ভেসে আসে তেজী ঘোড়ার খুরের শব্দ। ঘুমে টুটে যায় যত অত্যাচারী শোষক ক্ষমতাধর বদ লোকের, তাদের বুকে জাগে ভয়ের কাঁপন। কারন এই ঘোড়ার সওয়ার আর কেউ নন, স্বয়ং দস্যু বনহুর- গরীবের বন্ধু, অত্যাচারী মাথায় উদ্যত গড়্গ। জমকালো পোষাকে অস্ত্র হাতে প্রিয় ঘোড়া তাজের পিঠে চেপে বের হয়েছেন নৈশ অভিযানে। কে জানে আজ রাতে কোন মানবতার দুশমনের হবে শেষ বিচার!

বিস্তারিত»

ঘন্টা কাহিনী

ঘন্টার ইতিহাস প্রাচীন। কবে কোথায় এর উৎপত্তি জানিনা। তবে সব দেশে সব কালেই যেন এর ব্যবহার ছিল। গীর্জা মন্দির থেকে রেল ইষ্টিশান হয়ে বেড়ালের গলা – কোথায় নেই! ইশকুল এবং জেলখানাতে ওটা থাকবেই। শেষোক্ত প্রতিষ্ঠান দুটোর মধ্যে কি একটা অন্তঃমিল আছে যেন।

আকার প্রকারে ঘন্টা সমাজে দুই গোত্র- একটা মোচার খোলের মতো, ভেতরে হাতুড়ি ঝুলছে। উঁচু ঘন্টাঘরে কায়দা করে জিনিসটা ঝোলানো। দড়িদড়ার সাহায্যে ওটাকে এদিক ওদিক দুলিয়ে বাজাতে হয়।

বিস্তারিত»

আসমত ভাইয়ের শিঙ্গা

গিডিয়নের শিঙ্গা নামে এক খানা বিখ্যাত উপন্যাস আছে। লেখার নামটি ধার করেছি সেখান থেকে। বিষয়বস্তু অবশ্য একেবারেই ভিন্ন। শিঙ্গা অর্থাৎ বিউগল যথেষ্ট পুরোনো জিনিষ, সেই আদ্দিকাল থেকে যুদ্ধের ময়দানে এটার ব্যবহার হয়ে আসছে। যন্ত্রটা বাজানো বেশ কঠিন, এতে দম ও কৌশল দুটোই লাগে। যুদ্ধের ময়দান আর সামরিক কুচকাওয়াজ ছাড়াও শিঙ্গার বাদন যে অন্য কাজেও লাগে তা জানলাম আসমত ভাইয়ের কল্যাণে।

ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ- দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ।

বিস্তারিত»

সুবচন নির্বাসনে

১৯৯২ সালে ক্যাডেট কলেজে যাওয়ার আগে বাবার সাথে বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মঞ্চে একটা নাটক দেখেছিলাম- নাম ছিল “সুবচন নির্বাসনে”। নাটকটিতে তিনটা প্রবাদ বাক্য (সুবচন) মিথ্যা প্রমানিত হয়।

নাটকে একজন স্কুল মাস্টারের তিন ছেলেমেয়ে- বড় ছেলে স্বপন সেকেন্ড ডিভিশনে এমএ পাশ করে একটা অফিসে চাকরির ইন্টারভিউ দেয়, সেখানে তাঁর থার্ড ডিভিশনে পাশ করা এক বন্ধু ঘুষ দিয়ে চাকরিটা বাগিয়ে নেয়। “সততাই সর্বোতকৃষ্ট পন্থা”

বিস্তারিত»

শাহজাদীর কালো নেকাব

পুরানো এক বাংলা নাটকের নাম থেকে লেখটির নামকরণ। নাট্যকারের নাম যেমন মনে নেই, তেমনি মনে নেই নাটকের কাহিনীও। তারপরও কেন এই শিরোনাম, লেখাটি পড়লেই তা পরিস্কার হবে। এ বছর পবিত্র হজ্জ পালন করার সময় নিকাব নিয়ে ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতাই হচ্ছে এই লেখাটির প্রতিপাদ্য।

হজ্জ পালনের তাগিদ সব সময়ই অনুভব করেছি, কিন্তু “কবে এবং কিভাবে” তার কোন বিশদ পরিকল্পনা কখনোই করা হয়নি। আমার স্ত্রীর হজ্জ করা হয়ে গেছে বিয়ের আগেই।

বিস্তারিত»

মীনাঃ হারিয়ে যাওয়া যেখানে মানা

হজ্জ করতে গিয়ে হারিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়নি পরিসংখ্যান নিলে এমন হাজীদের সংখ্যা নেহাত কম হবে না। আমার পরিচিত যারা হজ্জ করতে গিয়েছেন, ফিরে এসে তাদের প্রায় সবাইকেই কিভাবে তারা হারিয়ে গেলেন এবং কেমন করে তারা সেই বিপদ থেকে উদ্ধার পেলেন তার বর্ণনাই করতে শুনেছি বেশ আগ্রহভরে। আমি যখন গত বছর হজ্জে যাই তখন কিন্তু ঘূর্ণাক্ষরেও ভাবিনি যে আমারও সেই একই দশা হবে এবং ফিরে এসে সেই হারিয়ে যাওয়ার কাহিনী লিখতে বসব সবিস্তারে।

বিস্তারিত»

বন্ধুপর্ব-১

আচ্ছা, ভদ্রলোকের সংজ্ঞা কি? এই জাতীয় মানুষদের কি আসলে কখনো সংজ্ঞায়িত করা যায়? মনে হয়, তা কখনোই করা যায় না। তবে হ্যা, আমরা প্রায়ই বলে থাকি, সে/তিনি একজন ভদ্রলোক। মনে তো কত প্রশ্নই আসে। ভদ্রলোকেরা কি পাব্লিসিটিতে নামেন? নাকি নীরবে নিভৃতেই কাজ করে যান? আমার তো মনে হয়, সময়ই তা বলে দেয়। ডানপিটে স্বভাবের মানুষের দ্বারা যেমন প্রকাশ্য প্রতিবাদ কিংবা সরব আন্দোলনে পরিবর্তন হয়, আবার অপর পক্ষে নীরবে নিভৃতে কাজ করে যাওয়া এই মানুষদের ধৈর্য্য সহকারে কাজ করে যাওয়ার মধ্য দিয়েই কিন্তু আসে বাস্তব মানের পরিকল্পনা এবং তা/সেগুলো বাস্তবায়নের পথনির্দেশনা।

বিস্তারিত»

কতিপয় কথার কোলাজ

রজনীগন্ধার ঘ্রাণ

রজনীগন্ধা নিয়ে মাতম ছিলো একদা। আমাদের কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পথে বাগানের দু’ধারে ফুটে থাকতো সারিসারি রজনীগন্ধা। বাজারি রজনীগন্ধার সাথে এই রজনীগন্ধার তফাত ছিলো বেশ। মূলত এর গন্ধ আচ্ছন্ন করে রাখতো আমাকে। আধাসামরিক আবাসিক বিদ্যাপিঠে বিবিধ নিয়মের ভেতরে ছিল আমাদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা। একটু সিনিয়র হবার পর প্রায়ই রাতের ডিনার শেষে রজনীগন্ধার গন্ধযুক্ত হাসপাতালের পথে হাঁটতাম। শরতের রাতে আকাশে যখন ঝুলে থাকতো শারদীয় জোছনা,

বিস্তারিত»

চলে গেলো রুশো

“সার্ভিং দ্য হিউম্যানিটি”, সংক্ষেপে এসটিএইচ (“Serving the Humanity- STH”) নামের একটি ছোট্ট সংগঠন গঠিত হয়েছিল আজ থেকে ৭/৮ বছর আগে। প্রথম প্রথম একটু অগোছালো ভাবেই কাজ শুরু হয়েছিল, পরে স্থপতি জগলুল এর গুলশানের অফিসে বসে একটা আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে এ সংগঠনের উদ্দেশ্য ও কার্যাবলী নিয়ে একটা প্রাথমিক রূপরেখা তৈরী করা হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের কিছু উপকারে আসা এবং এ লক্ষ্যে যার যার সাধ্যমত অবদান রাখা।

বিস্তারিত»

রোমাঞ্চের তীব্রতা

খুব সম্ভবত ঘটনাটা ১৯৯০-এর। আমরা তখন সবেমাত্র ক্লাস নাইনে উঠেছি। ক্যাডেট কলেজের জুনিয়র গ্রুপের মধ্যে সিনিয়র ক্লাস। একদিকে হালকা মাত্রার সিনিয়রিটির ভাব, অন্যদিকে আবার জুনিয়রের সামনেই মাঝে-মধ্যে প্রিফেক্ট, স্টাফ বা টিচারদের দ্বারা পানিশমেন্ট। এক আজব সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা তখন। প্রথম বয়োসন্ধির নাকের নিচে হালকা গোঁফের রেখা। এরই মধ্যে আবার দুয়েকজন এই হালকা গোঁফে লুকিয়ে রেজার চালিয়ে ফেলেছে। তাই নিয়ে আবার একেকদিন একেকজনকে নিয়ে চলে হাসাহাসি।

বিস্তারিত»

রমজানের স্মৃতি-৩

ছোটবেলা থেকে আমি ঢাকা শহরে মানুষ হয়েছি। একেবারে শৈশবের প্রথম সাতটি বছর অবশ্য চট্টগ্রামে কাটিয়েছিলাম। আমার শৈশব কৈশোরের রোযার স্মৃতিগুলোও শহরভিত্তিক অভিজ্ঞতার আলোকে মনে গেঁথে আছে। ছোটবেলায় কোন কোন দিন আম্মার ইফতার বানাতে ইচ্ছে না হলে কিংবা যথেষ্ট উপকরণ তৈরী করতে না পারলে আমাকে মাঝে মাঝে টাকা দিয়ে বলতেন, পাড়ার ইফতারীর দোকান থেকে কিছু কিছু সামগ্রী কিনে আনতে। রোযার মাসে এখনকার মত তখনও দুপুরের পর থেকেই দোকানীরা পাড়ায় পাড়ায় ইফতারীর পসরা নিয়ে বসতো।

বিস্তারিত»