নির্বাসন, ধর্ম এবং মতপ্রকাশ

“এক-বইয়ের-পাঠক সম্পর্কে সাবধান।” (হুমায়ুন আজাদ – প্রবচনগুচ্ছ – ৩৩)

হিউম্যান ট্রি

উপরের গাছে বসে থাকা মনুষ্য সদৃশ প্রাণিদের সম্পর্কে আরেকটু জানতে চাইলে ক্লিক করুন। এইখানে। আর টাইমলাইন সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন। এইখানে।

লুসি কে পাওয়া গেলো ১৯৭৪ সালে। Skeleton fossils of Lucyমানব ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। Australopithecus afarensis জাতের লোকেরা দুনিয়ার বুকে চড়ে বেড়িয়েছে ৩ দশমিক ৯ মিলিয়ন থেকে ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন বছর আগে। তবে লুসি ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন বৎসর প্রাচীন। ডোনাল্ড কার্ল জোহানসন ও তার দলবল ১৯৭৪ সালের ২৪ শে নভেম্বর ইথিওপিয়ার হাদার এর আফার ট্রায়াঙ্গাল থেকে লুসিকে খুড়ে বের করেন। যখন প্রত্নতত্ববিদেরা লুসিকে বের করেন তখন তাবুতে পুনঃ পুনঃ বাজছিলো বিটলস এর লুসি ইন দ্যা স্কাই উইথ ডায়মন্ড।
(Skeleton fossils of Lucy)

 

A replica of Lucy’s skeleton. When Lucy was discovered in 1974, she was the oldest and most complete human ancestor known. Image courtesy of the Houston Museum of Natural Science

 

 

(লুসির ফসিলের রেপ্লিকা। হাউষ্টন/ হিউষ্টন মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল সায়েন্সের সৌজন্যে)

 

 

 

 

 

Lucy_Mexico(লুসির ফসিলের রেপ্লিকা,  Museo Nacional de AntropologíaMexico City র সৌজন্যে)

 

 

 

 

 

 

 

 

Lucy_Skeleton

(লুসির পাওয়া গিয়েছিলো ৪০ শতাংশ। ক্লিভল্যান্ড ন্যাচারাল হিষ্টরি মিউজিয়ামের সৌজন্যে পুনঃনির্মিত লুসি)

 

 

 

 

 

 

 

আগ্রহীরা এইখানে ক্লিক করে এ যাবৎ প্রাপ্ত মনুষ্যদের ফসিল সমূহ দেখতে পারেন।

বলা বাহুল্য ধর্ম গ্রন্থ গুলি বিবর্তনবাদ মানে না। কিন্তু সেই মনুষ্য বিবর্তনবাদ দিয়ে নতুন করে আগ্রহ জাগিয়েছেন মহামান্য পোপ। ক্লিক করুন এইখানে।

Screen Shot 2014-11-09 at 14.03.38

একদিন  কি তবে মক্কার কাবা মন্দিরের খতিবও মেনে নিবেন সত্য! মনে হয় না। আজ সকালেই ছোটভাই নাজমুল হাসান এর শেয়ার করা ভিডিও টি দিচ্ছি। 

যাই হোক উপরের ভিডিও নিয়ে আর না হয় নাই বলি।
মত প্রকাশের স্বাধীনতা জিনিস টা কি?
এইটা কি মানুষের বেসিক নিডের মধ্যে পড়ে?
হুমায়ুন আজাদ একদা বলেছিলেন,

“মানুষের উৎপত্তি সম্পর্কে দুটি তত্ব রয়েছে ; অবৈজ্ঞানিকটি অধঃপতনতত্ব, বৈজ্ঞানিকটি বিবর্তনতত্ব। অধঃপতনতত্বের সারকথা মানুষ স্বর্গ থেকে অধঃপতিত। বিবর্তনতত্বের সারকথা মানুষ বিবর্তনের উৎকর্ষের ফল। অধঃপতনবাদীরা অধঃপতনতত্বে বিশ্বাস করে ; আমি যেহেতু মানুষের উৎকর্ষে বিশ্বাস করি, তাই বিশ্বাস করি বিবর্তনতত্বে। অধঃপতনের থেকে উৎকর্ষ সব সময়ই উৎকৃষ্ট। ” (হু আ – প্র ১৭১) 

উপরে যে বিবর্তনবাদ নিয়া জ্ঞান দিলাম তার মানে এই নয় যে আপনাকে বিশ্বাস করতেই হবে যে বিবর্তনবাদ সত্য আর আপনাকে তা মেনে নিতেই হবে। কিন্তু কথা হচ্ছে আমার স্বাধীনতা থাকতে হবে বিবর্তনবাদ বিশ্বাস বা প্রচার করার বা এই নিয়ে তর্ক করার। আপনার যেমন অধিকার রয়েছে বিবর্তনবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার তেমনি আমার অধিকার রয়েছে আপনার আল্লা, খোদা, আহুর-মাজদা, জিহোভা, ভগবান, ঈশ্বর, বেহেশত, দোযখ, কাবা, জমজম, কৈলাস এর শিবলিঙ্গ, নির্বাণ, বোরাক, প্রেরিত পুরুষ নিয়ে প্রশ্ন তোলার, অবিশ্বাস করার।

কিন্তু আমি পারব না মনের ভাব প্রকাশ করতে।
কারণ কি?
আমার মনের ভাব প্রকাশ হলে আপনার ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে। ধর্মানুভূতি নিয়ে একটি অসাধারণ প্রবন্ধ লিখেছিলেন হুমায়ুন আজাদ। এখানে লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি। ক্লিক করুন। 

নারী_(১৯৯২)পৃথিবীতে যত প্রকার বায়বীয় বা কল্পিত বস্তু আছে তার মধ্যে ধর্ম বোধ করি সবচেয়ে শক্তিশালী। হুমায়ুন আজাদের নারী নামক গবেষণাগ্রন্থটি একটি অসামান্য সৃষ্টি। আমার নিজের কাছে নারী গ্রন্থটি অনেক ধর্মগ্রন্থের চাইতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। গ্রন্থটি ১৯৯৫ সালে কতিপয় মোল্লার কারণে নিষিদ্ধ হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কতৃক। পরে আইনি লড়াইয়ে হুমায়ুন আজাদ জয়ী হলে ২০০০ সালে গ্রন্থটি মুক্ত হয়।

 

 

pak sar jomin sad bad ২০০৪ সালে হুমায়ুন আজাদ একটি অনবদ্য উপন্যাস লিখেন, নাম পাক সার জমিন সাদ বাদ। বইটির মূল উপজীব্য ছিলো সেই সময় বিএনপি-জামাত কতৃক হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন। ঐ বছরই ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমীতে অনুষ্ঠিত বইমেলা থেকে বেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজের বাসায় যাওয়ার পথে ঘাতকদের আক্রমণের শিকার হন তিনি। বিদেশে নিবিড় চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি কিছুটা সুস্থ হন। জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ নামক ইসলামী জঙ্গি সংগঠনের একজন শীর্ষনেতা শায়খ আব্দুর রহমান পরবর্তিতে হুমায়ুন আজাদ এবং একইসাথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম ইউনুসকে হত্যার নির্দেশ দেবার কথা স্বীকার করেন। এছাড়া সংসদে দাড়িয়ে যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী পাক সার জমিন সাদ বাদ কে ইসলাম বিরোধী আখ্যা দেন।

এমনকি ২০০৮ সালে দৈনিক সমকাল পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে জননন্দিত লেখক হুমায়ুন আহমেদ যা বলেন তা তুলে দিচ্ছি। লিঙ্ক ক্লিক করুন।

সমকালঃ  বাংলাদেশের লেখকরা কি স্বাধীন?
হু আহমেদঃ  হঁ্যা, বাংলাদেশের লেখকরা স্বাধীন।
সমকালঃ তাহলে ড. হুমায়ুন আজাদকে মরতে হলো কেন?
হু আহমেদঃ কারণ যে বইটা তিনি লিখেছিলেন, তা এতই কুৎসিত যে, যে কেউ বইটা পড়লে আহত হবে। তার জন্য মৌলবাদী হতে হয় না। 
সমকালঃ ঠিক একই কারণে কি তসলিমা নাসরিন দেশ থেকে বিতাড়িত?
হু আহমেদঃ হয়তোবা। 

উপরে হুমায়ুন আহমেদের বক্তব্য দেয়ার উদ্দেশ্য তার বিরুদ্ধে বিশেদগার নয় বরং এটা দেখানো যে ধর্ম কতোটা শক্তিশালী। আসলেই কি হুমায়ুন আজাদ লিখেছিলেন ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে? তবে কি ধরে নিতে হবে মৌলবাদ আর ইসলাম এক জিনিস!
শাহরিয়ার কবির সে সময় নিয়ে অসাধারণ এক ডকুমেন্টারি তৈরি করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর জামাত-বিএনপির অত্যাচার নিয়ে। লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি নিচে।
বাঙলাদেশ ২০০১ – ১ম পার্ট

বাঙলাদেশ ২০০১ – ২য় পার্ট

বাঙলাদেশ ২০০১ – ৩য় পার্ট

লজ্জা তসলিমা নাসরিন সেই কবে তসলিমা নাসরিন কে দেশ ছাড়তে হয়েছে। তার লজ্জা (১৯৯৩)  উপন্যাস নিষিদ্ধ হয়েছিলো তখন। এরপর আরো অনেক নিষিদ্ধ হয়েছে। তখন শোনা গিয়েছিলো পঃ বঙ্গে বিজেপি নাকি নিজ খরচে লজ্জা ছাপিয়ে বিলি করছে। কারণ কি? ওখানে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বাধানো বা বাঙলাদেশে হিন্দু দের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরা। কি ছিলো লজ্জা নামক উপন্যাসটিতে? আমার তো মনে হয় না ভুল কিছু লিখেছিলেন তসলিমা নাসরিন। সুরঞ্জনের জবানিতে লেখা হয়েছিলো উপন্যাসটি। বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার কারণে সে ও তার পরিবার বাঙলাদেশের মাটিতে যে দুর্দশার মাঝে পড়ে তার বর্ণনা পাওয়া যাত এতে। শুধুমাত্র ধর্মের কারণে জন্মভূমি হয়ে যায় বিদেশ। নিচে লজ্জা থেকে দুই টি পৃষ্ঠা তুলে দিলাম।
লজ্জা ৪৮- ৮৯ পৃষ্ঠা

তসলিমা নাসরিন বাঙলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন ১৯৯৪ সালে। এরপর কলকাতা ও তাকে ত্যাগ করতে হয় সেখানকার মৌলবাদীদের কারণে। সে সময়ের অভিজ্ঞতা ও নির্বাসিত জীবন নিয়ে করা হয়েছে একটি চমৎকার ছায়াছবি।

শুধু এরাই কেনো ১৯৭৪ সাল থেকে দাউদ হায়দার দেশচ্যুত। সত্তর দশকের শুরুর দিকে দাউদ হায়দার দৈনিক সংবাদের সাহিত্য পাতার সম্পাদক ছিলেন। সংবাদের সাহিত্যপাতায় ‘কালো সূর্যের কালো জ্যোৎসায় কালো বন্যায়’ নামে একটি কবিতা লিখেছিলেন। ধারণা করা হয়ে থাকে, তার ঐ কবিতাতে মুহম্মদ, যিশু, বুদ্ধ সম্পর্কিত অবমাননাকর উক্তি ছিল যা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছিল। তাঁর সংস্‌ অব ডেস্পায়ার  বইতে এই কবিতাটি সঙ্কলিত আছে বলে ধারণা করা হয়। বাংলাদেশে মৌলবাদী গোষ্ঠী এর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড প্রতিবাদ শুরু করে। ঢাকার এক কলেজ-শিক্ষক ঢাকার একটি আদালতে এই ঘটনায় দাউদ হায়দারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন।তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর সরকার দাউদ হায়দারকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশ সরকার তখন চায়নি আন্তর্জাতিকভাবে মুসলিম সরকারদের সাহায্য হারাতে। ১৯৭৩ সালে কবিকে নিরাপত্তামূলক কাস্টডিতে নেয়া হয়। ১৯৭৪ এর ২০ মে সন্ধ্যায় তাঁকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং ২১শে মে সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটা রেগুলার ফ্লাইটে করে তাকে কলকাতায় পাঠানো হয়। ওই ফ্লাইটে তিনি ছাড়া আর কোনো যাত্রী ছিল না। তাঁর কাছে সে সময় ছিল মাত্র ৬০ পয়সা এবং কাঁধে ঝোলানো একটা ছোট ব্যাগ (ব্যাগে ছিল কবিতার বই, দু’জোড়া শার্ট, প্যান্ট, স্লিপার আর টুথব্রাশ)। কবির ভাষায়,

” আমার কোন উপায় ছিল না। মৌলবাদীরা আমাকে মেরেই ফেলত। সরকারও হয়ত আমার মৃত্যু কামনা করছিল।” 

এখন কবি থাকেন জার্মানীতে, কাজ করেন ডয়েস ভেল রেডিও তে।
সেই কবিতার লাইনগুলো হতে পারে এরকম

“I have come to Lukhnow, shouldn’t I visit the Baiji’s house? 
What will people say if I don’t. If anybody
travels to Mecca, is it befitting not to visit Kaaba Shareef?” (ফেরদৌস ফয়সালের সৌজন্যে প্রাপ্ত)  অথবা

“অদ্ভুত আলখেল্লা পরিহিত মিথ্যুক বুদ্ধ
বুধি বৃক্ষতলে
যিশু ভন্ড শয়তান,
মোহাম্মদ আরেক বদমাশ 
চোখে মুখে রাজনীতির ছাপ।” (স্বপ্নবাজের সৌজন্যে প্রাপ্ত) 

দাউদ হায়দারের সাক্ষাৎকার। নয় মিনিট থেকে ‘কালো সূর্যের কালো জ্যোসনায় কালো বন্যায়’ কবিতা সম্পর্কে বলেছেন।

গতকাল থেকে হঠাৎ দেখলাম ফেবু গরম। ব্যাপার কি? তসলিমা নাসরিন আবার ধর্ম নিয়ে কথা বলেছেন।

“ও পুরুষ শোনো, বছর বছর বিদেশ বিভূঁইয়ে কোথাকার কোন আল’লাতের পাথুরে যোনিতে চুমু খাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে ওঠো! 
তারচেয়ে তোমার প্রেমিকার যোনিতে ভালোবেসে ‘হজরে আসওয়াদ হজরে আসওয়াদ’ বলে চুমু খাও. আল’লাত তোমাকে কিছুই দেবে না, স্বর্গ যদি কেউ দেয়, প্রেমিকাই দেবে।” (তসলিমা নাসরিন) 

মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী হজ্জ ও তাবলীগ নিয়ে কথা বলে হারিয়েছেন মন্ত্রী পদ, এখনো ফিরতে পারেননি দেশে। দেশে তার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে পঞ্চাশের উপর মামলা।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও মকবুল ফিদা হুসেন দেব-দেবীদের নগ্ন ছবি আঁকার জন্য দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। ছবিগুলোর বিবরণ পরে দিচ্ছি।
হুসেন দেব দেবী
ছোটভাই চক্ষুরোগ চিকিৎসক ডাঃ আতিকুল হকের ফেবু বাণী শেষ করছি।

” মানুষ পোশাকে-আশাকে, কথায়-বার্তায় আগের চেয়ে অনেক অনেক বেশী ধর্মাশ্রয়ী হয়েছে। কিন্তু ভণ্ড হয়েছে তারও বেশী…” 

 

রেফারেন্স ও কৃতজ্ঞতাঃ

* Human Family Tree- Smithsonian National Museum of Natural History
* Australopithecus afarensis – Wikipedia
* Donald Johanson – Wikipedia
* List of human evolution fossils – Wikipedia
* Time Line of Human evolution – Wikipedia

* “The Hidden Treasures of Ethiopia and the World Famous “Lucy” Fossil… An Exhibition of Monumental Dimension – Babbie De Derian
* The Independent
* ICSF
* হুমায়ুন আজাদ – প্রবচনগুচ্ছ
* হুমায়ুন আজাদ – ধর্মানুভূতির উপকথা (মুক্তমনা ব্লগের  সৌজন্যে)
* তসলিমা নাসরিন – লজ্জা
* মকবুল ফিদা হুসেন
* কাজী আহমদ পারভেজ
* আতিকুল হক
* সুশান্ত দাশগুপ্ত
* ফেরদৌস ফয়সাল
* নাজমুল হাসান
* স্বপ্নবাজ
* সমকাল 

৪০ টি মন্তব্য : “নির্বাসন, ধর্ম এবং মতপ্রকাশ”

  1. আন্দালিব (৯৬-০২)

    বিবর্তনবাদ শব্দটার সঠিক ইংরেজি কী? Evolutionism? বৈজ্ঞানিক "তত্ত্ব" যখন "বাদ" বা "ইজম" হয়ে ওঠে তখন সেটাকে আমি সন্দেহের চোখে দেখি।

    বিবর্তন তত্ত্ব বা Theory of Evolution একটা প্রমাণিত সত্য। এটা যদু-মধু-রহিম-করিম 'বিশ্বাস' না করলেও সেটা সত্যই থাকবে। কেউ যদি মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্বের ওপর 'বিশ্বাস' না করে, তাহলে সেটা তার মানসিক সমস্যা। তেমনি বিবর্তন তত্ত্বও যদি কেউ 'বিশ্বাস' না করে তাহলে সে মানসিক রোগী ছাড়া কিছুই না।

    জবাব দিন
    • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

      অসংখ্য ধন্যবাদ আন্দালিব। :teacup:
      তোর মন্তব্য দেখে ভালো লাগলো।
      কথা ঠিক। চোখে ঠুলি পড়ে থাকলে কি সত্য মিথ্যা হয়ে যায়!


      এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

      জবাব দিন
    • Brother, there is a difference between Theory and Laws. Unfortunately you are mixing up.

      Theory of Evolution is still a theory not Laws.
      On the other hand Laws of Gravitation is a proven fact and hence it is not considered to be a theory anymore rather considered as Laws.

      The famous British philosopher Francis Bacon said....

      "A little knowledge of science makes man an atheist, but an in-depth study of science makes him a believer in God."

      জবাব দিন
      • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

        বুঝলাম আশফাক উপরে আন্দালিব ভুল করেছে। থিউরি আর ল র মধ্যে গুলিয়ে ফেলেছে। মানে তোর কথা টা মেনে নিলাম কথা প্রসঙ্গে।
        আচ্ছা গড এর অস্তিত্ব এইটা থিওরি না ল?

        এভুলুশন নিয়া ডেভিড এটেনবোরোর নতুন প্রোগ্রাম, এইবারের টা উড়ন্ত প্রাণিদের নিয়া। লিঙ্ক।

        আচ্ছা একটা উত্তর দিবি, মুসলমানদের সমস্যা কি?
        তারা কুরান মুখস্থ করে আর সেইসাথে কিছু নন মুসলিমের বাণী যারা কোন না কোন জায়গায় ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে আস্থাবান ছিলেন।
        তোর জন্য আরো কিছু লিঙ্ক দিলাম। ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসাবে ইউজ করতে পারবি।
        এরা অবশ্য মুহাম্মদ নবী রে নিয়া বলছে।
        ০১ গান্ধী
        ০২
        ০৩ কার্লাইল
        ০৪ ওয়াট
        ০৫ ড্রেপার
        ০৬ আলফন্স
        ০৭ তলস্তয়
        ০৮ হগার্থ
        ০৯ আর সেই সাথে তোর জন্য এই ভিডিও উপহার যাদের অনেককেই বেকন সাহেব অল্প পানির মাছ বলে চিহ্নিত করেছেন। লিঙ্ক।


        এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

        জবাব দিন
  2. মোকাব্বির (৯৮-০৪)
    "এক-বইয়ের-পাঠক সম্পর্কে সাবধান।

    এই এক কথায় তো অনেক কিছু বলে দিলেন হুমায়ুন আজাদ। 🙂

    ধর্মীয় অনুভূতিঃ এই এক মজাদার বিষয়। কোথায়, কখন, কিভাবে, যে আঘাত আগে বোঝা বড় মুশকিল।


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
    • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

      ঐদিন এক জায়গায় কথা হচ্ছিলো কবর নিয়ে।
      মারা গেলে পরবর্তী প্রজন্ম কবর জিয়ারত এ যাবে কিনা এইসব নিয়ে।
      কিংবা কবর কতো বছর এইভাবে থাকবে। ইত্যাদি।
      আমি কথায় কথায় বললাম পুড়িয়ে বোতলে বা ভাসে করে রেখে দিলে ১০০-২০০ বছর পরেও পরবর্তী প্রজন্ম দেখতে পাবে।
      এতে করেই কয়েক জনের ধর্মানুভূতিতে লেগে গেলো।

      আমি যদি বলতাম কবর দিলে জায়গা নষ্ট এর চাইতে ছাই বানাইয়া বোতলে ভরে রাখা ভালো তাও না হয় কথা ছিলো।
      খুব অবাক হইছিলাম।


      এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

      জবাব দিন
  3. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    আমার হিসাব খুব সিম্পল, ধর্মিয় শুধু না যে কোন অনুভুতিতেই আঘাত লাগে তার, যার ঐ অনুভুতিটা খুবই নাজুক বা দুর্বল।
    ব্যবসা প্রশাসনে শিক্ষা সমাপন করেও আমি বিবর্তন তত্ত্ব যেটুকু বুঝি তাতে কেউ যখন বিবর্তন নিয়ে উল্টা পাল্টা বকে, আমি লক্ষ্য করেছি, আমার বিবর্তনানুভুতিতে কোনই আঘাত পড়ে না। বরং ঐ ব্যাক্তির অন্ধত্বের জন্য করুনাই হয়।
    কিছুদিন আগে বিবিধ আলাপচারিতার ফাঁকে আমার এক চিকিৎসক বন্ধু জানতে চেয়েছিল, "তুই থিওরি অব ইভোলুশন বিশ্বাস করিস?"
    আমি আকাশ থেকে পড়লাম।
    আমার এই বন্ধুটা চিকিৎসক হিসাবে মোটামুটি ভাবে সবচেয়ে রিলায়েবল। তিনি খুবই সায়েন্টিফিকালি ডায়াগনোসিস ও চিকিৎসা করে থাকেন। তার কাছে বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে এইরকম কথা শোনার পর কি কি আলোচনা হলো, সেটা ভিন্ন বর্ননা। আজ থাক।

    এখন প্রশ্ন হলো ধর্মানুভুতি বলে কোন জিনিষ যদি নাই থাকে, আইনের বইতে এটা এল কি করে?
    উত্তরটা খুবই সোজা। এটা বৃটিশদের প্রবর্তিত একটা আইন যা এই সাব কন্টিনেন্টের প্র্যাকটিস মাথায় রেখে করা।
    কি সেই প্র্যাকটিস?
    শত বছর আগেও এখানে স্থানীয় ভাবে যারা সংখ্যাগুরু থাকতো তাঁরা নানা কাজের মাধ্যমে মাইনরিটিদের উত্যক্ত করতো। এক জায়গার সংখ্যাগুরু মুসলমানেরা যেমন গরু কেটে রক্ত ছড়িয়ে মাইনরিটি হিন্দুদের উত্যক্ত করতো, অন্য জায়গার সংখ্যাগুরু হিন্দুরা তেমনি শুকর ব্যবহার করে বা কোরবানি নিষিদ্ধ করে মুসলমানদের উত্যক্ত করতো।
    মূলতঃ এইসব উত্যক্ত হওয়া মাইনরিটিদের রক্ষা করতেই এই "ধর্মানুভুতি" কথাটার আমদানি করা হয়েছিল সদোদ্দেশ্যে।
    বৃটিশরা চলে গেলেও আইনটা রয়ে গেছে আর এখন মেজরিটি রা সেই আইন উল্টো ব্যবহার করছে মাইনরিটি দমনে।
    পাশার চাল উলটে ফেলার মতই ঘটনা।

    বাই দ্যা ওয়ে, রাজীব, খুবই দরকারি একটা কালেকশন। প্রিয়তে নিলাম...


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন
    • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

      অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
      আপনার জন্য ই কিন্তু আজ সকালে পোপের ঘটনা টা পেলাম। সরি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলে গেছি।
      মূল লেখাটির সাথে শাহরিয়ার কবিরের সেই ডকুমেন্টারি টাও দিয়ে দিবো এখন।
      প্রিয়তে নিয়েছেন জেনে খুব ভালো লাগলো।
      :teacup:


      এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

      জবাব দিন
      • মুজিব (১৯৮৬-৯২)

        পারভেজ ভাইয়ের ওই ফেসবুক-স্ট্যাটাসে মন্তব্য করে এক উজবুকের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলাম। শেষে তো আমার ~x( ~x( ~x( অবস্থা। মার্ক টোয়াইন ই তো মনে হয় বলেছিল, নেভার আর্গু উইথ ষ্টুপিড পিপল ... প্যাঁচাল শুরু করার আগে কেন যে বসের এই কথাটা মাথায় আসেনি, সেই দুঃখ আমার এখনও কাটেনি :bash: :bash:


        গৌড় দেশে জন্ম মোর – নিখাঁদ বাঙ্গাল, তত্ত্ব আর অর্থশাস্ত্রের আজন্ম কাঙ্গাল। জাত-বংশ নাহি মানি – অন্তরে-প্রকাশে, সদাই নিজেতে খুঁজি, না খুঁজি আকাশে।

        জবাব দিন
  4. ওমর আনোয়ার প্রিন্স (৮২-৮৮)

    ভাইয়া রাজীব, তোমার বিবরন গুলো পড়লাম। Cut & Paste করে একটা কিছু যেটা বলবার চেষ্টা করেছো সেটা খুব বেশী পরিষ্কার হয়নি। আমি মনে করি (অবশ্য আমার এই মনে করাটাতে কার কিবা এসে যায়!), Ignorance একটা আশীর্বাদ। অনেক সময়ই the best cure to ignorance is to read and/or ask and analyze. বুঝতে পারছি, Reading টা ভালই চলছে তোমার। ভাল লেগেছে, কোনো রকম কপটতার আশ্রয় না নিয়ে তুমি সরাসরিই নিজেকে অবিশ্বাসী ঘোষনা দিয়ে আগেও কয়েকটা লেখা লিখেছিলে। সেসবের কোনোটাতেই কোনো সমস্যা নেই। যেমনটা তুমি নিজেই বলেছো, “আমার স্বাধীনতা থাকতে হবে বিবর্তনবাদ বিশ্বাস বা প্রচার করার বা এই নিয়ে তর্ক করার। আপনার যেমন অধিকার রয়েছে বিবর্তনবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার তেমনি আমার অধিকার রয়েছে আপনার আল্লা, খোদা, আহুর-মাজদা, জিহোভা, ভগবান, ঈশ্বর, বেহেশত, দোযখ, কাবা, জমজম, কৈলাস এর শিবলিঙ্গ, নির্বাণ, বোরাক, প্রেরিত পুরুষ নিয়ে প্রশ্ন তোলার, অবিশ্বাস করার”। Fair enough. অবশ্যই সে অধিকার সবারই থাকা উচিত।
    তবে সমস্যাটা আমি অন্য একটা জায়গায় দেখতে পেয়েছি (তাতেও কারো কিচ্ছু এসে যায় না)। আমার যেটা মনে হয়েছে সেটাই বলছি, তুমি জ্ঞানার্জন করছো আর সেটা তৎক্ষণাৎ বিতরন করে হাল্কা হবার চেষ্টা করছো বা করতে চাচ্ছো, বিশ্লেষণের জন্য নিজেকে যথেষ্ট সময় দিচ্ছ না। ক্রমাগত জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে নিজেকে ঋদ্ধ করে আগে নিজেকে একটা পরিষ্কার অবয়ব (Identity) দেবার চেষ্টা করা উচিত। চার্লস ডারউইন, হুমায়ুন আজাদ, প্রত্নতত্ত্ববিদ ডোনাল্ড কার্ল জোহানসন, পোপ ফ্রান্সিস, পোপ বেনেডিক্ট, কাবা শরীফের খতিব, জঙ্গী নেতা শায়খ আব্দুর রহমান, হুমায়ুন আহমেদ, শাহরিয়ার কবীর, তসলিমা নাসরিন, কবি দাউদ হায়দার, লতিফ সিদ্দিকী, মকবুল ফিদা হোসেন – এরা সবাই নিজেদেরকে নিয়ে একটা জায়গায় পৌঁছে গেছেন প্রথমে, তারপর তারা তাদের মতো করে তাদের মতামত ও মতবাদ দিয়েছেন বা দিচ্ছেন বা তা প্রচার করবার চেষ্টা করেছেন। সঠিক বেঠিক সেসব অন্য প্রসঙ্গ। আমার প্রশ্ন, তুমি কি করছো ভাই? আমি জানিনা, সেরকম একটা identity তৈরী না করে কেবল অর্জিত কোনো মতবাদকে বিশ্বাস করা বা সেটার পেছনে ছোটা বা সেটাকে প্রচার করা বা তা নিয়ে তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হওয়াটা কতটা বুদ্ধিমানের কাজ। মানুষের পরমতসহিষ্ণুতা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে আজ, তাতে খুব ভয় হয়, কোথায় কোন ঘাতক না জানি আবার শান দিয়ে নিচ্ছে তার চাপাতির তোমার লেখার পাতায় পাতায়! কি নির্মমভাবেই না হুমায়ুন আজাদের মতো জেনে যেতে হয়, “মৃত্যুর সময় দেখে যাবো একটি পুরোপুরি গুন্ডা আমাকে শাসন করছে, ধন্য হবে আমার মৃতদেহ”। অবশ্য তুমিই নিজেও তো বিশ্বাস কর, বলেওছিলে বোধ হয় কোনো একটা লেখায়, মৃতদেহকে ধন্য করার কি আছে, মৃতদেহ তো পচে গলে মাটির সঙ্গে মিশে যাবেই। তোমার ছোটভাই চক্ষুরোগ চিকিৎসক ডাঃ আতিকুল হকের ফেসবু্ক বাণী দিয়ে আমিও আজ এখানেই শেষ করতে চাই,
    “মানুষ পোশাকে-আশাকে, কথায়-বার্তায় আগের চেয়ে অনেক অনেক বেশী ধর্মাশ্রয়ী হয়েছে। কিন্তু ভণ্ড হয়েছে তারও বেশী…” । উদ্ধৃতিটার প্রতি সুবিচার হতো যদি বলা যেতো,
    “মানুষ পোশাকে-আশাকে, কথায়-বার্তায় আগের চেয়ে অনেক অনেক বেশী ধর্মাশ্রয়ী এবং ধর্মচ্যূত হয়েছে। কিন্তু ভণ্ড হয়েছে তার চেয়েও অনেক বেশী…” ।

    জবাব দিন
    • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

      ওমর ভাই আপনার বক্তব্য পরিষ্কার বুঝতে পারছি না বলে দুঃখিত।
      আপনি কি আগে আমাকে একটা পি এইচ ডি ডিগ্রি নিয়ে লেখালিখি করতে বলছেন!!!

      আর চোথাবাজি বা কপি পেষ্টের কথা যদি বলেন তবে বলছি সব কিছুর রেফারেন্স দেয়া হয়েছে।
      যেই বিষয়গুলো প্রমাণিত তা নিয়ে কি আপনি আমাকে আবার গবেষণা করতে বলছেন?
      এইখানে আমি শুধুমাত্র তথ্যগুলো সন্নিবেশিত করেছি।
      এখন বলেন তো ভাই কোন জিনিসটা ক্লিয়ার না আপনার>
      বিবর্তনবাদ নিয়ে তো প্রথমেই কিছু রেফারেন্স দিয়ে দিলাম। প্রাপ্ত ফসিলগুলো কি যথেষ্ট প্রমাণ নয়!
      এই ব্যাপারে ধর্মগুরু পোপের কথাও বললাম।
      এরপর ইউ কে তে নব্য ইসলামের রূপ হিসাবে একটা ইউ টিউব ভিডিও দিলাম।
      এরপর মত প্রকাশের স্বাধীনতার রূপ দেখাতে গিয়ে হুমায়ুন আজাদ, তসলিমা নাসরিন, দাউদ হায়দার, এবং মকবুল ফিদা হুসেনের কথা আনলাম।
      এবং ধর্মান্ধদের কাছ থেকে তারা যে ব্যবহার পেয়েছেন তা বললাম।

      এইখানে আর কি কি বললে বক্তব্য আরো পরিষ্কার হতো তা জানতে চাচ্ছি।
      এবার আপনার জন্য এক কাপ :teacup:


      এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

      জবাব দিন
      • রাজীব, আমি চায়ে চিনি খাইনা, তারপরেও তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম তোমার জবাবের ওই প্রথম লাইনটার জন্য। নেক্সট টাইম কথা না বুঝলে আগে জিজ্ঞেস করবে, তারপর উত্তর দেবে। তুমি চোথাবাজি করেছো এই অভিযোগটা তোমাকে কে করলো? Cut & Paste এর অর্থ চোথাবাজি নয়, চোথাবাজি হচ্ছে অন্যেরটা নিজের বলে চালিয়ে দেয়া। তুমি সেটা আলবত করোনি। যেমন্টা নিজেইে বলছো, শুধু কিছু তথ্য সন্নিবেসিত করেছ। জোড়ালো ভাবে তুমি নিজে কিছু প্রমাণ করতেও চাওনি। আর শোনো, পিএইচডি করলেই চূড়ান্ত জ্ঞানার্জন হয় এই তথ্যই বা কোথা থেকে পেলে। পিএইচডি আজকাল লাইক আ সসেজ, মেসিনের এক দিক দিয়ে মাংস দেবে, অন্যদিক দিয়ে সসেজ বেরোবে। এরকম ভুরি ভুরি PhD আশপাশে হরদম ঘুরছে, আমার নিজের ঝোলাতেও এক্টা আছে। Doesn't make any difference. মোবাইল নং দিও, অনেক ঝগড়া হবে তোমার সংগে ভাইয়া। ভাল থাক।

        জবাব দিন
  5. মাহমুদুল (২০০০-০৬)

    আপনার পোষ্টগুলোর আলাদা একটা স্বকীয়তা আছে। সেটা হচ্ছে, 'জোড়া দেয়া'। কিন্তু 'ফিনিশিং' টা হয় না। মনে হয় খাপছাড়া ভাবে এখান ওখান থেকে এনে জোড়া লাগিয়েছেন। আমার বিশ্বাস যদি আরেকটু সময় নিয়ে একটা লেখা দেন তাহলে হয়তো আমরা আরো বেটার কিছু পাবো। সিসিবির নিয়মিত পাঠক হিসেবে বেশি চেয়ে ফেললাম কি??? 😕

    ধর্মানুভূতি??? ... হা হা হা হা হা হা হা হা :)) :)) :)) (সিসিবির একমাত্র রুচিহীন পাঠক মনে করে সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)


    মানুষ* হতে চাই। *শর্ত প্রযোজ্য

    জবাব দিন
    • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

      আগে তোরে কয়েকটা লিঙ্ক দিই।
      ০১। ৭০০,০০০ বছর আগে পাওয়া ঘোড়ার হাড় থেকে ডি এন এ সিকোয়েন্স বের করা হইছে। এইটা শেয়ার দিলেই কিন্তু বোঝা যায় তুই কি বুঝাতে চাচ্ছিস। লিঙ্ক।
      ০২। ৬০ মিলিয়ন বৎসর আগে পেংগুইনের উড়ার ক্ষমতা লুপ্ত হয়। (রেফারেন্স বিবিসি )
      ০৩। ভালুক দের মধ্যে একমাত্র জায়ান্ট পান্ডা তৃণভোজী। মাংশ খাবার টেষ্ট বাড পান্ডার জিহবা থেকে বিলুপ্ত হয় ৪ মিলিয়ন বৎসর আগে। (রেফারেন্স বিবিসি )

      এই তিনটা খবর কিন্তু প্রমাণ করে দেয় বিবর্তনবাদ সত্য এবং আল্লাহ র টাইমলাইন মানে আদম থেকে আর কি মিথ্যা।
      বার বার তো বলার দরকার নাই, আল্লাহ নাই। কিছু তথ্য দিলেই তো ক্লিয়ার হয়ে যায়।

      এবার অন্য কথা বলি।
      সরি মাহমুদুল যে তোর বা তোদের মনের আশা পূরণ করতে পারছি না।
      তোর সাথে পরিচয় না থাকলে ভাবতাম তুই আমাকে খোচাচ্ছিস জোড়াবাজ বলে।
      তোর অভিযোগ অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। এন্ডিং খোলা রেখে দিই।
      যে যার মতো ভেবে নিক।
      তাই আর কি
      এছাড়া এই লেখার উদ্দেশ্য একটাই মত প্রকাশের স্বাধীনতা, এই তো।


      এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

      জবাব দিন
        • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

          ওটা ৫-৬ হাজার বছরের বেশি যায় না।
          সাথে আরো ফাও ২০-৩০ হাজার দিলেও ফায়দা হয় না।


          এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

          জবাব দিন
          • হায়দার (৯২-৯৮)

            থ্যাঙ্কু রাজীব ভাই ।
            অবশ্য আপনি যদি খ্রীস্টান ধর্মতত্ত্ব বিবেচনা করেন, তাহলে ঠিকই বলেছেন। বাইবেল এর জিনিওলজি এবং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের সময়ের ব্যবধানকে হিসেবে নিয়ে ব্যাকট্র্যাক করলে আসলেই মানুষের শুরু মাত্র প্রায় ৬৫০০ বছর আগে।
            কিন্তু আপনি যদি ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব বিবেচনা করেন, তাহলে বোধহয় একটু সমস্যা আছে। কারণ, ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব এধরনের কোন টাইমলাইন দেয়না। ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুযায়ী সৃষ্টির শুরু এবং শেষ সম্পর্কিত জ্ঞান শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তা জানেন। ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব এবং খ্রীস্টান ধর্মতত্ত্বের মধ্যে অনেকগুলো পার্থক্যের মধ্যে এটা একটা।
            ভালো থাকবেন।

            জবাব দিন
            • পারভেজ (৭৮-৮৪)

              "ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুযায়ী সৃষ্টির শুরু এবং শেষ সম্পর্কিত জ্ঞান শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তা জানেন"
              শুধু তাই না, আমি যতদুর জানি, অন্যদের (মানে মানুষের) সেটা জানার চেষ্টা করাও নিষেধ।
              তার মানে কি এই দাড়াচ্ছে, যে মুসলমানদের জন্য কসমোলজি, ইভলুশন, রিলেটিভিটি, ইত্যাদি শিক্ষা হারাম?
              কেবলই থিওলজি দিয়ে সব কিছু ব্যাখ্যা করা লাগবে?
              চিন্তার বিষয়।
              কাজী নজরুল ইসলাম ঠিকই বলেছেন, "বিশ্ব যখন এগিয়ে চলেছে, আমরা তখনও পিছে/বিবি তালাকের ফতোয়া খুঁজেছি ফেকাহ্ ও হাদীস চষে।"
              মন্দ না...


              Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

              জবাব দিন
              • হায়দার (৯২-৯৮)

                >> " তার মানে কি এই দাড়াচ্ছে, যে মুসলমানদের জন্য কসমোলজি, ইভলুশন, রিলেটিভিটি, ইত্যাদি শিক্ষা হারাম? "

                না ভাইয়া, ব্যাপারটা মোটেই তা না। বরং ইসলামে সৃষ্টি নিয়ে জানার এবং গবেষণা করার ব্যাপারে অনেক উৎসাহ দেয়া হয়েছে। প্রমাণ, যদি তাই না হত তাহলে সপ্তম থেকে চৌদ্দশ শতাব্দী পর্যন্ত Islamic Golden Age এবং এর হাত ধরে আসা Renaissance এর অস্তিত্ব থাকতনা। নীচে একটা পেজের লিঙ্ক দিলাম। বেশ কটি ডকুমেন্টারী আছে। ঐতিহাসিক ব্যাকগ্রাউন্ডগুলো জানতে পারবেন।
                ১। //www.1001inventions.com/media/documentaries
                স্পেশালি বিবিসির ডকুমেন্টারী Science and Islam (3 parts) এবং When the Moors ruled in Europe এ অনেক কিছু জানতে পারবেন। ডকুমেন্টারীগুলো অবশ্য অনেক লম্বা। এজন্য ইন্ট্রডাকটরি হিসেবে এই ভিডিওটা দেখলে মন্দনা।
                ২। //www.1001inventions.com/media/video/library
                প্রশ্ন হচ্ছে, পনেরশ শতাব্দী থেকে বর্তমান পর্যন্ত মুসলিমদের পিছনে হাটার কারণ কি?
                এর উত্তর অল্প কথায় লেখা সম্ভবনা। তবে নিচের দুটো লিঙ্ক থেকে কিছুটা জানতে পারবেন।
                ৩। //www.youtube.com/watch?v=4dEvEFBpVjg
                ৪। //www.youtube.com/watch?v=jJmrPh2sRuw
                ফাও হিসেবে আরেকটা লিঙ্ক দিলাম। মুসলিমরা যদি আবার সামনে হাটতে চায় সে সম্বন্ধে একটা প্রপজাল বিষয়ক। বিষয়বস্তুটা শুনতে অনেক বোরিং এবং কাটখোট্টা মনে হলেও, ভিডিওটাতে অনেক জোকস আছে। নিখাদ বিনোদনের জন্য হলেও শুনে দেখতে পারেন।
                ৫। //www.youtube.com/watch?v=jO4_Bhi0QD4
                ভালো থাকবেন। (সম্পাদিত) (সম্পাদিত) (সম্পাদিত)

                জবাব দিন
  6. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    রাজীব,
    সবলেখা যে জ্ঞানগর্ভ হতে হবে এমন কোন কথা নেই। কোন কোন লেখা স্রেফ ভাবনাকে উস্কে দেবার জন্যে বলা যেতে পারে।তর্ক কিংবা নতুন-কিছু-জানার প্রাসঙ্গিকতা এভাবেই তৈরি হতে পারে। আমি তোমার প্রশ্ন করার অবিশ্বাস করার সঙ্গতি-অসঙ্গতি উত্থাপন করার প্রয়াসটাকে দেখতে চাই সবার আগে --- প্রকাশে ভুলচুক তথ্যে খামতি থাকবে। থাকলে, কি পাঠক পেলে ক্ষতি নেই -- তুমিও জানো। কারণ একটি বই পড়া লোক তুমি নও, 'একটিই' বই তুমি লিখছোনা। মজার ব্যাপার হচ্ছে --- যারা প্রশ্ন তোলে বেশি তাদেরকেই বেশি শুনতে হয় আরো বেশি জেনে আসো --- যারা এক-বইয়ের পাঠক তাদের এই কথা কওয়ার লোক দেখি না তেমন।

    জবাব দিন
  7. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    প্রশ্ন করা জিনিষটাকেই কেন জানি মানুষ ভয় পায়, দমিয়ে রাখতে চায়। আবার যুক্তি দিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে পালাটা যুক্তি না পেয়ে বিশ্বাষ অবিশ্বাষ, অনুভূতি ইত্যাদি ইত্যাদি টেনে এনে একে বারে ব্যারাছ্যারা পাকিয়ে ফেলে।

    মত প্রকাশ জারি থাকুক :thumbup:


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।