সি-৫৯, দক্ষিণ ছায়াবীথি

আটানব্বইয়ের শেষের দিকে কোন একসময়। ঢাকায় এসেছি আই এস এস বি দিতে। অন্য ক্যাডেট কলেজগুলোর চেনা অচেনা বিভিন্ন বন্ধুদের সাথে জমজমাট চারটা দিন পার করলাম। তখন কোন এক কারণে সরকারবিরোধীদের হরতাল অবরোধ চলছিল। যেদিন আই এস এস বি শেষ করে বের হলাম সেদিন সন্ধ্যা থেকেই আবার লাগাতার এক অবরোধের ডাক দিয়ে বসেছিলেন বিরোধী নেত্রী। বিকেল পাঁচটার দিকে আমরা তিনজন ঠিক করলাম গাজীপুর যাবো। জহিরের বাসায়। মোবাইল ততটা সহজলভ্য ছিলোনা তখনো। সারপ্রাইজ টাইপ হবে ভেবে আমরা তিন বান্দা গাজীপুরগামী লাস্ট ট্রিপে উঠে বসলাম। ঝামেলা লাগলো ভাড়া দেয়ার সময়। দেখা গ্যালো তিনজনের কেউই জহিরের বাসার ঠিকানা জানিনা। শুধু জানি দক্ষিণ ছায়াবীথি (এই ঠিকানায় জহির চিঠি লিখত বাসায়)। কন্ডাক্টার ছেলেটাকে বলা হলো ওই দক্ষিণ ছায়াবীথি যেখান থেকে যাওয়া সোজা হবে সেখানে নামিয়ে দিতে। বাসের মধ্যেই আরেকটা জিনিস বের হলো একজনের কাছ থেকে, যেটা নাকি সে জহিরের মুখ থেকে শুনেছে আগে সেটা হলো, দক্ষিণ ছায়াবীথিতে নুরু মসজিদ বলে একটা বিশাল মসজিদ আছে যেটা সবাই চিনে, জহিরের বাসা ওই মসজিদের ধারে কাছে না। তবে অন্য একটা মসজিদের পাশে যেটা আবার বেশির ভাগ দক্ষিণ ছায়াবীথিবাসী চেনেনা! এরকম আজব ইনফরমেশন নিয়ে আমরা সন্ধ্যা নাগাদ গাজীপুর পৌছে গেলাম। ততক্ষণে অবরোধ শুরু হয়ে গেছে, অর্থাৎ ঢাকায় ফিরে আসার আর কোন রাস্তা নাই। আমরা তিন উজবুক সাথে তিনটা বড় ব্যাগ নিয়ে ঘন্টাখানেক দক্ষিণ ছায়াবীথির মসজিদের খোজে রিকশা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। যাকেই জিজ্ঞেস করি সবাই ওই বিখ্যাত নুরু মসজিদই দেখিয়ে দেয়। রাত প্রায় সাড়ে আটটা বাজছিলো, যখন আমাদের রিকশাওয়ালা আক্ষরিক অর্থেই আমাদেরকে রিকশা থেকে ফেলে দেয়ার হুমকি দিলো। আর দশ মিনিটের মত দেখব বলে একটা মোড়ে আমরা রিকশা থামিয়ে বসে আছি। হঠাত দেখি বিশাল দেহী এক লোক এগিয়ে আসছে। এই অবরোধের ভেতর অচেনা জায়গায় কিছুটা ভয়ই পাচ্ছিলাম। শেষ ভরসা হিসেবে অন্ধকারের সেই দীর্ঘদেহী আততায়ীকে আশ্রয় দানের অনুরোধ করার মানসিক প্রস্তুতি নিতে নিতেই শুনি চরম প্রার্থিত পরিচিত গলা। কি রে তোরা এইখানে কি করস??
বাসায় ঢুকার সময় দেখলাম গেইটে লেখা আছে সি-৫৯, দক্ষিণ ছায়াবীথি।
__________________________________________________

এই সি-৫৯, দক্ষিণ ছায়াবীথিতে এর পরেরবার গেলাম ঠিক দশ বছর পর। সেদিন অবশ্য চিনতে কোনো সমস্যাই হয়নি। যদিও চেনার কথাই না। কারণ ৯৮ এর পর ছায়াবীথি এলাকায় যে ধরণের পরিবর্তন হয়েছে সেটা স্থানীয় লোকজন ছাড়া অন্য যে কাউকে ওই এলাকা ভুলিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট। তবে আমাদের চিনতে কোন ঝামেলা হলোনা কারণ সেদিন ছায়াবীথিমুখী প্রায় সবাইই সেই বিখ্যাত সি-৫৯ বাড়িটাতেই যাচ্ছিলো।

_________________________________________________

সেভেনের শুরুতেই আমরা যে টেবিলটাতে বসতাম ডাইনিং হলে তাতে বড় বিনোদন ছিলো দুজনের কান্না। একজন যেকোন একটা মেন্যু দেখলেই তার বাসায় সেই মেন্যু কিভাবে মা খাইয়ে দিতেন সেটা মনে করে কান্না জুড়ে দিত। আর দুজনের বাকি জন, জহিরের ছিলো আবেশে কান্না রোগ। ও সবসময় স্বাভাবিক, কিন্তু শুধু একবার প্রথমজনের কান্না দেখলে হাতের চামচ টামচ ফেলে হাপুস নয়নে কাঁদতে বসে যেত। আর আমরা বাকিরা মিটি মিটি হাসতাম এই আবেশি কান্না দেখে।

_________________________________________________

প্রথম থেকেই কিভাবে কিভাবে যেন বেশির ভাগ সময় জহির আমার রুম মেট হয়ে যেত, শুধু রুম মেট না, আমার পাশের বেডটাই পড়তো ওর। তাই কলেজ থেকে বের হবার আগে আগে ব্যাচমেট সবাই সবাইকে ডায়রী দিয়ে তাতে কিছু না কিছু লিখে দেয়ার হুজুগের সময় আমার ডায়রীটা সবার আগে জহিরের হাতেই পড়লো। ওর হাতের লেখা খারাপ ছিলো। সেটা দিয়েই লিখলো। আমি হুবুহু তুলে দিলাম,

—–
DEAR কাইয়ূম, এই রাইতে তোরে আর কি লিখুম, ইচ্ছা করতাছে লিখি আমি আর লিখুম নারে দোস্ত! তয় কিছু কতা ত লিহনই লাগে। তর লগে আমার খাতির হেই কেলাস সেভেন থেইহা। তর কতদূর মনে পড়ে আমি জানিনা, তবে আমার খুব মনেপড়ে। মনে হয় সেই দিনগুলি আমি কখনো ভুলতে পারবনা। ১৯ নাম্বার টেবিল মনে পড়ে। পাস করা।তুই আমার সাথে এক রুমে ছিলি দীর্গ সময়। আর পাশের বেডে ছিলি কলেজ জীবনের অর্ধেক সময়। তাই তোর সাথে আমার সখ্যতা প্রচুর।
—-
পরে দেখি দুদিন পর আবার লিখেছে,
—-
আবারো লিখছি। কারণ অতটুকু লেখা দেখে তুই হয়তো ভেবেছিস জহিরটা আলসেমী করে লিখেনি। কিন্তু আমি যে আবাগের বশবর্তী হয়ে লিখতে পারিনি তা তুই বিশ্বাস করবিনা। কখনো ভাবিনি হাত বাড়ালে বা পা লম্বা করলে কাইয়ূমের বেড স্পর্শ করা হবেনা, হবেনা দুজনের একান্ত গল্প, কত স্মৃতি এই বুকে, তোরা বলিস তোরা কিছুই ভুলে যাসনি, তোরা খারাপ জিনিষ্টাই বেশি মনে রাখিস কিন্তু আমার কাছে খারাপ ভালো সবই সমান আমি সব কিছুতেই মজা পাই তাই হয়তো সমান। ডাইনিং হলের সামনে আর কখনো vacation থেকে এসে একসাথে কোলাকুলি ডিউটি মাস্টারকে পাত্তা না দেয়া এসবই ধূসর মলাট খাতার স্মৃতি, মনে রাখিস এই জহিরকে যে তোদের মনে অহেতুক কষ্ট দিতো। ক্ষমা করিস আমায়।
– জহির

—————————-

এইবার আগের লেখায় নীচে স্পেশাল দুই লাইন যোগ করেছে, প্রথম লাইন D.B – 19\11\79 আর দ্বিতীয় লাইন, D.D দিয়ে ব্ল্যাঙ্ক মানে ড্যাশ ড্যাশ দেয়া। আমি প্রায়ই ডায়রীটা বের করে এই লেখাটা পড়ে হাসতাম। সিরিয়াস কিছু লিখতে গিয়ে সহজ সরল ছেলেটা উলটে পালটে কত কি লিখেছে! কাব্যিক ঢং আনতে গিয়ে প্যাচিয়ে ফেলেছে। সারাটা জীবন অন্যদের দুঃখে কাঁদা ছেলেটা লিখেছে আমাদের মনে নাকি অহেতুক কষ্ট দিতো, হাসি আসবেনা?এই হতভাগা আমি গত বছর ১৩ ফেব্রুয়ারির আগে কল্পনায়ও ভাবতে পারিনি ওই ফাঁকা জায়গায় D.D এর পর আমাকেই লিখতে হবে 13\02\2008!!
_________________________________________________

২০০৮ এর ফেব্রুয়ারীর এগার কিংবা দশ তারিখ। রাসেল স্কয়ারে আমি আর আজিজ সন্ধ্যার নাস্তা করে বের হয়েছি মাত্র। আজিজ বললো বসুন্ধরা সিটি যাবো কিনা। আমার শ্যামলীতে রাজিবের অফিসে কি একটা কাজে যাবার কথা বিকালেই। তাই বসুন্ধরায় না গিয়ে শ্যামলী চলে গেলাম। রাজিবের সাথে আড্ডা দেবার ফাকে ও জানালো বিকালে ঠিক টাইমে আসলে জহিরের সাথে দেখা হতো। তখন রাজিবের সাথে নাকি ওর শ্যামলীতে হঠাতই দেখা হয়ে গেছে। রাতে বাসায় আসলাম, এসে শুনলাম আজিজের সাথে জহিরের সন্ধ্যায়ই বসুন্ধরা সিটিতে দেখা হয়েছে। আমি ভাবলাম কি কপাল! দুই জায়গাতেই ওর সাথে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা থাকার পরও দেখা হলোনা। অনেকদিন দেখা হয়না। তাই কিছুটা মন খারাপও হোলো। বেশি আফসোস হোলোনা, কারণ জহিরের ওয়ারিদের অফিস শ্যামলীতেই আর আমি প্রায়ই রাজিবের অফিসে আড্ডা বাজি করতে যেতাম ওখানে। কিন্তু আমার আফসোসটা চিরস্থায়ী হয়ে গেলো দুই তিন দিন পরই।

___________________________________________________
সেদিন বইমেলায় গেলাম। ঢুকার মুখেই রক্তদান কেন্দ্র, দুই তিনটা। জহির রেগুলার রক্ত দিতো। এমনকি, একবার রক্ত দেবার চার মাসের মধ্যে আর না দেয়ার পরামর্শ থাকলেও মাত্র একদিন গ্যাপেও অচেনা এক অসহায় লোকের জন্য রক্ত দিয়েছে ও। সবাই এটা নিয়ে ধরলে হাসিমুখেই বলে উঠতো আরে আমার কিছু হবেনা। আমরাও তাই বিশ্বাস করতাম। এরকম বিশাল দেহ এবং মনের ছেলের আসলেই কিছু হবেনা। হতে পারে না।
_____________________________________________________

২০০৮ এর ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে আমরা যখন সি-৫৯, দক্ষিণ ছায়াবীথির সামনের গাড়ি বারান্দায় পৌছাই, তখনো ওখানে খাটিয়ার শ্বেত পোষাকে জড়ানো বিশালদেহী আমার বন্ধুটার মুখে সেই স্মিত হাসি আর আশ্বাস জড়ানো চিরচেনা ভাবটা, দেখিস আমার কিছু হবে না। মনে হচ্ছিলো বিশাল হাতটা দিয়ে এখনই জড়িয়ে ধরে বলবে, কি রে তোরা এইখানে কি করস?

৪,৭১৩ বার দেখা হয়েছে

৪৩ টি মন্তব্য : “সি-৫৯, দক্ষিণ ছায়াবীথি”

  1. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    আজ এই ভালোবাসা দিবসে সবাই বিশাল হৃদয়ের সবাইকে ভালোবাসতে পারা বিরল ক্ষমতা নিয়ে ক্ষণিকের জন্য পৃথিবীতে আসা আমার এই বন্ধুটার জন্যে একটু দোয়া করবেন। এটুকু মিনতি সিসিবির ভাইবোনদের প্রতি।


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  2. ভালবাসা দিবস শুধু কাপল দের জন্যে এইটা ভুল..... ভালবাসতে জানা প্রতিটা মানুষের জন্যে..... আমি তাই বলব..

    জহির ভাইয়াকে কে আল্লাহ কবরে ও তার পরের জীবনে শান্তি দিক...... যেই পরিমান ভালবাসা তিনি তার চেনা মানুষদের মাঝে বিলিয়ে গিয়েছেন আল্লাহ তাকে তার প্রতিদান দিক......

    জবাব দিন
  3. মান্নান (১৯৯৩-১৯৯৯)

    ঝাপসা চোখ নিয়ে ঘুমাতে যাচ্ছি। চারপাশের সবাইকে অকারনে ভালোবাসার ক্ষমতা নিয়ে যারা জন্মায়, সবার ভালোবাসা একসাথে পাবার জন্যই বুঝি তারা হঠাৎ করে একেবারে চলে যায়। জহির ভাই তার বিলিয়ে যাওয়া সব ভালোবাসা যেন ফেরত পান পরজীবনে।

    জবাব দিন
  4. সাকেব (মকক) (৯৩-৯৯)

    ভাই,
    আমার কলেজের এক ক্লাসমেট ছিল যার বাসা ছায়াবীথি...ক্লাস এইট থেকে ঢুকসিলো দেইখা, জহির ভাই মনে হয় ওর ফ্রেন্ড ছিল...গত বছর ওর কাছ থেকে এই ঘটনাটা শুনার পর খুব কান্না আসছিল...

    আমারো সবচেয়ে কাছের দুইজন মানুষ এইভাবেই হুট করে একই দিনে চলে গেসিলো...
    হুট করে চলে যাওয়া মেনে নেওয়া যায়না কিছুতেই...কিছুতেই...


    "আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
    আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস"

    জবাব দিন
  5. রহমান (৯২-৯৮)

    প্রথমে তোর পোষ্ট দেখে খুশি হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম দুষ্টামি করব, অনেক ইমো দিব, 'কাইয়ূম এতদিন পরে পোষ্ট দিয়েছে!!!' এই জাতীয় কিছু ফান করব। কিন্তু পড়তে গিয়ে বুঝলাম এটা হলো প্রচন্ড মন খারাপ করা একটা পোষ্ট 🙁 🙁 🙁

    মন থেকে দোয়া রইল জহিরের প্রতি। মানুষের প্রতি জহিরের এই ভালবাসা হোক আমাদের জন্য এবারের ভ্যালেন্টাইন ডের একটি শিক্ষনীয় বিষয়

    জবাব দিন
    • হতে পারে......

      তবে সেই সময়কার ".........." / নীরব মুহুর্ত গুলোর প্রতিটায় যেই পরিমান কথা লুকিয়ে থাকে ওগুলোকে লিখার ক্ষমতা মানুষের নাই.......সুতরাং এর পর সে যাই লিখুক, যতই আবোলতাবোল লিখুক তার মত আপন লিখা আর কিছুই হতে পারেনা

      জবাব দিন
  6. তাইফুর (৯২-৯৮)
    কখনো ভাবিনি হাত বাড়ালে বা পা লম্বা করলে কাইয়ূমের বেড স্পর্শ করা হবেনা

    ... ... ... ... ... ...


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
  7. সামিয়া (৯৯-০৫)

    কাইয়ূম ভাই,
    এ লেখাটায় কি বলব খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা। তিনদিন আগেই, অর্থাৎ এগার তারিখ ছিল পলেনের মৃত্যু বার্ষিকী, আরও অনেক দিনের মত এ দিনটাও ভুলে গেছিলাম, আরও অনেক দিনের মত এ দিনটাও শেষ পর্যন্ত কোন না কোন ভাবে মনে পড়েই গেল।
    মেয়েটাকে এত বেশি ভালবাসতাম... আমরা সবাই, বোকা মেয়েটা বুঝলো না।
    আমাদের সকল ভালবাসার মানুষ, যারা আমাদের কাছ থেকে না ফেরার দূরত্বে চলে গেছে, তাদের সকলকে আল্লাহ ভাল রাখুক। আমার এই ছোট্ট কামনা থাকল, সকলের জন্য।

    জবাব দিন
  8. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    জহিরের জন্য ভালোবাসা। কাইয়ুম, তোমার লেখাটা মনটাকে বিষন্ন করে দিয়েছে।

    গতকাল রাতেও অচেনা-অজানা এনটিভির ভিডিও এডিটর আতিকের হত্যার খবর আমাকে এমনই স্তব্ধ করে দিয়েছিল।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  9. তানভীর (৯৪-০০)

    কাইয়ূম ভাই, ঠিক বলার মত কিছু খুঁজে পাচ্ছিনা। আপনি নিশ্চয়ই আমার অনুভূতিটুকু বুঝতে পারবেন!
    জহির ভাই যেখানেই থাকুক, ভালো থাকুক, শান্তিতে থাকুক।

    জবাব দিন
  10. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    তৌফিক, সিউল, রায়হান, তপু, মান্নান, কামরুল, মেহেদী, এডিসন ভাই, সাকেব, রহমান, মাহমুদ ভাই, রাশেদ, শার্লী, অনুরক্ত ভাই, ফয়েজ ভাই, জুনা, তাইফুর, সামিয়া, তুহিন, সাব্বির, লাবলু ভাই, তানভীর, টিটো সহ সিসিবির আমার সকল সিনিয়র বড় ভাই, দোস্তরা, ছোট ভাইদেরকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। জহিরের মৃত্যুদিন কেটে যাবার পর থেকে আবার হয়তো ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে আগামী বছরের একই দিনের জন্য ওর স্মৃতি ঝুলিয়ে রাখবো। স্রষ্টার কাছে প্রার্থনাটুকুই সম্বল।
    সবাইকে আবারো অসংখ্য ধন্যবাদ।


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  11. সাজ্জাদ (১৯৯২-১৯৯৮)

    জীবন সূন্দর আকাশ বাতাস পাহাড় সমুদ্র
    সবুজ বনানী ঘেরা এই প্রকৃ্তি সুন্দর
    আর সবচেয়ে সুন্দর এই বেঁচে থাকা
    তবুও কি আজীবন কি বেঁচে থাকা যায়
    বিদায়ের সাহানায় বেজে ঊঠে
    নিয়ে যাবার পালকি এসে দাঁড়ায় দুয়ারে
    সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে
    এই যে বেঁচে ছিলাম দীর্ঘশাস নিয়ে যেতে হয়
    সবাইকে অজানা গন্তব্যে
    হঠাৎ ডেকে উঠে নাম না জানা পাখি
    অজান্থেই চমকে উঠি
    জীবন ফুরালও নাকি?

    জবাব দিন
  12. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    মাত্র দু'বছরেই সব ভুলে গ্যালাম 🙁
    এর মধ্যে অনেক ওলট পালট গেলো জহিরের পরিবারে। ছেলের শোক নিয়ে বেশিদিন না থেকে নিজেও চলে গেলেন ওর বাবা। খুব আদরের ছোট্ট বোনটার বিয়ের পর এইতো সেদিন বাচ্চা হলো, কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই মারা গেলো কি এক জটিলতায়। আন্টি মাঝে মাঝে আমাদেরকে ফোন করে হয়তো নিজের ছেলের ছায়াই খুঁজে বেড়ান। উনার মুখের দিকে তাকানো যায়না 🙁

    সবাই দোয়া করবেন।
    আর এই অকৃতজ্ঞ বন্ধুগুলোকে মাফ করে দিস ব্যাটা। জানি আর কেউ নাহোক, তুই ঠিকই দিবি সেই হাসিটা মুখে নিয়েই।


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  13. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    আমিতো পোলাপানের সাথে যোগাযোগ রাখতাম; ওরে চিনলাম না কেন? আমার বাসা কাছেই ছিল; বি আই টির উল্টাপাশে।
    আমাদের ৯২ এর দুইটা গাজীপুরে ছিল।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।