“আমার নাম নুরুজ্জামান মোল্লা……”

মোল্লা স্যারের মত অতীত ইতিহাস বরিশাল ক্যাডেট কলেজের আর কোন শিক্ষক সম্পর্কে জানা যায় না। স্যার যখন আশির দশকের শুরুর দিকে আমাদের কলেজে পোস্টিং এসে অন প্যারেড হলেন ঠিক সেই দিন থেকে তাকে নিয়ে কাব্য গাঁথা রচনার শুরু। ক্লাসে এসে যেই তিনি বললেন, “আমার নাম নুরুজ্জামান মোল্লা…..” ঠিক সাথে সাথেই পিছন থেকে এক ক্যাডেট গলা চিকন করে বলে উঠল,“…..আমি একটা কবিতা বলব”। ব্যস আর যায় কোথায়? যথারীতি মোল্লা স্যার কর্তৃক কানমলা খাওয়া হয় এবং সেই আহত কানে ডাক্তারের সযত্ন মেরামতির প্রয়োজন হয় (ঘটনার ভুক্তভোগী আহসান কবীর ভাই’র কাছে এই গল্পটা অনেক সরেসভাবে শোনা যায়)। সেদিনই স্যার প্রথম মাইলস্টোনটা স্থাপন করলেন। তারপর সুদীর্ঘ সময় ধরে খালি মাইলস্টোনের (!) ছড়াছড়ি।

আমি যখন কলেজে যোগ দিই মোল্লা স্যার তখন শেরে বাংলা হাউসের হাউস মাস্টার। আর কি কপাল, আমার রুমমেট (তসবীর) হলো মোল্লা স্যারের এক দূর সম্পর্কের ভাই! তখন ক্লাস টুয়েলভের ভাইয়ারা যারা ছিলেন তারা ভারী মজা পেলেন। তসবীরকে তিন হাউসে ডাকাডাকির অন্ত নেই। তসবীরের নামের সাথে “মোল্লা” শব্দটা নেই কেন তা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছিল। অস্থায়ীভাবে ওকে নামের সাথে মোল্লা শব্দটা জড়িয়ে নিতে বাধ্য হতে হয়েছিল।

মোল্লা স্যার এভারেজ উচ্চতার গাট্টাগোট্টা মানুষ, ঘাড়ে গর্দানে সমান, মাথায় মোটামুটি সাইজের একটা চাঁদ, গালে চাপ দাড়ি, কথা বলেন গম গম করে। টাইয়ের নড্‌ বাধেন ব-ড় করে, একবারে ১০ টাকা দামের সমুচার সমান করে। রাশভারী এই মানুষটা হাসলে বড় ভালো লাগে। স্যারের এই এ্যাপিয়ারেন্সটা একেবারে ব্রান্ডেড হয়ে গিয়েছিল। বহু দূর থেকে দেখলেও আমাদের চিনতে অসুবিধা হতো না। তবে স্যারের আসল ব্রান্ড বোঝা যেত তার হাতের নাগালে পড়ে গেলে।

উনার আক্রমনের প্রথম শিকার হয় কান। অন্য সবাই যখন কান ধরেন তখন হাতের দুই বড়জোর তিন আঙ্গুল ব্যবহার করেন। কিন্তু মোল্লা স্যার ব্যবহার করেন পুরো মুষ্ঠি (নাকি মোটা মোটা আঙ্গুলের কারণে আমার মুষ্ঠি মনে হত?)! খপ করে একবার ধরতে পারলে তার হাতের প্রান্তে অসহায় অবস্থায় ঝুলে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। ঐ অবস্থায় চলে নসিহত পর্ব। ভাগ্য ভালো থাকলে গনগনে গরম কান নিয়ে ছাড়া পাওয়া যায়। আর তা না হলে ঐ কান ধরা অবস্থাতেই চলে মাথার উপর চড় চাপাটি। ছোট অথচ ওজনদার চড়ের গতিতে অভিযুক্ত ক্যাডেট যে খানিকটা দূরে সরে যাবে তার উপায় নেই। কারণ কান তো মুঠোয় ধরা। আসলেই স্যার খুব ভালো করে জানতেন, বুঝতেন যে “কান টানলে মাথা আসে” আর “কান ধরা থাকলে মাথাটাও নিশ্চিতভাবে ধরা থাকে”।

ক্লাস সেভেন, এইট মোটামুটি মোল্লা স্যারের আওয়াজ না পেয়েই পার পেয়েছিলাম। কিন্তু ক্লাস নাইনে উঠেই স্যারের হুংকার শুনতে পেলাম। এসএসসি’র জন্য রেজিস্ট্রেশনের আগে কে সায়েন্স আর কে আর্টস পড়বে, আবার সায়েন্সের মধ্যে কারা কারা হায়ার ম্যাথ পড়বে তা নির্ধারণের মাপকাঠি হলো “গণিত”। আর মোল্লা স্যার হলেন গণিত রাজ্যের রাজা (হেড অফ দ্যা ডিপার্টমেন্ট)। একটা ক্লাস টেস্টের ফলাফলের উপর সেটা ঝুলে ছিল। পরীক্ষার পর যথারীতি একদিন খাতা দেখানোর পালা এলো। স্যার খাতা নিয়ে প্রথমে আমাদের ফর্ম বি’তে ঢুকলেন। সাতাশ জনের মধ্যে প্রায় বারোজন পেয়েছে নয় এবং তার চেয়ে কম। দশ পেয়ে কোনরকমে পাশ করেছি প্রায় সাত আট জন। খাতা দেবার পর স্যার সেই বারোজনকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। সবাইকে ক্লাসের বাইরে নিয়ে হ্যান্ডস ডাউন করিয়ে পশ্চাৎদেশে গুণে গুনে (স্যার এত জোড়ে জোড়ে কাউন্ট করতেন যে করিডোরের অন্য মাথা থেকেও শোনা যেত) দশটা করে বাড়ি। সবাইকে সমান ভাগ দিয়ে মোটামুটি হৃষ্টচিত্তে স্যার গেলেন ফর্ম এ’তে।

আমরা তখন ফর্ম ’বি’ ফর্ম ’এ’ এর তুলনায় লেখাপড়ায় বহুত দূর্বল। সেখানে নয় এবং নয়ের নিচে পেয়েছে মাত্র তিনজন! এই তিনজনকে দশটা করে দিয়েও স্যারের মন ভরলো না। তখন তিনি শুরু করলেন কারা কারা দশ পেয়ে মার্জিনাল পাশ করেছে তাদের দিয়ে। এই দলের আট দশজনকে ধরে সটাসট লাগিয়ে দিলেন দশটা করে। তারপর তিনি শান্ত। ঐদিকে আমরা ফর্ম বি এর যে কয়জন দশ পেয়ে পাশ করে গিয়েছি তাদের কথা স্যার বেমালুম ভুলে গেলেন। আমরা হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছিলাম। লেখাপড়ায় দূর্বল হয়েও সেই একটা বার মন খারাপ হয়নি।

স্যারের পিটুনি দেয়া নিয়ে মজার মজার কাহিনী চালু আছে। একবার কোন ক্লাসে এক ক্যাডেটকে খানিকটা উত্তম মাধ্যম দেবার পর ক্লাস শেষের ঘন্টা পড়ে গেল। স্যার পরবর্তী টিচারের জন্য ক্লাস ছেড়ে দিয়ে টিচার্স রুমে চলে গেলেন। বেশ খানিক্ষণ পর তার মনে হলো মাইর দেয়াটা ঠিক মতো হয়নি, মন ভরেনি। হুশ করে চেয়ার ছাড়লেন, ততক্ষণাৎ চলে গেলেন ক্লাসরুমে। দেরী না করে সেখানেই পিটালেন দ্বিতীয় ইনিংস (বেচারা ক্যাডেট)।

স্যারের হাঁপানির সমস্যা আছে। শীতের সময় স্যারের খুব নাজুক অবস্থা হতো। গরমের সময়ও বেশি পরিশ্রম করে ফেললে হাঁপানির টান উঠত। একবার ক্লাসরুমে পড়াতে পড়াতে কোন এক ক্যাডেটকে সামনে ডেকে ব্ল্যাকবোর্ডের সামনেই কানমলা সহযোগে চড় চাপাটি মারলেন। মেরে টেরে হাঁপিয়ে অস্থির হয়ে উঠে বলে উঠলেন,“ফ্যান কই? ফ্যান ছাড়ো”। স্যারের ঠিক মাথার উপরে পূর্ণবেগে ঘোরা ফ্যানের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সামনের সারির কেউ একজন জানালো যে ফ্যানটা শুরু থেকেই ঘুরছে।

স্যারের হাতে আমরা সবাই কম বেশি নাজেহাল হয়েছি। আর কিছু না হোক মুষ্ঠিবদ্ধ কানমলা থেকে কারও ছাড় নেই। কলেজে যত সিনিয়র হতাম ততই তার হাতে কান না মলা খাওয়া পোলাপানের সংখ্যা কমতো। স্যার ক্যাডেটদের সাথে যেমনটা তেমন অনেকটাই তার একান্ত নিজ ভূবনে। অর্থাৎ কি না তিনি নিজের ছেলেদেরকেও ঐ একই ধারার ট্রিটমেন্টের উপর রাখেন। একটা শোনা কথা এরকম যে বিছানা ভেজানোর জন্য স্যার নাকি তার ছোট ছেলেকে (যে কিনা এখন আমাদেরই এক্স ক্যাডেট) ভেজা বিছানার সাথে চেপে ধরেছিলেন। ক্লাসে এসে কথায় কথায় বলেছিলেন,“একদিন খাইয়ে দিয়েছি – আর করবে না”।

স্যার আমাদের বেশিরভাগ সময় পড়াতেন জ্যামিতি। ভালো পড়াতেন। আর খুব ভালো যেটা করতেন সেটা হলো ড্রয়িং – জ্যামিতি ড্রয়িং। মুন্না ভাই এমবিবিএস’এ ডীন পি ডট আস্থানা কলমের মতোন ছুরি ধরা শেখানোর আগে মুন্না ভাই যেভাবে ছুরিটা ধরেছিল সেটাই হলো মোল্লা স্যারের চক ধরার স্টাইল। শুধু পার্থক্য হলো ছুরির মাথাটা ডাউন সাইড আপ করা। স্যার সেভাবে চক ধরে অবলীলায় ত্রিভুজ, চতুর্ভূজ, বৃত্ত ইত্যাদি আঁকতেন। একই চিত্রের উপর দিয়ে বার বার চক ঘষে চকের বারোটা বাজিয়ে তবে ছাড়তেন। কোনরকম যন্ত্রপাতির সাহায্য ছাড়া স্যারের সবগুলো চিত্র খুব পারফেক্ট হতো। সবচাইতে ভালো আঁকতেন বৃত্ত। আমরা বলতাম, মোল্লা ভালো গোল্লা আঁকেন।

হাউসের জন্য নিবেদিতপ্রাণ বললে কম বলা হবে, মোল্লা স্যার যে কোন প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে হাউসের (অথবা কলেজের) ক্যাডেটদের জন্য সর্বোচ্চ উৎসাহ প্রদানকারী। কখনও ক্যাডেটদের ভলিবল ধরা শেখাচ্ছেন, কখনও হাউস অফিসে ডেকে মোটিভেট করছেন, কখনও ভালো করে মাথায় গেঁথে দেবার জন্য হাউস এসেম্বলি ইংরেজির পরিবর্তে বাংলায় বলছেন আবার কখনও বা পরবর্তী দিনে ফিট রাখার জন্য ধামকা ধামকি করে ঘুম পাড়াচ্ছেন। উৎসাহের এক জীবন্ত ডায়নামো যেন। ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে একটা আইসিসি স্পোর্টস কম্পিটিশনে (সম্ভবত ১৯৯৪ সালে) স্যার ওআইসি হয়ে আমাদের টিম নিয়ে গিয়েছিলেন। স্যারের দূর্দান্ত তত্ত্বাবধানে আমাদের কলেজ টিম খুব ভালো করেছিল সেবার।

কলেজের লাইব্রেরীতে “মানিকজোড়” নামে একটা বই ছিল যার একটা ক্যারেক্টারের নাম ছিল মোল্লা স্যার। একটা বোর্ডিং স্কুলের পটভূমিতে লেখা বইটার মোল্লা স্যারকে উল্লেখ করা হয়েছিল উৎসাহের ডায়নামো হিসেবে। আমার মনে হয়েছিল আমাদের মোল্লা স্যারকে দেখেই হয়তোবা লেখক এমন একটা ক্যারেক্টার তৈরী করেছেন। পরবর্তীতে এর ব্যাপারে আর কিছু জানতে পারিনি তবে সেরকম ভাবতে ভালো লাগত।

বিনোদনমূলক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার অংশ হিসেবে ক্যাডেট কলেজের স্টেজে কোন শিক্ষকের অঙ্গভঙ্গি নকল করে দেখানোর চল নেই। কিন্তু বাজারে যখন “মোল্লা সল্ট” নামে একটা লবন এলো তখন নতুন করে চল তৈরী করতে দেরী হয়নি। স্টেজে মোল্লা লবন দেখে তিনশ ক্যাডেটের সাথে দর্শকদের সবাই হেসে কুটিপাটি। মোল্লা স্যার হাসিমুখেই ঐ অংশটুকু করার পূর্ব অনুমোদন দিয়েছিলেন।

মোল্লা স্যারের ডিনার পরবর্তী সুইট খাওয়া (ডিউটি মাস্টার হলে) একটা দর্শনীয় জিনিস বটে। সবাই যেখানে চামচে করে খাদ্যদ্রব্য সরাসরি মুখে তোলে সেখানে মোল্লা স্যার সুইট আইটেমটা চামচে তুলে মুখ থেকে ইঞ্চি ছয়েক সামনে এনে ধরে রাখেন। তারপর হালুম করে মাথা সমেত মুখ এগিয়ে নিয়ে সেটা মুখে পুরে দেন। যারা এক বা দুই নম্বর টেবিলে বসে তাদের জন্য নিঃসন্দেহে চিত্তাকর্ষক বিনোদন।

মাঝে মাঝে বিভিন্ন পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে কথাবার্তা কেমনধারা যেন হয়ে যেত স্যারের। একবার হাউস থেকে বাসার দিকে যাবার পথে শুনতে পেলেন ক্যাডেটরা তাকে টিজ করছে (স্যারের নামটা জোরে টান দিয়ে বললেই টিজ হয়ে যেত)। কয়েকবার শুনে শেষমেষ থাকতে না পেরে ঘ্যাট করে ঘুরে দাঁড়ালেন, বললেন, “মোল্লা? মোল্লা তোর বাপ……”। বলেই আবার হাঁটা ধরলেন বাসার পথে। পরে বেমালুম ভুলে গেলেন ব্যাপারটা! মধ্যখানে স্যার মোটামুটি বছরখানেকের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে পোস্টিং হয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে সুইমিং পুলে পানিতে দাঁড়ানো জনৈক ক্যাডেটকে জিজ্ঞেস করেছিলেন কম্পিটিশনে সাঁতার পারবে কি না? ক্যাডেটের হ্যাঁ-বোধক জবাবে স্যার দুই হাতের বুড়ো আঙ্গুলে কাচকলা দেখিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে উঠলেন, “বাল্‌ পারবা, বাল্‌”।

১৯৯৭ এর ডিসেম্বরে সার্বিক বিজয়ের রাত্রে ক্যাম্পফায়ারে হঠাৎ করেই মোল্লা স্যারকে আহবান করা হোল একটা গান গাওয়ার জন্য। আমরা মোটামুটি নড়েচড়ে বসলাম। স্যারকে দিয়ে ভলিবল খেলা – সম্ভব, ক্যাডেটের সাথে সাথে উৎসাহ দিয়ে ট্রাকে দৌড়ানো – সম্ভব। কিন্তু গান? আমাদের অভিজ্ঞতা বলে অসম্ভব। আমাদের অবাক করে দিয়ে স্যার মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে দারুণ কনফিডেন্সের সাথে গাইলেন, “ক্যায়সে পানি, ক্যায়সে পানি…….”। শরীরে সুন্দর মৃদুমন্দ দোল দিয়ে হালকা নাচলেন আর আমাদেরও নাচালেন।

আমার ধারণা জন্মলগ্ন থেকে যত ক্যাডেট বরিশাল ক্যাডেট কলেজ থেকে বের হয়েছে সবাই কোন না কোন সময়ের জন্য মোল্লা স্যারকে পেয়েছে। গত বছর রোযার সময় ক্যাডেট কলেজ ক্লাবে আয়োজিত এক ইফতার পার্টিতে হঠাৎই মোল্লা স্যার প্রসঙ্গে চলে এলেন। কেউ একজন মন্তব্য করলেন, “এত মাইর দেয়ার পরও লোকটা ক্যাডেটদের যে পরিমাণ দোয়া পেয়েছে তেমনটা আর কেউ পায়নি”। সবাই তখন একবাক্যে কথাটির পিঠে সমর্থন যুগিয়েছিল। এইতো ক’দিন আগেই আমাদের গ্রুপ মেইলে একটা মেইলের বিষয়ের স্থানে “মোল্লা স্যার” দেখে অজানা আশঙ্কায় শিউরে উঠেছিলাম। কিন্তু পুরোটা পড়ে জানলাম স্যার কলেজ থেকে ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে রিটায়ার করেছেন। স্যারের মোবাইল নম্বর দেয়া ছিল সেখানে।

কলেজ থেকে বের হয়েছি পুরো দশ বছর। স্মৃতির উপর হালকা ধুলোর আস্তরণ। সেটাকে সরিয়ে তাজা করতে প্রয়োজন আড্ডা, বন্ধুদের সাথে তুমুল আড্ডা। আর প্রবাসে বসে আড্ডার জন্য কলেজের সতীর্থদের কই পাই? তাই সেই ধুলো পড়া স্মৃতি থেকেই খানিকটা তুলে দেয়ার চেষ্টা করলাম। মোল্লা স্যারের আরও অনেক অনেক মজার এবং হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া ঘটনা আছে। আশা করি আর কেউ সেগুলো তুলে আনবেন। স্যারের জন্য রইল অপার শুভ কামনা – স্যার যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন।

২,১৩৩ বার দেখা হয়েছে

১৪ টি মন্তব্য : ““আমার নাম নুরুজ্জামান মোল্লা……””

  1. সাব্বির (৯৫-০১)

    দারুন লিখছেন সায়েদ ভাই।
    মোল্লা স্যার এত কড়া ছিল, তারপরও সবাই তাকে রেস্পেক্ট করে।
    স্যারের গাওয়া “ক্যায়সে পানি, ক্যায়সে পানি…" খুব হিট করছিল। বিশেষ করে নাচের পার্ট টুকু।
    স্যার কে যারা কখনো দেখেনি তাদের জন্য একটা লিঙ্ক দিলাম
    কিংবদন্তী মোল্লা স্যারের ফটো, সাথে আমাদের ব্যাচ্‌ এর শাহরিয়ার।
    //www.facebook.com/photo.php?pid=2504869&op=3&o=all&view=all&subj=19479821768&aid=-1&oid=19479821768&id=876435712

    জবাব দিন
  2. সায়েদ (১৯৯২-১৯৯৮)

    একবার কি কারণে যেন হুড়মুড় করে ক্লাসে ঢুকে মোল্লা স্যার আমাদের একজনের কান মুচড়ে ধরলেন আর ব্যাড সাউন্ড
    কেন করেছে সেই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে থাকলেন।
    বেচারা রীতিমত হাইলি হতভম্ব। স্যারকে আমরা কোনরকমে বোঝাতে পারলাম স্যার যে ব্যাড সাউন্ডের উৎস মনে করে কান
    মুচড়ে ধরেছেন আদতে সেটা ক্লাসের বাইরে থেকে এসেছে, কোন বেয়ারা বা এ্যাটেন্ডেন্ট এর কাজ।
    তখন স্যার লজ্জা পেয়ে কান ছেড়ে দিয়ে হেসে উঠেছিলেন।
    অদ্ভুত সুন্দর সেই হাসি এখনো আমার মনে গেঁথে আছে।

    ২০০২ সালে একবার কলেজে গিয়েছিলাম। তৎকালীন ভিপি স্যারের রুমের সামনে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করলাম
    মাথায় টুপি পড়া, একবুক সাদা দাড়িসহ কোন একজন স্যার আসছেন। আইয়ুব ভাইকে জিজ্ঞেস করতেই
    অবাক হয়ে বললেন,"মোল্লা স্যাররে চিনলেন না"? ভালো করে না দেখার কারণে লজ্জা পেলাম।
    স্যারের চাপ দাড়ি বড় হয়েছে আর মাথায় সাদা টুপিটা স্থায়ী হয়েছে।
    সামনে পেয়ে সেই পুরনো ঢং এ খোঁজখবর ...... কোথায় আছি, কি করি ইত্যাদি ইত্যাদি।
    বড় ভালো লেগেছিল ।

    জয়তু মোল্লা স্যার।


    Life is Mad.

    জবাব দিন
  3. আহ্সান (৮৮-৯৪)

    খুব ই সুন্দর করে লিখেছ...
    এত সুন্দের করে কেউ যে মোল্লা স্যারের সার্বিক দিক তুলে ধরতে পারে তা তোমার লেখা না পড়ে বোঝা সম্ভব না।
    আল্লাহ স্যার এবং তার পরিবার কে সুখ ও শান্তিতে রাখুক।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।