নারীসচেতনতা আর নয়…

“ভালো মানুষ” এর সংজ্ঞা দিতে বলা হলে আপনি কি বলবেন? খুব সম্ভবত কিছু চিরান্তন গুনাবলীর কথা বলবেন, যেমন, সৎ”, ন্যায়পরায়ন, সত্যবাদী ইত্যাদি। কিন্তু যখন কেউ আপনাকে “ভালো মেয়ে”র সংজ্ঞা দিতে বলবে? উত্তর কি ভিন্ন হবে নাকি একই থাকবে? আমার মত, আরও অনেকেরই ক্ষেত্রেই হয়তো উত্তরটা ভিন্ন হবে। বলা হবে নম্র, ভদ্র, শান্ত-শিষ্ঠ, বিনয়ী, অনুগত… ইত্যাদি। এগুলো হয়তো অনেকক্ষেত্রেই একজন পুরুষের ক্ষেত্রে “কাপুরুষতার” পরিচয় বহন করবে। এর কারণ আমাদের প্রি-প্রোগরাম্ড মাইন্ড সেট। আমরা এভাবেই ভাবতে শিখেছি সেই বাল্যকাল থেকেই। আজকাল মেয়েরা শিক্ষিত হচ্ছে, উচ্চপদে চাকুরী করছে, এমনকি দেশ শাসনে পর্যন্ত প্রত্যক্ষ অবদান রাখছে। কিন্তু তাদের এই ক্ষমতায়ন কতখানি সমাজের কাছে গ্রহনযোগ্য? আমি এখানে সমাজ বলতে পুরুষ এবং নারী এই দুই জাতিকেই বুঝাচ্ছি। যেই সমাজ মূলত পুরুষশাসিত, সেখানে সরকার এবং এনজিও গুলো তাদের মূল্যবান সময় ও অর্থ ব্যায় করছে নারী ক্ষমতায়নের পিছনে। আমার জানামতে এখন পর্যন্ত এমন কোন প্রোগরাম বা কার্যক্রম হাতে নেননি তারা যেটা নারীদের প্রতি পুরুষদের মনভাব বদলানোর উদ্দেশ্য হাতে রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। অনেকেই হয়তো বলবেন, নারীরা তো নিজেরাই নিজেদের সম্মান করতে জানে না, তারাই তো নিজেদের উন্নয়নের পথে বাধা। কিন্তু না, আমার মনে হয় পুরুষদের মনভাব না বদলালে নারীদেরও মনভাব বদলাবে না, কারণ এখন পর্যন্ত আমরা এই শিক্ষাই পেয়ে এসেছি সমাজ থেকে যে পুরুষদের অবস্থান নারীদের তুলনায় উচ্চতর, এবং পুরুষরা যেভাবে বুঝিয়ে এসেছে নারীদের, তেমন মূল্যবোধ বা মনভাবই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষাগত বা সামাজিক অবস্থানে একজন স্বামী তার স্ত্রী অপেক্ষা কম হলেও তার সিদ্ধান্তেই সংসার চলে- এটাই সামাজিক এবং ধর্মীয় উভয় দিক থেকেই প্রতিষ্ঠিত। আর এখানেই জটটা বাধছে। কারণ মেয়েরা উচ্চশিক্ষিত হচ্ছে, উচ্চপদে পুরুষদের সাথে কদম মিলিয়ে চাকুরী করছে, সংসার সামলাচ্ছে, সন্তান লালন পালন করছে- খুব স্বাভাবিক ভাবেই নিজেদের অনেক বেশী এমপাওয়ার্ড হিসেবে দেখছে। সেই সাথে সরকার, এনজিওগুলো লাগাতার ওমেন এমপাওয়ারপমেন্ট বা নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কার্যক্রম অব্যহত রাখায় নারীরা নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে অনেক বেশী সচেতন হয়ে উঠছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের মধ্যে অত্যাধিক উচ্চাকাংখা তৈরী হচ্ছে যা হয়তো অনেক ক্ষেত্রেই তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ধারাবাহিকতাকে বাধাপ্রাপ্ত বা ব্যহত করছে। অপর দিকে পুরুষেরা জেনেটিকালী বা গঠনগত দিক থেকে শারীরিকভাবে শক্তিশালী হওয়াতে তাদের অতিরিক্ত শক্তির সঠিক ব্যাহহার না করতে পারায় হীনমন্নতায় ভুগতে থাকে যা তারা বহিঃপ্রকাশ করে নারীদের দমিয়ে রাখার মধ্য দিয়ে। যেমনটি দেখা যায় নিম্নবিত্ত বা নারীশাসিত অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে, যেখানে নারীরা ঘরের বাইরে কাজ করে উপার্যন করছে ঠিকই কিন্তু সেই অর্থ দিয়ে পুরুষেরা বহুবিবাহ, মদ্যপান, জুয়া, ধর্ষন, নারী নির্যাতন ইত্যাদি অসামাজিক কাজ করে বেরাচ্ছে।

তাই নারী উন্নয়ন বা নারীর ক্ষমতায়নের আগে প্রথমে পুরুষদের মনভাব বদলানোর জন্য সরকার এবং এনজিওদের কাজ করা অনেক বেশী প্রয়োজন। যতক্ষন পর্যন্ত না পুরুষরা নারীদের প্রতি সম্মান না দেখাচ্ছে, নারীর অবদান সম্পর্কে অনুধাবন না করছে ততক্ষন পর্যন্ত নারী নির্যাতনের বা নারী-পুরুষ অসঙ্গতির এই বর্তমান চিত্র কোনদিনও পাল্টাবে না, বরং অস্থিরতা বাড়বে দিনকে দিন।

২,২৫৩ বার দেখা হয়েছে

১৪ টি মন্তব্য : “নারীসচেতনতা আর নয়…”

  1. ওবায়দুল্লাহ (১৯৮৮-১৯৯৪)

    :clap:
    ভাল লেখা।

    নারী - পুরুষ এরও আগে আমাদেরকে মানুষ হিসেবে ভাবতে শেখা দরকার।
    তারপর - এনজিও'রা ওদের কাজ করবে - এতে সকলের ভাবনার অবকাশ বাড়ে;
    কিন্তু, আসলে নিজের ভেতর থেকে ব্যাপারটা না সায় দিলে কার্য সম্পাদনটা দূরেই থেকেই যায়।
    আমি কি ভাবি - আমি কি ভাবে দেখি - আমি কি সহজে গ্রহন করছি - আমার কাজটি অন্যেরা কি ভাবে দেখছে... একটি সুস্থ জীবনে মনে নেওয়া আর মেনে নেওয়া থাকে পাশাপাশি।
    আর পারস্পরিক বিশ্বাস আর সমঝোতা দুজনের কাজটুকু সহজ করে দেবে। (সম্পাদিত)


    সৈয়দ সাফী

    জবাব দিন
    • সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

      ওবায়দ ভাই, আপনার ভাবনাটা মনে হয় ব্যাক্তি আপনার মতনই খুব সরল। কিন্তু বাস্তবতাটা মনে হয় এতোও সোজাসাপটা না। আর তাই আমাদের জানা-অজানার গন্ডিতে ঘরে ঘরে কিন্তু নারীনির্যাতনের মত ঘটনা ঘটে চলছে। আমরা একটু গা-নাড়া দিয়ে বসেছিলাম রুমানা মঞ্জুরের ঘটনায়। আবার দেখেন সবাই যেই-সেই। এর কারণ এতোদিনের সযত্নে লালিত (কু)শিক্ষা যা আমাদের জিনের ভিতর ঢুকে গেছে বংশপরম্পরায়। আর তাই এতোসহযেই এটা ব্যাক্তিগত একার উদ্দেগে পালটানো সম্ভবপর না মনে হয় আমার কাছে।
      আর এই লেখায় আমি আসলে ব্যাক্তিগত প্রয়াসের বাইরে কি করনীয় সেটা বলেছি। কারণ সরকার বা এনজিওগুলো তো কাজ করছে, কিন্তু আমার কাছে মনে হয় ভুল পথে করছে। আর এখানেই পলিসি গ্যাপ তৈরি হচ্ছে।


      You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

      জবাব দিন
  2. বজলুর রহমান (১৯৬৩-১৯৬৯)

    জিতু, তোমার এই লেখাটার অপেক্ষায় সিলাম। ভালো লিখেছো কিন্তু সরকারের বা এনজিওদের কাজের আশায়ই বসে থাকলে হবে না খালি। আমি বুঝতে পেরেসি তুমি অদের দ্রিস্টি আকর্শন করার জন্যই এটা লিখেস। তবে তোমাদের মত ইয়াং জেনারেশনকেই এই দাইত্তের অনেকখানি পালন করতে হবে যেন আগামী প্রজন্মের মধ্যে আমাদের পুরবপুরুশদের দেওয়া এই কুশিক্ষার বীজ বপন না করার হয়। তা না হলে এই দুশ্ত চক্র থেকে বের হতে পারব না আমরা আর কখনই।

    জবাব দিন
  3. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    জিতু, আমার মতটা তোমার বাবার মতোই। নিজেকে বদলাতে হবে আগে। সরকার, এনজিও তো ঘরের ভেতর ঢুকতে সময় লাগে। অথচ ঘরে আমরা বাবা, মা, ভাই, বোন, স্বামী, স্ত্রী, স্বজনরা থাকি। নিজেরা যদি ভাই, স্বামী, বাবা, মাকে না বদলাতে পারি- বাইরের শক্তি কিভাবে পারবে? আমার ছোট্ট যে কন্যা, তাকে বুঝের বয়স থেকেই আমি শিখিয়ে দিই- তুমি নারী, তুমি তোমার ভাইয়ের চেয়ে ভিন্ন, নরম, সুন্দর। তোমার ভাই ম্যানলি, স্মার্ট, ড্যাসিং! আমরা শিখাই না, তুমি কন্যা বা পুত্র- তোমরা মানুষ। মানবিকতা, ধৈর্য্যশীল হওয়া, সহনশীলতা, পরস্পরকে সম্মান করার মতো জরুরি-প্রয়োজনীয় বোধগুলো জাগাতে চেষ্টা করি না।

    সরকার, এনজিও শুধু না- স্কুল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরও দায়িত্ব আছে। বন্ধুদের দায়িত্ব আছে। অফিসে সহকর্মীদের দায়িত্ব আছে। য়ুগ-যুগ, শতক-শতক ধরে পুরুষ জেনে এসেছে- একটা মেয়ের গায়ে কলঙ্ক লাগালে তা সহজে যায় না। আর পুরুষ জানে, সমাজ বলবে পুরুষ তো একটু এরকমই। এটা না মানলে চলে! ধর্মে তো বলাই আছে স্ত্রীকে শাসন করা স্বামীর দায়িত্বে পড়ে।

    এতোসব প্রতিকূলতা কাটিয়ে নারীকে মানুষ হতে হলে কঠোর লড়াই করতে হয়। তবে লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবেই।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  4. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    তোমার লেখা, যুক্তি চমৎকার।
    যদিও আমার কাছে ভালো পুরুষ, কিংবা ভালো নারীর সংজ্ঞা একই।

    তবে পুরুষ কেন পরিবর্তিত হবে।
    এটা অনেকটা বনের বাঘকে গিয়ে বলা যে শিকার বন্ধ।
    আমার কথাটা হয়তো খারাপ শোনাচ্ছে; কিন্তু এটাই বাস্তব।

    আর পরিবর্তন না মেয়েদের নিয়ে আসতে হবে।
    তাদের ও বাঘ হতে হবে।
    তুমি ঘরে পইড়া পইড়া মাইর খাবা আর মুখ বুইঝা সহ্য করবা তাইলে তো হবে না।
    প্রতিবাদ করতে হবে।

    আর এন জিও দের কাছ থেকে বেশি কিছু আশা করা কি ঠিক!
    এদের ৯৯ ভাগই নিজেদের আখের গুছানোর কাজ করে।
    ক্ষুদ্র ঋণ দেয়, আর নিরোধ বিতরণ করে।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  5. সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

    আমি বাবা, লাবলু ভাই এবং রাজীব ভাইয়ের সাথে পুরাপুরি একমত। কিন্তু আমার বক্তব্যটা আসলে বোধহয় আমি ঠিক মত বুঝাতে পারিনি কাউকে। আবার একটু পরিষ্কার করার চেষ্টা করি।

    সরকার এবং এনজিওগুলো কিন্তু জেন্ডার এবং ওমেন এমপাওয়ারমেন্ট ইস্যু নিয়ে অনেক কাজ করে যাচ্ছে, অনেক অনেক অর্থ ব্যয় করে যাচ্ছে। কিন্তু তারপরও কোন লক্ষ্যনীয় পরিবর্তন কিন্তু চোখে পরছে না, বরং একটা চাপা অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। সব নারীই যেমন দূর্বল নয় তেমনি সব পুরুষও পশু নয়। কেন মেয়েদের প্রতিবাদী হতে হবে যেখানে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সুন্দর পরিবেশ তৈরী করার উদ্দ্যগ নেয়া যেতে পারে? "ওমেন এমপাওয়ারমেন্ট" জাতীয় কার্যক্রম সাধারণত একধরনের এয়েরনেস বা সচেতনতামূলক কার্যক্রম যাতে রেসপন্ডেন্ট করা হচ্ছে নারীদের। আমার বক্তব্যটা হচ্ছে এখানে নারীদের রেসপন্ডেন্ট না করে করা পুরুষচদের করা উচিত"। তা না হলে নারীদের মধ্যেও একরকমের অস্থিরতা তৈরি হয়ে যাচ্ছেই। কাউকে প্রতিবাদী, প্রতিহিংসাপরায়ন করে নয় বরং শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই কি কার্যক্রমের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হওয়া উচিত" নয়?


    You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

    জবাব দিন
  6. সাইফ শহীদ (১৯৬১-১৯৬৫)

    জিতু,

    তুমি যতটুকু লিখেছো আমি যেন তার চাইতেও বেশী অনুভব করছি। তোমার বাবাকে আমি জানি এবং তুমি খুবই সৌভাগ্যবতী যে এমন একজনকে বাবা হিসাবে পেয়েছো। এখন যদি তুমি (অনেকটা 'জেনেরিক' অর্থে 'তুমি' ব্যবহার করছি - যে কোন মেয়ে হতে পারে) আশা করো যে তোমার ভালবেসে বিয়ে করা স্বামীও ঠিক তোমার বাবার মত 'সব কিছুতে ভাল ভাবে' ব্যবহার করবে - তাহলে তোমাকে যেমন দোষ দিতে পারিনা, তেমনই সেই রকম ব্যবহার না করতে পারলেও তোমার স্বামীকে দোষ দিতে পারিনা। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ যে ভিন্ন - একই ধরনের ব্যাবহার কি ভাবে আশা করবে?

    যদি হাজার বছরের মানুষের ক্রমবিকাশের ইতিহাস দেখো - তবে বুঝবে আসলে 'বিবাহ' একটি আপেক্ষিক নতুন ধারনা মানুষের ক্রমবিকাশের ইতিহাসে। সময়ের সাথে সাথে এই ধারনাটা মানুষের 'জিনের' মধ্যে স্থান করে ফেলতে পারে - অসম্ভব না।

    অন্যদিকে 'আপেক্ষিক উন্নত সমাজে' বিবাহের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এখন বেশ প্রশ্ন উঠছে। মেয়েদের 'যৌন স্বাধীনতা' নিয়ে মেয়েদের মধ্যে নতুন চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে। ভাল-মন্দের কোন বিচারে না যেয়ে শুধু দেখছি যে বিরাট পরিবর্তনের মাঝে অনেক কিছু এসে গেছে।

    সরকার আইন করতে পারে, আইন-ভঙ্গকারীকে শাস্তি দিতে পারে - কিন্তু এর চাইতে খুব বেশী কিছু সরকারের কাছ থেকে আশা করা যায় কি?

    তুমি খুব সুন্দর একটি প্রশ্ন করেছো - "কেন মেয়েদের প্রতিবাদী হতে হবে যেখানে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সুন্দর পরিবেশ তৈরী করার উদ্দ্যগ নেয়া যেতে পারে? " তবে ব্যাপারটা কি সব সময় এক পক্ষের থেকে ঘটে? ছোটবেলায় আমাদের বাড়ীতে আমার মায়ের তৈরী একটা নকশা-কাটা কাপড় ফ্রেমে করে ঝোলানো ছিল মনে পড়ে। সেখানে লেখা ছিল - "সংসার সুখের হয় রমনীর গুনে" - কথাটা বোধ হয় একেবারে মিথ্যা না।

    মোট কথা যেটা বুঝি তা হচ্ছে -

    ১) নিজেকেই শুধু বদলানোর চেষ্টা করা সম্ভব, অন্যকে না।
    ২) যদি মনে হয় - যে কোন কারনেই হোক, এক সাথে থাকা সম্ভব নয়, তবে সেখান থেকে সড়ে আসাই ভাল।
    ৩) সময়ের সাথে সাথে ভালবাসার রূপান্তর ঘটে - সেটা মেনে নিতে শিখতে হয়।
    ৪) সন্তান ও আর্থিক কারনে অনেক সময় (বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বেশীর ভাগ সময়) মেয়েরা অনেক বেশী ত্যাগ স্বীকার করতে বাধ্য হয়। তবে স্বাধীন উপার্জনকারী মেয়েদের মধ্যে এই সমস্যাটা একটু কম।
    ৫) একমাত্র মেয়েদের পক্ষেই সম্ভব সমাজে মেয়েদের ব্যাপারে যে সব 'ট্যাবু' আছে তা দূর করা। [যখন একটা ছেলে 'ডিভোর্স হওয়া এবং সন্তানসহ' তার ভালবাসার পা্ত্রীকে বিয়ে করে ঘরে তুলতে চায়, তখন সব চাইতে বেশী আপত্তি আসে ছেলের মায়ের কাছ থেকে]

    আশা করবো এসব ব্যাপারে খোলাখুলি ভাবে আরও লিখবে।

    জবাব দিন
    • বিষয়টা দেখছি জেনেটিক্যাল সমস্যায় রুপ নিচ্ছে। ব্যাখ্যা করার জন্য হয়ত আবার ডারউন বিবর্তনবাদকেও প্রয়োজন পরবে।

      যাইহোক, কামনা করছি, আলোচনা নিশ্চয়ই আরো দীর্ঘায়িত হবে। (সম্পাদিত)

      জবাব দিন
    • সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

      সাইফ ভাই, আপনার প্রত্যেকটা কথা খুব যুক্তিযুক্ত এবং অবশ্যই অবশ্যই দীর্ঘ অভিজ্ঞতানির্ভর। আর তাই আপনার কথায় দ্বিমত পোষনকরার কোন সুযোগ বা দূঃসাহস একেবারেই নেই। তবে আমি ব্যাক্তিগত সম্পর্কের গন্ডির বাইরে থেকে চিন্তা করে আমার ভাবনাটা লেখেছিলাম। আমাদের মত আর দশটা উন্নয়নশীল দেশের কিছু কিছু চিত্র অনেকটাই একরকম। আর এসব সেক্টরেই ডোনাররা ইনভেস্ট করার জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন টাকা দিচ্ছে। সেই টাকা কতটুকু সততার সাথে ব্যাবহার হচ্ছে সেটা পরের কথা কিন্তু টাকাটা খরচ করার জন্য এক্সপার্ট নিয়োগ করা হয় প্রোগরামগুলোর ডিজাইন ডেভেলপ করার জন্য যারা তাদের রেসপেকটিভ ফিল্ডে যথেষ্ট সম্মান, নাম ডাক ও রেপুটেশনের অধিকারী। কিন্তু এই প্রোগরামগুলো এফেক্টিভ হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, নারীদের মধ্যে অবশ্যই অবশ্যই বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে। আলটিমেটলী যা হচ্ছে তা হল সমাজে অশান্তি, সংসারে ভাঙ্গন, নারীদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে "অতিসচেতনা" (সচেতনতা ভালো তবে অতিরিক্ত কোনকিছুই ভালো না) ইত্যাদি মিলে বহুসমস্যায় রূপ নিচ্ছে। কেবল বিয়ে, সংসারই না, সমাজের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই এর কুপ্রভাব দেখা দিচ্ছে।

      আমার লেখাটা সেই গ্যাপের কথাই বলছে। (সম্পাদিত)


      You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

      জবাব দিন
  7. গুলশান (১৯৯৯-২০০৫)

    কয়েকদিন ধরে একটা বিষয় মাথায় ঘুরছিল। আপনার এই টপিকে সেটা অ্যাপ্লাই করে দিই। সেটা হল রাজনৈতিক এবং সামাজিক আন্দোলনের পার্থক্য। রাজনৈতিক আন্দোলন রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং কাগজে-কলমে কোন একটা ব্যাপারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কাজ করে। আর এজন্য প্রতিবাদ, শক্ত শক্ত কর্মসূচী ইত্যাদি বেশ কাজ করে। কারণ সম্ভবত এটা সাধারণত কিছু মানুষের বিরুদ্ধে হয় এবং সামজিক আন্দোলনের স্তর পার করে আসে। কিন্তু সামাজিক আন্দোলনের চরিত্র ভিন্ন। কারণ এটা শুধু কাগজে-কলমে কিছুকে পরিবর্তন করে না। বরং সমাজে থাকা মানুষের মানসিকতা আর মূল্যবোধকে পরিবর্তন করে। আর এক্ষেত্রে জোর-জবরদস্তি বা জ্বালাও-পোড়াও ধরণের শক্ত কর্মসূচী চলে না। এটা করতে হয় অনেকটা সহনশীলতার সাথে। ধীরে ধীরে বারবার মানুষকে বুঝিয়ে। আর গুটিকয়েক মানুষ বা কোন শ্রেণীকে টার্গেট করলে এই আন্দোলন ফলপ্রসূ হয় না। একে সবার কাছেই পৌঁছুতে হয়।

    জবাব দিন
    • গুলশান (১৯৯৯-২০০৫)

      এখন নারী অধিকার আন্দোলনের কথায় আসি। আমার মনে হয়েছে, এখানে সামাজিক আন্দোলনের স্তর ঠিকমত পার না হয়েই রাজনৈতিক পর্যায়ে চলে গেছে। সুতরাং কাগজে-কলমে অনেক কিছু আসলেও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আবার আমার মনে হয়েছে এখানে সহনশীল না হয়ে কঠোরতার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। শুধু নারীদেরকেই এই আন্দোলনে বিশেষভাবে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে পুরুষদের ক্রমাগত সমালোচনা করে যাওয়া হয়েছে। আমি বলছি না এই সমালোচনা ভুল। তবে যদি পুরুষদেরও এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত করে সহিষ্ণুতার সাথে আগানো যেত, তাহলে মনে হয় ভাল হত। আর আরেকটা বিষয়- সময় লাগবে। সংবিধানের মত বিষয়ও অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন অনেক সময়ের ব্যাপার। অধৈর্য্য হলে চলবে না। শেষ যে কথাটা বলব- সেটা হল শিক্ষা। মনে একটা শব্দই যঠেষ্ট, বিস্তারিত আর বললাম না।

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।