টুশকি ৩

টুশকি [১] [২] [৪]

১. মোল্লা স্যার আমাদের কলেজের স্পোটর্স সংক্রান্ত ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহের সাথে ক্যাডেটদের নিয়ে অংশ গ্রহন করতেন। নীতি নির্ধারণ থেকে শুরু করে খেলোয়াড় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি ছিলেন অন্যতম ব্যক্তি। সেই মোল্লা স্যার আইসিসি কম্পিটিশনের জন্য প্রস্তুতিরত কলেজ ফুটবল টিমে সদ্য ক্লাস সেভেন থেকে এইটে উঠেছে এমন একজনকে নিয়ে নিলেন। ব্যাপারটা অভূতপূর্ব। এর কারণ আর কিছুই না, সোহেল ভাই (১৯৮৮-১৯৯৪) লাথি মেরে একটা ফুটবল ফাটিয়ে ফেলেছিলেন মাত্র।

২. দুপুরের প্রেপের সময়টা এমন বদখত ছিল যে দুপুরের ঘুমটা তো ভালোমতো হতোই না, পড়াশোনাতেও মন লাগানো যেত না। আমার বন্ধু নাফিজ (ককক) কাঁচা ঘুম থেকে উঠে এক চোখ বন্ধ রেখেই প্রেপে রওয়ানা দিত। কেউ ঠেলা দিলে বলতো, “উহহু…ঠেলিস না, ঘুম ভেঙ্গে যাবে”। কোন রকমে ক্লাসে পৌঁছেই ঘুমের দ্বিতীয় এপিসোড পুরা করত।

৩. ডাইনিং হল থেকে বের হবার সময় ক্যাডেটের কাছে ব্যাড সাউন্ড খেয়ে ডিউটি ক্যাডেটকে ডাইনিং হল ওআইসি’র জিজ্ঞাসা,”এই ছেলে, আমি কি তোমাদের পাকা ধানে মই দিছি? নাকি তোমাদের টাকা নিয়ে ফেরত দিই নাই? বল বল…তাহলে ট্যাং ট্যাং বলে কেন? এ্যাঁ.. ট্যাং ট্যাং মানে কি”?

৪. ১৯৯৪ এর দিকে শুক্রবার রাত্রে জি টিভিতে “ফিলিপস টপ টেন” ছিল আমাদের খুব প্রিয় একটা অনুষ্ঠান। সেটা হোত এমন একটা সময়ে যে রাত্রের থার্ড প্রেপ শেষ করে দৌড়ে যেয়ে আমরা কোনরকমে অর্ধেক দেখতে পেতাম। স্যারদের মধ্যেও যে সেটা অত্যন্ত জনপ্রিয় সেটা জানতাম না। একদিন প্রেপ শেষ হবার প্রায় মিনিট পনের আগে মোল্রা স্যারকে সম্বোধন করে রেজাউল করিম স্যারকে বলতে শুনলাম,
“মোল্লা ভাই
আমি যাই
আমার টোপ টেন আছে”।

৫. রেজাউল করিম স্যার (পৌরনীতি) একদিন ক্লাসে হালকা মেজাজে হাস্যচ্ছলে পরীক্ষার সিলেবাস নিয়ে আলোচনা করতে করতে হঠাৎই রহমতুল্লাহকে ব্ল্যাকবোর্ডে ডাকলেন Syllebus শব্দটা বানান করে লেখার জন্য। রহমতুল্লাহ ততোধিক হালকা মেজাজে লিখে আসল, “ছিলেবাঁশ”।

৬. বেলাল স্যার বছর দেড়েকের জন্য পাবনা ক্যাডেট কলেজে থেকে এসে অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিচ্ছিলেন, “…তোমরা অনেক ভালো। ওরা আমাকে বলে কিনা ‘বেলু’!….আমার জন্য হাউসে বেলুন ফুলিয়ে রাখত”!! এই বেলুন যে বিশেষ ধরনের বেলুন সেটা আমরা বুঝে নিয়েছিলাম।

৭. আমরা কলেজে যোগদানের পরপর মাকসুদকে নামের আগে একটা লম্বা অংশ ঝুলিয়ে নিতে হয়েছিল। কেউ জিজ্ঞেস করলেই ও নাম বলত, “শোয়েব ভাই – মোহাম্মদ আলী ভাই – টেবিলমেট মোঃ মাকসুদুল ইসলাম”।

৮. প্যারেড মার্চ আপ হয়ে যাবার পর ডিউটি ক্যাডেট সিক রিপোর্ট পার্টিকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার জন্য পারমিশন চাচ্ছে, “মে আই প্লিজ টেক দ্যা হসপিটাল টু দ্যা সিক রিপোর্ট স্যার”? এর ডাইনিং হল ভার্সন এরকম, “মে আই বেল দ্যা রিং স্যার”?

৯. থার্ড প্রেপে সবাই খুব মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করছে। ক্লাসের একেবারে পিছনে দুজন ক্যাডেট নিজেদের টেবিল ও মাথা একত্রে লাগিয়ে পড়ছিল। ‘এত মনোযোগ দিয়ে কি এমন পড়ছে’ জানতে আগ্রহী স্যার হাঁটতে হাঁটতে তাদের কাছে যেয়ে দেখেন তারা পড়াশুনায় আপাত ইস্তফা দিয়ে ১২ ইঞ্চি স্কেলে পরস্পরের অঙ্গবিশেষের তুলনামূলক দৈর্ঘ্য মাপছে!!
 

১,৪০৬ বার দেখা হয়েছে

১৭ টি মন্তব্য : “টুশকি ৩”

  1. মান্নান (১৯৯৩-১৯৯৯)
    ১২ ইঞ্চি স্কেলে পরস্পরের অঙ্গবিশেষের তুলনামূলক দৈর্ঘ্য মাপছে!!

    আমাদের স্ট্যান্ডার্ড ছিল ইকোনো ডিএক্স বলপেন। প্রথম পুরষ্কার বিজয়ী ছিল, এক ইকোনো ডিএক্স +দুই আন্গুল ।

  2. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)
    ১২ ইঞ্চি স্কেলে পরস্পরের অঙ্গবিশেষের তুলনামূলক দৈর্ঘ্য মাপছে!!

    :khekz: :khekz: :khekz: :khekz: :khekz: :khekz:


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"