সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা: মঞ্জুরের হত্যাকান্ডসহ কিছু অজানা তথ্য ও আমাদের সুশীল সমাজ।

অভ্যুত্থান ঘটে গেছে। নিহত প্রেসিডেন্ট জিয়া। লাশ তখনো পড়ে আছে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে।
মেজর রেজা সকালে ঘুম থেকে উঠে জানলেন সব। প্রথমে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পড়ে থাকা লাশ সরিয়ে নেওয়ার। অন্য কাজ চাইলে দেওয়া হয় চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল মঞ্জুরের দেহররি দায়িত্ব। শেষ সময় পর্যন্ত এই কাজটি করেছেন।
মেজর রেজা শুরু থেকে পুরোটা বলেছেন প্রমান্য চিত্রটিতে। এটাই তার প্রথম সাক্ষাৎকার। জিয়া হত্যা থেকে শুরু করে দায়ী হিসেবে চিহ্নিত সেনা কর্মকর্তাদের ফাঁসি পর্যন্ত ঘটনা নিয়ে অসংখ্য গল্প চালু আছে। কোনোটা একদমই মিথ্যা, কিছু সত্যের কাছাকাছি। পুরো সত্য মনে হয় মেজর রেজার জবানীতেই জানা যায়।
বিস্তারিত না বলে উল্লেখযোগ্য একটা অংশ বলি। ধরা পড়ার পর তাদের জেনারেল মঞ্জুরসহ সবাইকে নিয়ে আসা হয় হাটহাজারি থানায়। ওসি গোলাম কুদ্দুস। থানায় সবাই অপেক্ষায় আছেন। আসলেন চট্টগ্রামের ডিআইজি এ এস এম শাহজাহান।
18
জেনারেল মঞ্জুর প্রথম দাবী করলেন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে দিতে হবে। রাজী হলেন না জনাব শাহজাহান। মঞ্জুর বলেছিলেন, শাহজাহান সাহেব, প্রেসিডেন্ট মারা গেছেন। আমাকে দায়ী করা হয়েছে। সুতরাং আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ দিতে হবে। এ এস এম শাহজাহান বললেন, আপনি যখন ছিলেন তখন আপনার কথা শুনেছি। এখন যারা আছে তাদের কথা শুনতে হচ্ছে। জেনারেল মঞ্জুর তখন বললেন, তাহলে আর্মির কাছে তাঁকে হস্তান্তর করা না হয়। তাঁকে যেন পুলিশের কাছেরা রাখা হয়। ফলে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। এই কথা বার বার বলেছিলেন জনাব শাহজাহানকে।
মঞ্জুরকে ধরার জন্য তখন ৫ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা ছিল। জেনারেল মঞ্জুর বললেন, যার কাছে তিনি ধরা দিয়েছেন সেই যেন টাকাটা পান। এ সময় ওসি গোলাম কুদ্দুস এগিয়ে এলে তিনি বলেন, না, এই সেই ব্যক্তি নন। আমি তো ধরা দিয়েছি একজন হাবিলদারের কাছে। এসময় মেজর রেজা সেই হাবিলদারকে দেখে ডাক দিলে ভিতরে ঢোকেন সেই হাবিলদার। জেনারেল মঞ্জুর এসময় কোমরে লুকানো পিস্তলটি বের করে হাবিলদারকে দেন। পিস্তল দেখে ভয় পেয়েছিলেন থানার অন্যান্যরা। জেনারেল মঞ্জুর অভয় দিয়ে বলেন, আমি যদি নিশ্চিত না থাকতাম যে পুলিশের নিরাপদ কাস্টডিতে আমি নেই তাহলে পিস্তলটা দিতাম না। অন্য কেউ আসলে ব্যবহার করতাম। কিন্তু এখন আমি নিশ্চিত যে পুলিশের কাস্টডিতে আছে, আর্মির না। এ কারণেই সারেন্ডার করছি। এই কথা তিনি বললেন এ এস এম শাহজাহানকে।
সেই এ এস এম শাহাজাহান কি করলেন একটু পরেই?
বাইরে পুলিশের গাড়ি। সাথে একটা পাঁচ টনি ট্রাক। কিন্তু গাড়ি আর ছাড়ে না। কিছু পরে আসলো এক আর্মি জিপ। মেজর এমদাদ সেই গাড়িতে। সব বুঝে ফেললেন জেনারেল মঞ্জুর। খুঁজলেন এ এস এম শাহজাহানকে। কোথাও পেলেন না। আর্মির হাতে তুলে দিয়ে তিনি তখন লুকিয়ে থাকলেন।
তারপরে রেজা জানান, কিভাবে নিরস্ত্র জেনারেল মঞ্জুরকে মেরে ফেলা হয়। জিয়ার হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত না থেকেও এই দায় চাপিয়ে বিনা বিচারে মেরে ফেলা হয় জেনারেল মঞ্জুর।
দুটো পরিচয় নিয়ে কথা বলতে পারি।
ওসি কুদ্দুস। জেনারেল মঞ্জুরকে ধরার পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনিই। দিয়েছিলেন এরশাদ। চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। সেই কুদ্দুস এখন দেশের বিশাল ব্যবসায়ী। বিজিএমইএর সভাপতিও ছিলেন। তার গ্রুপের নাম ড্রাগন গ্রুপ।
4
আর এ এস এওম শাহজাহান? পরে আইজি হন, সচিব হন, তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাও হয়েছিলেন। এখন তিনি সুশীলসমাজের প্রতিনিধি। টক শো তে দেখা যায়। আজও যুগান্তরে একটা কলাম আছে আইনের শাসন নামে। বুদ্ধিজীবি তিনি এখন।

এতোক্ষণ যে প্রমান্য চিত্রটির কথা বললাম সেটির নাম ‘সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা (১৯৭৫-৮১)’। এটা নিয়ে আমি গত বছর জরুরী অবস্থার সময় একটা লেখা লিখেছিলাম সামুতে। সেই প্রামান্য চিত্র অবশেষে আলোর মুখ দেখছে। আগামি ২১ জুলাই এটির প্রকাশনা উৎসব হবে মুক্তিযুক্ত যাদুঘরে।

একই সঙ্গে সামুতে লেখাটাও দিয়ে দিলাম। তাতে পুরো প্রামান্য চিত্রটি সম্বন্ধে একটা ধারণা পাওয়া যাবে।

সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা (১৯৭৫-১৯৮১) একটি প্রামাণ্য দলিল

আনোয়ার কবিরকে চিনি ১০ বছর হলো। তার ব্যাপক আগ্রহ একটি বিষয়তেই। আর সেটি হল সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা। সন্দেহ নেই আগ্রহটি বিপজ্জনক। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীতে অনেক ধরণের ঘটনা ঘটেছে। সেগুলো অনেকেই কম বেশি জানা। লেখালেখিও কিছু কিছু হয়। কিন্তু কেউ একজন যদি দিনের পর দিন লেগে থেকে একটি আস্ত প্রামান্য চিত্র তৈরি করে ফেলে তাহলে এর পরিণতি কি হতে পারে বোঝা মুসকিল।
আনোয়ার সেই কাজটিই করেছে। সে অনেক খেটেখুটে একটা প্রামান্য চিত্র তৈরি করেছে। নাম সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা, বাংলাদেশ ১৯৭৫-১৯৮১। মোট ১০ ঘন্টার প্রামান্য চিত্র। চারটি পর্ব। মূলত অনুসন্ধান ও সাক্ষাৎকার ভিত্তিক একটি বিশাল মাপের কাজ।

প্রথম পর্ব কর্নেল তাহেরের ফাঁসি নিয়ে।
31
ঘটনাটি সবারই জানা। এই পর্বটি প্রায় ৩ ঘন্টার। ৭ নভেম্বরের তথাকথিত সিপাহী বিপ্লবের পুরো কাহিনী সহ কর্ণেল তাহেরে ফাঁসি পর্যন্ত পুরো ঘটনা জানা যাবে এই পর্বে। বিচারের নামে যে প্রহসন হয়েছিল তার বিস্তারিত বর্ণনাও আছে এখানে। উপরি পাওনা হচ্ছে কর্ণের তাহের চিঠিগুলো। মজার ব্যাপার হচ্ছে কর্ণেল তাহেরকে যে আইনের আওতায় মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয় সেই আইনে মৃত্যুদন্ডের বিধানই ছিল না। ফাঁসি হওয়ার পর এই বিধানটি যোগ করা হয়। অনেক নতুন নতুন তথ্য রয়েছে এই পর্বে। বিশেষ করে একই সঙ্গে জেলে থাকা মেজর জিয়ার সাক্ষাৎকারটি অনেক অজানা তথ্য দেয়।

দ্বিতীয় পর্ব সবচেয়ে নির্মম। ১৯৭৭ সালে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছিল। অনেকেরই হয়তো মনে আছে ৭৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জাপান এয়ারলাইনস এর একটি বিমান হাইজ্যাক করে ঢাকায় নিয়ে এসেছিল রেড আর্মি নামের একটি সশস্ত্র গ্রুপ। এই সময় বিমানবন্দরে ব্যস্ত ছিল সবাই এই ঘটনা নিয়ে। আর এর মধ্যেই ঘটে এক অভ্যুত্থানের ঘটনা। ১ অক্টোবর রাত থেকে শুরু হয়েছিল। বিমান বাহিনীর সার্জেন্ট আফসারকে এই অভ্যুত্থানের মূল লোক বলা জানা যায়। যদিও সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের কেউ কেউ এর সাথে ছিলেন। প্রমান্য চিত্রে একজন বললেন যে মে.জে, মীর শওকত তাদের সাথে থাকবেন বলে তারা জানতেন। এই ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর ঠিক কতজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল তার কোনো হিসেব নেই। বলা হয় সংখ্যাটি কমপে ১১শ থেকে ১৪শ পর্যন্ত হবে। মাত্র দুই দিনের বিচারে এতো লোকের ফাঁসি হয়েছিল। বিচারের নামে হয়েছিল বড় ধরণের প্রহসন।
21
পুরো বিষয়টি খুব ভালো ভাবে বোঝা যায় প্রমান্য চিত্রটিতে। শুরুতে একজনের দীর্ঘ বয়ান। তিনি জানান পুরো ঘটনাটি। এতোটা নৃশংস আচরণ করেছিল সেনাবাহিনীর সদস্যরা যা বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে। জড়িত ছিল কিনা সে প্রমান কেউ নেইনি। যারা যারা কাছাকাছি ছিল সকলকেই মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে। এমনকি পিটিয়ে মারার ঘটনাও আছে বলে একজন জানালেন। এদের দেওয়াও হয়েছে গণ কবর। নানা ধরণের মানুষের বর্ননায় পুরো বিষয়টি চলে আসে। একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর যিনি একটি ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি জানান যে, প্রেসিডেন্ট জিয়া তাদের ডেকে বলে দিয়েছিল, শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সবাইকে জবাই করো। সেটাই করা হয়েছিল।

তৃতীয় পর্ব জিয়া নিহত হওয়ার পরের ঘটনা নিয়ে। ১৩ মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসি হয়েছিল সে সময়। আজ অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, এরা সকলে জড়িত ছিল না। এরশাদ ষড়যন্ত্র করে মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাদের মেরে ফেলেছিল। এ ক্ষেত্রেও বিচারের নামে হয়েছিল প্রহসন। এই বিচার পর্বের নানা জানা-অজানা দিক নিয়ে এই পর্ব। বিশেষ করে কোর্ট মার্শালের সময় অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবি হিসেবে কাজ করা মেজর জেনারেল আইন উদ্দিন ও ইব্রাহিমের দুটি সাক্ষাৎকার এবং তদন্ত কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আজিজুর রহমানের একটি সাক্ষাৎকার অনেক অনেক তথ্য দেয়। আজিজুর রহমান স্পষ্ট করেই বলেছেন যে জিয়া হত্যাকান্ড যাতে ঘটে সে জন্য সব ধরণের ব্যবস্থাই করে দেওয়া হয়েছিল। পুরো বিষয়টিই ছিল সাজানো। মে. জে. ইব্রাহিম বলেছেন একজন অফিসার যে আরেক অফিসারেকে এভাবে নির্মম ভাবে অত্যাচার করতে পারে না দেখলে বিশ্বাস হয় না।

চতুর্থ পর্ব জেনারেল মঞ্জুরের হত্যাকান্ডসহ আনুসাঙ্গিক বিষয় নিয়ে। সেনা হেফাজতে মঞ্জুরকে মেরে ফেলা হয়েছিল। এটাও ছিল এরশাদের আরেক ষড়যন্ত্র। শুরুতেই মেজর রেজার একটি দীর্ঘ বক্তব্য রয়েছে। তিনি শেষ সময় পর্যন্ত জেনারেল মনজুরের সঙ্গে ছিলেন। তিনি অনেক কিছুর প্রত্যক্ষদর্শী। জিয়া হত্যার পর থেকে পুরো ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। এটাই নাকি তার দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকার। পুরো ঘটনা জানা যায় তার জবানিতে। তিনি বলেছেনও অনেক বিস্তারিত ভাবে। যেমন মেজর মুজিব তাকে বলে দিয়েছিলো যে এরশাদের নির্দেশেই মনজুর কে মেরে ফেলা হয়েছিল। কি ভাবে এবং কে মেরেছিল মনজুরকে তারও বর্ণনা আছে। মেজর রেজার বক্তব্য থেকে অনেক গোপন তথ্যই জানা যায়।

পুরো প্রমান্য চিত্রকে বেশ কিছু দুর্লভ দলিল ও ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। রয়েছে অসংখ্য সাক্ষাৎকার। যারা এসব নিয়ে আগ্রহী তাদের জন্য অত্যন্ত ভাল একটা কাজ করেছে আনোয়ার কবির।
জেনেছি যে, প্রমান্য চিত্রটি তৈরির কাজ শেষ হয়েছে বছর খানের আগে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এর প্রকাশ করা হয়নি। পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল না। এখনো আছে কিনা তাও নিশ্চিত না। সশস্ত্র বাহিনীর নৃশংসতা ও গণহত্যার এই দলিলের প্রচার কারো কারো ভাল নাও লাগতে পারে। তবে ইতিহাস ইতিহাসই।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেখানে অতীতের গোপনীয় দলিল এখন প্রকাশ করছে। বাংলাদেশেও এগুলো করা দরকার। এমন দাবিও উঠেছে যে, কর্ণেল তাহেরকে ফাঁসি দেওয়া ছিল যে ভুল সেটিও এখন রাষ্ট্রের স্বীকার করা উচিৎ।

চার খন্ডের এই প্রমান্য চিত্র সবাইকে ভাবাবে।

১২,৯৫৬ বার দেখা হয়েছে

৫০ টি মন্তব্য : “সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা: মঞ্জুরের হত্যাকান্ডসহ কিছু অজানা তথ্য ও আমাদের সুশীল সমাজ।”

  1. এহসান (৮৯-৯৫)
    ইতিহাস ইতিহাসই। কর্ণেল তাহেরকে ফাঁসি দেওয়া ছিল যে ভুল সেটিও এখন রাষ্ট্রের স্বীকার করা উচিৎ।এই প্রমান্য চিত্র সবাইকে ভাবাবে।

    :thumbup:

    দুঃসাহসিক, আগ্রহ উদ্দীপক একটা কাজ।
    আনোয়ার কবির :salute:
    ধন্যবাদ মাসুম ভাই।

    জবাব দিন
  2. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    ধন্যবাদ মাসুম ভাই, শেয়ার করার জন্য :hatsoff: অপেক্ষায় থাকলাম প্রামাণ্য চিত্রটা দেখার জন্য...

    আনোয়ার কবির :salute: :salute:


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  3. প্রামাণ্যচিত্রটি কি সবার জন্যে উন্মুক্ত করে নেটে তুলে দেয়ার পরিকল্পনা উদ্যোক্তাদের আছে? আমার মনে হয় এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রের অসংখ্য আগ্রহী দর্শক ছড়িয়ে আছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। আর্থিক জটিলতা নিয়ে ভাবনা থাকলে কোন একটি পেপ্যাল ঠিকানা দিয়ে পরিষ্কারভাবে আগ্রহীদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার অনুরোধ করা যেতে পারে, যা নির্মাতাদের পরবর্তী সাহসী নির্মাণের দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ যোগাবে। আমার বিশ্বাস, কিছু আর্থিক সহায়তা দিতে উৎসুক দর্শক অবশ্যই থাকবেন। আর প্রচুর ওয়েবসাইট আছে যারা ফ্রি মুভি হোস্ট করে ১০২৪ মেগাবাইট পর্যন্ত।

    জবাব দিন
  4. তানভীর (৯৪-০০)

    প্রামাণ্য চিত্রটি দেখার অপেক্ষায় রইলাম।
    এ ধরনের ব্যতিক্রমী এবং সাহসী উদ্যোগের জন্য আনোয়ার কবিরকে স্যালুট।
    আর চমৎকার এই পোস্টের জন্য মাসুম ভাইকে অনেক শুভেচ্ছা।

    জবাব দিন
  5. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    কাইয়ুম ভাইয়ের কাছ থেকে সবগুলি পর্ব নিয়ে এসেছিলাম কয়দিন আগে। প্রথম পর্বটা (কর্নেল তাহেরের অংশটুকু)দেখে মনের উপর এতো প্রেশার পড়েছে , একটু বিরতি নিচ্ছি, পরে আবার সময় করে দেখবো বলে।

    প্রথম পর্বটা মূলত সাক্ষাৎকার দিয়ে তৈরী, ফুটেজ খুব কম। প্রায় তিন ঘন্টায় ১৯৭৫'র ৭ই নভেম্বর ও ১৯৭৬ সালের ঘটনাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট জীবিত অনেকের সাক্ষাৎকার নিয়ে পুরো পর্বটা সাজানো।

    হাবিলদার মেজর আব্দুল হাই মজুমদার অবঃ (সিপাহী জনতা অভ্যুত্থানে তাহেরের সঙ্গী , পরবর্তীতে প্রহসনমূলক বিচারে ১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত), মেজর জিয়াউদ্দিন আহমেদ অবঃ (বিচারে ১২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত, ফাঁসির মঞ্চে উঠে কর্নেল তাহের উনার লেখা কবিতাটাই পড়েছিলেন ) , লুৎফা তাহের (কর্নেল তাহেরের স্ত্রী), হাসানুল হক ইনু (জাসদের তৎকালীন নেতা, বিচারে ১২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত), প্রখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলৎস (তাহেরের বিচার চলাকালীন সময়ে ইনি বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট করতেন বিবিসিসহ বেশ কিছু বিদেশি মাধ্যমে, তাহেরের বিচার নিয়ে রিপোর্ট করতে গিয়ে উনি একদিন জেল খেটেছেন এবং তিনদিন গৃহবন্দী ছিলেন) এদের সাক্ষাৎকার দিয়ে সাজানো প্রথম পর্ব।

    তাহেরের সঙ্গে জেলে থাকা মেজর জিয়াউদ্দিনের কথাগুলি শুনতে শুনতে দেখেছি নিজের অজান্তেই চোখে পানি চলে এসেছে। মাসুম ভাই যেটা বলেছেন, কর্ণেল তাহেরকে যে আইনের আওতায় মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয় সেই আইনে মৃত্যুদন্ডের বিধানই ছিল না। তাহেরকে মৃত্যুদন্ড দেয়ার কিছুদিন পর সেই আইনে মৃত্যুদন্ড বিধান যোগ করা হয়। শুধু তাই না, জেনেভা এ্যাক্ট অনুসারে প্রতিবন্দ্বী/বিকলাংগ কাউকে মৃত্যুদন্ড দেয়া যায় না। বাংলাদেশ সেই এ্যাক্টের সাক্ষরকারী সদস্য। তারপরও সেই আইন না মেনে পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা তাহেরকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে।

    ফুটেজে যতোবার জিয়াউর রহমানের লোভী চেহারাটা দেখা গেছে ততোবার আমার মনিটরের ভিতর হাত দিয়ে ওকে বের করে এনে খুন করতে ইচ্ছে হয়েছে।

    কি অকৃতজ্ঞ জাতি আমরা ! মুক্তিযুদ্ধের সেরা দুই যোদ্ধাকে দেশদ্রোহীতার অপবাদ দিয়ে খুন করেছি !


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  6. রকিব (০১-০৭)

    কোন ভাবে প্রামাণ্য চিত্রটি দেখবার সু্যোগ পেলে ভালো লাগতো।
    :hatsoff: টু আনোয়ার কবির।
    :hatsoff: টু শওকত ভাই।


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  7. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    অনেক দিন থেকে অপেক্ষা করছি এসবের জন্য। আপনি তো মনে হয় ভুলেই গেছেন মেইলের কথা।

    একটা কপি কিভাবে পাব জানাবেন প্লিজ।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  8. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    মাসুম ভাই,

    প্রতিটা পর্ব নিয়ে বিস্তারিত লেখা যায় না? তাহলে দেশের বাইরে যারা আপাতত দেখতে পারছে না তারা একটু হলেও জানতে পারতো।
    আমিও অংশগ্রহন করবো আপনার সাথে।


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  9. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    এক যুগ ধরে আনোয়ার কবির এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করছে। সেই ভোরের কাগজ আমল থেকে দেখছি। তখন তো বাচ্চা ছেলে। ছেলেটার ধৈর্য্য দেখে ভালো লাগছে। ছবিগুলো অবশ্যই দেখতে হবে।

    মাসুম আমার জন্য কপি রাইখ্যো। নইলে খবর আছে কইলাম।

    আমিও ওই ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানটা নিয়ে কাজ করেছিলাম। ভোরের কাগজে ১৯৯৫ সালে সম্ভবত একটা ধারাবাহিক করেছিলাম এবং ব্যারিস্টার মনসুরের (জেনারেল মঞ্জুরের ভাই) করা মামলা দীর্ঘদিন কাভার করেছি। মেজর রেজা আমারও সোর্স ছিল। মঞ্জুরের হত্যা দৃশ্যটা ছবির মতো চোখে ভাসে। গতবছর সামুতে মাসুমের লেখাটি পড়ে আমার প্রতিবেদনগুলো আর্কাইভে খুঁজছিলাম। কিছু পেয়েছিলাম। ঢাউস একটা ফাইল ছিল। সেটাও আবার খুঁজতে হবে। ডিজিএফআইকে দেওয়া খুনি মেজর এমদাদের জবানবন্দিটাও ছিল আমার কাছে। সেটা তখন ছাপতে পারিনি। মামলার স্বার্থে। হয়তো একটা বই করা যায়। তবে সেজন্য প্রচুর খাটতে হবে।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  10. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    মাসুম ভাইয়ের লেখাটির লিঙ্ক আজ বিকেলে আনোয়ার কবির ভাইকে দিয়েছি, এবং উনি সাথে সাথেই ব্লগ এবং কমেন্টগুলো পড়ে মাসুম ভাই সহ আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডিভিডি'টির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমাকে কাল পরশু উনার কাছ থেকে কিছু আমন্ত্রণপত্র নিয়ে আসতে বলেছেন সিসিবির সদস্যদের জন্য (যদিও অনুষ্ঠানটি সবার জন্যই উন্মুক্ত )
    প্রামাণ্যচিত্রটি নিয়ে বিশদ আলোচনার আশা করছি লাবলু ভাই, মাসুম ভাই, কামরুল সহ যারা দেখেছেন তাদের সবার কাছে থেকে। আপাততঃ অন্য কিছু তথ্য।
    ১. পুরো ফিল্মটি তৈরি হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তায়। কবির ভাই ডিভিডি থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে এই অর্থ শোধ করার চেষ্টা করছেন।
    ২. ফুটেজ খুব কম, দীর্ঘ সাক্ষাৎকারই বেশি। তাই মিনি-ডিভি'তে ধারণ করা প্রায় সাড়ে দশ ঘন্টার চার ডিভিডি'র সিরিজটি কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তবে বক্তাদের কথার বিষয়বস্তুতে ঢুকে গেলে ক্রমশই বিষন্নতায় মন খারাপ হয়ে যাবে যে কারোই।
    ৩. যেহেতু কবির ভাই এটির অফিসিয়াল রিলিজ দিতে যাচ্ছেন, তাই সেদিন থেকে এটি বাজারে পাওয়া যাবে। তবে যারা এর আগেই এটি সংগ্রহ করতে চান তারা এখানে বলে দিতে পারেন।
    ৪. কবির ভাই প্রায় ৫০ ঘন্টা শ্যুট করেছেন এটির জন্য। আমার মনে হয় এগুলোও একসময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য দলিল হয়ে থাকবে আমাদের অকৃতজ্ঞতার।
    ৫. প্রায় ১৭ বছর ধরে এইসব আপাত অন্ধকারে থাকা বিষয়গুলোর সাথে লেগে রয়েছেন আনোয়ার কবির। উনার প্রায় ডজন খানেক গবেষনাধর্মী বইও রয়েছে সামরিক রাজনৈতিক এসব হত্যাকান্ড নিয়ে।
    ৬. এরই ধারাবাহিকতায় উনি এখন কাজ করছেন কয়েকটি বিষয় নিয়ে যার স্ক্রিপ্টিং এর কিছুটা দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। ঠিকঠাক মতন শেষ করতে পারলে এগুলো সবগুলোই মহামূল্যবান প্রামাণ্য দলিল হয়ে উঠবে বর্তমান এবং আগামি এই দুই প্রজন্মের জন্যেই।


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  11. শাহেদ_৯৭-০৩

    ২১শে জুলাই এর অপেক্ষায় রইলাম...বাংলাদেশের মত দেশে কোনো কিছুর ভরসা পাই না...এখনো মনে সন্দেহ জাগে...শেষ পর্যন্ত প্রামান্য চিত্রটা রিলিজ হবে তো??? নাকি আবার কোনো পলিটিক্যাল মারপ্যাচে.........????

    জবাব দিন
  12. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    প্রামান্য চিত্রটা কি রিলিজ হয়েছে? কোথাও পাওয়া যাচ্ছে?


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  13. Living in US I am sorry to say that I am not in a position to write anything in Bengali. I can only write in English using the computer I have.
    Bangladesh is not a big country and most of the educated and interested people there know, more or less, the true background history of all the wrong doings and killings at the cost of others. It began with Ziaur Rahman and ended with Ershad, who was directly responsible for the murder of General Manzur.

    জবাব দিন
  14. ক্যাডেট কলেজের ছাত্ররা এইসব ব্লগ পরুক, বেশি করে পরুক সেটাই চাই। শুধু সমরাস্ত্র বিদ্যার্জন নয়, কিন্তু আমাদের সশস্ত্র বাহিনী কিভাবে গড়ে ওঠে, কিভাবে এর মধ্যে উত্থান-পতন হল, দেশের ভেতরে এবং বাইরে কারা আমাদের সামরিক বাহিনীকে ভাঙ্গতে চেষ্টা করেছে তাদের আমাদের চিনতে হবে। তাহলে আমরা বুঝব কে শত্রু আর কে মিত্র।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।