শিক্ষকের ডায়রি (পর্ব ১৯) – কর্মক্ষেত্রে কেপিআই এবং এসিআর-এর গুরুত্ব

এসিআর (অ্যানুয়াল কনফিডেনশিয়াল রিপোর্ট) সংক্রান্ত বিষয়ে আমার প্রায় দুই যুগের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতায় আমার সহকর্মীদের এবং এর বাইরের পরিচিতজনদের অনেকের মাঝেই একটা ‘মিথ’ (ভ্রান্ত ধারণা) বা বলা চলে ‘ভয়’ আমি লক্ষ্য করেছি। অনেকেই মনে করেন, এসিআর মানেই না জানি কী একটা নেগেটিভ অবজারভেশন তার দাপ্তরিক ব্যক্তিগত ফাইলে নথিভুক্ত হতে যাচ্ছে। ভয়টা যে একেবারেই অমূলক, সেটা যেমন বলা যাচ্ছে না, আবার এটাও ঠিক যে,

বিস্তারিত»

শিক্ষকের ডায়রি (পর্ব ১৮) – সফট স্কিলস বিষয়ে আমার ভাবনা


প্রায় ২৬ বছরের কর্মজীবন আমার, যার প্রায় পুরোটাই বলা চলে শিক্ষাজগতে “শিক্ষা-গবেষণা-প্রশাসন” এই তিন-এ আবর্তিত হয়েছে। এর মাঝে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় কাটিয়েছি প্রায় দুই যুগ। দায়িত্ব এবং পড়ানোর নেশায় ছিল ভাষা, ভাষাতত্ত্ব, এবং সাহিত্য। তবে নিজের পূর্ণকালীন কর্মক্ষেত্রে এবং নানান জায়গায় আমন্ত্রিত হয়ে যে বিষয়গুলো পড়িয়ে বা আলোচনা করে অনেক বেশি আনন্দ পেয়েছি, এবং বলা চলে যেগুলোতে সত্যিকারভাবে কারো কাজে আসতে পেরেছি,

বিস্তারিত»

ক্রিকেট ফ্যান্টাসি

ওনেক দিন এখানে আসা হয় না। দেখে ভালো লাগলো যে এখনো এখানে লেখালেখি চলছে।

সম্প্রতি একদফা ক্রিকেটিয় ঝাপটা বয়ে গেল, তাই মনে হয়, আমার এই রসসৃষ্টির চেষ্ঠা একেবারে অপ্রাসঙ্গিক হবে না।

এঁরা যদি হতেন ক্রিকেটার (নাম বলছি না, পাঠক বুঝে নেবেন)ঃ

১।

দ্বাদশ ওভারে পিচের পর

কেমনে থামিল রানের ঝড়

কেমনে লাগিলো ব্যাটের কানায়

লোহিত বলের বাড়ি

ওরে আম্পায়ারের অঙ্গুলি হেলনে

টিকিয়া থাকিতে নারি।

বিস্তারিত»

শিক্ষকের ডায়রি (পর্ব ১৭) – কমিউনিকেশন এবং প্রেজেন্টেশন (আমার প্রথম পডকাস্ট)

পডকাস্ট লিঙ্কঃ কমিউনিকেশন এবং প্রেজেন্টেশন

১. আমি প্রচুর রিলস দেখি। যা সামনে আসে, তাই দেখি। তবে মন দিয়ে বেশি দেখা হয় স্কিলস-রিলেটেড পডকাস্ট এবং টেকনোলজি বিষয়ক ক্লিপস। ক্রিয়েটিভ টাইপের গুলোতেও কিছুটা সময় নিয়েই দেখা হয়। আর সোসাল মিডিয়ার এ.আই. যথারীতি আমার দেখার আগ্রহের প্যাটার্ন অনুযায়ী রিলস/ক্লিপস আমার সামনে নিয়ে আসে। তবে সফট স্কিলস রিলেটেড পডকাস্টের ক্লিপগুলো কেন যেন আমাকে অনেক টানে।

বিস্তারিত»

শিক্ষকের ডায়রি (পর্ব ১৬) – আত্মনির্ভরশীলতায় আত্মসম্মান

শিক্ষকের ডায়রি (পর্ব ১৬) – আত্মনির্ভরশীলতায় আত্মসম্মান

ছেলেটার নাম জয়। সে ফেনী ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্র। প্রথম ছবিটা ক্যাম্পাসের মাঠে তোলা, পেছনের অটোরিক্সাটা তার নিজের। দ্বিতীয় ছবিটা ফেনী পুলিশ লাইন্স ক্যান্টিনে তোলা, একজন সার্ভার তুলে দিয়েছেন ছবিটা। ছেলেটার বাবা এখন কৃষক, মা গৃহিনী, আর সে নিজে ক্লাস এবং পড়াশোনার ফাঁকে অটো চালায়। সেটা নিয়ে তার মাঝে বিন্দুমাত্র সঙ্কোচ নেই। আমার সাথে সে প্রচুর গল্প করে,

বিস্তারিত»

শিক্ষকের ডায়রি (পর্ব ১৫) – কমিউনিকেশনের বৃষ্টিনামা

২৯ মে ২০২৫
শিক্ষকের ডায়রি: পর্ব-১৫
কমিউনিকেশনের বৃষ্টিনামা

১। ফেনিতে জয়েন করার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিশেষ করে ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের) ছেলেমেয়েদের প্রফেশনাল সফট স্কিলসে গ্রুমিঙের দিকে নজর দেয়া শুরু করেছি; এক্ষেত্রে, অনেকটা নয়,বরং পুরোটাই বলা চলে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো। তবে কিছু ছাত্রছাত্রী তাদের সফট স্কিলস ডেভলাপমেন্টের বিষয়ে বেশ আগ্রহী। তাদের নিয়েই শুরু হলো ইংলিশ ক্লাবের তত্বাবধানে কমিউনিকেশন এবং প্রেজেন্টেশন স্কিলসের বিষয়ে ধারাবাহিক সেশন।

বিস্তারিত»

শিক্ষকের ডায়রিঃ পর্ব ১৪ – দ্যা শো মাস্ট গো অন

দ্যা শো মাস্ট গো অনঃ ২৬ মে ২০২৫

গত দুদিন থেকে আমাদের নব্য টিন এজার কন্যা আরিশার জ্বর। আমি তখন সেই মুহূর্তে ঢাকাতেই ছিলাম। রবিবারে আমার ছুটি ছিল, আর শনিবার ছুটি নিয়েছিলাম। ঈদের সময়ে কিছুটা লম্বা ছুটি হবে বলে পরপর তিন শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকছে। রবিবার সকালে আরিশা তেমন ভাল বোধ না করাতে ভোর সকালে রেডি হয়েও স্কুলে যাবে কি যাবে না তা নিয়ে দোটানায় ছিল;

বিস্তারিত»

আরক্তিম আপেল, সোমত্ত নারী, জ্বলন্ত চাঁদ

“তিনি একজন কবি যিনি দার্শনিক তত্ত্বের চেয়ে বরং মৃত্যুর কাছাকাছি, বুদ্ধির চেয়ে বরং দুঃখের যন্ত্রণার কাছাকাছি, কালির চাইতে বরং রক্তের কাছাকাছি” — পাবলো নেরুদা সম্পর্কে এমনটিই বলেছিলেন ফেদেরিকো গার্থিয়া লোর্কা।

১৯৭১ সালে নোবেল বিজয়ী নেরুদাকে “আচ্ছন্ন করে তাঁর জন্মভূমি— অত্যাচারিত দিগ্বিজয়ীদের দ্বারা যে ভূমি ধর্ষিত হয়েছে বারংবার। নিজেকে তিনি নির্বাসিত করেছেন, অসংখ্যবার নির্যাতিত হয়েছেন, কিন্তু কখনো থামেন নি। অত্যাচারিতের সহযাত্রী তো সারা পৃথিবী জুড়েই।

বিস্তারিত»

আদিম অরণ্যের কাছাকাছি


উগান্ডার এন্টেবি বিমানবন্দর থেকে লেক ভিক্টোরিয়ার বিস্তীর্ণ জলরাশির উপর দিয়ে আমাদের উড়িয়ে নিয়ে এল ছোট্ট আন্তনভ বিমানটি। ১০ অক্টোবর ২০০৯ সাল। কঙ্গোর মাটিতে প্রথম পা রাখলাম। আমার কর্মস্থল ইতুরি জেলার বুনিয়া শহরে। শহর বলতে তেমন আর আছেই বা কী! চল্টা ওঠা রানওয়ে সম্বল করে জীর্ণদশার একটি এয়ারপোর্ট। বুড়ো দারাস সাপের মতো প্রশস্ত কাঁচা রাস্তা। একটি কি দু’টি পুরনো বেলজিয়ান ধাঁচের বাংলো। আর রিলিফের নতুন টিনে ছাওয়া অসংখ্য ছাপরার বস্তি।

বিস্তারিত»

পুরোনো ঢাকার কড়চা

১।

পুরোনো ঢাকা- আসলে কত পুরোনো? ফরাশগঞ্জ লাল কুঠির সামনে দাঁড়িয়ে কথাটা ভাবছিলাম। অনেকেই হয়তো তড়িৎ জবাব দেবেন, কেন? চারশো বছর! এই চারশো বছরটাও একেবারে কম নয়, আমার চতুর্দশ পূর্বপুরুষেরো আগেকার কথা। আজকের পৃথিবীর অনেক ভারি ভারি শহরের চেয়েও আগের। আমি এখানে সবিনয়ে দ্বিমত করবো। এই ‘চারশো বছর’ কথাটা আসলে এসেছে সুবাদার ইসলাম খাঁ এর সূত্রে, যখন নাকি প্রবল প্রতাপ মোঘল সম্রাটের সুবাদার ইসলাম খাঁ এখানে সুবে বাংলার রাজধানী স্থাপন করেছিলেন।

বিস্তারিত»

আরিশাকথন – চ্যাটজিপিটি

আমাদের বারো বছরের কন্যা আরিশা নাকি চ্যাটজিপিটির সাথে ঝগড়া করেছে। সেই কথোপকথনের পুরো টেক্সট সে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালো। নিচে শুধুমাত্র কোনটা কার কথা সেটা মার্ক করে দিলাম।

আরিশা: আমার ইফতার করার আগে অনেক মাথা গরম হয়। কি করা উচিৎ??

চ্যাটজিপিটি: ইফতার করার আগে মাথা গরম হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা, বিশেষ করে রোজা রাখার কারণে। এই অবস্থায় কিছু পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে:

পানি পান করুন: রোজার মধ্যে শরীর ডিহাইড্রেটেড হতে পারে,

বিস্তারিত»

শিক্ষকের ডায়রি‌‌: পর্ব-১৩

ডিসক্লেইমার: আমার এই লেখার সাথে সংযুক্ত ছবি এবং লেখাটাতে ব্যবহৃত ভাষাতাত্বিক উদাহরণসমূহ মৌলিক নয়, সংগৃহীত। এই লেখার সাথে সঙ্গতি বজায় রেখে সংযুক্ত সংগৃহীত ছবিটা আবার কিছুটা ক্রপ করা হয়েছে। ছবিটা মনে হচ্ছে হালের একটা ট্রল-টপিক; আমি এটা প্রথম দেখি রংপুর ওল্ড ক্যাডেটস এ্যাসোসিয়েশন (রকা)-র মেম্বারদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে; কেউ একজন ফান করার জন্যই পোস্ট দিয়েছেন। বেশ মজার মজার মন্তব্য-পাল্টা-মন্তব্য চলছিল। তবে ভাষাতত্ব নিয়ে নাড়াচাড়া করা ছাত্র-কাম-শিক্ষক হিসেবে আমিও দুচারটা কথা লিখতে গিয়ে একটু বেশিই লিখে ফেলেছিলাম (অনেকটা ক্যাডেট কলেজের নাদান ক্লাস সেভেনের সিনিয়িরের কমান্ডে ফ্রন্টরোল দেবার সময় মোমেন্টামের ঠ্যালায় দুচারটা বেশি দিয়ে ফেলার মতন আর কি)।

বিস্তারিত»

১ জুন ২০২৪: তখন তোমার ২১ বছর বোধহয়!!

২০০৩-এর এই দিনে আমি এম.আই.ইউ.-এর ইংরেজি বিভাগের একজন প্রভাষক হিসেবে যোগদান করি। কর্পোরেট জগৎ ছেড়ে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় দেখতে দেখতে কিভাবে যেন চোখের পলকেই ২১ বছর পার হয়ে গেল। সেই জুনেরই ৭ তারিখে ডিপার্টমেন্টের আন্ডারগ্র‍্যাজুয়েটের প্রথম ব্যাচের প্রথম ক্লাস নেই। শুরু হয় দুই জেনারেশনের একসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে পথচলা। সেদিক থেকে বলা চলে ডিপার্টমেন্টের চেয়ে বয়সে আমি ৬ দিনের বড়। অনেক কিছুই দেখলাম, ঠেকলাম, শিখলাম, আবার অর্জনও করলাম।

বিস্তারিত»

দুইটা লিরিক

[ফেসবুক মেমরি থেকে পেলাম। গত দশকের গোড়ার দিকের লেখা। গান হবে এরকম চিন্তা ছিল। হয়নি। ঘনিষ্ঠ এই ব্লগে আনকাট ভার্সনটা টুকে রাখা থাক।]

#
শ্যাওলা জমেছিল বুঝি
তোমার মনের পুকুরে,
ভিজতে ইচ্ছে করেছিল
তাই অন্য শ্রাবণ দুপুরে।

দেয়াল পাশের বাতায়নে
কাঁদতে যখন অঝোরে
ভাবনা জমাট বাঁধা ছিল
অন্য কারো আদরে।

খেয়াল খুশীর ইচ্ছে মত
আমায় কেন জড়ালে?

বিস্তারিত»

নীরব রাতের নিবিড় আঁধারে….

একজন শ্রোতা যখন কোন গান শোনেন, আর সে গানটি যদি তার ভালো লেগে যায়, তখন তার তিনটে ইন্দ্রিয় একত্রে কাজ করতে থাকে- কর্ণ, মানস (মন, কল্পলোক) আর নয়ন। গানের সুর কর্ণকুহরে প্রবেশ করা মাত্র তার মন সেই গানের কথা ও সুরের আবহে স্পর্শিত হয়ে, স্পন্দিত হয়ে, তরঙ্গায়িত হয়ে কল্পলোকে বিস্তৃত হয় এবং একইসাথে সেই সুরসৃষ্ট কিছু ছবি তার চোখের সামনে দিয়ে ভেসে যেতে থাকে। যতক্ষণ সেই সুর তার কানে প্রবেশ করতে থাকে,

বিস্তারিত»