খণ্ড কবিতা বা অকবিতা

০১।
আমি এক ফেরিওয়ালা,
ফেরি করে বেড়াই
স্বপ্নের ডালা মাথায় নিয়ে,

ওরে ছেলে-বুড়ো, মা-বোন
তোরা শোন____
যে যেখানে আছিস;
চাই কি স্বপ্ন তোদের?

আমি এক ফেরিওয়ালা
স্বপ্ন ফেরি করে বেড়াই
লাল, নীল, হলুদ, ধূসর
কিংবা কালো।

আমি এক ফেরিওয়ালা।

দেখেছিস কি তুই?
হলুদ ঘাসের উপর ফড়িং নাচে____
স্বপ্নে বিভোর।
বটের ডালে ডালে সবুজ টিয়া
বসে আছে লাল ফল নিয়ে লাল ঠোঁটে
কি আছে তার,
একরাশ স্বপ্ন ছাড়া।

আমি এক ফেরিওয়ালা,
ঝোলায় পুরে রেখেছি অনেক-অনেক স্বপ্ন
শিমুলের ফুলে-ফলে খেলে আলো
কৃষ্ণচূড়ায় আজ ধুম আগুন
শুধু স্বপ্ন,
শুধু স্বপ্ন,
শুধু স্বপ্ন ছাড়া আর কি আছে এই ক্ষয়ে যাওয়া গলে যাওয়া জীবনে…

আমি এক ফেরিওয়ালা………

০২।
কখনো এপাশে, কখনো ওপাশে
ঘুরছে আমার চিতাবাঘ
কখনো নখর বের করে, কখনো দন্ত বের করে,
ঘুরছে আমার চিতাবাঘ

কখনো তেড়ে আসছে, কখনো মুখ থুবড়ে পড়ছে
আমার চিতাবাঘ
কখনো হলুদ, কখনো লাল চোখে তাকাচ্ছে
আমার চিতাবাঘ।

০৩।
কাগজ কলম।
লিখতে ইচ্ছা করে
নাকি লিখতে পারিনা আর।
প্রশ্নটা আয়নার সামনে

আহ!
যেন এতদিন অনায়াসে নৌকা চড়ে দ্বীপটায় যেতাম;
আজ নৌকা ডুবে গেছে।
সাঁতারও ভুলে গেছি ক’বে এই মূর্খদের সমাবেশে।

কবিতা, তোমার দ্বীপে আর বুঝি কখনো যাওয়া হবেনা আর।

০৪।
না, জানিনা আবার কবে দেখা হবে আমাদের; শীতের সকালে_____
শিশিরের সিক্ততায় ডুবে থাকা দূর্বায়, নাকি
গোলাপের রক্তাভ বাগানের মাঝে? দুঃখিত,
আমি কিংবা আমরা জানিনা।
হঠাৎ মনে পড়ে, প্রদীপের নিভু নিভু আলোয় তোমার ঘরে,
তোমার দু’হাত ধ’রে ভালোবাসায়______

একটা কথা বলতে ভুলে গেছি, “আবার কবে দেখা হবে আমাদের?”

০৫।
“যদি বলো আমায় ভালোবাসো
তবে কাল সকালে আমার বাগানে ফুটবে একশটা গোলাপ।”

১,৩১৭ বার দেখা হয়েছে

১৫ টি মন্তব্য : “খণ্ড কবিতা বা অকবিতা”

  1. রুম্মান (১৯৯৩-৯৯)

    খাইছে !!! রাজীব ভাই , এই কোবতে বাইর হইল কেমনে ? কলেজে তো আমার যতদূর মনে পড়ে আপনার থিকা এইরকম কিছু বাইর হইতে দেখি নাই.....................

    অতীব সৌন্দর্য :boss:


    আমার কি সমস্ত কিছুই হলো ভুল
    ভুল কথা, ভুল সম্মোধন
    ভুল পথ, ভুল বাড়ি, ভুল ঘোরাফেরা
    সারাটা জীবন ভুল চিঠি লেখা হলো শুধু,
    ভুল দরজায় হলো ব্যর্থ করাঘাত
    আমার কেবল হলো সমস্ত জীবন শুধু ভুল বই পড়া ।

    জবাব দিন
    • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

      রুম্মান,
      কলেজে থাকতে ট্রাই করছি, কিন্তু হয় নাই।
      ৭ম না ৮ম তে থাকাকালিন হাউস ম্যাগাজিনের জন্য লিখছিলাম শামসুর রাহমানের কোনও এক কবিতা নকল কইরা। সাইফুল ইসলাম স্যার (ইলতুৎ আলীদ) যথারীতি সেইটা সিলেক্ট করেন নাই। ভাগ্য ভালো যে মাইর দেন নাই।

      ১১ম না ১২ম তে হাউস ম্যাগাজিনে লেখা লেখা শর্ট পড়ায় হোসেন আমার কাছ থিকা একটা কবিতা নিয়া ওয়াহিদুজ্জামান স্যাররে দিলো; স্যার ছাপায় নাই।
      তখন ক্লাস ১২এ। আমাদের ক্লাসের জনৈক বন্ধু প্রেমে পড়লো গার্লসের এক মেয়ের। তারে মুগ্ধ করতে হইবো বন্ধুবরের। আমারে বলল কবিতা লিখে দিতে। একটা একরস্টিক লিখে দিলাম। তখন কি একটা বাংলা ম্যাগাজিন ছাপা হইতো না; কলেজ থিকা, বিকাশ, ওয়েভ।
      তো সে আবার ধরলো বিকাসের জন্য লেখা দিতে, কিন্তু ছাপা হইবো তার নামে, আমি বললাম ঠিক আছে।
      তারপর লেইখা দিলাম। তারপর সে আখতার হোসেন স্যারের পিছে ঘুইরা ঘুইরা লেখাটা ছাপাইছে। নিজের লেখা কবিতা ছাপা হওয়া দেখে ভালো লেগেছিলো এইটা মনে আছে; কিন্তু যথারীতি ভাব ও ধরছিলাম এইসব কবিতা আমি বা হাতের তুড়িতেই লিখতে পারি। হা হা হা।
      যাইহোক কোনোদিন কলেজে গেলে ৯৫-৯৬ সালের বিকাশ খুঁজতে হবে লাইব্রেরীতে; টুকে নিতে হবে। প্রথম লেখা বইলা কথা।
      ভালো থাক।
      আর ধন্যবাদ সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়ার জন্য।
      কোনো এক আঁতেল তো আবার আমার কবিতার রেটিইং ও করছে।
      না খুব ভালো লেগেছে এইটা শুনতে চাইনা।
      কারণ আমিও জানি কিছুই হয়নাই।


      এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

      জবাব দিন
  2. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    প্রথম দুইটা পড়ে মনে হলো, গান হিসাবে চমৎকার যায়।
    পরের দুটোকে কবিতা, নাকি অনুকাব্য বলা ঠিক হবে, ভাবছি।
    সবগুলোই সুখপাঠ্য, যেটা আমার হিসাবে সাহিত্য হবার জন্য প্রথম শর্ত।
    ভাল লেগেছে।


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।