সাম্প্রতিক এবং ছেঁড়া কথন ০৩

লেখাগুলো লাফাচ্ছে এডাল থেকে ওডালে।
পড়তে গিয়ে কেউ বিরক্ত, কেউ হতাশ, আবার কেউ নতুন করে ভাবার অবকাশ পাচ্ছে।
গেলো সপ্তাহ কেটেছে প্রচণ্ড ব্যাস্ততায়। ইস্টার সানডে, প্রিন্স উইলিয়ামের বিয়ে ইত্যাদি ইত্যাদি।
এখানকার ট্যাবলয়েডগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই রাজপরিবারের কোনও না কোনও খবর থাকে। ট্যাবলয়েডগুলো এসব সংবাদ বেশ রসালো করে প্রকাশ করে।
রাজা জর্জের যে বংশধারা আজ রাজসিংহাসনে তার পেছনে মূল কারণ কিন্তু প্রেম।

আমরা প্রায় সবাই রাজা অষ্টম এডওয়ার্ডের সিংহাসন ত্যাগ করার কাহিনী জানি। কারণ কি; প্রেম।
এক আমেরিকান ডিভোর্সি মহিলা মিসেস সিম্পসন। (দুইবার ডিভোর্সি)
যদিও বিয়ের পর আমৃত্যু তারা একত্রে ছিলেন কিন্তু কথিত আছে প্রাপ্তন রাজা সাহেব প্যারিসের রঙ্গালয়ে অধিকাংশ সময় কাটাতেন। যাইহোক তিনি প্রেমের জন্য রাজ্য তো ছেড়েছেন, যেখানে প্রেম বা বিয়ে করলে অর্ধেক রাজত্বসহ রাজকন্যা পাওয়া যায়!

প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে কেট মিদল্টনের বিয়ে এক কথায় অনন্য; কেননা রাজপরিবার রাজ-রক্তের বলয় থেকে বেড়িয়ে এসেছে। নব রাজকুমারী কেট সাধারণ পরিবার থেকে এসেছে বোধয় সবাই তা জানে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কালে বিবদমান পক্ষের ইংল্যান্ডের রাজা পঞ্চম জর্জ, জার্মানির সম্রাট কাইজার উইলহেম সেকেন্ড, রাশিয়ার জার নিকলাস টু একে অন্যের কাজিন ছিলেন। আমরাই শুধু ভাই ভাই জমি ইত্যাদি নিয়ে বিবাদ করিনা!!! মুঘলরা তো আরও কয়েক কাঠি সরেস।

মুটামুটি আমাদের শিশুকাল থেকে প্রিন্স চার্লস আর প্রিন্সেস ডায়ানার বিবাহ সংক্রান্ত জটিলতার কথা শুনে এবং পড়ে আসছিলাম। এক পর্যায়ে তো বিবাহ বিচ্ছেদ। মূল কারণ কি; প্রেম!!! ক্যামিলা পারকার।

প্রিন্সেস ডায়ানা বিখ্যাত ছিলেন সৌন্দর্য, স্টাইল, আর ইউনেস্কো/ইউনিসেফের সাথে নিজেকে জড়িত করার মাধ্যমে। চার্লস ও ডায়ানা দুইজনেই অসম্ভব বুদ্ধিমান হওয়ার পরও জড়িয়ে পড়েন বিবাহ বহির্ভূত পরকীয়ায়।
অধিকাংশই ডায়ানার প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং এখনও আছেন। আমি দাঁড়িপাল্লা কিন্তু চার্লসের দিকেই একটু ঝুলে। অনেকটা অষ্টম এডওয়ার্ডের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিলেন তিনি; উপরন্তু ক্যামিলা তো বিবাহিতা। এখনও খোদ যুক্তরাজ্যে জনগণ প্রিন্স উইলিয়ামকে পরবর্তী রাজা হিসাবে দেখতে চায়; কারণ কি ক্যামিলা।
এতো বড় ঝুঁকি যিনি নিতে পারেন তিনি নমস্য। ১৯৯৫ তে চার্লস, ক্যামিলা দুইজনেই ডিভোর্স নেন (ডায়ানা উকিল নিয়োগ করেন ডিভোর্স হেতু মোটা অর্থ আদায়ের জন্য; এখানে ডিভোর্সি মেয়েরা বেশ ভাগ্যবতী, হা হা হা) তাদের পূর্বেকার বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে।এরপর ডায়ানার মৃত্যু। অবশেষে এই প্রেমিক জুটির বিয়ে হয় ২০০৫ এর দিকে।দুইজনেই তখন ষাটের কাছাকাছি।
চাইলে কিন্তু এই যুগল বিবাহবিচ্ছেদ, পুনঃবিবাহর দিকে না গিয়ে গোপনে সম্পর্ক বজায় রাখতে পারতেন!!!

প্রেমতো আমাদের বাদশাহরাও করেছেন। আকবরপুত্র জাহাগির/জাহাঙ্গির তার আনারকলির জন্য, আর জাহাঙ্গিরপুত্র শাহজাহান তার স্ত্রী মমতাজমহলের জন্য তাজমহল বানিয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। যেই যমুনাতীরবর্তী তাজমহলে ঘুরতে গিয়েছে অপার বিস্ময় (শাহজাহানের পত্নীপ্রেমের নমুনা) নিয়ে ফেরত এসেছে। যদিও ব্রিটিশদের (অন্যান্য মুসলিম আক্রমণকারীদের হাতেও হয়তো)হাতে লুণ্ঠিত হয়েছে তাজমহল তাই তাজ আজ কিছুটা পরিবর্তিত রূপে দাঁড়িয়ে। (আমারও ইচ্ছা আছে পূর্ণিমারাতে গিয়ে দাঁড়াবো যমুনাপাড়ে, দেখব চন্দ্রালোকিত তাজকে)
বলা বাহুল্য শাহজাহান সাহেবেরও কয়েকজন পত্নী, অগণন উপপত্নী ছিলেন। এই প্রেমিক ভদ্রলোক কিন্তু তাজমহল তৈরিতে নিয়োজিত অনেকের প্রাণনাশ, কিংবা অঙ্গহানি ঘটিয়েছিলেন যাতে এরা পরে এইরকম আর কোনও তাজমহল বা তার চাইতে মহান কিছু বানাতে না পারে (ব্রিটিশরা যেমন মসলিন প্রস্তুতকারিদের হাতের বুড়ো আঙ্গুল কেটে দিয়েছিল )। কত্ত বড় প্রেমিক। খুব সম্ভবত পাকিস্তানের শালিমার বাগ/গার্ডেনও এই ভদ্রলোকের কীর্তি।
শাহজাহান মিয়ার আরও ইচ্ছা ছিল যমুনার অপর পারে আরেকটা তাজ (কাল মার্বেলের) বানানো যেখানে তার মৃত্যুর পর কবর হবে। সাদা আর কাল দুই তাজ আবার সেতু দিয়ে জোড়বন্ধন হবে। শাহজাহান আর মমতাজের দুই ভুত সেতুর মাঝে এসে দেখা করবে চাঁদনি রাতে!
কথা হচ্ছে তাজের (সাদা তাজের) স্থাপত্যবিদ আর অলঙ্কারিকদের হত্যা করার পর কালো তাজ বানাত কে???
যাই হোক আওরঙ্গজেবের ক্ষমতা দখলের কারণে আমরা কালো তাজের সৌন্দর্য শোভা দেখা থেকে বঞ্ছিত।
আওরঙ্গজেবের কথায় একটু পরে আসি।
অন্য ধরনের প্রেমের জন্য আমি বাবরকে প্রাধান্য দেই। যিনি পুত্র হুমায়ুনের জীবনভিক্ষা চেয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন (নিজের জীবনের বিনিময়ে)। তার প্রার্থনা গৃহীতও হয়। পুত্রপ্রেমের মত পিতৃপ্রেমের কাহিনিও কি নেই? মহাভারতে যযাতি সংক্রান্ত কাহিনী পড়ে দেখতে পারেন পাঠক। আমি ভুলে গেছি পিতা-পুত্রের নাম। একলব্য- দ্রোনাশ্চারযর কাহিনিও খুব ইন্টারেস্টিং (গুরুশিষ্য)।
আওরঙ্গজেব বাদশাহর ও গুরু বিষয়ক কাহিনী রয়েছে যা আমরা ছোটবেলার বাংলা কবিতায় পড়েছি। সেই পা ধোওয়ানোর কাহিনী আরকি…
এই লোক ভাতৃহন্তাকারি কিভাবে এটাই বিস্ময়!!! শুধু তাই নয় এই মহান শাসক বড় ভাইয়ের কর্তিত মস্তক কাপড়ে পেঁচিয়ে মূল্যবান বাক্সে করে বন্দি পিতাকে উপহার হিসাবে পাঠিয়েছেন।

আবার বর্তমানে ফেরত আসি। বাংলাদেশের জনগণ শুধুমাত্র বাংলাদেশেই রাজনীতি করে সুখ পাচ্ছেনা। তারা সউদি আরব, ইতালি, স্পেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট কোথাও বাদ রাখছেনা। আমি আমাদের তিন মহান দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাতের কথা বলছি। কয়েকদিন আগে মঞ্জুরুল সাহেবকে দেখলাম ছাত্র ইউনিয়ন আয়োজিত সম্বর্ধনা সভায় যোগ দিতে (বিলাতে)।
এই রাজনৈতিক দলগুলো বা এদের সমর্থকরা দলের জন্য যা করে থাকেন বা দিয়ে থাকেন যদি তার একাংশও যদি দেশের জন্য করতেন তবে দেশে সত্যি সত্যি সোনা ফলতো।
ইদানিং আবার এদের নতুন নতুন কমিটি তৈরি করার হিড়িক পড়েছে; ঠিক বাংলাদেশে পাড়ায় পাড়ায় যেমন কমিটি হয়।
টিভিতে এদের এড যায়, এডের পিছনে/ব্যাকগ্রাউন্ডে আবার গান বাজে। বাজায় সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা তখনি যখন নির্দিষ্ট শিল্পীর গান বাজে। আজ দেশবরেণ্য, আন্তর্জাতিক মানের শিল্পীরা যদি কোনও দল বা গোত্রের তকমা গায়ে লাগায় বা দলগুলো লাগিয়ে দেয় তখন লজ্জা, ক্ষোভ কোথায় রাখি!!!
শাহনাজ রহমতুল্লাহ আমার খুব প্রিয় শিল্পীদের একজন। এতো সুন্দর গানের গলা নিয়ে খুব কম শিল্পীই জন্মেছেন। যেমনঃ আব্বাস উদ্দিন, আব্দুল আলিম, ভুপেন হাজারিকা, মান্না দে, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, শেফালি ঘোষ, মমতাজ ইত্যাদি।
বিএনপির কোনও এড আসলে পিছনে শাহনাজ রহমতুল্লাহের গান বাজে। শুনি একসময় নাকি জিয়া এই শিল্পীর গাওয়া গানকে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত করতে চেয়েছিলেন। করেননি কেন এটাই বিস্ময়ের। স্বাধীনতা পরবর্তী সবাই তো একের পর এক বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছেন।
আমার লেখা যেমন ডালে ডালে লাফাচ্ছে তেমনি মুজিব একবার হয়েছেন রাষ্ট্রপতি, আবার প্রধানমন্ত্রী, আবার রাষ্ট্রপতি, আবার প্রধানমন্ত্রী, আবার…
তাজউদ্দীন যেমন বাকশালে যোগ দেননি তেমনি দেননি আমাদের প্রিয় ওসমানীও। কিন্তু এই ভদ্রলোক কেমন করে মোশ্তাকের মন্ত্রীসভায় যোগ দিলেন তার হিসাব কে রাখে!!! ওসমানী জিয়াকে সেনাপ্রধান করেন। পরে ওসমানী আওয়ামীলীগের সাপোর্ট নিয়ে জিয়ার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই বিষয়টা সাজানো কিনা কে জানে? নির্বাচনের কথা বলছি। এরশাদ সাহেবতো বিরোধী দলকে টাকা দিয়ে নির্বাচনে দাঁড় করাতেন। কথিত আছে হাসিনা, খালেদা দুইজনকেই এরশাদ বস্তা ভরে টাকা পাঠাতেন।

এই প্রজন্মের কেউ কি হা/না ভোট সম্পর্কে কিছু জানে? মহান জিয়া এই মহান সিস্টেমটা চালু করেন, এরশাদও এর চমৎকার ব্যাবহার করেন। জিয়া প্রায় ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি হা ভোট পান।
এরশাদ ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ হা ভোট পান।
বিএনপির সমর্থকরা জিয়াকে গনতন্তের পুনরুদ্ধারকারি বলেন। কিভাবে আল্লাহ মালুম! নিজেকে প্রধান সামরিক শাসক করেন। নিজে প্রেসিডেন্ট থাকবেন কিনা এজন্য হা/না ভোট করেন। মানে ২য় কোনও CHOICE নাই।
বাঙালি থেকে আমাদের বাংলাদেশি করেন। জাতিয়তাবাদের ও যে খৎনা হয়, এই মহান চেতনার জন্ম দিলেন।
পাহাড়ি/ আদিবাসিদের প্রথম শ্রেণীর নাগরিক করলেন।
আবার বিসমিল্লাহ যোগ করে হিন্দু, ক্রিশটান, অন্যান্যদের ২য় শ্রেণী করে দিলেন।
একটা মজার কথা বলে আজ শেষ করি, আমাদের স্বাধীনতা দিবস ২৬শে মার্চ। জিয়া কিন্তু স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন/ ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন ২৭ য়ে মার্চ। হা হা হা ….
চলবে …..

২,১৮৪ বার দেখা হয়েছে

২২ টি মন্তব্য : “সাম্প্রতিক এবং ছেঁড়া কথন ০৩”

    • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

      আশরাফ, ভাই এটা হিটলারের যুগ নয় যে বাংলাদেশের হিন্দু বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা হাতে শস্তিকা পরে ঘুরবে। আর প্রথম শ্রেণী, দ্বিতীয় শ্রেণী কারো গায়ে লেখা থাকেনা।
      তোমাদের ব্যাচে কি কোনও হিন্দু ছেলে ছিল বা কোনও বন্ধু আছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী? একটু তাকে জিজ্ঞাসা করে দেখো।
      আর ভারতের দিকে কেন তাকাতে হবে??? ভারত কি মডেল রাষ্ট্র নাকি!!!
      সংবিধানে সেকুলার লেখা থাকলেই দেশের সব জনগণ সেকুলার হয়ে যায় না।
      আমার অন্য লেখাগুলো পড়লে হয়তো ধরতে পারবে আমি ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনাই নতুন বা ভিন্নভাবে ভাবছি বা দেকছি।কোনকোনও ক্ষেত্রে হয়তো পুরানো ধারণাই সমরথন করছি। ভারতের সবচেয়ে বড় সাম্প্রদায়িক ব্যাক্তির নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। আশা করি ভবিষ্যতে তার কাহিনী আসবে লেখায়।


      এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

      জবাব দিন
    • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

      ফয়েজ ভাই, ধনবাদ।
      আংশিক ঠিক।
      অনেকের টাইম নাই এইসব নিয়া ভাবার।
      ভাইয়া মৌলিক কিছু বলবো এতটা মৌলিকত্বের অধিকারী এখনও হইতে পারিনাই।
      তাই পুরান কথা বলি আরকি...


      এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

      জবাব দিন
  1. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    কয়েকদিন সময়ের কারণে লেখাগুলো পড়েও কোন মন্তব্য করা হয়নি। আপনার এই সিরিজটি আমার খুবই ভালো লাগছে। বিশেষ করে ইতিহাসের প্রচলিত সত্যগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রক্রিয়াটি খুবই ভালো লাগছে।
    এই পোস্ট পড়তে পড়তে আসলেই আমার ভাবনা ডালে ডালে পাতায় পাতায় লাফিয়েছে। মুঘল দের নিয়ে যখন কথা উঠলো আমার নিজের দুইটা ডাউট বলে যাই। প্রথম কথা হলো বাবরের পিতৃপ্রেম নিয়ে। বাবর তার ছেলে হুমায়ুনের জন্য নিজের জীবন দিয়েছিলেন এটা হচ্ছে ঐতিহাসিক মিথগুলোর অন্যতম। প্রথম কথা হলো এরকম কোন ঘটনা খুবই অবৈজ্ঞানিক যে একজন প্রার্থনা করলো যে খোদা আমার পুত্রের অসুখ আমাকে দিয়ে আমার পুত্রকে সুস্থ করো আর খোদা শুনেই কাঁদতে কাঁদতে তা করে ফেললেন। আমি নিজে দেখেছি হাসপাতালে কতলোককে বলতে মুমূর্ষু রোগীর জন্য কেঁদে নিজের হায়াতের বিনিময়ে রোগীর হায়াত। কোনদিন কবুল হইতে দেখি নাই। খোদাও মনে হয় রাজা বাদশাহদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট !!!
    পরের ব্যাপার যেটা সেটা হলো বাবর খোদার কাছে প্রার্থনা করলেন সেটা আমরা জানলাম কিভাবে?? আমরা জানি মুখে মুখে কালে কালে বিকৃত স্তুস্তিগাঁথা। এটা ভাবা আসলেই কষ্টকর ভরা রাজদরবারে সবার সামনে চিৎকার করে বাবর খোদার কাছে প্রার্থনা করেছিলেন তাই না??
    এবার বাদশাহ আলমগীরের শিক্ষকের কাহিনী নিয়ে বলি। এটাও আরেকটা প্রচলিত মিথ। এরকম কোন কিছু হয়েছে তার কোন ওিতিহাসিক সত্যতা নাই। কারণ সেই শিক্ষক সাহেবের নাম কি তা কেউ জানল না। আড় যদি বা ঘটনা ঘটে থাকে সেটা কে প্রচার করলো?? সেই শিক্ষক নাকি আলমগীর। যেই করুক তার তৃতীয় কোন প্রত্যক্ষদর্শী নাই। আলমগীর সাহেব শিক্ষককে থাপড় মেরেও যদি বলে দেন এই ফাঁদা কাহিনী প্রচার করতে তাতেও শিক্ষক বেচারার কাছে কিছু করার নাই।
    মুঘলরা ঐ ঘুরী তুঘলক কিংবা পাঠানদের মতই ইনভেডর। তার সাথে এদের সমস্যা আরো গভীরে। তারা নিষ্ঠুর লুইচ্চা এবং বিলাসী। স্থাপত্য কিছু হওয়া ছাড়া সাধারণ মানুষের কি উপকার হয়েছে জানি না। অথচ মিথ ঠিকই ছড়িয়েছে শায়েস্তা খানের আমলে টাকায় আট মন চাল পাওয়া যেত। তার মানে আসলে কী?? তার মানে হলো কৃষকের শ্রমের কোন মূল্য ছিলো না। তখন টাকায় আটমণ চাল কারা কিনতো?? মধ্য স্বত্বভোগী দালাল শ্রেনী।
    জিয়া এরশাদ এর সাথে মুঘলদের মিল পাওয়া গেলো এক জায়গায় তারা মার খেয়ে গেছেন। তারা মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিলেও মিথ ছড়ানোর ব্যাপারে খুব বেশি সফল হন নাই।
    আপনার এই পর্ব ফলো করছি। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

    জবাব দিন
    • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

      আমিন,
      ভাইয়া তোমার চিন্তা-ভাবনা খুব ক্লিয়ার।
      কুরআন, বা অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ দিয়ে যেমন সব ব্যাখ্যা করা যায়না ঠিক তেমনি বিজ্ঞান দিয়েও সবকিছু ব্যাখ্যা করা যায়না।
      আমরা মনে করতে পারি বিজ্ঞান এখন তার সাফল্যর সর্বচ্চ শিখরে আছে।
      আসলেই কি?
      ১০০ বা ৫০০ বছর আগেও কিন্তু লোকে তা ভাবতো।
      এমনকি অতীতের অনেক কিছুই বিজ্ঞান এখনও ক্লিয়ার করে বলতে পারছেনা। যা দিচ্ছে তা ধারনামাত্র।
      তবে একদিন হয়তো পারবে।
      আমরা টাইম মেশিনে ট্রাভেল করবো। বোরাকে উঠবো।
      দুই কাঁধের মুঙ্কার নাকেরের সাথে বসে চা খাব; ঘুস দিয়ে মিত্থা কথা হিসাবে তুলবো।
      বিজ্ঞান তো ইভেন ডেভিড কপারফিল্ডের জাদুর ব্যাখ্যাই দিতে পারবেনা।
      নাকি অলরেডি করে ফেলেছে?
      হিন্দু সাধুদের ইচ্ছামৃত্যুর কথা শোনা যায়।
      বিজ্ঞান ভূত বা জিনদের ব্যাপারে কি বলে?
      আমি কিন্তু ১০০ ভাগ ভূত বিশ্বাস করি।
      হাসি আসলেও কিছু করার নেই।
      কাবার একটা মিরাকল আছে।
      শেয়ার করি।

      আমি হিসাব করি নাই।
      তুই কিংবা যাদের আগ্রহ আছে তারা হিসাব কষে দেখতে পারে।
      আমি লাস্ট অঙ্ক করেছিলাম কলেজে থাকতে ইরাটোস্তেনিসের গোলত্বের প্রমান।

      আউরংজেবের ঘটনাতে আমি কোনও প্রবলেম দেখিনা।
      এমনকি ঘটনা খুব বেশি মহান কিছুও না।
      আমি ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত ১ম হইতাম। কিন্তু প্রায়ই খলিল স্যারের মাইর খাইয়া ঘরে আসতাম। আম্মা বা ফুফু বা কাজের মেয়ে গোসল করাইতে গিয়া দেখত পিঠে, হাতে ব্যাতের লম্বা লম্বা দাগ; কেউ কোনদিন কিন্তু স্যারকে একটা প্রশ্ন ও করে নাই, কেন আমাকে মারা হইছে!
      হুমায়ুন রে এক এক ভিস্তিওয়ালা একবার প্রানে বাচাইছিল। হুমায়ুন কিন্তু দেওয়া কথা অনুসারে নিজ রাজ্য ফেরত পাওার পর ঐ ভিস্তিওয়ালাকে সিংহাসনে বসাইছিল। ঐ ব্যাটার নামে কয়েন পর্যন্ত আছে।

      ১৯৭০ সালে আমার মা আটআনা (৫০ পয়সা) দিয়ে রোকেয়া হল থেকে নিউ মার্কেট যাইত;
      ১৯৯৬ সালে আমি যাইতাম ৫ টাকা দিয়ে;
      তোরা এই ২০১১ তে কয় টাকা দিয়া যাস, ১০ থেকে ১২ টাকা। নাকি আরও বেশি।
      তাইলে ১৯৭০ এ কি রিকশাওয়ালারা না খাইয়া থাকতো!


      এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

      জবাব দিন
      • আমিন (১৯৯৬-২০০২)

        ভাইয়া মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। শেষ থেকে শুরু করি। স্বীকার করছি শায়েস্তা খাঁর আটমণ চালের সাথে কৃষকদের বঞ্চনার কথাটা আমি কোন রেফারেণ্স ছাড়াই ছাড়াই বলেছি । এবং এটা আমার একটা অনুমান মাত্র। আসলে আমার বলার মূল উদ্দেশ্য ছিলো এই প্রচারণাগুলো খুব জোরেসোরে চালিয়ে "আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম টাইপ একটা ভাব আমাদের মাঝে দেখা যায়" -- যেটা আমি মনে করি ঠিক নয় সেই স্পিরিট থেকে বলেছিলাম। আমি আসলে বাবা চাচাদের কিংবা দাদা দাদীদের গোলা ভরা ধান গোয়াল ভরা গরুর যে পূর্ব গল্প শুনি তার সত্যতাকে প্রশ্ন বিদ্ধ করেছি। আমাদের ইতিহাসে রাজারাজরাদের কথা আছে কিন্তু সাধারণ মানুষদের ভাগ্য কিভাবে বদল হয়েছে এর কোন দলিল নাই। সাহিত্য সময়ের একটা ভালো দর্পন কিন্তু মুঘল আমলের সাহিত্য ( তারপরেও কিছু সময়) রাজা রাজরাদের স্তুতিগাঁথা এত বেশি যে সাধারণ মানুষ সেখানে রয়ে গেছে অচ্ছু্ৎ। এর আরেকটি প্রভাব হলো আমাদের ছোটবেলায় শোনা গল্প মনে করুণ। সব শুরু হতো "এক দেশে ছিলো এক রাজা..।" কখনো যদি চোর নাপিত দর্জি দিয়েও শুরু হয় এমনকি ছোট টুনটুনি পাখিকেও শেষ মেষ আমরা রাজার দরবারেই দেখতে চাইতাম।
        ১৯৭০ এর রিকশাওয়ালা না খেয়ে মরতো না বরং যা হয়েছে টাকার অবমূল্যায়ন। কিন্তু রিকশাভাড়া কম ছিলো বলে মানুষের লাইফ খুব সুখের ছিলো এটাও মিন করে না। আমি সেটাই বলতে চাইছিলাম।

        জবাব দিন
  2. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    এবার আসি আওরঙ্গজেব নিয়ে। আওরঙ্গজেবের গল্প সত্য হবার সম্ভাবনা আমার কাছে কম মনে হয়। আর এতে মহান হবার কিছু থাক বা নাক আমরা কিন্তু ছোটবেলায় ঠিকই পড়েছি
    " পরদিন বাদশাহর দূত শিক্ষকে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লাতে।
    খাস কামরাতে যবে শিক্ষকে ডাকি বাদশাহ খেন
    শুনুন জনাব তবে
    পুত্র আমার আপনার কাছে আদব কায়দা কি কিছু শিখিয়াছে,
    বরং শিখিয়াছে বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা।
    নইলে সেদিন দেখিলাম যাহা স্বয়ং সকালবেলা।
    শিক্ষক খেন জাহাপনা আমি বুঝিতে পারি না হায়,
    কী কথা বলিতে আপনি আজিকে ডেকেছেন নিরালায়।
    বাদশাহ খেন সেদিন প্রভাতে দাঁড়ায়ে তফাতে দেখি
    নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালন
    পুত্র আমার পানি ঢালি শুধু ভিজাইয়াছে ও চরণ।
    নিজ হাত খানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে
    ধুয়ে দিল নাকো সে স্মরি বড়ো ব্যথা পাই মনে।
    উচ্ছাস ভরে শিক্ষক তবে দাঁড়ায়ে সগৌরবে
    কুর্নিশ করি বাদশাহ তরে খেন উচ্চরবে।
    আজি হতে চির উন্নত হলো শিক্ষাগুরুর শির
    সত্যিই তুমি মহান উদার বাদশাহ আলমগীর"
    কাজী কাদের নেওয়াজের এই কবিতা পড়লে মনে হয় উনি দাঁড়ায়ে দাড়ায়ে তাদের কথা শুনছেন আর শেষমেষ মহান উদার তকমাটা লাগায়ে দিছেন। আমার আপত্তি এই প্রবণতাতেই। একই কাজ গোলাম মোস্তফাও করেছেন
    " মরিল বাবর , মরণ তারে কে কয়
    মরিয়া বাবর অমর হয়েছে তাঁর নাই কোন ক্ষয়,
    পিতৃস্নেহের কাছে হইয়াছে মরণের পরাজয়"
    বাবরকে মহৎ করার সুর কিন্তু এখানেও দেখতে পাই। এ জায়গাতেই আমার আপত্তি। আর ট্রুলি বলতেসি আমার কাজিন যখন মারা যায় আমার বুড়ো দাদীকে বলতে শুনেছি কাঁদতে কাঁদতে " আল্লাহ আমার সব হায়াত তুমি নিয়ে যাও। বিনিময়ে আমার নাতনীকে বাঁচিয়ে রাখ।" আল্লাহ সেই প্রার্থনা শোনার সময় হয়তো ছিলো না। আমার কাজিন মারাই গেলো আর নাতনী প্রেম দেখায়া আমার দাদী অমর হইতে পারলেন না। বড়ই আফসোস।

    জবাব দিন
  3. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    এবার আসি প্রথম প্রসঙ্গে। বিজ্ঞানের ছাত্র হইলেও আমি বিজ্ঞানে অজ্ঞান । কিন্তু বিজ্ঞান মনস্কতা হালকা পাতলা অর্জন করেছি। বিজ্ঞান আসলেই সবকিছুর ব্যাখ্যা করতে পারে না। যখন কিছু ব্যাখ্যা করতে পারে না সে তার কার্যকারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। এ জিনিসটিই আমার কাছে ভালো লাগে। বিজ্ঞান কোনকিছু আগে ধরে নেয় না। আর বিজ্ঞান কখনৈ স্থির না। তাই আমরা বিজ্ঞানের শিখরে আছি এ কথা মনে করবারও কোন কারণ নেই।
    এএক্সএনে ম্যাজিক সিক্রেটের একটা সিরিয়াল দেখেছিলাম। তা থেকে আমি যতদূর বুঝি ম্যাজিক হচ্ছে ম্যাজিশিয়ানের হাতের কাজ আর দর্শকের দৃষ্টি বিভ্রম তৈরি। ম্যাজিশিয়ানরা অবশ্য চাইলেই আমাদের দেশে এসে পীর সেজে যেতে পারেন তাদের হাতের কুশল দেখিয়ে। কপার ফিল্ডের ম্যাজিকের পিছেও হয়তো এরকম কোন কাজই রয়েছে। লোক ঠকানোকে বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করাটা আসলেই কঠিন। বরং যে ঠকায় সেই ভালো ব্যাখ্যা করতে পারবে।
    কাবার মিরাকলের ডকুমেন্টরীটা দেখলাম। কুরআন ইসলাম নিয়ে সংখ্যা প্যাচাপ্যাচিটা এত মাত্রায় বেড়েছে ভাবখানা এমন যেন এটা আছে বলেই ইসলাম সত্য। আমি ধর্ম মানি । কিন্তু এসব সাংখ্যিক মাহাত্ম্য না খুঁজেই। এমনকি এসব সাংখ্যিক মাহাত্ম্য না থাকলেও আমার কিছু যায় আসতো না। তবে কাবার এই গোল্ডেন পয়েন্ট টা নানা কারণেই হাস্যকর মনে হয়েছে। প্রথমে মনে রাখতে হবে পূর্ব পশ্চিম হরাইজন পৃথিবীতে নাই। তাই মক্কা থেকে পূর্ব পশ্চিমশিসাব যেভাবে করছে ম্যাপ দেইখা সেই ম্যাপ মানুষের দ্বারা ডিফাইন আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাকে পূর্ব আর পশ্চিমের সীমারেখা নির্দেশ করে। আরো মজা আছে। উত্তর আর দক্ষিণ মেরুর মাঝে দূরত্বের গোল্ডেন রেশিও হিসাব করে পৃথিবীর তল বরাবর একটা সঞ্চারপথ আমরা তৈরি করতে পারি। যার উপরকার প্রত্যেকটি বিন্দু থেকে উত্তর আর দক্ষিন মেরুর দূরত্বের রেশিও গেল্ডেন রেশিও। সো মক্কা ছাড়াও এটা পৃথিবীর সব জায়গা আটলান্টিক প্রশান্ত শুরু করে এমনকি ভারত চীন আমেরিকার উপর দিয়েও যাবে। মজার এখানেই শেষ না। গোল্ডেন রেশিও যেখানে আছে সেটা বললো। কিন্তু এক জায়গায় তো নেই। সেটা হলো মক্কা পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর। সো আমি যদি কেন্দ্র থেকে এর দূরত্ব আর সেই ব্যাস বরাবর অন্য পাশের পৃষ্ঠ থেকে মক্কার দূরত্ব নেই তাহলে কি গোল্ডেন রেশইও হবে???

    এইসব সস্তা সংখ্যা মিরাকল খুঁজে বেড়ায় যারা ( অবশ্যই আপনাকে উদ্দেশ্য করে বলিনি) তাদের জন্য রায়হানের একটা পোস্ট আছে , সেটা লিংক শেয়ার করলাম

    আরেকটা লেখার লিংকও দিলাম । এটাও খুব মজার।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।