আমরা এমন কেনো?

ওয়েডিং স্ক্রিন ডট কম এর ওয়েব সাইট লঞ্চিং এর প্রোগ্রাম থেকে বাসায় ফিরছিলাম। ভালো খরচ করেছে ওরা। আমি গিয়েছিলাম সাংবাদিক হিসাবে। গিয়ে পেলাম অনুষ্ঠানের অন্যতম ব্যাবস্থাপক হিসাবে এক ছোট ভাইকে। অনুষ্ঠান প্লাস খাওয়া দাওয়া বেশ ভালো হয়েছে। টাওয়ার হ্যামলেটের মেয়র থেকে শুরু করে অনেক বিশিষ্ট লন্ডনী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। কেটারিং এর সাথে জড়িত একজন ভারতীয় আর গুটিকয়েক ইংলিশ আর কালো বাদে বাকি সবাই বাংলাদেশি ছিলো। এরপরো বেশ কয়েকজন গায়ক-গায়িকা হিন্দিতে গান করলেন। কয়েকজন হিন্দি গানে নাচলেন। হিন্দি তে গান-নাচ দুটোই বেশ ভালো হয়েছে। কিন্তু মনে ধরে নি। বাঙাল দের অনুষ্ঠানে এমন হিন্দি-উর্দু নাচ-গান হলে নিজেকে পঙ্গু মনে হয়, এক ধরণের ক্রোধ ভর করে শরীরে।

তো ফেরার পথে মোবাইল এ ফেবু গুতাচ্ছিলাম। একটা স্ট্যাটাসে লাইক দিবো-দিবো করছি, একটা লাইনে চোখ আটকে গেলো। তব্দা খাইলাম। এমনিতেই গত কয়েকদিন ধরে অনেক কিছুই গরম। আমরা আবার জাতে খারাপ। তাওয়া গরম থাকলে রুটি ভেজে ফেলি, খেয়াল ও করি না যে তাওয়া টি আমার নয়।

ক্রিমিয়া নিয়ে পরিস্থিতি পুরা গরম। পুতিন মামা বাকের ভাই রে ভালো টাইট দিছে। মনে হচ্ছে আরো দিবে। ৯০ থেকে বুশ,বাকের ভাই অনেক খেলা দেখাইছে। এইবার সুদে আসলে ডিভিডেন্ট সহ পুতিন মামা সব ফেরত দিচ্ছে। আদার ব্যাপারীর জাহাজের খোঁজ বলে একটা প্রবাদ আছে। রাশিয়া-ইউ এস এ হলো জাহাজ। তবু আঙ্কেল স্যামকে কেউ ঠুসা দিলে বড়োই আমোদ হয়।

বিনোদন ১


বিনোদন ২

 

বিনোদন ৩

 

মালয়েশিয়ার একটা যাত্রীবাহী প্লেন নিখোঁজ। প্রথমেই খোঁজ নিলাম ওটায় বাঙাল কেউ ছিলো কিনা। ছিলো না জেনে স্বস্তি পেলাম। একই সাথে ব্যাথিত হলাম। কারণ নিজের সাথে নিজের নাটক চলে না। যতই মানবতাবাদীর ভেক ধরি না ক্যানো আমি ও শালা একটা রেসিষ্ট বাদর।

যাই হোক প্লেনকাহিনী ক্ষণে ক্ষণে গিরগিটির মতো রঙ বদলাচ্ছে। এখন এটি যাচ্ছে মৌলবাদী এঙ্গেলে।

টি ২০ এর উদ্বোধনী হয়ে গেলো বাংলাদেশে। এ আর রেহমান, আকুন এসে গান গাইলেন। বিদেশী শিল্পীরা আমাদের দেশে আসবেন বটে। কিন্তু যেখানে নিজেদের পণ্য প্রমোট করার এমন সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে তখন তা ছাড়ে বলদে। বিসিবি নিজেকে ষাড় প্রমাণ করুক, বলদ নয়।

এ আর রেহমান, আকুন নাচলেন, কুদলেন আর মাঝখান থেকে আমাদের ব্যান্ড গুলা বিশেষত মাইলস চড়াও হলো এল আর বির উপর। সে এক ঘেন্নার কথা। মাইলস বেশ কিছু ভিডিওবার্তা, ফেবু বার্তা দিলো। কিন্তু মজা হচ্ছে যেই ভারত বিরোধিতার কথা বলে তারা পাবলিক সাপোর্ট চাইলেন সেই তারাই ভারতের যাদবপুরে অবুষ্ঠান করে আসলে পুলকিত হন। শালার এতো রাইতে কই যাই। একসময় মাইলসের ক্যাসেটের কভারের ভিতরে লেখা থাকতো তারা ভারতে কবে, কোথায় প্রোগ্রাম করেছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জামাতি প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাঙ্কের কাছ থেকে তিন কোটি টাকা সাহায্য নিলেন ২৬ শে মার্চ জাতীয় সঙ্গীত গাইবার জন্য।

Screen Shot 2014-03-16 at 12.44.17

 

এই ছবিটা দেখে শিবলী ভাই নিচের ছবিটি আমার সাথে শেয়ার করলেন।

1959614_586157908146143_980531034_n

 

এর মাঝে হিট করেছে ইসলামী জঙ্গী ফারাবী আর রকমারী।
রায়হান রশীদের চমৎকার একটি জবাব আছে এতে,
৪৫১ ডিগ্রী ফারেনহাইট। রে ব্রাডবারীর এই নামের উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে এক বন্ধুর কাছ থেকে জেনেছিলাম – এই তাপমাত্রায় নাকি বই পোড়ে। পৃথিবীতে বই পোড়ানোর মচ্ছব নতুন না। সেই প্রাচীন যুগ থেকে শুরু। ব্যাবিলনীয়রা পুড়িয়েছে, এথেনীয়রা পুড়িয়েছে, রোমানরা পুড়িয়েছে। এমনকি গত শতকে নাজি জার্মানীতে রীতিমতো বনফায়ার করে বই পোড়ানো হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্র বাহিনীও পিছিয়ে ছিল না। তাদের বোমারু বিমানগুলো টার্গেট হিসেবে প্রায়ই খুঁজে নিতো জার্মানীর লাইব্রেরীগুলোকে। পঞ্চাশের অন্ধকার দশকে ম্যাকার্থিজমের বিশুদ্ধি অভিযানে আমেরিকান মননকে কমিউনিজমের হাত থেকে বাঁচানোর জন্যও বই পুড়িয়েছে মানুষ। বই পোড়ানো ছাড়াও সেনসরশীপের আরও বহু রকম চেহারা দেখেছি আমরা। সেখানে যোগ হয়েছে আরও নতুন কয়েকটি পন্থা।

ফারাবী নামধারী অনলাইনের এক ইতর শ্রেনীর জঙ্গী সম্প্রতি “রকমারি.কম” নামের একটি বই বিক্রি ওয়েবসাইটের ওপর ফতোয়া জারী করেছে। সেই সাইটের তালিকায় Avijit RoyRaihan Abir এর মতো লেখকদের বই থাকায় সাইটের মালিকদের হুমকিসহ তাদের কার্যালয় আক্রমণের উস্কানী দিয়েছে এই জঙ্গী। এই লেখকদের অপরাধ – তারা নাস্তিক্যবাদী, তারা বিজ্ঞান এবং প্রান্তিক দর্শনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সিরিয়াস লেখালিখি করেন। হুমকি দেয়া হয়েছে – অচিরেই এই সব নাস্তিক্যবাদী চিন্তার প্রচার বন্ধ না করা হলে সাইটের সাথে যুক্তদেরও ব্লগার রাজীব হায়দারের মতোই ভয়াবহ পরিণতি বরণ করতে হবে। হুমকি শুনে সাইটটির মালিক পক্ষ নতজানু তোষণ নীতির পথ ধরেছে; তাদের পক্ষ থেকে হুমকি প্রদানকারীকে এক রকম ক্ষমাপ্রার্থনা করেই আশ্বাস দেয়া হয়েছে – এমনটি আর কখনো হবে না। এ নিয়ে গত কয়েক ঘন্টা ধরেই অনলাইনের ফোরামগুলো উত্তপ্ত। আহত প্রগতিশীলরা কেউ কেউ সাইটটির মালিক পক্ষের কাপুরুষতার সমালোচনা করছেন, কেউ হুমকি দিচ্ছেন সাইটটিতে নিজের একাউন্ট বাতিল করবার, কেউ সাইটটি বর্জনের ডাক দিচ্ছেন, Ranadipam Basu আর চরম উদাস-এর মতো কেউ কেউ আবার প্রতিবাদ হিসেবে নিজেদের বইও সে সাইটের তালিকা থেকে প্রত্যাহারের দাবী তুলেছেন। 

রকমারী ডট কম দেখা হল। প্রবল ক্ষমতাধর রথি-মহারথীদেরও এক সময় দেখা হয়ে গেছে। কখনো জঙ্গী অপশক্তি কখনো সরকারের সাথে ‘মত প্রকাশ’ ইস্যুতে আপোস করতে কেউ তারা কারও চেয়ে কম ছিলেন না। জলপাই শাসনামলে সুশীল চিন্তার কান্ডারী মহান ডেইলী স্টার পত্রিকা তার নির্যাতিত সাংবাদিক Tasneem Khalil এর পাশে আপোসহীনভাবে দাঁড়াতে ব্যার্থ হয়েছিল বলে আমার মনে হয়েছে। বরং পত্রিকাটিকে দেখেছি উল্টো একের পর এক উপসম্পাদকীয় ছাপিয়ে যেতে – দেশে আসলে কেমন মানবাধিকারের ছড়াছড়ি সেই কথাই নানা ভণিতায় বলে যেতে! কার্টুনিস্ট Arifur Rahmanএর পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর পরিবর্তে প্রথমআলোর সম্পাদক মতিউর রহমান দৌড়ে গিয়ে পা ধরে ফেলেছিলেন জনৈক জঙ্গী মাওলানার। আবার এই ক্ষমতাধর সম্পাদকদের কলমই আমরা প্রবল বিক্রমে গর্জে উঠতে দেখেছি (আমারদেশ এর) মাহমুদুর রহমানদের মতো মানুষদের অধিকারের দাবীতে। এই হল সেই মাহমুদুর যে কিনা তখন সারা দেশময় জঙ্গী সহিংসতা আর তাদের উত্থানের উস্কানী দিয়ে বেড়াচ্ছিল সফলভাবে। এই হল সেই মাহমুদুর যে কিনা মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে বিষবাষ্প ছড়াচ্ছিল নাস্তিকদের বিরুদ্ধে, ব্লগারদের বিরুদ্ধে, শাহবাগ আন্দোলনের বিরুদ্ধে, ট্রাইবুনালের বিরুদ্ধে, বিচারকদের বিরুদ্ধে, ট্রাইবুনালের সমর্থক একটিভিস্ট এবং গবেষকদের বিরুদ্ধে। এই সব রথি-মহারথিদের তুলনায় ‘রকমারী ডট কম’ তো স্রেফ চুনোপুঁটি! 

আমি জানি – এখন রকমারী.কম এর তালিকা থেকে বাদ পড়া লেখকদের পাশে বহু মানুষ এসে দাঁড়াবেন। কিন্তু তাদের বেশীর ভাগই দাঁড়াবেন খুব সাবধানে, সন্তর্পনে। তারা বিবৃতি দেবেন, আমার মতো ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দেবেন। মোটা দাগে মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলবেন। কিন্তু তারা সবাই সাবধান থাকবেন যাতে নাস্তিকদের কোন দর্শনের প্রতি, কিংবা সে দর্শনের প্রচারের পক্ষে কোন অবস্থাতেই যেন কোন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন প্রকাশ না পেয়ে যায়; পাছে এই সব ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী’ এই ‘ক্ষতিকর চিন্তা’ বৈধতা পেয়ে যায়! সংখ্যাগুরু মুসলমানের এই দেশে ঘটনাচক্রে ধর্মীয় সংখ্যালঘুর যদিও বা টেনেটুনে ঠাঁই হয়, অধর্মী আর নাস্তিকদের কোন ঠাঁই হতে নেই। পৃথিবীর ইতিহাসের বৃহত্তম সেকুলার গণজাগরণ যখন তুঙ্গে সেই শাহবাগের উত্থান দিনও নাস্তিক ব্লগারদের পাশে দ্বিধাহীনভাবে এসে দাঁড়ানোর স্পর্ধা দেখাতে পারেনি, এমনকি স্রেফ নীতিগত অবস্থানের প্রশ্নেও না। মঞ্চ কাঁপানো নেতাদের মধ্যে তখন তোড়জোড় পড়ে গিয়েছিল কে কত ‘ভাল (কিন্তু শান্তিপ্রিয়) মুসলমান’ তা তুলে ধরবার। কে কত বেশী শাহবাগ আন্দোলন ‘করেন’, কিন্তু তারও অধিক নিয়মিত কোরাণও পড়েন, নামাজ-রোজাও করেন – সে সব আমাদের তখন বিস্তারিত জানবার সুযোগ হয়েছিল। ‘রকমারী.কম’ তো সে তুলনায় স্রেফ চুনোপুঁটি! 

আমরা কি শুধু বই আর বিপনন এর অধিকারের পাশেই দাঁড়াবো? যে সব চিন্তাকে বিকশিত করবার নিমিত্তে এতো এতো অধিকারের জন্ম – সেই চিন্তার পাশে দাঁড়াবো না? এমনকি নিজে সে চিন্তার অনুসারী না হলেও? কবে দাঁড়াবো? যে দেশের বইয়ের দোকানে সযত্নে মোকসুদুল মোমেনীন এর মতো অশ্লীল বই বিক্রি হয়, যে দেশে গোলাম-নিজামীদের বইও সদম্ভে প্রচার হয় – সে দেশে শুধু নাস্তিক্যবাদ এবং প্রান্তিক চিন্তাকেই শুধু এতো মানুষের অনুমতি নিয়ে প্রচারিত হতে হবে কেন? 

একটা যেন তেন ধরণের ওয়েবসাইট আমরা বর্জন করতেই পারি। ইতরের কথায় মাথা ঝাঁকানো আরেক ইতরকে ইতর বলে গাল দিতেই পারি। কিন্তু তাতেও মূল জায়গাগুলো কি স্পর্শ করা হয়? হয় না। মাঝে মাঝে আয়নার সামনে দাঁড়ানোটাও জরুরী। রাজীবের নামধাম ধরে যখন তালিকা প্রচার করা হচ্ছিল – আমরা কি তখন সোচ্চার ছিলাম ওর বা ওদের নিরাপত্তার জন্য? নাকি ওর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম? সত্যিকারের প্রগতিশীল এবং সাহসী, কিন্তু একইসাথে বানিজ্যিকভাবে সফল কোন প্লাটফর্ম নেই এই বইগুলো প্রচারের জন্য – সে ব্যার্থতা কার? মুক্তচিন্তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে অতীতেও ব্যক্তি ও সংগঠন পর্যায়ে যখন উদ্যোগগুলো নেয়া হয়, গবেষণা এবং বিশ্লেষণকে এগিয়ে নিতে আর্কাইভ-সাইটগুলো যখন ছেলেমেয়েরা তৈরী করে – আমরা কি তখন তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলাম? তাদের উদ্যোগগুলোকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলাম কি? এমনকি সামান্য প্রচারটুকুও কি করেছি নিজের উদ্যোগে? আসুন বরং নিজেকে সে সব প্রশ্ন করি আজকে।

নেকড়ের পাল শিকারকে প্রথমে একা করে নিয়ে তারপর আক্রমণ করে। আমাদের সহযোদ্ধা এবং সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের যখন ঠিক একইভাবে নেকড়ের পাল ঘিরে ধরে আলাদা করে আড়ালে নিয়ে যেতে চায় – তখন কি আমরা তাদের খবর রাখি? নাকি পাশে এসে দাঁড়াই? আজকে ‘রকমারি.কম’ এর মতো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান যদি আমাদের পছন্দমতো আচরণ না করে, আমরা তাদের দোষ দিই কোন্ মুখে? ওরা তো ব্যবসায়ী, একটিভিস্ট না, দার্শনিক বা তাত্ত্বিক কোন মিশন নিয়ে তো আর ওরা বইয়ের দোকান খোলেনি! (অবশ্য বলে রাখা দরকার – ব্যক্তিগতভাবে আমি বই বিক্রি বা বিপননের ব্যবসাটিকে আর অন্য সব ব্যবসা থেকে কিছুটা আলাদাভাবে দেখি। কারণ এটা এক ধরণের মিশনও, অন্তত তাই হওয়া উচিত বলেই সবসময় ভেবেছি)। 

বিদেশে থাকার অনেকগুলো কষ্টের একটি হল দেশে প্রকাশিত বইগুলো হাতে পেতে চাইলে নানা জনের কাছে ধর্ণা দিতে হয়। সে কারণে “রকমারি.কম” এর মতো ব্যবসায়িক উদ্যোগ যখন দেখি, তখন আমরা হাতে চাঁদ পাই। কারণ, এ ধরণের বাকি সাইটগুলোর কোন কোনটা তো এমনকি চিহ্নিত জামাতিদের দ্বারাই পরিচালিত। ‘রকমারী.কম’ থেকে আমি আর Nowrin বেশ কিছু বই কিনেছি। এখন হয়তো আর কিনবো না। কিন্তু তাতেই কি আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? আমি এ বিষয়ে পুরোপুরি একমত যে – এ ধরণের পশ্চাদপদ চিন্তা যারা ধারণ করে তাদের যে কোন উদ্যোগকে বর্জন করাই উচিত, এমনকি সেটা যদি বই বিক্রির সাইটও হয়। সেই বর্জনের পদক্ষেপটুকু দরকারী, কিন্তু তারপরও সেটা তুলনামূলকভাবে একটা সহজ কাজ। কঠিন কাজ হল – সঠিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই একই উদ্যোগগুলো গড়ে তোলা এবং তার বিকাশে সবার ব্রতী হওয়া। 

আমরা কি সেই কঠিন কাজগুলো করার সাহস রাখি?

পুরোটাই তুলে দিলাম কারণ রায়হান রশীদ (ভাই)  সিসিবির একজন সদস্য। এবং আমাদের আরেক সদস্য রায়হান আবীরের বই সরাচ্ছে রকমারীডট্কম।

10001288_10152247053463397_317291851_n

 

হোলীর এই ছবিটি পেয়েছি এক ছোটবোনের ওয়াল থেকে।
ভারত বা পাকিস্থান বিদ্বেষ এক জিনিস আর হিন্দু-মুসলমান বিদ্বেষ আরেক জিনিস।
আজকেই এক ভারতীয় মেয়ে আমাকে সাহায্য করলো। ফোন নাম্বার ই মেইল ইত্য্দি বিনিময় করলাম করাচীর এক ছেলের সাথে।
আমাদের বেডরূমে রাজত্ব করে হিন্দি-উর্দু চ্যানেল আর আমরাই পথে হোলি খেলা দেখে ভারতীয় আগ্রাসনে উৎকন্ঠিত হই।

রাধা-কৃষ্ণ কামলীলা করলো, রাধার অঙ্গে অঙ্গে লাভ বাইট। আর কৃষ্ণ তো কালা। রাধার সম্মান বাচাঁতে শুরু হলো রঙের খেলা। ঢেকে গেলো লাভ বাইট। কি রোমান্টিক! দুর্দান্ত রোমান্টিক!
আর আজ রাধা-কৃষ্ণ কেবলি ভারতীয়।
আজ সকালেই সিবিবিজ (বৃটিশ টিভিতে, বিবিসির একটা চ্যানেল) এ দেখালো হোলি খেলা নিয়ে শিশুদের প্রোগ্রাম।
আর আমরা মুসলমানের বাংলাদেশে হোলি খেলা খেলতে দিবো না।

মজা হচ্ছে যার পোষ্ট পড়ে এই লেখা তিনি একজন শ্রদ্ধেয় ক্যাডেট। শতাধিক ক্যাডেট এটি লাইক দিয়েছে।
কমেন্টে অনেকেই বলার চেষ্টা করেছে এটা ভারতীয় নয়, হিন্দুদের আচার।
ভারতে যে ২০ কোটির উপর মুসলমান থাকে এটি বোধহয় পোষ্টদাতা, লাইকাররা, আর হিন্দু রাষ্ট্র ভারতের আগ্রাসনে ভীত ক্যাডেটরা জানে না।
একজন এলেমদার আবার বললেন প্যেচিয়ে, হোলির পক্ষে থাকলে কুরবানি ঈদে গরু কাটার পক্ষেও থাকতে হবে।
আরেকজন বর্ষীয়ান বললেন, হোলি নাকি কালচারাল ভায়োলেন্স।
আরেকটা কমেন্ট দেইখা মেজাজ এতোই গরম হইছে যে ভাবলাম একটু ভাং খাওয়া যাক। 

কয়দিন আগেই পোষ্ট দিছিলাম ফেবুতে যে সবার ছবি, পোষ্ট ভালো লাগে। লাইক দেই একের পর এক।
আসলে ফেবু এতো সহজ জায়গা নয়।
আমার সরলতার সুযোগে কেউ কেউ রেসিজম চালাইয়া যাবে, বাঙলাকে আফগান করতে চাইবে আর তাতে হা হা করে লাইক দিবো তা হবে না।

লাইকের খেতা পুড়ি।
লন্ডনে শীত শ্যাষ।
খেতা পুড়ার এই সময়।

(যারা আঘাত পাইবেন তাদের নিকট দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু আপনাদের কথাতেও যে আমি বেদম দুঃখ পাইয়াছি ভাই সকল )

১,৫২২ বার দেখা হয়েছে

১২ টি মন্তব্য : “আমরা এমন কেনো?”

  1. মোকাব্বির (৯৮-০৪)

    পুরান ঢাকায় হোলি বা দল পূর্ণিমার সময় পিচকারীর রঙ ছোড়াছুড়ি তো মনে হয় খুবই আদি ঐতিহ্য। এবং সেখানে হিন্দু-মুসলমান একসাথেই উদযাপন করে। অন্তত নিয়মিত নামাজ কালাম পড়া বন্ধুকেই ওর বাসার বারান্দা থেকে লুকিয়ে দেখেছি রঙ নিয়ে ছুটোছুটি করতে। সমস্যা হলো কি জানেন? এইসব মহাজনেরা যুগে যুগে ছিলেন, সমস্যা হলো এখন যোগ হয়েছে ফেইসবুক। বাসায় ফিরে প্রথম ফরজে কেফায়া হলো ফেইসবুকে লগ ইন করে এই ব্যাপারে দুই চার কলম লিখে বিষের বাণী ছড়িয়ে দেয়া। ঠিক মত প্রতিক্রিয়াশীল একটি স্ট্যাটাস আপডেট করতে পারলে, রামুর ঐ গ্রামের মত গোটা পাড়া তছনছ করে ফেলা অস্বাভাবিক কিছু না। উনার এক স্ট্যাটাসে ঘৃণার দলা ঝোলাতে রূপান্তরীর হচ্ছে কিনা সেই খবর কয়জনে রাখে? ঘুরে ফিরে এই ফেইসবুক। প্রতিক্রিয়াশীল আগেই ছিলাম এখন সেটা প্রকাশ করার কি সুন্দর মাধ্যম আছে।

    আসেন দলে দলে হোলি উৎসবের হোল উদ্ধার করে স্ট্যাটাস আপডেট করি।


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
  2. নাজমুল (০২-০৮)

    ভালো করেছেন এই নিয়ে ব্লগ লিখে, এতদিন বই চোরের সমস্যা ছিল এখন আসছে আরেক মমিন। এই ভদ্রলোকের ফারাবীর করা স্ট্যাটাসে কমেন্ট দেখলে নিজে লজ্জা পাবেন যে এধরণের গাধা বই এর ব্যাবসায় জড়িত।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।