খেরোখাতা- বৃষ্টির ঘ্রানে

(এখানে বৃষ্টি হচ্ছে, তোমার ওখানেও কি তাই?)

বৃষ্টির আলাদা একটা ঘ্রান আছে, প্রথম যখন বৃষ্টির ফোটা পড়ে, তখন এক ধরনের ঘ্রান, একটু ধুলো ধুলো সেটা, যদি বছরের প্রথম বৃষ্টি হয় তাহলে তো কথাই নেই। একটু বেশি সময় নিয়ে পড়লে ঘ্রানটা বদলে যায়, মাটি মাটি ঘ্রানটা নাকে আসে তখন। আর যখন টানা বৃষ্টি তখন একটা সোদা সোদা গন্ধ পাই আমি। আর সবগুলো গন্ধই, বলতে দ্বিধা নেই, অদ্ভুত একটা মাদকতা নিয়ে আসে আমার কাছে। আমি এক অন্যরকম ভালো লাগায় বিভোর হই।

রুমে আমার বিছানাটা ছিল একদম জানালার পাশে। পুরো মাস্তানি করে এই জায়গাটা দখল করেছিলাম। জালার পাশে ডাইনিং হলে যাবার রাস্তা, এরপর সারি করে লাগালো দেবদারু, আরও পশ্চিমে আথলেটিক্স মাঠ, এরপর সিমানা প্রাচীর। প্রাচীরের ওপারে শুধু মাঠ আর মাঠ, মানে জানালা দিয়ে, মাঠ ছাড়া আর কিছু চোখে পড়েনা। যতটুকু সময় পেতাম, জানালা দিয়ে বৃষ্টির দেখতাম, ব্যাটে বলে খুব কমই হত, যখন আমি ফ্রি, তখন উনি নেই, আর যখন উনি এলেন তখন আমি নেই। প্রেমিকার জন্য অপেক্ষা আর কি, সহজে কি আর দেখা মেলে তার? মনে আছে যখন খুব বৃষ্টি হত, মাঠটা হারিয়ে যেত, অনেক খুজেও পেতাম না, কোথায় যেত সে? কি সুন্দর করে ভিজত দেবদারুগুলো। অন্য রকম ভালো লাগা।

সকালের বৃষ্টির স্বাদ অবশ্য এভাবে নিতাম না, সকালের বৃষ্টি আর ষ্টাফের পিটি না হবার ঘোষনা মানেই তো কম্বলটা আরেকটু টেনে মাথা ঢেকে নেয়া আরেক বার, ব্রেকফাষ্টের আগে আর একটু ঘুম, কিংবা চোখ বুজে শোনা ভালোলাগা কোন শব্দ, বৃষ্টির শব্দ কি এটা? আমার তো মনে হয় ট্রেন, আরে না দূর… এটা তোমার হাসি, তুমি হাসছ মনেহয়। হয়নি,… এইগুলো আসলে কিছুই না, এটা আসলে পাতা ঝরার কান্না দেবদারু গুলোর। আর গেমস টাইমের বৃষ্টি……, এটা নিশ্চয় স্রষ্টা আমার জন্যই দিয়েছেন, একবারে খাটি স্পেশাল একটা কিছু। কোন পুন্য করেছি যে আজ আমি, এই আনন্দ লিখে বুঝাতে পারব না, তবে করে দেখাতে পারব, যতবার খুশি, যে কেউই দেখতে চাক না কেন।। …… ডাইনিং এর শেডে ভিজে কাক হয়ে যাওয়া…। আহা, সময়টা কত মধুর… কত মধুর এই বৃষ্টির সাথে মিতালী।

বৃষ্টিকে নতুন ভাবে পেলাম এক পার্কে, ঘুরতে বেরিয়ে, হঠাত বলা নেই ঝমঝমিয়ে হাজির, মনে হয় তোমাকে ভেজাতে এসেছিল, আমি তো খুশি, আমার মজা। আমার মজা বৃষ্টিতে ভিজে, আমার মজা তোমাকে ভিজতে দেখে, আমার মজা তোমার মধ্যে ফুটে উঠা কবিতা দেখে, আমার মজা তোমার রাগ দেখে।

অনেক দিন পর আজ সকালে জগিং করতে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজেছি। একদম ঝুম বৃষ্টি। ভিজে যাকে বলে চুপসে গেছি। অ্যাজমাটা না আসলেই বাচি। এই বৃষ্টিতে আবার খিচুড়ী না হলে এক দম চলে না। আমি খিচুড়ীর উপকরন যোগাড় করি, চিকন চাল, যতটুকু চাল তার চার ভাগের এক ভাগ ডাল। মুগ হলে ভালো, মসুর হলে চলে। মুগ টা ভেজে নিতে হবে। দেখি ফ্রিজের চিপাচুপায় কোন মাছ-টাছ আছে কিনা? না থাকলে ডিম ভুনা, সাথে ঘি এক চামুচ।

সবই তো হল, ফেলে আসা স্মৃতি, বৃষ্টিতে ভেজা, এরপর খিচুড়ি। বৃষ্টি উতসব জমলো মনে হয়। কি বলেন?

না একটা গান না হলে জমছে না, চলুন একটা বৃষ্টির গান শুনি।

Get this widget | Track details | eSnips Social DNA

২,৭৬৩ বার দেখা হয়েছে

২৬ টি মন্তব্য : “খেরোখাতা- বৃষ্টির ঘ্রানে”

  1. চিটাগাঙ্গে কি এখন বৃষ্টি হইতেছে? ক্যামনে কী? আমাদের এইখানে তো রোইদে ঝলমল। নাহ! এই দেশে ওয়েদারের এখন আর মা-বাপ নাই। :grr: :grr:
    খিচুড়ী কি আপনে রান্তেছেন? ভাবি কই? নাকি আজকাল রান্নাবান্নার কাজ আপনেরেই ধরাইয়া দিছে? 😉 😉

    তিন নাম্বার প্যারায় পুরা আমার মনের কথা কইছেন। 🙂

    জবাব দিন
    • সকালে খুব জোড়ে ছিল, এখন টুপ্টাপ,

      সাধারনত খিচুড়ীটা আমিই রাধি, অইটা একটু ভালো পারি মনে হয়।

      সব তো সত্য কথা কই নাই, তোমাদের জন্য কিছু বানায় বানায় কইছি 🙂

      জবাব দিন
  2. টিটো রহমান (৯৪-০০)

    দুর্দান্ত বস। :gulti: আমাদের এখানে বৃষ্টি নাই :(( :((

    অফ টপিক:শীর্ষেন্দুর 'বৃষ্টির ঘ্রাণ' হঠাত কেন যেন মনে পড়ল। সম্ভবত শিরোনাম দেখে।আমার ভীষণ প্রিয় একটি বই।


    আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই

    জবাব দিন
  3. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

    আপনার বৃষ্টির ঘ্রাণের কথা পড়ে খুব ভাল্লাগলো। নিজে কখনও এইভাবে বৃষ্টি উপভোগ করতে পারি নাই। আসলে কবে শেষ বৃষ্টিতে ভিজছিলাম মনে পড়ে না।

    অফ টপিকঃ
    ফয়েজ ভাই, কামরুল ভাইয়ের কাছে শুনলাম আপনি বিটিসিএল এর সাথে জড়িত আছেন। আপনি সচলায়তনে "বিটিসিএল" নিয়ে লেখা আমার ব্লগটা পড়ছেন এইটাও জানছি। আসলেই আমি সেখানে কিছু ভুল তথ্য দিছিলাম। আলমগীর তার কয়েকটা ঠিক করে দিছেন। তারপরও বিষয়টা আমার কাছে ক্লিয়ার হয়নাই। আপনি যদি বিটিসিএল এর বর্তমান অবস্থা নিয়া সিসিবি-তে একটা লেখা দিতেন তাইলে খুব ভালো হইতো। শুধু আমার জন্যই নাহয় দিলেন।

    ব্লগের মাধ্যমে আপনি আমাকে কি কি জানাবেন তার একটা লিস্ট দেই:
    - আইএলডিটিএস পলিসিটা কি? (খানিকটা বিস্তারিত)
    - ভিওআইপি-তে ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে ইউজ করার সময় ট্যাক্স দিতে হয় না কেন? সেখানেও তো অপটিক্যাল ফাইবারই ইউজ করে।
    - আইএলডিটিএস এ দেশের লাভ হলো, না ক্ষতি হলো?
    - বিটিসিএল বেসরকারীকরণ দেশের জন্য লাভজনক না ক্ষতিকর। (একটু বিস্তারিত)
    - বিটিসিএল এর কর্মকর্তাদের মধ্যে বেসরকারীকরণের প্রভাব কিরকম?
    - আইএলডিটিএস পলিসি কি অন্যান্য দেশেও আছে?
    - এই পলিসি অনুমোদনের ফলে কি বিটিসিএল এর লাভ আসলেই এক পঞ্চমাংশ হয়ে যাবে?
    - টেলিটক কি সরকারী থাকছে না বেসরকারী হয়ে যাচ্ছে?
    - বিটিসিএল এর লাভ কমলে, লাভের বাকি অংশটা কাদের ঘরে যাচ্ছে?
    - ভিওআইপি-র সাথে আইএলডিটিএস পলিসির সম্পর্ক কতটুকু এবং ভিওআইপি কি সব দেশেই উন্মুক্ত?
    আশাকরি ব্লগের মাধ্যমে এগুলোর উত্তর দেবেন। রিকোয়েস্ট। এক এক করে এই প্রশ্নগুলোরই উত্তর দিতে হবে এমন কোন কথা নেই। আপনি যে ধারাবাহিকতায় এগুলে ভালো হবে বলে মনে করবেন, সেভাবেই দিয়েন।
    বিশাল লম্বা অফ টপিক কমেন্ট দিয়ে ফেললাম বোধহয়...

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।