উদ্ভট ফ্যান্টাসী-২

আগের পর্ব
৪/

আজকের সিসিবি সমাবেশ টা একটু অন্যরকম হল। অন্যান্য বারের চেয়ে পরিবেশটা একটু ভারী। কারন- গ্যালাক্সীর সিনেটের নতুন বিল। যেটাতে ক্যাডেট কলেজকে ভার্চুয়াল করে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। যাতে ক্যাডেটরা কলেজ লাইফ এর টেষ্ট নিবে শীতল ঘরে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে।

বন্যঃ “ফাজলামো পাইছে? সবগুলা কাউন্সিলররে গ্রিশিন গ্রহে বন্দী করে রাখা উচিত।“
মাশরুফঃ “দাড়ান, এইবার এমন কিছু করতে হবে, যাতে ক্যাডেটদের নিয়া কিছু করার কথা আর চিন্তা করতে না পারে।“
সানাউল্লাহ ভাইঃ “দাঁড়াও ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করতে হবে কি করা যায়।“

অনেকক্ষন নানা ধরনের অনেক কিছু চিন্তা করা হলো। শেষ পযন্ত ঠিক করা হলো, একটা ডিজিটাল প্রতিবাদ রেডি করা হবে এবং ওটার সাথে আগের ক্যাডেট কলেজ লাইফ এর ভার্চুয়াল একটা প্রেসেন্টেশন করা হবে যেটা দেখে সবাই ক্যাডেট লাইফ এর কিছুটা বুঝবে (যদিও সেটা ক্যাডেট ছাড়া কখনো সম্ভব না)।

আমি বসে আছি আমার ব্যাক্তিগত স্টাডি রুম। এই রুমটাতে বসলে আমার মন কিছুটা অন্যরকম হয়ে যায়। কারন এই রুমটায় মনে হয় আমি আকাশের নিচে বসে আছি। এখানে আলোর প্রতিফলন আর বিচ্ছুরন ব্যবহার করে রুম টাকে বিশালত্ত একটা ভাব আনা হয়েছে। বসে উপরে তাকালে মনে হয়, ছাদ টা যেনো আকাশের কাছাকাছি। এই আইডিয়া ছিলো আমার পারবতীর।

ও সব সময় বলতোঃ “চলো আমরা চাদে একটা জায়গা কিনি, যেখানে আমরা আদিম যুগের মতো থাকবো। তুমি একটা ছোট চাকুরী করবে আমি সারাদিন তোমার জন্য বসে থাকবো, কখন আসবে। ” কিন্তু আমি এই গ্রহ ছেড়ে যাবার কথা চিন্তাই করতে পারি নাই। আমার এখনো মনে পড়ে সে দিনের কথা যেদিন আমাকে ছেড়ে যায়।

সেদিন ছিলো আমাদের বিবাহ বার্ষিকী। আমাকে সকালে বলেছিলো একটু আগে বাসায় আসার জন্য। তখনো ভার্চুয়াল মিটিং বা ট্রান্সপ্লান্টেশন (যে প্রযুক্তি দিয়ে নিমিষেই এক যায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া যায়। ঊভয় যায়গায় শুধু দরকার হয় টার্মিনাল ) আবিষ্কার হয়নি। আমাকে হঠাত অফিসের কাজে বুধের জোনাল অফিসে যেতে হয়। কাজ শেষে ওর হলোগ্রাফিক ম্যাসেজ পাই আমার সেলকেটর (সেল ফোন + কমিউনিকেটর) এ। খুব মায়া ভরা চেহারায় বলেছিলো সে আর আমার সাথে থাকতে চায় না। এর চেয়ে ও একটা এনরয়েড সাথে ঘর করবে যে রবটদের মানবিক আবেগ প্রায় মানুষের কাছাকাছি। এবং তাই করেছে। শুনেছি, একটা এনরয়েড সাথে আছে জুপিটার এ।

৫।

ক্রিনি এর ডাকে বাস্তবে ফিরে এলাম।
“আপনার কি মন খারাপ?”
“তোমাকে কে বললো?”
“আপনার মস্তিকের তরংগের পারষ্পারিক স্পনদন এর হার অনেক ধীর হচ্ছে। আর আপনার রক্তের চাপও কিছুটা বেড়েছে।”

মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনে যন্ত্র না থাকলেই বুঝি ভালো হতো।

“আপনার একটা কল এসেছে ভিডি টিউব এ।” ক্রিনি বললো।
আমি গিয়ে ত্রিমাত্রিক ভিডি টিউব অন করলাম। দেখি কনফারেনস কল। লাইনে জিহাদ, রায়হান, টিটো।

টিটোঃ “ওই, আমাদের প্রতিবাদ নিয়া কিছু চিন্তা করছোস? ”
আমিঃ “করতেছি কি করা যায়, তোরা কি ভাবতেছোস?”
রায়হানঃ “আমাদের মাথায় একটা ভালো আইডিয়া আসছে। ”
আমিঃ “কি?”
জিহাদঃ “আপনার মনে আছে, সিসিবি এর শুরু এর কথা ? প্রথম দিকে একটা লেখা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছিলো?”
আমিঃ “কোনটা?”
জিহাদঃ”ওইযে, ১৯৭২ সালে একবার ক্যাডেট কলেজ বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলো সরকার। তখনকার কয়েকজন ক্যাডেট করেছিলো “কিপ ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পেইন”

আমিঃ “ওটার কথা ভুলি কি করে? ওটার জন্যই তো আমরা ক্যাডেট হতে পেরেছিলাম। আর সিসিবি তে প্রস্তাব করার পরই তো ওসমানী সাহেব কে নিউ ফাউন্ডার অফ ক্যাডেট কলেজ খেতাব দেয়া হল।“
টিটোঃ “আমরাও ওটাকে ভিত্তি ধরে আমাদের প্রতিবাদ রেডি করবো।“

আইডিয়া খারাপ না। তাহলে সবাই কাজে লেগে পড়ি।

৬।

পরদিন সকালেই দেখা করলাম বিজ্ঞান আকাডেমী এর সভাপতি এর সাথে। এখন কার সরকার ব্যবস্তা আগের মতো না। সরকার এ তিনটি ভাগ। একভাগ দেখে নাগরিক সুবিধা, যাদের কাজ শুধু নাগরিক দের সুবিধা নিশ্চিত করা। আরেকভাগে আছে একদল শিশু। কারন মনে করা হয়, শিশুদের মাথা থেকে যে ফ্রেশ আইডিয়া বের হয় তা বড়দের মাথা থেকে পাওয়া সম্ভব না।

আর মূল ভাগ টাই হলো বিজ্ঞান আকাডেমী। এদের পাওয়ার আগের দিনের গড এর কাছাকাছি। ইনারা যা চান তাই হয়। সাধারন নাগরিকরা এদের দেখা পাওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারে না। আমার সেই সুভাগ্য হয়েছে কারন, সরকার এর মূল কম্পিউটার ত্রিনিন এর ডিজাইন এর মূল পার্ট টা করেছে আমাদের কোম্পানী। সেই সুত্রে ম্যনেজ করা গেছে।

শেষ পরযন্ত উনাকে রাজি করানো গেলো যে, কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে উনি আমাদের প্রতিবাদ ডিস্ক পরবেন নিজে ভার্চুয়াম ক্যাডেট কলেজ টেষ্ট করবেন।

৭।

শেষ পরযন্ত ভার্চুয়াম অনশনে যেতে হয় নাই। আমাদের প্রতিবাদের প্রেজেন্টেশন দেখেই বিলটি বাতিল করা গেছে।

অবশ্য এটার জন্য লাষ্ট কয়েক দিনের আমাদের উপর দিয়ে বেশ ঝড় গেছে। এম্নিতেই এখনকার দিনে আমরা কেঊ পরিশ্রম করি না। সব যন্ত্রই করে।

আমাদের প্রতিবাদ এর জন্য আমরা একটি ভার্চুয়াল ট্যুর রেডি করেছিলাম। যেটার মূল স্ক্রিপ্টিং এর কাজটা করেছে জিহাদ। যেটাতে আমাদের আমলের ক্যাডেট লাইফের কিছু অংশের অনুভুতি দেয়া হয়েছে। সাথে ছিলো ক্যাডেট লাইফ নিয়ে সিসিআর এর করা সেই বিখ্যাত ভিডিও টা। “কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই”।

টোটাল প্রেসেন্টেশন দেখে সবাই খুব খুশি। ক্রিনি এর ভাষায় “সবার মস্তিষ্কের কম্পনের শব্দতরংগের পারষ্পরিক সুষম উপসথাপন”।

যাক, আমরা অবশেষে ক্যাডেট কলেজ কে বাচাতে পেরেছি। খবরটার একটা ভিডি পোষ্ট দিতে হবে এখনি। যাতে অন্য গ্রহে যারা আছে তারা যেনো জানতে পারে এই মূহুর্তে। আর এই উপলক্ষে ফয়েজ ভাই একটা আমিষ পার্টি দিবে বলে ঘোষনা দিয়েছে। আহ, কতদিন আসল খাবার খাই না।
(এই পর্বটা মনে হয় একটু বর্ননামূলক হয়ে গেছে বেশি। কি করব, সাই-ফাই লেখার অভ্যাস নাই তো)

৪,০৬০ বার দেখা হয়েছে

৪০ টি মন্তব্য : “উদ্ভট ফ্যান্টাসী-২”

  1. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    দুর্দান্ত!!!কিপ ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পেইনের সাথে মিলটা অসাধারণ হয়েছে।রবিন ভাই,আরেকটু ঘষামাজা করে উপন্যাসিকা ধরণের কিছু একটা বানিয়ে ফেলেন না প্লিজ!

    জবাব দিন
  2. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    দূর আমারে খালি খাওয়নের লাইগ্যা রাখছে পোলাপাইন গুলা, কোন আডভেঞ্চারে রাখে নাই, আমি খেলুম না।

    আমার দোস্ত শঙ্কুরে খুবর দিছি, বটিকার রেসিপি দিয়া, ট্যাবলেট যার যার ফ্রিজে পোছাই দিব কইছে, সময় করি খাইয়া নিও।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  3. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    আহারে শেষ কাইরা দিলো?
    আমি ভাবছিলাম আরো কয়েক পর্ব থাকবো। কিন্তু ভিতরে কিপ ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পেইন দেইখাই টের পাইছি শেষ হয়া যাচ্ছে,
    যাউগ্গা, রবিন মোটেও বেশি বর্ণনামূলক হয়নাই, বেশ মজা লাগছে পড়তে। :boss:


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  4. সামিয়া (৯৯-০৫)

    :gulli: জোশ হইসে তো লিখাটা! ভাইয়া অনেক জোশ হইসে 🙂 , অনেক অনেক 🙂 ।
    চলেন আমরা সবাই মিলা বন্যরেই গ্রিশিন গ্রহে বন্দী করে রেখে আসি :grr: , তাইলে ব্লগটা একটু সভ্য হয় :dreamy:
    (আল্লাহ এই কমেন্ট জানি বন্যর চোখ না পরে...ইয়া আল্লাহ)...^#(^

    জবাব দিন
  5. তাইফুর (৯২-৯৮)

    রবিন মিয়া জটিল হইছে।

    অতিরিক্ত উত্তেজনার কারনে আমাকে এই পর্ব থেকে বাদ দেয়া হয়েছে…
    কি করমু তুই তো প্লুটো তে ডেটিং এ গেছিলি। পরের পর্বে ফিরে আসবি

    পরের পর্ব কবে ??


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
  6. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
    সানাউল্লাহ ভাইঃ “দাঁড়াও ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করতে হবে কি করা যায়।“

    @ রবিন : শেষ পর্যন্ত আমারে মৃত সৈনিক? ওইখানে একটা রেডিও স্টেশন করা যায় না?? :)) :)) :))

    আসলেই ভালো হইছে। আরো লিখ।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  7. রবিন (৯৪-০০/ককক)

    ভাইয়া, ভবিষ্যতে রেডিও স্টেশন আছে নাকি আমার জানা নাই। দেখি,পরের পর্বে আপনাকে ফিউচার রিক্রিয়েশন সেন্টার এর হেড কইরা দিমু।
    অফটপিকঃ ভাই, কোন রেডিও তে আছেন

    জবাব দিন
  8. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)
    মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনে যন্ত্র না থাকলেই বুঝি ভালো হতো।

    ভাই আপনি অনেক ভাল আছেন... :clap:
    ক্রিনি যদি আমার লগে মস্তিকের তরংগের পারষ্পারিক স্পনদন কপচাইত...কইষ্যা ওর পশ্চাৎদেশে লাত্থি মাইরা তড়ংগ খেলায়া দিতাম!!! x-(
    ব্যাটা(নাকি বেটি?) সুশীল যন্ত্র!!! 😮


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।