অনুভব

আঙুলে আলতো ছুঁলে তোমায়
কেন জাগে শিহরণ?
শরীর কি জানে মনের ইতিহাস?
তোমার এঁটো কাপে
ঠোঁট ছোঁয়ালে কেন
শরীর জুড়ে সাইরেন?

মাথার উপরের নীল ছাদে
চাঁদের ঝাড়বাতি ঝুলে আছে
রাতের পর রাত পেরোলো ঘুমহীন,
ভাবনারা জট পাকালো
মন মাকড়সার জালে।

ধুলোময় পথ মাড়িয়ে তোমার
পা দুটো হোক না মলিন
আলোর আবীরে ছুঁয়ে দেব সিঁথি
ভাবনার বুক চিরে
চলুক না সুখের তরী
আজ,

বিস্তারিত»

শহীদ মেজর মাহবুব

মেজর মাহবুব

বেদনার সব কথা মানুষ বলে না!
– আহসান কবির (১/১৭; বিসিসি)

প্রিয় মাহবুব
তুই পড়বিনা জানি,তবু এই চিঠিখানা পাঠিয়ে দিলাম!
ফেসবুক আর এসএমএসের যুগে আজকাল আর কেউ চিঠি লেখে নারে মাহবুব। তুই না ফেরার দেশে চলে যাবার মাসে(২৮ ফেব্রুয়ারি,২০০৯) আকাশের ঠিকানায় তোকে একটা দীর্ঘ চিঠি লিখেছিলাম। শপথ নিয়ে বলেছিলাম,মাহবুব তুই বিশ্বাস কর,আমি আর কখনো পিলখানা যাব না।

বিস্তারিত»

সরষে ফুলে মৌমাছি

সরষে ফুলে মৌমাছি

ঝাপসা মোটেই নয়কো বাতাস
মাঘের শীতে কনকনে
রোদের আলোয় পষ্ট বটে
নয়তো মোটেই গনগনে।

আমোদেতেই আছেন তারা
আলসে মোটেই নয়কো যারা
নাই অজুহাত
মাঘ বোশেখে
কাঠফাটা রোদ
কিংবা শীতে
চপল হিমে
কিংবা ঘামে
সদাই যেন চনমনে
জানতে পেলুম গুঞ্জনে।

ফুলে পাতায় জমাট শিশির
হীরের মত ঝলমলে
শীতল হাওয়ায়
ঢেউ খেলে যায়
হলদে সবুজ মখমলে।

বিস্তারিত»

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৫ তে “নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে কাঁদতে নেই “

অনেকদিন পর সি সি বি তে এলাম। সাময়িক ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘদিন কোন পোস্ট দিতে পারিনি। সবাইকে আগাম বসন্তের শুভেচ্ছা। ইতিমধ্যে এক ঝাঁক নতুন লেখকদের দেখে বেশ ভালো লাগছে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৫ তে প্রকাশ পেয়েছে আমার প্রথম কবিতাগ্রন্থ ” নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে কাঁদতে নেই”।

সিসিবির কাছে আমার অনেক ঋণ। আমার সেই অপরিপক্ক লেখাগুলো প্রকাশ করার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সিসিবি ছিলো প্রথম মাধ্যম। অনেকেই না না ভাবে সমালোচনা,

বিস্তারিত»

না-গল্প তিন: তোড়ার জন্য

ইন্টার্নশিপ চলাকালেই পারিবারিক আয়োজনে বিয়েটা সেরে ফেলে ডাঃ হৃদয় ইসলাম। কনে টুম্পা তখন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ পড়ছে। কথা হয়, এখনি আনা নেয়া হবে না। দুজনেই যেহেতু পড়াশুনায় ব্যাস্ত, আগে পড়াশুনার পাট তো চুকুক তারপরেই না হয় সুবিধা মত ঘটা করে ওসব করা যাবে খন।
এরেঞ্জমেন্টটা কনে পক্ষের জন্য খুব একটা সুবিধাজনক না হলেও প্রথম সারির সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে সদ্য পাশ করা তুখোড় ছাত্র এবং হ্যান্ডসাম ও স্মার্ট এই পাত্রের কাছে কন্যাকে পাত্রস্থ করতে পারার সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি হলেন না কনেপক্ষ।

বিস্তারিত»

শাপে বর

ডিসক্লেইমারঃ এটি কোন ধর্মীয় পোষ্ট না, আমাদের মত নিতান্তই সাধারন কিছু মানুষের মনস্তাত্বিক বিশ্লেষনের প্রচেষ্টা এবং আমার অযোগ্য দর্শনচিন্তাপ্রসূত লেখা।

মানুষ স্বভাবতই দূর্বলচিত্তের অধিকারী। আর এই দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে যুগের পর যুগ আধুনিক পুজীবাদী উদ্যোক্তাশ্রেনীর বুদ্ধিমান মানুষগুলো নিজেদের জীবিকার সন্ধান খুজে নিতে চেয়েছে। ধর্মে যেহেতু ব্যাবসাকে জীবিকার প্রথমসারির হালাল পন্থা বলে রায় দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠিত বানিজ্য-শিক্ষার পাঠ্যপুস্তকগুলোতে বিপননের পদ্ধতি হিসেবে বাইবেলের মত বাধাধরা কৌশলগুলোর মধ্যে বারবার ভোক্তার মনস্তাত্বিক চাহিদা বিশ্লেষন করে কার্যপন্থা গ্রহনের উপর আলোকপাত করা হয়েছে,

বিস্তারিত»

আরেকটি না-গল্প: বেল্ট কাহিনী


– তোমার কলারের মাপ কত?
– ষোল। কেন, শার্ট কিনতে চাও বুঝি আমার জন্য? তাও ভাল, বেঁধে রাখার জন্য কোন বেল্ট কেনার কথা ভাব নাই। যেভাবে সময় সুযোগ পেলেই তোমার চারপাশে ঘোরাঘুরি করছি আজকাল, প্রভুভক্ত কুকুর ভেবে বসাটাও অন্যয় ছিল না। আর তাই মাপ জেনে গলায় পরানোর বেল্ট যোগার করাটা ভুল কিছু হতো না কিন্তু, কি বল?
– দুষ্টুমি হচ্ছে, না?

বিস্তারিত»

ইস্তানবুলের ডায়েরী………কিছু স্মৃতিচারণ

স্বপ্ন নাকি বাস্তবতা… নাকি দুটোই…অনেকের মত আমিও হাতড়ে বেড়াই এই প্রশ্নের না জানা উত্তরটি। হয়ত সেই অজানা উত্তরের আশায় হাতড়িয়ে বেড়াতেই কেটে গেছে সময়ের গর্ভ থেকে নামবিহীন ২ টি বছর। খুলে দেখা হয়নি সেই পুরনো ডায়েরীর মলাটখানা। হয়তবা তারই আবর্তে ঢাকা পড়ে গেছে সেই অভিজ্ঞতার পাতা গুলো, জীর্ণতা ছেয়ে বসেছে প্রতিটি কোণে। আজ হটাৎ করেই অজানা এক বাস্তবতার বুক চিরে আবারো সেই ডায়েরীর মলাটখানায় হাত রাখলাম।

বিস্তারিত»

একটি না-গল্প: সার্ভিস চার্জ

মিড-লেভেল কর্পোরেট কামলা থাকা কালে ইনি এক সন্তানসহ একা হয়ে পড়েন।
তাতে কি? কর্পোরেট কামলার ব্যস্ত জীবন, ক্যারিয়ার তৈরীর প্রানান্তকর সংগ্রাম, পাশাপাশি সন্তানের বেড়ে ওঠা, মানুষ করার দায়িত্ব – সব মিলিয়ে একাকি জীবনটাকে তার কখনো বোঝা মনে করার কোন সুযোগই হয় নি।
মধ্য চল্লিশে পৌছে তিনি যখন শীর্ষ পর্যায়ে পৌছেছেন, হেড অব সামথিং, দেখলেন আগের সেই ব্যস্ততা আর নেই। অফুরন্ত অবসর নিজের জন্য।

বিস্তারিত»

তবুও মন ছুটে যায়

তবুও মন ছুটে যায়
————— ড. রমিত আজাদ

আমি জানি, তুমি আর আমার নও,
সেই কবেই হয়েছে বিচ্ছেদ।
তোমাকে বিরক্ত করা মোটেই ঠিক নয়,
এ যে একেবারেই বেহায়াপনা!

নোনাজলে আর্দ্র দগ্ধ হৃদয়,
অবিশ্রান্ত শ্রাবনের উত্তুঙ্গ উৎকন্ঠা
অজস্র ডেনডিলিয়নের বর্ণচ্ছটায় রঙিন হলুদ সবুজ মাঠ,
সতেজ ঘাসের ফাকে ফাকে রৌদ্রের খেলা।

নিঃসঙ্গ বৃত্তে বন্দি স্পৃহা,

বিস্তারিত»

নাদেশদা

এক

আজ আমার দুই বছরের জেল হয়ে গেল। বিচারক সাহেব মোটা গ্লাসের চশমা মুছতে মুছতে রায় পড়ে শুনালেন, আমার উকিল ম্যাচের কাঠি দিয়ে কান খুচতে খুচতে রায় মেনে নিলেন। শ্রোতা বেঞ্চিতে আমার মা আর মেজো চাচা বসে আছেন, রায় শুনে মায়ের তেমন কোন ভাবান্তর হল না, মেজো চাচা এই সুযোগে মায়ের উরুতে সহানুভূতির হাত বুলিয়ে দিলেন। মেজো চাচার কিলবিল করা আঙ্গুলগুলো নিয়েও মা’কে উদাসীন মনে হল।

বিস্তারিত»

ফেসবুকের মানুষগুলো (পর্ব-৪)

মায়ের রুমের সামনে চশমার ফাঁক দিয়ে উঁকিঝুঁকি মারতে দেখা যাচ্ছে মারজুকাকে!

দরজা আবছা ভেড়ানো। পাশের রুম থেকে মায়ের উচ্চস্বরের কথা শুনতে পাচ্ছে সে। কি কথা হচ্ছে কিছু শোনা যাচ্ছে না। কিন্তু মারজু সহজেই বুঝতে পারছে ফোনের অপর পাশের মানুষটি কে। পরিণত মানুষের মতোই সে আঁচ করতে শিখে গেছে।

আদর করে সবাই মারজুই ডাকে তাকে। বয়স সবে আট হলো।

দরজা খুলে বের হলো মারজুর মা জিতু।

বিস্তারিত»

পৌষের এক বিকেল

পৌষের এক বিকেল
——————–
সেদিন ছিল পৌষের এক ঝিম মারা বিকেল।
ধান কাটার পরের বিষন্নতাকে সাথী করে,
খড়কুটার নিস্তেজতা উড়ানো বাতাস
ভেসে এসে থমকে দাঁড়ায় আমার আঙিনায়!

এমনই এক বিকেল! যখন
সাদা বকেরা ঝিমায় কেবলি,
স্মৃতিতে ওদের জলভরা বিলের পুরনো সুখস্মৃতি।

গোবরে লেপা উঠান কৃষাণীর চোখের মত
ঝকমকে আলোর চমকে উদ্ভাসিত!
এখানে সেখানে পরে থাকা ধানের ছড়া
ঠুসি পরানো বলদের চোখে জাগায় লোভাতুর চাহনি।

বিস্তারিত»

অবিশ্বাসের দর্শনের তৃতীয় প্রকাশ হাতে পেয়ে

অবিশ্বাসের দর্শন‘ বইটা যখন প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে তখন আমার ছোটভাই আহমেদ রেদওয়ান জান্না ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। ইন্টারনেট, মোবাইল, কম্পিউটারবিহীন ওর জীবনের একমাত্র সঙ্গী ছিলো ‘আউট বই’। কিন্তু সে বয়সের জন্য অবিশ্বাসের দর্শন একটু বেশিই ‘আউট’ হয়ে যায় তাই আমি তখন পড়ে দেখতে বলি নি। তাছাড়া ধর্মান্ধদের মতো আগ বাড়িয়ে ওকে নির্ধর্ম নিয়ে কখনও মোটিভেশন দিতে ইচ্ছা করতো না, কাউকেই করে না।

বিস্তারিত»

প্রলাপ-১৩

থোকা থোকা বেগুনী সে-অর্কিডফুল
পোর্সেলিনের জল থেকে উন্মুখ
জানলাপ্রান্তে ঝুঁকে দেখে
তুষারের মোলায়েম গান –
দিনভর। অবিরাম।

অথচ জলের নির্বিবাদ কোলে
গাঢ়সবুজ তার পত্রাবলির সাথে
বেগুনী আভার সখ্যতা দেখে
জলার ধার ধরে
কি করে
সারসার জারুলের গাছ
মনে চলে আসে,
সবুজের হাত ধরে।
বরফের কনকনে কামড়
ফালাফালা করে দেবার আগে
নিমেষ জুড়ে
বাংলাদেশ।

বিস্তারিত»