চার্লস বুকোস্কির ‍দু’টি কবিতা

হাইহিল জুতা

তুমি যখন কিশোর
এক জোড়া
হাইহিল জুতা
বিশ্রাম কক্ষে
একাকী অবস্থান করেই
তোমার হাড়ে আগুন
জ্বালিয়ে দিতে পারে।
আর যখন তুমি বুড়ো
এ কেবলই
এক জোড়া জুতা
কেউ পরে নেই
হুঁ, একদম তাই।

মূলঃ চার্লস বুকোস্কি/ শুজ

অনুবাদঃ টিটো মোস্তাফিজ

 

বিখ্যাত পলায়ন

শোনো, কখনো কাঁকড়া ভর্তি বালতি দেখেছ?
আমি বললাম, ” না তো, দেখিনি”।
আচ্ছা শোনো, যেটা হয়, একটা কাঁকড়া যখন
অন্য গুলোর উপর দিয়ে বালতির উপরে
উঠতে থাকে, যেন পালিয়ে যেতে পারবে
তখনই আরেকটি কাঁকড়া তাকে টেনে নামায়।
সত্যি? আমি জিজ্ঞেস করলাম।
হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। আর এই চাকরিটাও ওরকম।
এখান থেকে কেউ চলে যেতে চাইলে
অন্যদের কেউ তা চায় না, এই ডাক বিভাগে।

এটা বিশ্বাস করি, আমি বললাম।
তখনই সুপারভাইজার আসলেন
আর বললেন, এত কথা কিসের?
এই চাকরিতে গল্প করা নিষেধ।

ওখানে প্রায় সাড়ে এগার বছর হয়েছিল
বসা থেকে সোজা উঠে পড়লাম
সুপারভাইজার পর্যন্ত উঠে নিজেকে তুলে
ওখান থেকে বের করে নিয়ে এলাম।
এটা ছিল খুব সহজ, প্রায় অবিশ্বাস্য!
কিন্তু কেউই আমার পিছু পিছু আসেনি।
এরপর, যখনই আমার কাঁকড়া পা হয়েছে
আমি ঐ জায়গাটার কথা ভেবেছি।
কাঁকড়া থেকে গলদা চিংড়ি হবার আগে
ঐ জায়গাটার কথা ভেবেছি, ৫/৬ বার তো বটেই।

মূলঃ চার্লস বুকোস্কি/ দি গ্রেট এস্কেপ

অনুবাদঃ টিটো মোস্তাফিজ

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।