ফেসবুকের মানুষগুলো (পর্ব-৪)

মায়ের রুমের সামনে চশমার ফাঁক দিয়ে উঁকিঝুঁকি মারতে দেখা যাচ্ছে মারজুকাকে!

দরজা আবছা ভেড়ানো। পাশের রুম থেকে মায়ের উচ্চস্বরের কথা শুনতে পাচ্ছে সে। কি কথা হচ্ছে কিছু শোনা যাচ্ছে না। কিন্তু মারজু সহজেই বুঝতে পারছে ফোনের অপর পাশের মানুষটি কে। পরিণত মানুষের মতোই সে আঁচ করতে শিখে গেছে।

আদর করে সবাই মারজুই ডাকে তাকে। বয়স সবে আট হলো।

দরজা খুলে বের হলো মারজুর মা জিতু। চোখ ফুলা, ফর্সা গাল লাল হয়ে আছে। মা-মেয়ের চোখে চোখে অনেক কথা হয়ে যায়। মারজু বুঝতে পারে এখন মা’কে কিছু বলা ঠিক হবে না , অবস্থা পর্যবেক্ষন করা উচিত।

ফ্রিজ থেকে একটা পানির বোতল নিয়ে আবার রুমে ঢুকে যায় জিতু। বাসাটা হঠাৎ বেশি শান্ত লাগতে থাকে মারজুকার।

“May I am come in মা”?- কিছুক্ষনপর মায়ের রুমের সামনে গিয়ে বলে মারজু। বাসায় ইংরেজী চর্চা করে সে। টুকটাক ইংরেজীতে মায়ের সাথে কথা বলতেই অভ্যস্ত। মা বলেছে এতে নাকি ভবিষ্যতে ভালো হবে।

“Sure মা । তুমি কি রেডী?”
“Yes মা ”- উত্তর দেয় মারজু।
“ওকে। বাবা বের হয়ে গেছে, এক্ষুনি চলে আসবে। রাতে বেশি দেরি করো না। তাড়াতাড়ি চলে এসো। ”

……বলতে বলতে ফুঁপিয়ে কান্না শুরু করে জিতু। জড়িয়ে ধরে মারজুকে। মারজুকে দেখা গেলো মুখ শক্ত করে বসে থাকতে।
সে কাঁদে না, কারণ এখন তার কাঁদা যাবেনা। এখন সে মায়ের অভিভাবক এর ভূমিকায়।

“মা, তুমি কি বাবাকে না করবে আজকে আসতে। আমি আজ তোমার সাথেই থাকবো।, যেতে ইচ্ছা করছে না আমার।”-চশমার আড়াল থেকে ব্যক্তিত্বশীল চোখে মায়ের দিকে তাকায় সে।

ওর কথা শুনে জিতুর কান্নার বেগ যেন আরো বেড়ে যায়। আরো জোরে চেপে ধরে মেয়েকে।
“মা রে, I love you so much”

অনেকক্ষন চুপ থাকে মারজু।কিছুক্ষন পর জলহীন শক্তচোখে উত্তর দেয়, “I love you too, মা ”

********************************************

( এবারের গল্পটি সবার পরিচিত মুখ এমজিসিসি’র সাবিহা জিতু আপুকে নিয়ে। তাদের মা-মেয়ের জীবন আরো আনন্দময় হয়ে উঠুক-সবসময় এই প্রার্থনা থাকবে)
ফেসবুকের মানুষগুলো (পর্ব-৩)
ফেসবুকের মানুষগুলো (পর্ব-২)
ফেসবুকের মানুষগুলো (পর্ব-১)

 

১,৪০৯ বার দেখা হয়েছে

১১ টি মন্তব্য : “ফেসবুকের মানুষগুলো (পর্ব-৪)”

  1. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    ভাল লিখেছো।
    আগের চরিত্রগুলো হয় অপরিচিত নয়তো ফেসবুকের বা ব্লগের কল্যানে কিঞ্চিত ধারনা সম্বলিত।
    কমেন্ট করার খুব একটা কোন চাপ ছিল না।
    এবারের চরিত্র দুটি অতি পরিচিত তাই কিছু না লিখে থাকা গেল না।
    উপরন্ত, ফেবু বিচ্ছিন্ন, কিছু না লিখলে তো পুরোই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাব জগত থেকে 🙂 🙂 🙂

    যে ছবিটা একেছো, পরিষ্কার একটা ছবি ফুটে উঠলো চোখে সামনে।
    ভাল লেগেছে। খুবই ভাল...


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।