এক মূহুর্ত

ভি.সি.আর-এ হিন্দি ছবি চলছে, বিধিমত নাচ-গান, মারপিট ও প্রেমের বন্যা। বাজে প্রিন্ট, তবুও সবাই বেশ মনোযোগ দিয়ে দেখছে। এই মূহুর্তে একটি বিশেষ দৃশ্য- নির্যাতিত নায়িকা রুখে উঠেছে, এবং প্রেমের শক্তি নিয়ে দীর্ঘ ডায়লগ বলছে। আবহ সংগীতে ভারতীয় ছবির চিরন্তন বিদ্রোহ বাদন- রফিকের কানে “চিড় বিড় চিড় বিড় ঘট্টাং…চিড় বিড় চিড় বিড় ঘট্টাং…”- এরকমই শোনায়। চোখমুখ কুঁচকে হাই তুলে চারদিকে জরিপ করে সে- কারো সাথে যদি দু-একটা কথা বলা যেতো!

বিস্তারিত»

নিমন্ত্রণ

ওয়ানডে ম্যাচে একটা ভালো পার্টনারশিপ ছাড়া যেমন বড় স্কোর করা যায় না, তেমনি স্বামী-স্ত্রীর ভালো পার্টনারশিপ ছাড়া দুর্দান্ত রান্নাও করা যায় না। কুঁচো চিংড়ি দিয়ে বাগানের টাটকা লাল শাক ভাজি করাই হোক কিংবা একটু বেশি ঝোল আর ঝাল রেখে চালের রুটি দিয়ে খাবার জন্য রান্না করা দেশি গরুর মাংসই হোক, আমার মা কখনোই একা পুরোটা কৃতিত্ব নিতে পারেন নাই। ঘরে আর বাইরের যারা খেয়েছে, যারা মুগ্ধ হয়েছে,

বিস্তারিত»

জার্ণাল মালয়েশিয়া- পুনশ্চঃ

১১। রেলগাড়ী ঝমাঝম

ঝমাঝম- এই ব্যাঞ্জনাময় শব্দজুটির বহুল ব্যাবহার দুটি প্রসঙ্গে। বৃষ্টি আর রেলগাড়ী। দুইই আমার অতি প্রিয়। রেলের সাথে আজন্ম মিতালী, সেই শৈশবকালে, দেশের যোগাযোগ ব্যাবস্থারও শৈশবকাল তখন, বছরে বার দুই পিতামহ-মাতামহ সন্দর্শনে যাওয়া হত। পূরাকালে যেমন পূন্যাত্মাদের মাঝেমধ্যে স্বর্গ দর্শনের রেওয়াজ ছিল। আর কে না জানে, শৈশব-কৈশরে অন্তত আমার প্রজন্ম  অবধি ওই দুটি স্থানই ছিল স্বর্গের সবচেয়ে কাছাকাছি। সেখানে যাবার একমাত্র উপায় যখন রেলগাড়ী- তাকে ভাল না বেসে পারা যায়!

বিস্তারিত»

অণু গল্পঃ শনিবারের দুপুর

প্যাটেল প্লাজায় শনিবারের উৎসবমুখর মধ্যাহ্ন। কুমড়োর ছক্কা রাঁধবেন বলে বাতের ব্যাথা শিকেয় তুলে প্রতিবেশীর সাথে বাজারে এসেছেন চাটুয্যে গিন্নী। কুমড়ো কেনার বাহানায় এলেও নারকোল, মামড়া, মেথি শাক আর বাসমতী চাল কিনলেন তিনি। মেয়েটা ইডলি খেতে বড় ভালবাসে তাই একটা ইডলি মেকারও নিলেন মনে করে। মিশিগান থেকে মেয়ে জামাই আর টোপলা গালের নাতনীটা আসছে যে কাল রাতের ফ্লাইটে।

মায়ের পাশে কুলফি হাতে কিশোরীটির কানে হেডফোন।

বিস্তারিত»

সিসিবি-তে ব্লগিং নিয়ে একটি ব্লগ

আইডিয়াটা পেলাম এহসানের সাথে কথা বলার সময়ে।
কোন এহসান? কিসের কথা??
তখনও জানি না কোন এহসান। ওয়াপদা মাঠে XCL-এর ফাইনাল দেখছি। হঠাৎ এসে নিজ থেকে পরিচিত হতে চাইলো একজন। নাম, ক্যাডেট কলেজ ও পাসিং ইয়ার বলে এমন পরিচিত ভাবে কথা বলা শুরু করলো যে বিস্ময়ের ঘোর কাটাতে নাম ছাড়া বাকি সব ভুলে একাকার।
বিস্ময় কেন?
অতি পরিচিত অনেককেই দেখলাম সবান্ধব একই মাঠে ঘুরে বেড়াতে,

বিস্তারিত»

মেয়েটি হৃদয়বতী ছিল না (চার পর্বের ধারাবাহিক গল্পঃ পর্ব-এক )

অফিসের কাজে শাহবাগে আসতে হয়েছিল।
কাজ শেষে কি মনে করে বই মেলার ভিড়ে নিজেকে হারাতে ইচ্ছে হল রেজার। তাই বাংলা একাডেমীর ভিতরে এখন সে। কত মানুষ। নানা রঙের মানুষ। উচ্ছল প্রানবন্ত এক একজনের আনন্দিত মুখগুলোকে দেখছে। নিজেও ভালোলাগার আবেশে ভেসে যাচ্ছে।
কয়েকজন বন্ধুর সাথে দেখা হল।
এরা নবীন লেখক। এদের সবার বই বের হয়েছে। ওদের থেকে একটি করে বই কিনলো। খুশী মনেই।

বিস্তারিত»

অভিজিৎ রায়ের খুনীদের ফাঁসি চাই

“আপনারা অবগত আছেন যে মুক্তমনা ওয়েবসাইটটির প্রতিষ্ঠাতা, বিজ্ঞান ও যুক্তি বিষয়ক বইয়ের জনপ্রিয় লেখক, আমাদের সহযোদ্ধা অভিজিৎ রায় ঢাকা সময় ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত নয়টার সময় মৌলবাদী দুর্বৃত্তদের চাপাতির আঘাতে নিহত হন। একই হামলায় সাথে থাকা তাঁর স্ত্রী লেখিকা রাফিদা আহমেদ বন্যা গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
বাংলা কমিউনিটি ব্লগ অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে আমরা এই খুন ও হামলার তীব্র নিন্দা জানাই, খুনীদের ফাঁসি দাবি করি এবং এই খুনের সঙ্গে জড়িত সকল উসকানিদাতাদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।

বিস্তারিত»

জবানবন্দি

মেয়ে তিনটির পরনে নামী ফ্যাশন হাউসের এক্সক্লুসিভ সালোয়ার-কামিজ । পায়ে ফ্যাশনেবল জুতো । হাতে বিদেশী ব্র্যান্ডের ব্যাগ । মেক আপে আঁকা নিখুঁত মুখশ্রী । ঈশ্বরপ্রদত্ত গায়ের রঙ,চোখের রঙ, চুলের ধরণ কিছুই আর বুঝবার উপায় নেই । তিনজনের পারফিউমের ককটেলে আশপাশের কয়েক গজ মাতোয়ারা ।

ওদের মুখ ফুটে বলতে হয়না নিজেদের সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে । শেখ সাদীর সেই গল্পের মত পোশাক-পরিচ্ছদই জোরগলায় তা ঘোষণা করে ।

বিস্তারিত»

না-গল্প পাঁচ(ঘ) – তোড়ার কথা: ফেরা

প্রথম কিস্তি
না-গল্প পাঁচ(ক) – তোড়ার কথা: ফ্ল্যাশব্যাক

দ্বিতীয় কিস্তি
না-গল্প পাঁচ(খ) – তোড়ার কথা: শাওন-রিটা অধ্যায়

তৃতীয় কিস্তি
না-গল্প পাঁচ(গ) – তোড়ার কথা: নেপাল অধ্যায়

চতুর্থ ও শেষ কিস্তি
মায়ের বাসায় ফেসবুকের স্ট্যাটাস চেক করছে তোড়া। ঘুরেফিরে ইচ্ছা, রাশেদ কিছু দিল কিনা, সেটা জানার।
নাহ্‌ তেমন কোন কিছু চোখে পড়ে না।

বিস্তারিত»

শেষ ক’টি মুহূর্তের অভিজিৎ

ধুয়ে মুছে তৈরি হয়েছে তলোয়ার
সেজেগুজে গুঁজে গেছে কোমরে —
চারপায়ে তখন খুরের ধ্বনি,
মোবাইল বেজে উঠেছে
দিক আর নির্দেশ নিয়ে;
কীবোর্ডে অগুনতি ফলোয়ার
চাপাতি-কোপ দেবার জন্যে
নিয়ে নিচ্ছে দম

কেবল বইমেলার ধুলো পেয়েছিল টের
সেকেন্ড আগে ঢের
ওদের পা জড়িয়ে ছিল
ইনিয়ে বিনিয়ে
চেয়েছিল
আরেকটু দেরি হোক
কুশলাদি আর অটোগ্রাফ চেয়ে
আরো আসুক লোক
আরেকটু আটকে থাক
অভিজিৎ আর বন্যা

অথচ ধুলোর চেয়ে বেশি কে জানে
তা তো হবার না

এমন কি বইগুলো সব
পাতায় পাতায় অস্থির খসখস
বারংবার,

বিস্তারিত»

অভিজিৎ রায়ের মৃত্যু ও এইসব মানুষেরা

কাক কি কাকের মাংস খায়? কিংবা কুকুর কুকুরের? বহুদিন আগে আমার এক বন্ধুর প্রশ্নে কিছুটা চিন্তিত হয়ে গিয়েছিলাম। তাকে জানাই, বিষয়টা জেনে আমি জানাবো। জেনে বলতে বইপত্র ঘেঁটে নয়, কাক এবং কুকুর মানুষের খুব কাছাকাছি থাকায় চাইলেই এদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। আমার বন্ধু আলি খুব কাকপ্রিয় মানুষ। কাক সম্পর্কে আলিকে প্রশ্ন করতেই আলি জানায়, তুমি ভালো করে খেয়াল করে দেখো। কাকের মধ্যে ভালোবাসাবোধ অনেক।

বিস্তারিত»

বাংলাস্তান সম্পর্কিত আলাপ

[ধর্মনুনুভূতি আহত হতে পারে। ঢুইকেন না। সত্য কথা তিতা লাগবে।]

বাংলাদেশের গলিতে গলিতে চিপায় চাপায় মসজিদ। প্রতি ওয়াক্তের নামাজে দুইচারজন বুড়োমানুষ আর হুজুর ছাড়া লোক হয় না। তবে জুম্মার দিন ভিড় উপচায় পড়ে। এতোই উপচে পড়ে, যে রাস্তাঘাট সব বন্ধ হয়ে যায়। গাড়ি চলে না।

অথচ এই দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন! ক্যামনে হইলো? যে দেশে এত ধার্ম্মিক, সেখানে দুর্নীতি হয় ক্যামনে?

তারপর ধরেন,

বিস্তারিত»

বিশেষ দিনে- অগোছালো কিছু অনুভূতি

রাতে বাসায় ফিরেই বললাম চলো কনসার্ট দেখে আসি। আমার সহধর্মিণী বলল, না অনেক রাত হয়েছে, তা ছাড়া রাতে কারোরই খাওয়া দাওয়া করা হয়নি। বাসায় আমার পরিবার ছাড়াও আমার সহধর্মিণীর আপন বড় বোন, বোন জামাই ও তাদের বড় কন্যা মানে ভাগ্নি রয়েছে।

ভাগ্নি সবে ভার্সিটিতে ঢুকেছে আর আমার ছেলে ডিজিটাল যুগের স্ট্যান্ডার্ড থ্রিতে। কনসার্ট শুনে দুই জনেই সুর মিলায়ে চোখের পলকের মধ্যে রেডি হয়ে আমার সামনে।

বিস্তারিত»

না-গল্প পাঁচ(গ) – তোড়ার কথা: নেপাল অধ্যায়

প্রথম কিস্তি
না-গল্প পাঁচ(ক) – তোড়ার কথা: ফ্ল্যাশব্যাক

দ্বিতীয় কিস্তি
না-গল্প পাঁচ(খ) – তোড়ার কথা: শাওন-রিটা অধ্যায়

তৃতীয় কিস্তি
নিজেকে আসলেই দারুন স্মার্ট হিসাবে প্রমান করেছে রিটা।
এক সন্ধ্যার পরিচয়কে পুঁজি করেই শুধু ইন্টার্নশিপই না, রাশেদের আন্ডারে বিজনেস ডেভেলাপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-এ কাজ করার সুযোগও পেয়ে গেছে সে।
সবার সামনে রাশেদকে স্যার বলে এবং পূর্ণ অফিস ডেকোরাম মেনে চলে কিন্তু একা থাকলে রাশেদ ভাই-কে কফি বানিয়ে খাওয়াতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে।

বিস্তারিত»

জে সুইস অভিজিৎ-আমিই অভিজিৎ

গতকাল দুপুরে ভরপেট খেলাম। খেতে খেতে খাবারের কিছু ছবিও পোষ্ট করলাম। ফেসবুকে ঢুকে দেখি প্রিয় লেখক/ব্লগার অভিজিৎ রায় বিডি নিউজে তার একটা লেখা দিয়েছেন “কেনো কোন কিছু থাকার বদলে কিছু আছে” শিরোনামে। খেতে খেতেই কিছু অংশ পড়লাম। লেখাটিতে লাইক দিলাম। খেয়ে দেয়ে একটা ভাতঘুম টাইপ দিলাম (যদিও ভাত ছিলো না মেনুতে)।

আমাদের ব্যাচের ছেলেপেলে এই তো কদিন আগে হোয়াটস এপে একটা গ্রুপ খুলেছে।

বিস্তারিত»