সূর্যপুত্র (পর্ব আট)

সূর্যপুত্র
(ভূমিকাসহ পর্ব এক)
(পর্ব দুই)
(পর্ব তিন)
(পর্ব চার)
(পর্ব পাঁচ)
(পর্ব ছয়)
(পর্ব সাত)
[তথাকথিত কোর্সের মাঝে চ্যাপ্টা হয়ে আছি…কোনদিকে খোঁজ নেবার ইচ্ছে-ই জাগে না!! এরই ফাঁকে আমার রুমে আবির্ভূত মিশন-ফেরত অতীব সিনিয়র স্যারের ইন্টারনেট দখলের কারণে…সিসিবি হতেও দূরে রয়েছি…। তবুও…দেশ ও জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে… এই নাদান বৃক্ষ…তাহার… শেষ করিতে না পারিয়া ধরা খাওয়া… লেখাটির পরের পর্ব লইয়া হাজির হইল…।]

০২ মে, ২০০৯।

শ্রীলংকার ত্রিংকোমালী বন্দর থেকে ৭৮০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ পূর্বে… … ভারত মহাসাগরের একটি স্থানে…

৪৫। জাহাজের কোয়ার্টার ডেকের সম্পূর্ণ দৃশ্যটি যে কারও মনে ভয় ধরিয়ে দেওয়ার জন্যে যথেষ্ট। শ্রীলঙ্কান ফিশিং বোটগুলির স্কিপারদের লিডার…গুণওয়ার্দানা জাহাজের ডেকে সটান পড়ে রয়েছে…তার নাক দিয়ে দরদর করে রক্ত ঝরছে…। আর…, তার বুকের উপরে জাহাজের এক্সিকিউটিভ অফিসার ঝুঁকে রয়েছেন!! প্রথম দেখাতেই…স্পষ্টতঃই বোঝা যাচ্ছে… অতি উৎসাহী…বদরাগী… এক্সিকিউটিভ অফিসার শ্রীলঙ্কান স্কিপারদের লিডারকে মেরে তার নাক ভেঙ্গে দিয়েছেন…..!!! এর আগ পর্যন্ত এক্সিকিউটিভ অফিসারকে নিয়ে তেমন কোন বড় ধরণের সমস্যায় পড়তে না হলেও…এবার মনে হয় আর সামাল দেয়া যাবে না…ভাবলেন লেঃ কমান্ডার বিক্রমাদিত্য।

৪৬। লেঃ কমান্ডার বিক্রমাদিত্য…তাঁর এক্সিকিউটিভ অফিসারকে কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই লেফটেন্যান্ট দার্শিল হঠাৎ প্রশ্ন করে বসলো…
-“হোয়াট হ্যাপেন্‌ড স্যার?”
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুবল আগরওয়ালা -“ওয়েল লেফটেন্যান্ট…দ্যাট্‌ ইজ নট ইওর বিজনেস।”
-“স্যরি স্যার। উইথ অল রেসপেক্ট…, আই হ্যাভ অল দি বিজনেসেজ হেয়ার । বিকজ, আই এম অফিসার অফ দি ওয়াচ হোয়েন দিজ পিপল্‌ হ্যাভ বিন ফাউন্ড, স্যার! এন্ড দে হ্যাভ বিন আস্কড্‌ ফর জাস্ট টু শো দেয়ার লিগ্যাল পেপারস্‌।”
-“শাট্‌ আপ লেফটেন্যান্ট। ডু নট ক্রস ইওর লিমিট।”
-“ওয়েল স্যার, আই নো মাই লিমিট। বেটার ইঊ নো এবাউট ইওর লিমিট টু। এজ অফিসার অফ দি ওয়াচ, আই রিকোয়েস্ট ইউ টু লিভ দেম…আদারওয়াইজ, আই হ্যাভ টু টেক প্রপার একশনস্‌ এজ পার দি ম্যানুয়াল অফ ন্যাভাল ল’ এন্ড অর্ডার।”
এবার আর ইন্টারফেয়ার না করে পারলেন না লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিক্রমাদিত্য-“ওয়েল, লেফটেন্যান্ট দার্শিল, হোয়াট ইজ ইওর পয়েন্ট?”
-“স্যার, দিস্‌ শ্রীলঙ্কান ফিশারমেন আর ফিশিং ইন দি ইন্টারন্যাশনাল টেরিটোরিয়াল ওয়াটার…নট্‌ ইন আওয়ার টেরিটোরিয়াল ওয়াটার…স্যার। সো, ইন নো ওয়ে, উই ক্যান বিহেভ ইন দিস ম্যানার উইথ দেম। নাউ আই শ্যাল্‌ এলাউ দেম টু মুভ এট্‌ দেয়ার ওউন…সুন আফটার আই সি এন্ড চেক দেয়ার পেপারস্‌….অফ কোর্স, দি ইঞ্জুর্‌ড পারসন উইল হ্যাভ প্রপার মেডিক্যাল ট্রিট্‌মেন্ট …উইথ ইওর কাইন্ড পারমিশন…স্যার!!!”
এক নিঃশ্বাসে অনেক কথা বলে ফেললো…লেফটেন্যান্ট দার্শিল।
-“কিন্তু… এজ অফিসার অফ দি ওয়াচ, তুমি কি এই বৃদ্ধটির ইঞ্জুর্‌ড হওয়ার বিষয়ে তদন্ত করে দেখতে চাও না? ”
-“স্যার, ইয়েস স্যার।”
-“ওয়েল, ইন দ্যাট কেস…, উই হ্যাভ টু টেক টাইম। এজ অফিসার অফ দি ওয়াচ, প্লিজ মেক দেম আন্ডারস্ট্যান্ড এবাউট দি আনএক্সপেক্টেড ডিলে। উই উইল সে দি হোল ম্যাটার জুডিশিয়াসলি…ডু নট ওরি…ইয়াং ম্যান!”
-“আই, আই, স্যার।” কমান্ডিং অফিসার ওকে ঠিকমত বুঝতে পেরেছেন দেখে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেখে… শ্রদ্ধায় …গর্বে…বুকটা ভরে উঠলো নবীন এই কর্মকর্তার। মনে মনে গুনগুন করে উঠলো… “মেরা………… মহান!!!!” কিছুক্ষণ পরে, খুশীমনে ব্রীজে ফিরে গেল সে…দায়িত্ব পূণরায় বুঝে নিতে। যাবার আগে, শ্রীলঙ্কান স্কিপারদের মধ্যে নবীন দেখতে একজনকে বলে গেলেন, “ডু নট ওরি…সুন ইউ উইল বি সেট ফ্রী…উই উইল জাষ্ট চেক ইউর লিগ্যাল পেপারস্‌…দেন, সুন আফটার মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট অফ হিম…ইউ উইল বি মুভ্‌ড টু ইউর বোট্‌স। য়্যান্ড ইউ উইল বি গিভেন ফুড…ডু নট থিঙ্ক।”

৪৭। রুমে ফিরে গিয়েই লেঃ কমান্ডার বিক্রমাদিত্য…তাঁর এক্সিকিউটিভ অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুবল আগরওয়ালাকে ডেকে পাঠালেন…এবং সম্পূর্ণ ঘটনার বিশদ বিবরণ শুনলেন। তারপর তিনি দ্রুত… তাঁর এক্সিকিউটিভ অফিসারকে একটি নাতিদীর্ঘ…কিন্তু কার্যকরী পরিকল্পনা শুনালেন। ঘন্টাখানেক পরে…, ভারতীয় কোষ্ট গার্ড জাহাজ “……”-এর এক্সিকিউটিভ অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুবল আগরওয়ালা ব্রীজ ডেকে চলে গেলেন। তারপর, অফিসার অফ দি ওয়াচ… লেফটেন্যান্ট দার্শিলের নিকট হতে তিনি ওয়াচের দায়িত্ব বুঝে নিয়ে…লেফটেন্যান্ট দার্শিলকে রেস্ট করতে পাঠালেন।

৪৮। সে রাত্রেই…পরপর কয়েক সিরিজ …কোডেড মেসেজ পাস করা হলো… ভারতীয় কোষ্ট গার্ড জাহাজ “……” এবং ভারতীয় কোষ্ট গার্ড হেডকোয়ার্টার্স-এর মধ্যে। ভারতীয় কোষ্ট গার্ড হেডকোয়ার্টার্স-এর পক্ষ হতে গোয়েন্দা দপ্তরের ডেপুটি ডাইরেক্টর কমান্ডার রুদ্রপ্রতাপ দার্শিল সকল মেসেজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করলেন। মেসেজগুলি রিসিভ করার সময়ে…গর্ব এবং আত্মবিশ্বাস ঠিকরে পড়ছিল তাঁর চোখেমুখে…কারণ, অবৈধভাবে ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করতঃ মাছ ধরার অপরাধে একশত তেরজন জেলেসহ…আঠারটি শ্রীলঙ্কান বোট ধরেছে তাঁদের কোষ্টগার্ড জাহাজ “……”…এবং সেই জাহাজের ঘটনার সময়ের অফিসার অফ দি ওয়াচ ছিলেন তাঁরই ছোট ভাই…লেফটেন্যান্ট রণরাজ কাপুর দার্শিল!!! কিছুক্ষণের মাঝেই তাঁদের বাবা…এবং বাসার অন্যান্য সবাই এই গৌরবোজ্জ্বল কাহিনী জেনে গেল…।

৪৯। সকল ফর্মালিটিজ আগেই রেডী হয়ে ছিল…তারপরেও, মনে হয় সবাই এমন কিছুর-ই অপেক্ষায় ছিলেন!! রাত শেষ হবার আগেই ভারতীয় কোষ্ট গার্ড হেডকোয়ার্টার্স-এর পক্ষ হতে তাঁদের কোষ্টগার্ড জাহাজ “……”-এ ছোট্ট একটি মেসেজ এসে পৌঁছালো,
“ইন্ডিয়ান গভর্নমেন্ট ইজ প্লিজ্‌ড টু প্রমোট লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিক্রমাদিত্য ইন দ্যা RANK অফ কমান্ডার । হি ইজ রি-এপন্টেড্‌ ইন হিজ প্রেজেন্ট এপয়েন্টমেন্ট। ফেলিসিটেশন অফ ডিজি ইন্ডিয়ান কোষ্টগার্ড মে বি কনভেড্ টু দি রেস্পেক্টিভ অফিসার।‌”

৫০। জাহাজের কোয়ার্টার ডেকের মেঝেতে…৪০/৬০ বোফর্স গানের পার্শ্বে হাত-পা বেঁধে রাখা স্কিপারদের মাঝে হৃদয় তখনও জেগে… । হঠাৎ করেই দেখলো… গুণওয়ার্দানা-র শরীরটা ঠান্ডায় কেঁপে কেঁপে উঠছে…। অজানা এক আশঙ্কায় তার নিজের বুকটাও কেঁপে উঠলো কি??? কি আছে ওদের কপালে? সকাল হলে ঠিক ঠিক ওদেরকে ছেড়ে দেবে তো!!! মনে হয় দেবে…একবার ভাবলো ও। জাহাজের কমান্ডারকে তো বেশ লজিক্যাল-ই মনে হলো। কিন্তু…আবার ভয় দেখা দিল মনে…তা-ই যদি হবে…তাহলে ওদেরকে কিছু খেতে দেয়া হলো না কেন? এমনকি পানিও না!!! আর, ওদের সবার কাছ থেকে বোটের কাগজপত্র নিয়ে নেবার পর থেকে…কমান্ডার কিংবা অন্য কোন অফিসার…কেউই কেন তাদের সাথে দেখা করতে আসেনি!!! “হা ঈশ্বর…সাহায্য করো…সাহায্যের জন্যে কিছু একটা করো…প্লীজ!!!!”

৫১। হৃদয়ের বোট “সূর্যপুত্র”-তে বসে সেই একই প্রার্থনা করে যাচ্ছে… সঞ্জীব …নিরঞ্জন …নীলন এবং পুষ্পকুমারা…।

৫২। একই সময়ে…বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ “……”-এর ব্রীজ ডেকে বসে…অফিসার অফ দি ওয়াচ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে…সুবিশাল আকাশ…বিস্তৃত সমুদ্র আর আকাশের তারকারাজি দেখে মহান আল্লাহ্‌র শুকরিয়া আদায় করছেন লেফটেন্যান্ট মুফতি মাহমুদ খান।

৫৩। ঘুমের মাঝে…মেয়ে চাঁদকুমারীকে ছট্‌ফট্‌ করতে দেখলেন কুমুদিনী। কি ব্যাপার? খারাপ স্বপ্ন দেখছে না কি মেয়ে? ভাবতে ভাবতে মেয়ের গায়ে পড়ে যাওয়া চাদরটা আবার তুলে দিলেন তিনি। নাহ্‌, হৃদয়ের সাথে তাঁর মেয়ের বিয়েটা ফাইনাল করতে হবে…ভাবলেন তিনি। কালকেই হৃদয়ের বাবার সাথে কথা বলতে যাবেন-ভাবলেন তিনি। ফিশিং বোটগুলির কাছাকাছি কোন শ্রীলঙ্কান ন্যাভাল কিংবা অন্য শিপ যাওয়ার কথা আছে নাকি…জানার সময়ে হৃদয়ের আর চাঁদকুমারীর বিষয়টা আলোচনা করতে হবে…
[ক্রমশঃ]

১,৪৫৬ বার দেখা হয়েছে

১০ টি মন্তব্য : “সূর্যপুত্র (পর্ব আট)”

  1. ওবায়দুল্লাহ (১৯৮৮-১৯৯৪)

    মামা আমি গরম গরম পড়িয়া লইলাম।
    ইহা অতি সুপাঠ্য একখানি সিরিজ হইয়াছে।
    কাহিনীর ডালপালা সমান হারে বৃদ্ধি পাইতেছে।
    ইহাতে রোমাঞ্চও সমান হারে বপিত হইয়া আছে।
    :clap:
    তোমার তথাকথিত কোর্সের লাগিয়া শুভ কামনা জানাইয়া রাখিলাম। :thumbup:
    সুর্যপুত্র সঠিক হস্তেই অর্পিত হইয়াছে বলিয়া আমার দৃঢ় বিশ্বাস।


    সৈয়দ সাফী

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।