একটি ভূমিকা এবং কিছু মানুষের গল্প

সিসিবি এখন বেশ সরব। কবিতা, গল্প, ভ্রমণ কাহিনী, দিনলিপি- নানা বিষয়ে কতো লেখা। প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন ব্লগার, নতুন লেখা পাচ্ছি। অফিসে এসেই সিসিবির পাতাটা খুলি। যখনই সময় পাই, পড়ি।

নূপুর অনেকদিন পর মনে হয় কিছুটা অবসর পেয়েছে। ঝর্ণার মতো তড়তড় করে পরপর দুটো পোস্ট নামিয়ে দিয়েছে। ও স্নিগ্ধ রেশমি শব্দমালা দিয়ে এমন মুচমুচে পদ্য লিখে যে এরই মধ্যে শুধু “স্নানপর্ব” দিয়ে সিসিবির আন্ডা-বাচ্চা থেকে বুড়োদের পর্যন্ত তার পাঙ্খা বানিয়ে রেখেছে। 😡

যেন ঝড়ের মতো এসে সিসিবিকে রীতিমতো নাড়িয়ে দিয়েছে জিতু। শিশুশিক্ষা থেকে শুরু করে বড়দের জোকস না হয় হলো, কিন্তু স্রেফ কবিতা লিখে মন্তব্যে সেঞ্চুরি এই ব্লগে আর কোনো অভাগার কপালে জোটেনি। হুডতোলা রিকশায় বৃস্টিভেজা দুপুরে ঠোটে ঠোট রেখে ভালোবাসার গল্প বলে ও কতোজনকে যে নস্টালজিক করে দিয়েছে! :gulti:

জিতু ঝড়ে আক্রান্ত হয়েছে শান্তশিষ্ট, রীতিমতো সিরিয়াস ভাবমূর্তি নেওয়া আয়েশা। তাই তো ১৩ বছর বয়সে লেখা প্রেমের প্রথম কবিতাটা ও এবার প্রকাশ্যে নিয়ে এলো। নইলে তো আমরা খুকি-পরী, রাযীনের জন্মদিনের কবিতাগুলো পড়ে আয়েশাকে একটা গুডি গুডি মেয়ে বলেও ভুল করে যেতাম….. ;;;

কচুপাতার আড়াল থেকে বেরিয়ে রাব্বীও এখন দারুণ ফর্মে। পুর্ণেন্দু পত্রী তার “কথোপকথন” ধারাবাহিক অনেক আগেই শেষ করে দিয়েছেন। কিন্তু আমরা এখন পড়ছি রাব্বীর কথোপকথন। গোবেচারা মধ্যবিত্ত, আমাদের বাসার কাজের মেয়েটা থেকে ডিজুস পোলাপাইনের প্রেমের ভাষায় কতো যে কারুকার্য! আহ্‌ দুয়েকটা প্রজন্ম পরে জন্ম নিলে কি এমন দোষ হতো? ~x(

আকাশ আবার তার সাপ্তাহিক নিয়ে মাঠে নেমেছে। খেলা দেখা, খেলা খেলা, রোজা রাখা….. আর কি কি যেন, বেচারা সবকিছু নিয়ে একেবারে হয়রান। এরই মধ্যে বৃষ্টির গান শুনছে, চুটিয়ে প্রেম করছে- অন্ততঃ ফেসবুকে তার প্রমান রেখেছে! ও যে কবে বিয়ে করবে আর কবে আমরা কব্জি ডুবিয়ে কচ্চি খাবো! ;))

বাংলাদেশের হাইকোর্ট এবং নির্বাচন কমিশন এর মধ্যে যুগান্তকারী একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ধর্মীয় পোশাক পড়তে কাউকে বিশেষত নারীদের বাধ্য করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিদ্যুৎ-পানি সমস্যা, যানজট, আইনশৃঙ্থলা, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আর দুর্নীতিবাজদের উল্লাসের এই দেশে এটা যে কতো বড়ো স্বস্তির জায়গা। বাংলাদেশটা আর যাই হোক, কোনোদিন পাকিস্তান বা আফগানিস্তান হবে না নিশ্চিত।(এ রায়ের আদেশদাতা বিচারকের একজন যে তার মেঝ মামা সেটা জিতু ফেসবুকে জানিয়ে দিয়েছে। আমি অবশ্য এখানে বলতে পারি, এই উদারবাদী ভদ্রলোককে আমিও চিনি এবং পছন্দ করি।)

নির্বাচন কমিশন যৌনকর্মীদের পেশার স্বীকৃতি দিয়েছে। সেবিকারা এই সমাজে আজো অবহেলিত। ইমাম, পুরোহিত, যাজক, মালি, কাজের লোক- এইসব পেশার মানুষ ছাড়া আমাদের চলে না। এ নিয়ে আন্দালিব একটা দারুণ পোস্ট দিয়েছে। পুরুষতন্ত্রের কফিনে এভাবে একের পর এক পেরেক ঠুকতে থাকলে নতুন করে না আবার কোনো জট বাধে- এ নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। এই উৎকণ্ঠার যথার্থ কারণ আছে। এক-এগারোর পর অনেক নতুন নতুন উদারবাদী অর্জনে আমরা আশান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু সেই উচ্ছাস বেশিদিন থাকেনি। এবার এইসব অর্জনগুলো স্থায়ী হবে তো?

এরই মধ্যে আমাদের নায়ক নায়ক ওবায়দুল্লাহ অনেকদিন পর গদ্য লিখেছে। ওর সিনেমা বা নাটকের স্ক্রিপ্টগুলো অনেকদিন পাই না। শাওন তাদের চাকমা বন্ধুর বিয়ের কাহিনী লিখতে গিয়ে রাঙামাটি ঘুরে আসার লোভটা আবার জাগিয়ে দিল। দার্জিলিং ভ্রমণের এক “বিশাল” কাহিনী শুরু করেছে রশিদ। দেখি কবে শেষ হয়। সামিয়ার ভারত ভ্রমণ তো আজো চলছেই! একই সঙ্গে ঝুলে আছে আমার ইতিহাস ফিরে দেখা! :-B আরো লিখেছে ইফতেখার, আলীম, সালমান, হুমায়ুন………অনেকে, অনেকে। লিখছিনা আমি, মন্তব্যও করা হচ্ছে না অনেকদিন। লিখছে না ফয়েজও। তবে মন্তব্য করে ও। সাইফ ভাই নিয়মিত ঢু মারছেন, মন্তব্য করছেন। একাধিক ব্লগে লিখছেন। সক্রিয় আছেন ফেসবুকেও।

কিছু মানুষ ও একটি ভার্চ্যুয়াল ফোরাম

আসলে এ পর্যন্ত যা লিখেছি তার সবটাই ভূমিকা। সিসিবি বাড়ির ডান দিকের কলামে একটা ব্যাজ ঝুলছে অনেকদিন ধরে। সাদা কালোতে ওখানে লেখা “International Crimes Strategy Forum”. ওটা মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধবিরোধী এক্টিভিস্টদের একটি ফোরাম। দেশের এবং প্রবাসী স্বেচ্ছাসেবকরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধ, এর বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ভার্চ্যুয়াল এই ফোরাম তৈরি করে নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন। উদ্দেশ্য অপরাধবোধ থেকে নিজেদের মুক্ত করা। ত্রিশ লাখ মানুষের আত্মদান আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে যে মুক্ত-স্বাধীন দেশ আমরা পেয়েছি, তাদের ঋণ কিছুটা হলেও শোধ করা। এই ফোরামটা জন্ম নিয়েছিল “War Crimes Strategy Forum” নামে। সম্প্রতি নামে এই পরিবর্তনটা করা হয়েছে।

আমাদের সিসিবি এই ICSF জোটের সদস্য। দেশে-বিদেশে আমাদের বেশ কয়েকজন ব্লগার এর কাজের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। আরো স্পষ্ট করে বললে এর শুরুটা হয়েছিল ২০০৯ সালে আমাদেরই এক প্রাক্তন ক্যাডেটের চিন্তা-ভাবনা ও পরিকল্পনায়। ঢাকাতেও বেশ কয়েকজন এ নিয়ে কাজ করছে। নতুন নতুন আরো অনেকে স্বেচ্ছাসেবক তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন। এখানে কাজের ক্ষেত্র অনেক। গত ফেব্রুয়ারিতে জুনায়েদ কবীর এ নিয়ে সিসিবিতে একটা বিস্তারিত পোস্ট দিয়েছিল। সেটা খুব বেশি সদস্য পড়েননি। অনেককে হয়তো নাড়া দিতে পারেনি। এই সুযোগে আগ্রহীরা এই পোস্টটি আরেকবার পড়ে এর উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও কাজ সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন। নিজেকে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন। আমরা আরো অনেকে যদি প্রতিদিনের সময় থেকে কিছুটা ICSF-এ দিই, তাহলে এসব কাজ অনেক দ্রুত এগোবে।

যুদ্ধাপরাধীদের হাত অনেক লম্বা। তাদের টাকাও অনেক। দেশে-বিদেশে প্রচুর টাকা ছড়িয়ে এই অপরাধীরা নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে জোরালো প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, শহীদের ঋণ শোধ করার তাগিদ বোধ করি; তারা স্বেচ্ছাসেবী। নিজেরা অর্থ ও শ্রম দিয়ে অপরাধবোধ থেকে দায়মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক একজন শিক্ষার্থী স্বেচ্ছায় ই-লাইব্রেরির কাজ নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। ওকে বলেছিলাম, তুমি তো এখনো পড়াশুনা করছো। টাকা-পয়সা নেই। তোমাকে নেট ব্যবহারের জন্য কিছু টাকা দিই। ও বললো, ভাইয়া কাজ করে ভীষণ আনন্দ পাচ্ছি। কোনো টাকা লাগবে না। ইচ্ছে করেই ওর নামটা লিখলাম না। ICSF -এ যুক্ত হলে আপনি বা আপনারা এমন আরো সব দারুণ মানুষকে বন্ধু হিসাবে পাবেন। ফেসবুকেও এর একটি পাতা আছে। সেখানেও আপনি অনেক বন্ধু পাবেন।

৩,২৮৫ বার দেখা হয়েছে

৩২ টি মন্তব্য : “একটি ভূমিকা এবং কিছু মানুষের গল্প”

  1. শাওন (৯৫-০১)

    @সানা ভাইয়া,
    আপনার মতন এতো বড় একজন মানুষের চোখে আমার এই ক্ষুদ্র লেখাটাও বাদ যায়নাই, আমি এটা থিক কল্পনাও করতে পারছিনা। অনেক দিন পর আপনার লেখা পেলাম। হ্যা ফেসবুকে দেখেছি আপনার অফিসে “International Crimes Strategy Forum” এর একটা সভার ছবি। ফোরাম সম্পর্কে অনেক আগে থেই অবহিত। কিন্তু এত্তো বড় একটা কাজে নিজেকে কোনভাবে কিছু ক্ষুদ্র কাজ দিয়ে হলেও জড়াবো, তা ভেবে পাইনা। তারপরও কখনো যদি মনে হয় কোন কাজে লাগবে, শুধু ডাক দিবেন। আমরা সবাই এক্কেবাড়ে রেডী ইনশাল্লাহ....


    ধন্যবাদান্তে,
    মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শাওন
    প্রাক্তন ক্যাডেট , সিলেট ক্যাডেট কলেজ, ১৯৯৫-২০০১

    ["যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায় ভালো মন্দ মিলায়ে সকলি"]

    জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

      শাওন, ছোট ছোট কাজ জোড়া দিলেই কিন্তু বি...শা...ল হয়ে যায়। তাই না? জিহাদ নিচে তো ব্যাখ্যা দিয়েছে। চেষ্টা করো যদি পারো। আর শুরু করে দিলে দেখবে ভালো লাগছে। ICSF -এর সবাই কিন্তু নানা পেশায় যুক্ত। এর মধ্য থেকেই সময় বের করে মনের তাগিদে সময় দেয়।


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন
  2. সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

    সানা ভাই, আসলেই আপনি :boss: সবার লেখাই যে শুধু পড়েছেন এমন না সেই সাথে আমাদের মত তুলনামুলক নতুন ব্লগারদের আগের লেখা নিয়েও আলোচনা করেছেন।
    এফবি তে কদিন ধরেই দেখছিলাম “International Crimes Strategy Forum” নিয়ে আপনার ছবি/ লিঙ্ক/ ট্যাগ ইত্যাদি। গত রাতে সদস্য ও হয়েছি অনেকটাই না বুঝে বা নাম দেখে! এখন ক্লিয়ার হল। দারুণ একটা উদ্দ্যোগ।
    অফ টপিকঃ আয়েশা আসলেই একটা ভেরি গুডি গুডি গার্ল এবং আমিও এতোটাও দুষ্ট নই :-B


    You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

    জবাব দিন
  3. সেলিনা (১৯৮৮-১৯৯৪)

    ধন্যবাদ ভাইয়া এটা নিয়ে লেখার জন্য।
    @শাওন ও জিতুঃ কোন কাজই ক্ষুদ্র বা ছোট নয়, প্রতিদিন ICSF- এর সাইটে গিয়ে খবর, ব্লগ ইত্যাদি পড়ে মন্তব্য করলেও কাজ হয়, ব্লগ হিট কাউণ্ট বাড়ে, ফেসবুকে শেয়ার করলে লোকে এই উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে পারে। লাবলু ভাই যেমন বলেছেন আমরা সবাই এখানে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছি। আর তোমাদের কোন বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী জানালে সেই হিসেবেই কাজ করতে পারো। নিজের ইচ্ছাই আসল এখানে। ইন্টারনেট কানেকশন যদি ভালো থাকে তাহলে ই-লাইব্রেরীতে যোগ দিতে পারো। ওখানে আমাদের স্বেচ্ছাসেবক খুব দরকার।

    জবাব দিন
  4. শিরীন (৯৬-০২)

    কদিন থেকেই সিসিবিতে ঘুরে যাই কিন্তু আলসেমি করে লগ ইন বা মন্তব্য কোনটাই করা হয় না , রোজা ভালোমতই ধরেছে 🙁 আজকে আপনার লেখা দেখে আর থাকা গেল না । বরাবরের মতোই চিন্তার খোরাক যোগানো কিছু কথা । রাজনীতিবিদদের নিয়ে বাবার অভিযোগ শুনে একদা বামরাজনীতি করা বাবাকে আমি বলেছিলাম " দেশ তো আর একদিনে রসাতলে যায় নি ; অযোগ্য লোকের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছ, অভিমান করে দূরে সরে থেকেছ , ফলাফল তো ভোগ করতেই হবে । " সাধ্যমতো কাজ করার চেষ্টা করব । নইলে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে জবাব দেয়ার মতো কিছু নেই ।

    জবাব দিন
  5. আয়েশা ( মগকক) আয়েশা

    আপনার মত এমন একজন মানুষ যে আমাদের লিখাগুলো পড়েন-- সেটাই তো বড় প্রাপ্তি। উৎসাহ দ্বিগুন বেড়ে গেল। O:-)
    ICSF এর সাইটে এখনো যাওয়া হয়নি।সেলিনা অপুর সাথে সহমত যে, কোনো কাজই ক্ষুদ্র নয়।
    অ ট : লাবলু ভাই, জিতু শুধু ব্লগেই ঝড় তোলার মত মেয়ে নয়, ওকে কখনো গেট ট্যুগেদারে পেলে গান গাওয়াতে ভুলবেননা যেন! দেখবেন ওখানেও রীতিমত সে টর্নেডো সৃষ্টি করছে।ভারী মিষ্টি কন্ঠ ওর।

    জবাব দিন
  6. রাব্বী (৯২-৯৮)

    লাবলু ভাই, আমার লেখা পড়ে আবার মনে রেখেছেন দেখে খুব অবাক হলাম।

    আইসিএসএফ-এর উদ্যোগটি অনন্য সাধারণ! জুনায়েদের ব্লগ পড়লাম আজ এবং ওয়েবসাইটটিও দেখলাম। আরেকটু ভেবে জানাবো কিভাবে সম্পৃক্ত হতে পারি। পূর্ন সমর্থন রইলো।


    আমার বন্ধুয়া বিহনে

    জবাব দিন
  7. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    ফোরামের এখনকার অবস্থা দেখে ভাল লাগে, আবার ভয়ও লাগে, মূল কাজটা না আবার ঝুলে যায়। ফোরামের মেইল গুলো পড়ি নিয়মিতই। অনেক কী-রিসোর্স পারসন এক্টিভ হয়েছেন অনেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় হয়েছেন, এটা আশার কথা।

    ব্যক্তিগত ভাবে নিজে ভীষন মানসিক অস্থিরতার মধ্যে আছি, কিছুটা বিষন্নতাও হয়ত মিশে আছে এর মাঝে। পুরোটাই অবশ্য ইন্ডাষ্ট্রি রিলেটেড।

    অপেক্ষার প্রহর অনেক দীর্ঘ লাগে সানাউল্লাহ ভাই।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  8. জিহাদ (৯৯-০৫)

    সবাই যে যেভাবে পারেন সেভাবেই সাহায্য করতে পারেন।

    সাহায্য করাটা খুব কঠিন কিছু নয়। শুধু দরকার একটু ইচ্ছা আর সময়।

    মিডিয়া আর্কাইভ আর ই-লাইব্রেরীর জন্য আমাদের আরো ভলান্টিয়ার দরকার। ডেইলি যদি ৩০ মিনিট বা একঘন্টা সময় দিতে পারেন সেটাও দিনশেষে দেখা যাবে অনেক বড় কিছু হয়ে গেছে সব মিলিয়ে।

    বেশ কয়েকদিন আগে সচলায়তনে ICSF(তখনকার WCSF) নিয়ে একটা ছড়া লিখেছিলাম। প্রাসঙ্গিক বলে মনে হওয়ায় এখানে তুলে দিলাম।

    হয়েছে যা আজ শুরু
    কালই হবে শেষ তা'
    আমাদেরই দিকে দেখো
    চেয়ে আছে দেশটা।

    ভাবো যদি সব কিছু
    করে দেবে সরকার
    ভুল সেটা, তোমাকেই
    আগে বেশি দরকার।

    হৃদয়ে প্রলেপ দিও
    দেশপ্রেমী মলমে
    লড়ে যাও নেটে - ঘাটে
    কাগজে ও কলমে।

    দেখিয়ে যে দিতে হবে
    মনোবল তাজা কার
    আমি, তুমি - নাকি ঐ
    মতি, মুজা রাজাকার।

    বরাহের হার মানা
    নয় মরীচিকারে
    আমাদেরই জয় হবে
    রাজাকার শিকারে।


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন
    • শাওন (৯৫-০১)
      মিডিয়া আর্কাইভ আর ই-লাইব্রেরীর জন্য আমাদের আরো ভলান্টিয়ার দরকার। ডেইলি যদি ৩০ মিনিট বা একঘন্টা সময় দিতে পারেন সেটাও দিনশেষে দেখা যাবে অনেক বড় কিছু হয়ে গেছে সব মিলিয়ে।

      ঠিক কি ধরনের কাজ করতে পারে ভলান্টিয়াররা? মানে যেহেতু অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাই মাঝখানে চাইলেই কেউ কিছু করার সাহস দেখাবেনা এই ভেবে যে পুরো কাজটি ভেস্তে যাক। তাই একটু কি বিস্তারিত বলা যায়? এমনিতে আমরা সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। আমি নিজেও ছুটির দিন সহ সারাটাদিন কর্পোরেট লাইফের চাপে থাকি। বিস্তারিত বললে নিজে না পারি অন্তত অন্য যারা আমার মতন অকাজের না, তারা অন্তত একতা চেষ্টা করুক।


      ধন্যবাদান্তে,
      মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শাওন
      প্রাক্তন ক্যাডেট , সিলেট ক্যাডেট কলেজ, ১৯৯৫-২০০১

      ["যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায় ভালো মন্দ মিলায়ে সকলি"]

      জবাব দিন
      • জিহাদ (৯৯-০৫)

        মিডিয়া আর্কাইভের দায়িত্বটা হচ্ছে প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে চোখ রাখতে হবে। সেখানো যুদ্ধাপরাধ, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা এ সংক্রান্ত কোন গুরুত্বপূর্ণ খবর চোখে পড়লে লিংক সহ আর্কাইভে কন্টেন্টটা যোগ করতে হবে।

        ই-লাইব্রেরীর কাজটা স্লো নেট কানেকশন নিয়ে করা বেশ ঝামেলার যদিও। তবে সেলিনা আপা ই-লাইব্রেরী নিয়ে আরো বিস্তারিত বলতে পারবেন।

        মিডিয়া আর্কাইভের ভলান্টিয়ারদের কাজের নির্দেশনা দেয়া আছে এই পোস্টটাতে।

        আগের ফোরাম থেকে ওয়ার্ডপ্রেস প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার জন্য মূলত পোস্টটা লিখা হয়েছিল। কাজেই ফোরামের বিষয়গুলো ইগনোর করতে পারেন।
        আর সিসিবির সূত্রে যারা ইতোমধ্যেই ওয়ার্ডপ্রেসের সাথে পরিচিত তাদের জন্য কোন সমস্যাই হবার কথা না।


        সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

        জবাব দিন
      • সেলিনা (১৯৮৮-১৯৯৪)

        মিডিয়া আর্কাইভ আর ই-লাইব্রেরিতে যে কেউই কাজ করতে পারে। জিহাদ যেমন বলেছে- খবর/ব্লগ, ভিডিও ক্লিপ আপ্লোড করা হয় মিডিয়া আর্কাইভে। আর ই-লাইব্রেরিতে আমরা জার্নাল নিবন্ধ, বই, রিপোর্ট ইত্যাদি আপলোড করে থাকি। অবশ্যই সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হতে হবে। অনেক সময় বইগুলো হাতের কাছে না থাকলে গুগল লিঙ্ক ও দিয়ে দেয়া হয়।
        আর ভলান্টিয়ারের ব্যক্তিগত দক্ষতা ও আগ্রহ বিবেচনায় তাদেরকে অন্য কাজেও নেয়া হয়- যেমন জিহাদ ICSF-IT গ্রুপে আছে, ICSF-এর আইনজীবি ফোরাম, সাংবাদিক গ্রুপ (এটাকে JCBC (Journalists', Columnists' and Bloggers' Caucus) বলা হয়), একটা পাবলিসিটি গ্রুপ ও আছে। সত্যি কথা বলতে সবগ্রুপের ডিটেলস আমি নিজেও জানিনা। আমি কিছুদিন মিডিয়া আর্কাইভ আর ই-লাইব্রেরি দুটোতেই ছিলাম এখন ই-লাইব্রেরিতে কাজ করছি।

        জবাব দিন
  9. জিহাদ (৯৯-০৫)

    ও আরেকটা কথা। অনেকে ভাবেন এই ধরণের ফোরামগুলো বোধহয় শুধু ইন্টারনেটেই লাফালাফি করে, আর নানা কথা বলে গা গরম করে। বাস্তবে আসলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে এদের কোন ভূমিকা নেই।

    কথাটা ভুল

    ICSF ইতোমধ্যেই সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি আইনি ইস্যুতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং ইতোমধ্যেই যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যাল এর সাথে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে উপদেশ ও সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে সর্বতোভাবে সাহায্য করেছে এবং করে যাচ্ছে।

    রাজাকাররা নিজেদের চামড়া বাঁচানোর জন্য সব ধরণের সব কিছু করে যাচ্ছে। টাকা ঢালছে কাড়ি কাড়ি। আমরা আপনার কাছ থেকে অর্থ কিংবা অন্য কিচ্ছু চাচ্ছিনা। চাচ্ছি শুধু একটু সময়।

    নিজেদের যুদ্ধে নিজেদেরকেই লড়াই করতে হবে।


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন
  10. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    প্রিয় প্রিয় সানাভাই,
    কী সুন্দর করে একটানে এঁকে ফেললেন সিসিবির ছবিটা!
    বহুদিন পরে আমার ফিরে আসাটা আপনার নজর এড়াবার কথা নয়;
    আমার লেখা আপনার ভালো লাগে/লাগছে জেনে
    অসম্ভব ভালো লেগে উঠেছিলো।
    কিন্তু মূল প্রসংগে পৌঁছে বেশ লজ্জা পেলাম;
    সিসিবি সাইটের ডানপাশে ব্যাজটি চোখে পড়লেও
    কোনদিন ঢুঁ মারিনি।
    অনেক দেরী হয়ে যাবার আগেই আমাদের বোধোদয় হোক সানা ভাই।
    সাধ্য ছাড়িয়ে অংশ নেবার অংগীকার করলাম।

    জবাব দিন
  11. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    আপনার পোস্টে আপনার নাম দেখে নিজেকে বিশাল কিছু মনে হচ্ছে 😛 আসলেই বিভিন্ন কাজে হয়রান হয়ে আছি, সবচেয়ে বড় কথা দেড় মাস ধরে ঢাকার বাইরে 🙁 আর কবজি ডুবানো খাওয়া, কবে যে হবে :shy:

    প্রতিদিন ফোরামে দেবার মত বেশ কিছুটা সময় এ মুহুর্তে মনে হয় বের করতে পারবো, বিস্তারিত মন্তব্যের জন্য জিহাদকে ধন্যবাদ।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  12. আন্দালিব (৯৬-০২)

    লাবলু ভাই, পোস্টটা পড়ে আর লিংকগুলো ঘুরে মনে হচ্ছে ফালতু কাজকর্ম ফেলে কিছু সময় এই সাইটে দিয়ে দিবো। আমি খুব দুঃখিত যে কবীর ভাইয়ের পোস্টটা আমি আরো আগে দেখি নাই। সম্ভবত ঐ পোস্টের পরের দিন বিডিআর হত্যাকাণ্ডের কারণে আর চোখেই পড়ে নাই। তবে এখন পড়লাম পোস্টটা, অনেক ডিটেইলে কাজের কথা বলা আছে।

    জিহাদের কমেন্ট পড়ে মনে হচ্ছে আর্কাইভের কাজে যোগ দিতে পারবো। দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় খবরের কাগজ পড়ি। কোন খবর জরুরি পেলেই সরবরাহ করাটা দুই মিনিটের ব্যাপার। সেই কাজটা করে মনে শান্তিও পাবো।

    ঘোরাঘুরি করছি WCSF -এ। নীরবে হোক, সরবে হোক। একটু একটু করে কাজ শুরু করবো।

    অনেক অনেক ধন্যবাদ, ভাই! :boss:

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।