ক্যাডেট কাহন

১।
সায়েন্স, আর্টস টেস্ট পরীক্ষার পর আমাদের মাত্র চারজন আর্টস পেয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন, যার স্বপ্ন ছিল এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হবার, বেদম বিমর্ষ হয়ে গেলো। ফস্ ছিলেন ওই পরিক্ষার ইন-চার্য। একমাত্র ফস্-ই পারেন তাকে সায়েন্স দিতে। পোলাপানের বুদ্ধিতে জুম্মার নামাযে ফস্ এর পাশে বসে অনেক দোয়া দরুদ পরে ক্যাডেট তার মনবাঞ্ছা প্রকাশ করলে ফস্ বল্লেন ‘তুই এয়রোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ইংলিশে বানান কর, যদি পারস, প্রিন্সিপালের হাতে পায়ে ধইরা হইলেও তোরে সায়েন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করবো’। ক্যাডেট a- r- o- n এই রকম অনেক প্রকারে চেষ্টা করার পর শেষে নিজেই বলল, ‘বাদ দেন স্যার, আমি আর্টস নিয়াই পড়ি’।
পরবর্তিতে সে আর্টস নিয়ে মেট্রিকে মাত্র ১৮ নম্বরের জন্য স্ট্যান্ড করে নাই।

২।
সেভেন-এ জয়েন করার তৃতীয় দিনের মাথায়, যখন কারও সাথে কারোই অতো ভাল পরিচয়ও হয় নাই, একজন ভুলে স্লিপিং ড্রেসের পাইজামার বোতাম খুইলাই ঘুমাই গেছিলো। তার দুই পাশের বেডের দুই ক্লাসমেট এইটা দেইখা তাৎক্ষণিক ডিসিশন নিলো পিটিস্যুতে মাখানোর হোয়াইটেক্স দিয়ে তাকে সাজাবে। নানানরকমের নাড়া-চাড়ায় ঘুম থেকে উঠে এই বেইজ্জতির ঝাল ঝারতে সিনিয়রকে নালিশ করার হুমকি দিয়া বেইজ্জত ব্যাক্তি ওই দুইটাকে দশবার কানে ধইরা উঠাবসা করাইছিল। এই ঘটনা আমরা পাসিং আউট এর পর শুনতে পেয়েছি। দুই পক্ষই তাদের বেইজ্জতির কথা চাইপা গেছিল।

৩।
ইসলামিয়াত শিক্ষকের অবর্তমানে স্কুরুল হুদা ছিলেন মসজিদের ঈমাম কাম ইসলামিয়াত শিক্ষক। তিনি মসজিদের আশপাশের আম গাছ, জাম গাছ লীজ নিয়ে টুপাইসভালই কামাইতেন। আশ্চর্যের বিষয়, কলেজে যখন কোন গাছে আমের মুকুলই আসে নাই, আল্লাহর রহমতে স্কুরুল হুদার গাছে তখন আম পাকতে শুরু করে দিয়েছে। তার আম গাছের দিকে ক্যাডেটদের নজর তার অজানা ছিল না। টি-ব্রেক শেষে আমরা যখন মসজিদের দিকে যেতাম, তিনি নিজে তার গাছ পাহারা দিতেন। আমের ভারে নুইয়ে পরা গাছে আম ঝুলত, হাতের নাগালেই, ছোট্ট লাফ দিলেই …… একদিন স্কুরুলকে না দেখে লাফ দিয়া আম স্পর্শ করা মাত্রই শুনলাম “কি হাত চুলকোয় ??” আমটাকে আলতো দোলা দিয়ে নেমে মসজিদে ঢুকে গেলাম। ঈমাম নামাজের নিয়ৎ বাধা মাত্র দোলা দিয়ে আসা আমটাকে নিজের করে নিতে ছুটলাম। গিয়ে দেখি মুয়াজ্জিন বাইরে পায়চারি করছে।
জিজ্ঞেস করলাম , আপনি নামাজ পরেন না ?
প্রশ্নের উত্তরে সে স্কুরুল হুদা’র মাসালা মাসায়েল শোনালো ‘পাঁচ ওয়াক্ত আযান দিলে নামায না পরলেও হয়’।

৩,৫৬০ বার দেখা হয়েছে

২৭ টি মন্তব্য : “ক্যাডেট কাহন”

  1. ‘বাদ দেন স্যার, আমি আর্টস নিয়াই পড়ি’।

    :khekz: :khekz:

    একজন ভুলে স্লিপিং ড্রেসের পাইজামার বোতাম খুইলাই ঘুমাই গেছিলো।

    :goragori:

    ‘পাঁচ ওয়াক্ত আযান দিলে নামায না পরলেও হয়’।

    :gulli2: :gulli2:

    জবাব দিন
  2. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)
    পাঁচ ওয়াক্ত আযান দিলে নামায না পরলেও হয়’।

    😕 😕 😕


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন
  3. হাসনাইন (৯৯-০৫)
    ক্যাডেট a- r- o- n এই রকম অনেক প্রকারে চেষ্টা করার পর শেষে নিজেই বলল, ‘বাদ দেন স্যার, আমি আর্টস নিয়াই পড়ি’।

    - :)) :khekz:

    এইটা দেইখা তাৎক্ষণিক ডিসিশন নিলো পিটিস্যুতে মাখানোর হোয়াইটেক্স দিয়ে তাকে সাজাবে

    - :goragori: :goragori:

    ‘পাঁচ ওয়াক্ত আযান দিলে নামায না পরলেও হয়’।

    -ক্যাম্নে কি?? :)) :))

    জবাব দিন
  4. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)
    ‘বাদ দেন স্যার, আমি আর্টস নিয়াই পড়ি’।
    আম স্পর্শ করা মাত্রই শুনলাম “কি হাত চুলকোয় ??”

    মামা, জবর হইছে। পিরা যাওন ছাড়া আর কুনু রাস্তা পাইলামনা =)) =))

    এই ঘটনা আমরা পাসিং আউট এর পর শুনতে পেয়েছি। দুই পক্ষই তাদের বেইজ্জতির কথা চাইপা গেছিল।

    দোস্ত পক্ষ দুইটা ক্যাডা ক্যাডা, চিনুমনি? :grr: :grr:


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  5. সায়েদ (১৯৯২-১৯৯৮)
    ‘বাদ দেন স্যার, আমি আর্টস নিয়াই পড়ি’।

    😀 😀

    তার দুই পাশের বেডের দুই ক্লাসমেট এইটা দেইখা তাৎক্ষণিক ডিসিশন নিলো পিটিস্যুতে মাখানোর হোয়াইটেক্স দিয়ে তাকে সাজাবে।

    :)) :))

    ‘পাঁচ ওয়াক্ত আযান দিলে নামায না পরলেও হয়’।

    =)) =))

    একটার থেকে আরেকটা তেজ..... :clap:


    Life is Mad.

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।