আমার এবং আমাদের সন্তানের জন্য আমার শিক্ষানীতি -২

: মামনি, বল, এ ফর এ্যাপেল, বি ফর বল, সি ফর ক্যাট, ডি ফর ডগ। কি হল, বলছনা কেন, বল…এখন খেলা রাখোতো, বল…
হাতের পুতুলটি কে নিয়ে খেলতে খেলতেই শিশুটি বলল,
: মা এ ফর এ্যাপেল মানে কি?
: এত মানে বঝার দরকার নাই, আমার সাথে বল, এ ফর এ্যাপেল…
: মা, “এ” মানে কি?
: আহহা, বড় বেশি জ্বালাতন করছ…
: বলনা মা “এ” মানে কি?
এবার কিছুক্ষন চিন্তা করে মা খুব খুশিমনে তার জ্ঞ্যানের ঝুড়ি খুলে বসলেন,
: “এ” হচ্ছে ইংরেজী বর্নমালার অদ্যাক্ষর বা প্রথম অক্ষর…বুঝলে কিছু? এখন আমার সাথে বল…

শিশুটি কয়েক সেকেন্ডের একটা নাতিদীর্ঘ শূন্য দৃষ্টি দিয়ে আবার তার অপেক্ষাকৃত জরুরী খেলাধুলায় মনোনিবেশ করল। কি বুঝলো শিশুটি? “এ” হচ্ছে এমন একটা জিনিস যা তার রঙ্গীন স্বপ্নময় খেলার জগতের চাইতে কোনোভাবেই মজার কিছু না। আমি মোটামোটি শতভাগ নিশ্চিত যে এখানে আমাদের সকলের প্রাথমিক ইংরেজী শিক্ষাটা এভাবেই হয়েছিল। এর সাথে সাথে এ, বি, সি, ডি, ই, এফ, জি…গানের সুর ধরে রিদম এর ছন্দে হয়তো কেউ শিখেছি, যার মধ্যে আবার এক পর্যায় গিয়ে এল, এম, এন, ও, পি কে একসাথে এলোমেলো পি বলে সবাই ভুল করতাম এমনকি অনেক বড় বয়স পর্যন্ত! আচ্ছা, এবার ওই শিশুটির মতন একবার ভেবে দেখি চলুন যে আসলেই এই “এ ফর এ্যাপেল, বি ফর বল, সি ফর ক্যাট, ডি ফর ডগ” এর মানে কি? মানে অনেকটা এরকম দাঁড়ায় না যে, “এ দিয়ে হয় এ্যাপেল, বি দিয়ে হয় বল, সি দিয়ে হয় ক্যাট, ডি দিয়ে হয় ডগ”? তাহলে এই “এ” জিনিসটা কিরে ভাই? রান্নার কোনো উপকরণ? নাকি কোনো কীটনাশক বা ফসলের বীজ? “এ” বা “বি” দিয়ে কি করে কোনো জিনিস তৈরী হতে পারে? “এ” কি তাহলে এ্যাপেল তৈরী বা “বি” কি তাহলে বল তৈরীর উপাদান? তাহলে কি এ্যাপেল তৈরীর উপাদান দিয়েই এ্যারপ্লেন তৈরী হয়? একটু কি জটিল মনে হচ্ছে? কিছুটা জটিল তো বটেই। যদি আমাদের মত ক্যাডেট কলেজে পড়া স্নাতক বা স্নাতকত্তর গুনীজন দের কাছে এমন মনে হয় তাহলে সেই ৩/৪ বছরের শিশুটির কি মনে হবে? অনেকেই হয়তো বলবেন বয়স যত বাড়ে চিন্তার জটিলতাও ততোই বৃদ্ধি পায়, শিশুরা কি আর অতো বঝে? না, হয়তো এতটা বঝে না। কিন্তু ওদের মস্তিষ্কে একধরনের ধোয়াটে অষ্পষ্ঠতার বীজ বপন করা হয়ে যায়। জতিলতার জন্য, অষ্পষ্ঠতার জন্য সারাটা জীবন পরেই আছে, শিশুকাল টা ওদের একটূ রেহাই দেই না।
এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে তাহলে কিভাবে শিখাবো? এ, বি, সি, ডি… গানটি দিয়ে শিশুদের বর্নমালার ধারাবাহিকতা শিখান যেতে পারে, কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু বানান বা শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে এ ফর এ্যাপেল বললে একটু সীমাবদ্ধতায় বেধে দেয়া হয়…বরং এর উল্টোটা কিন্তু অনেকটাই স্পষ্ট আর শিশুদের জন্য সহযে বোধগম্য। ধরেন, এ ফর এ্যাপেল না বলে এ্যাপেল শব্দটি থেকে শিশুদের নিজ থেকে ধরতে বলা হোক এর প্রথম বা শেষ সাউন্ড বা ধ্বনিটি বের করতে। ঠিক ধরেছেন, ফনেটিক্স, বা ফনোলজী। খুব সহযেই কিন্তু আমরা আমাদের শিশুদের সাথে এর পরিচয় করিয়ে দিতে পারি। কথপোকথনের মাধ্যমে জিনিসটা দেখাই-
: মামনি, এটা কি বলতো? (হাতে একটি এ্যাপেল দেখিয়ে)
: এটা আপেল।
: গুড, বল এ্যাপেল।
: এ্যাপেল।
: এবার বলত মা, এ্যাপেলের শুরুর সাউন্ডটা কি? এ্যা…পেল…বলতো?
: এ্যা মা? (একবারেই হয়ত ধরতে না ও পারে…প্রথমে কয়েকবার সুযোগ দিন)
: ভেরি গুড। হাত তালি…। জানো, এই এ্যা দেখতে কেমন?
: কেমন মা?
: A এমন।
একিসাথে শেষের সাউন্ড অর্থাৎ’ (এ)ল দেখতে L এর মত এটা পরিচয় করিয়ে দেয়া যায়। এ্যা দেখতে A এর মতো যখন একটি শিশু জানবে, তখন তার জন্য বুঝতে কষ্ট হবে না যে ক্যাট শব্দের মাঝেও যে এ্যা উচ্চারিত হচ্ছে তাতেও A আছে, বানান করাটা তখন তার কাছে অনেক বেশী সহয হয়ে যাবে। নার্সারী তে পরা বেশীর ভাগ শিশুরাই ক্যাট, ব্যাড, ম্যাট, প্যান এর মত শব্দগুলোর বানান করতে শিখে যায়। কিন্তু ফ্ল্যাগ বা স্যান্ড এর মত তুলনামুলকভাবে জটিল শব্দগুলোর বানান করতে কিছুটা বেগ কিন্তু পেতেই হয়। এভাবে উচ্চারন থেকে সাউন্ড ধরে বানান করাটা অনেকটাই সহয। আমি যখন আমার স্কুল কতৃপক্ষের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলচনা করলাম কেউ এই পদ্ধতি গ্রহন করতে সম্মত ছিল না। সবার নানা জ্ঞ্যান-গর্ভ কথা শুনে আমি নিজেও যে কিছুটা দ্বিধায় পরে যাইনি, তাও না। তবে আমি একরকম জোড় করেই শিশুদের এভাবে পড়ানো শুরু করলাম। এবং শিশুরা যেমন মজা পেলো তেমন ওদের শেখাটাও লক্ষ্য করলাম অনেকটা ত্বরান্বিত হচ্ছে। এখন আমার প্লে ক্লাশের বাচ্চারা বিগিনিং সাউন্ড বা অদ্যাক্ষর এবং এন্ডিং সাউন্ড বা অন্ত্যাক্ষর চিনতে ভুল করে না, যেখানে আগে তাদের সিলেবাস বা পাঠ্যক্রম কেবল মাত্র এ্যালফাবেট বা অক্ষর চেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। শিশুদের কোনোরকমের চাপ প্রয়োগ করে নয়, আনন্দ দিয়েই এগুলো গ্রহন করানো যেতে পারে। কারন শিশুদের গ্রহন ক্ষমতা আমাদের চাইতে ঢেড় বেশী। প্রচলিত পদ্ধতিতে সাধারনত বানানটা শিখিয়ে দেয়া হয়, আর তাতে করে শিশুদের সহজাত চিন্তা করে কোনো কিছু বের করার ক্ষমতাটা অনেক ক্ষেত্রেই নষ্ট করে দেয়া হয় বলে আমার ধারনা। উপরে বর্নিত পদ্ধতিতে শিশুদের বানান করে শব্দগঠনের ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ মস্তিষ্কের অনুশীলন এবং ব্যাবহার হয়। এই পদ্ধতিতে বানান করে লেখা বা শব্দ উৎ’পাদন যেভাবে করা হয়, তেমনি এর উল্টো পদ্ধতিতে তাদের বানান করে পড়তে শিখানো যেতে পারে। ম্যাচিং পদ্ধতিতে ছবির সাথে শব্দ বা অক্ষর মিলাতে বলা যেতে পারে। এভাবে করলে তাদের বানান করে লিখতে পারা এবং বানান করে পড়তে পারা দুই-ই সহজ এবং সুন্দর ভাবে শিখানো যেতে পারে।

৬,২১৫ বার দেখা হয়েছে

৪৪ টি মন্তব্য : “আমার এবং আমাদের সন্তানের জন্য আমার শিক্ষানীতি -২”

  1. তানভীর (৯৪-০০)

    এই পর্বটা অসাধারণ হয়েছে আপু। পাঁচ তারা।
    শিশুদের মনস্তত্ত্ব অনুযায়ী পড়া শেখানোর ব্যাপারটা লং-টার্মে অনেক সুফল নিয়ে আসবে।

    এরকম লেখা সিসিবিতে খুব দরকার। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। :boss:

    জবাব দিন
  2. আব্দুল্লাহ্‌ আল ইমরান (৯৩-৯৯)

    তুই ত বিয়াপক জ্ঞানী।আমার বাচ্চারে তর স্কুলে দিমু (যদি বিয়া করি তার পরের কথা)।আর না করলে আমিই ভর্তি হমু। :grr: :goragori:
    পোষ্টে ৫ তারা(তোর ত দেখি যে কয়টা কমেন্ট সেই কয়টা ৫ তারা :khekz: )

    জবাব দিন
  3. নাজমুল (০২-০৮)

    এই পর্বটা অসাধারণ হয়েছে আপু। পাঁচ তারা।
    শিশুদের মনস্তত্ত্ব অনুযায়ী পড়া শেখানোর ব্যাপারটা লং-টার্মে অনেক সুফল নিয়ে আসবে।

    এরকম লেখা সিসিবিতে খুব দরকার। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। :boss:

    জবাব দিন
  4. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

    এই স্টাইলটা পছন্দ হয়েছে। আমি অবশ্য --- আম্মু, একটা এ খুজে দাও বা একটা বি খুজে দাও ...... এই স্টাইল অ্যাপ্লাই করছি আপাতত। তবে এইটার ঝামেলা হলো কিছুক্ষন পরেই ধৈর্য চলে যায়। তোমার স্টাইলটা প্রয়োস করতে হবে। চালিয়ে যাও সাবিহা।

    জবাব দিন
  5. ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

    আমেরিকাতে বাচ্চাদের প্রি-স্কুলে এইভাবে শেখায়। বিশেষ করে তুমি যেই পদ্ধতিটি উল্লেখ করলে তা মন্টেসোরী স্কুলগুলোতে অনুসরন করে। এরা বাচ্চাবয়সে অনেক কিছু শিখে ফেলে। চার বয়সের রাসীন যখন বাসায় এসে পানিচক্র বা পরিপাকতন্ত্রের বর্ননা বাসায় এসে দিত তখন আমি বেশ অবাক হয়ে যেতাম।
    দেশে এখনও আগের পদ্ধতিতে পড়ানো হয় - কোন উন্নতি হয়নি জেনে খারাপ লাগছে। এই সব পদ্ধতিগুলো যে তোমাকে নিজে নিজে বের করে নিতে হচ্ছে এবং বেগ পেতে হলেও যে প্রবর্তন করে ফল পাচ্ছ তা নিসন্দেহে একটা উল্লেখযোগ্য মাইলস্টোন।

    আমাকে বলেছিলে আমেরিকার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে লিখতে। এখন আমি তিন বাচ্চাকে নিয়ে (বোনের মেয়ে গত বছর থেকে আমার এখানে থাকছে। সে টীনএজার এবং এখানে হাইস্কুল শুরু করেছে) জার্নির মধ্যে আছি। এখানকার স্কুল পদ্ধতি মুগ্ধ হবার মতো। তারপরেও একেকজনের একেক সমস্যা। এখন জানি না ্লিখতে পারবো কিনা। তবে তোমার কোন দরকার (বই বা ইনফরমেশন) হলে জানিও।


    “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
    ― Mahatma Gandhi

    জবাব দিন
    • সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

      মন্টেসরী পদ্ধতি আমাকেও খুব টানে।বাংলাদেশে আমার জানা মতে কোনো স্কুলে মন্টেসরী পদ্ধতি পুরোপুরি অনুসরন করা হয়না।বেশ কিছুটা ব্যায়বহুল বলেই হয়তো।পদ্ধতিটি সম্পর্কে যখন জেনেছি, গুগুল সার্চ দিয়ে অনেক মজার আর প্রয়োজনিয় তথ্য পেয়েছি। কিছু কিছু প্রয়োগ করার চেষ্টা করি।স্কুলে পুরোটা না পারলেও আমার মেয়ে কে সেভাবে শিখাতে চেষ্টা করি এবং অন্য অভিভাবকদেরকেও সেভাবে অনুসরন করার জন্য অনুরোধ করি।


      You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

      জবাব দিন
  6. আহমদ (৮৮-৯৪)

    সিরিজটার জন্য একটা লম্বা সময় প্রতীক্ষা করতে হয়েছে। আশাকরি পরেরটা তাড়াতাড়ি আসবে। ৫ তারা + প্রিয়তে যোগ।

    ছোটবেলায় স্কুল আমার ভাল লাগত না। প্রথম স্কুল পালিয়েছি খুব সম্ভবতঃ ৪ বছর বয়সে। স্কুলে অনেক কিছুই বুঝতাম না। তবে বাসায় অসাধারনভাবে সাপোর্ট পেয়েছি। বাবা-মা খেলার ছলেই পড়াতেন। গল্পে-গল্পে অনেক কিছুই শিখেছি।

    জিতু, তোমার লেখা অনেক ভাল লাগছে। আমি সময়মত তোমার কাছে সাহায্য চাইব, মনে আছে তো?


    চ্যারিটি বিগিনস এট হোম

    জবাব দিন
    • সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

      আহমদ ভাই, আত্মবিশ্বাস ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায় যখন সিসিবির সদস্য হই।একেকটা লেখা পড়তাম, ভালোলাগার সাথে সাথে আত্মবিশ্বাসটা আরো বেশি কমে যাওয়া শুরু করল। কিন্তু একদিন কত্থেকে কি ভেবে একটা ব্লগ লিখেই ফেললাম। কল্পনাও করিনি যে আপনাদের মতো গুনীজনদের প্রশংসা পাবো। অনুপ্রেরনা পাচ্ছি, পরের পর্বটা আশা রাখি শীঘ্রই নামাতে পারব।


      You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

      জবাব দিন
  7. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    জিতু, দারুণ হচ্ছে ধারাবাহিকটা। তবে বেঁচে থাকলে আর সুযোগ পেলে নাতি বা নাতনির ওপর এটা প্রয়োগ করবো, কথা দিচ্ছি।

    তুমি যতোদূর পারো এ নিয়ে বিস্তারিত লিখো। সিসিবি এই ধারাবাহিকটাও ই-বুক করতে পারে। আবার তুমিও একটা বই ছাপিয়ে ফেলতে পারো। আমি অবশ্যই প্রকাশক পেতে সাহায্য করবো।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  8. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    আমার ভাতিজা নিজে নিজেই এ বি সি, ১ ২ ৩, ক খ গ এর অনেকখানি পড়া শিখেছে। অনেক ছোটবেলা থেকেই ও কম্পিউটারের সামনে বসত। ওর জন্য শান্তি করে গেম খেলা বা ব্লগিং করতে পারতাম না... 😡

    একটু বড় হবার পর আমরা বাচ্চাদের সিডি চালিয়ে ওকে চেয়ারে বসিয়ে দিতাম...পরে দেখি নিজে নিজেই অনেক কিছু শিখে ফেলেছে...স্মার্ট চাচার স্মার্ট ভাতিজা আর কি... B-)

    আপু আপনার সিরিজ খুব ভাল হচ্ছে... :thumbup:


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
    • সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

      জুনায়েদ, তোমার ভাতিজা ডেফিনিটলী অনেক স্মার্ট হবে! তবে চেষ্টা কোরো খুব বেশী কম্পিউটার বা টেলিভিশান আসক্তি যাতে না আসে সেদিকে একটু খেয়াল রেখ। টিভি বা কম্পিউটার থেকে অনেক কিছু শেখা যায়, সত্যি, তবে পরবর্তিতে দেখবে যখন পড়ার চাপ বাড়বে তখন এর থেকে বেড়িয়ে আসতে কষ্ট হতে পারে।


      You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

      জবাব দিন
  9. :clap:
    তোর প্রতিভায় মুগ্ধ। প্রেপ টাইম গুলোতে ক্লাস এ পিছনের ডেস্কএ বসে ঘন্টার পর ঘন্টা জানালার দিকে তাকিয়ে কি যে ভাবতি... আবার একই সাথে চলতো তোর মনের ভাব, ইচ্ছা, স্বপ্ন ( 😡 ) কে বিভিন্ন কায়দায় লিখে প্রকাশ করার ক্লান্তিহীন আগ্রহ. আজ সব অভ্যাসই কাজে দিচ্ছে।

    লেখা চালিয়ে যা. :clap: ভালো লাগছে...

    জবাব দিন
  10. কামরুলতপু (৯৬-০২)

    খুবই একটা মজার এবং দরকারী বিষয় নিয়ে লিখছেন আপু। ধন্যবাদ আপনাকে। কাল পড়েছিলাম তবে কমেন্ট করার জন্য একদিন সময় নিলাম। আমার কিছু কথা ছিল।
    আপনি হয়ত উপায় হিসেবে যেটা বলেছে সেটা উদাহরণ মাত্র। আপনার লেখার মোটিভ যদি ধরতে পারি তা হচ্ছে শেখাটাকে ইন্ট্যারেস্টিং করে তোলা এবং বাচ্চাদের যতটা সম্ভব কনফিউজিং না করা। ভুল হলে ক্ষমা করবেন।
    আপনার উপায়টা খুবই সুন্দর। আমার যে জিনিসটা মনে হচ্ছে সেটা হল মাতৃভাষা শেখানো আর দ্বিতীয় ভাষা শেখানো একই ভাবে সম্ভব কি না? আমেরিকান স্কুলে হয়ত এইভাবে শেখানো সম্ভব কিন্তু আমাদের দেশে পিচ্চিদের আপেল দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলে সে প্রথমে আপেল বলবে এ্যাপেল বলবে কি? তখন তাকে ভাষা শেখাতে হবে আগে। তাছাড়া একইসাথে বাচ্চার মধ্যে প্রোনাউন্সিং নিয়েও দ্বিধার সৃষ্টি হবে কারন শব্দের সব উচ্চারন একরকম হয় না।
    বাচ্চারা প্রথমেই নিজের ভাষার শব্দ শিখে। বাচ্চারা কিভাবে শিখে তা হচ্ছে ইমেজিং বলেই আমার ধারণা। তারা একটা শব্দ শুনে এরপর খেয়াল করে সেটা অন্যরা কোন জায়গায় ব্যবহার করে তারপর তারা সেটা শিখে ফেলে। প্রবলেম হয় যখন নতুন ভাষা শেখার ক্ষেত্রে। আশেপাশের সবার উচ্চারণ (আমার চারপাশে খুব কম লোকই দেখি যাদের ইংরেজি উচ্চারণ সঠিক, সবারই আমার মত উচ্চারণ হচ্ছে প্রোনাউন্সিয়েশন এর উপায়) দেখে বাচ্চারাও ভুল শিখে ফেলে।
    আপনি যেটা বলছেন সেটা হচ্ছে বর্ণমালা শেখানো। এটা কিভাবে সম্ভব আমার কোন ধারণা নেই তবে একটা জিনিসের দিকে যদি খেয়াল করেন আপু মাতৃভাষা আর দ্বিতীয় ভাষা শেখার উপায় একইরকম ভাবে সম্ভব কি না তাহলে আরো ভাল হবে আপনার উপায় গুলা। অবশ্যই একটু এদিক ওদিক করতে হবে বলেই আমার ধারণা।
    আমি অনেক বড় হয়ে একেবারেই একটা নতুন ভাষা শিখেছি। ২০ বছর বয়সে এসে জাপানিজ শেখা শুরু করেছি। তাই ভাষা শেখার ব্যাপারে আমার কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। তাই আপনার লেখায় নিয়মিত চোখ রাখছি।

    জবাব দিন
  11. সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

    কামরুল, তোমার মন্তব্য পড়ে প্রথমে মনে হলো আমাদের স্কুলের বর্ষীয়ান শিক্ষকদের মন্তব্য শুনছি :-B , কারন প্রথমে যখন আমি তাদের কাছে এই উপায়টা বর্ননা করি, ঠিক একই পয়েন্ট তারাও বলেছিলো ~x( তবে তোমার বলার ধরন আর তাদের ধরনের মধ্যে পার্থক্য অনেক।অনেক ঘুছিয়ে তুমি তোমার ডাউটগুলো বলেছ। দেখি, চেষ্টা করে দেখি তোমার ডাউট ক্লিয়ার করতে পারি কিনা 😕
    প্রথমেই বলি, আমার লেখাটা কিন্তু ভাষা শিক্ষাদানের উপুর লিখিনি :no: । তবে তোমার এই মন্তব্যটি পরে ভাষা শিক্ষার উপর একটা পর্ব লিখব আশা করি। তবে অবশ্যই মাতৃভাষার বর্নমালাও একই ভাবে শিখানো সম্ভব এবং আমরা এভাবেই শিখাচ্ছি এখন। ধর, কলা, কলম, কাক, ককিল, কল, কমলা এসবের ছবি দেখিয়ে "ক" শব্দটির উপর অপেক্ষাকৃত জোড় দিয়ে উচ্চারন করতে হবে এবং শিশুদেরও উত"সাহীত করতে হবে যাতে তারাও একি সাথে শব্দগুলো উচ্চারন করে। তবে তুমি যেটা বলেছ যে অবশ্যই শিক্ষকের উচ্চারনে শুদ্ধতা প্রয়োজন, আমি একেবারেই সহমত। তবে তুমি যে বললে, আমাদের দেশের শিশুরা আপেল বলবে, সেটা হচ্ছে শুরু থেকেই তাকে কিভাবে শিখান হচ্ছে, বা সে কি শুনছে তার উপর নির্ভর করে। আমার মেয়েকে আমি এ্যাপেলকে এ্যাপেল শিখিয়েছি আবার আম কে আমই বলা শিখিয়েছি। তাই স্কুলের বাচ্চাদেরও এভাবে শিখাতে হয়। বাচ্চারা আশপাশের সব দেখে শুনে বিশাল এক শব্দভান্ডার নিয়েই কিন্তু আজকাল স্কুলে ভর্তি হয়। যেমন আমি যখন বেড়াল, শিশু আর দরজা এই তিনটির ছবি সম্বলিত ফ্ল্যাশ কার্ড দেখিয়ে একেবারে নতুন বাচ্চাটিকেও জিজ্ঞেস করি, বলতো বেবী কোনটা? ওরা কিন্তু চিনতে ভুল করে না।
    আর তুমি যে বলছো ভাষাশিক্ষা, এটা ভাই সত্যি অনেক ব্যাপক একটা বিষয়। তবে আমার যেটা মনে হয়, আমরা প্রচলিত ধারায় যেভাবে ট্র্যান্সলেশান বা গ্রামার শিখে দ্বিতীয় ভাষা শিখি, এটা আমাদের পরবর্তিতে আরো বেশি ভ্রান্ত করে দেয়, ফ্লুয়েন্ট হওয়ার পথে অনেকটাই বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের কিন্তু বাংলা কেউ এভাবে ব্যাকরন বা অন্য ভাষার অনুবাদ করে শিখায়নি, শুনতে শুনতে বা বলতে বলতেই শিখে গিয়েছি। শিশুদের যেহেতু ব্রেইনের ক্যাপাসিটি অনেক বেশি, ওরা ক্যাচও তারাতারি করতে পারে। তাই বাংলার সাথে সাথে ইংরেজীতেও একিসাথে সাভাবিক ভাবেই কথা বলা প্র্যাকটিস করানো আমার মতে সবচেয়ে ভাল উপায় ইংরেজী শিখানর জন্য। আর কথার মাঝে মাঝে দুই একটা শব্দ ইংরেজীতে বললে ওদের কাছে ইংরেজী শব্দ ভান্ডারটাও বেড়ে যায় অনেক। তোমার কনফিউশান দূর করতে আমার আগামী পর্বের বিষয় থাকবে শিশুদের দ্বিতীয় ভাষা শিক্ষা। তোমার কনফিউশান এবং জিজ্ঞেশা দূর করার চেষ্টা করব। যদি আরও কিছু জানার থাকে মেইল করতে পারো, jeetu301080@yahoo.com


    You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

    জবাব দিন
  12. জিতু, তোর এই লিখাটিও বেশ মজার ছিল ।সবাই বাচ্চাদের শেখানোর বেপারে কতটা সজাগ তা অনুধাবন করতে পারছি.তোর ইন্দ্রীয়ভিত্তিক পড়াশুনার কথা শুনলেই আমার Dr মারিয়া মন্তেস্যরী র কথা মনে পরে যায় । আমি প্রায় দুমাস আগে লোকাল মন্তেস্যরী স্কুল টি তে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি বাচ্চারা ছোট ছোট বল আর কাঠি দিয়ে molecule এর মডেল বানাচ্ছে। আরো আশ্চর্য হলাম এই শুনে যে ওরা কভেলান্ট ও আয়নিক বন্ড এর কথাও জানে, যা কিনা আমরা জেনেছিলাম অনেক পরে।এখানে মন্তেস্যরী স্কুল এর বাচ্চারা অধিকাংশই high socioeconomic background এর. ব্যায়বহুল হওয়া সত্তেও সন্তানের সুশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অনেকেই এই স্কুল টি তে বাচ্চা পাঠিয়ে থাকেন অন্তত ২-৩ বছরের জন্য হলেও। দেখা গেছে এসব বাচ্চদের অনেকেই যখন পাবলিক স্কুল এ আসে তখন gifted প্রোগ্রাম এর জন্য eligible হয়, যে টির ব্যয়ভারর সরকার বহন করে থাকে ।. গিফ্তেদ প্রোগ্রাম এ টিকার পর বাচ্চাটির জন্য individualized education plan তৈরী করা হয়. তারপর বাবা মা , teachers , মনোবিজ্ঞানী, সকলের উপস্হিতিতে সর্ব স্বীকৃত প্লান টি কার্যকর করা হয়। তোর ফোনেটিক্স এর গল্প পরে একদম রিয়ালিস্টিক মনে হলো। আমারও কিছু মজার অভিজ্ঞতা আছে এগুলো নিয়ে ....পরে একসময় শেয়ার করব ।

    জবাব দিন
    • সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

      সিনা, মন্টেসরী সিস্টেম নিয়ে আমার আগ্রহের শেষ নাই। ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করে যতটুকু জেনেছি...যতই জেনেছি, ততই অবাক হয়েছি। তোর মন্তব্যগুলো আমি সবসময় খুব উপভোগ করি আর প্রতীক্ষায় থাকি। আমাদের সাথে এখানে শেয়ার করিস তোর অভিজ্ঞতার কথা, অনেক উপকৃত হব।


      You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

      জবাব দিন
  13. তপু , এই উল্লেখিত পদ্ধতিতে সব ভাষা শেখানো যাবে কিনা জানিনা, তবে এই পদ্ধতিতে একজন ইংলিশভাষী কে আমি বাংলা শেখাতে পারব । ধর, আমি X কে আ বর্ণ টি শেখাবো; বলব, "এই বর্ণটির নাম হলো সরেয়া কিন্তু উচ্চারণটি হলো ইংলিশ U (আ) এর উচ্চরণের মত" । এখন আমি তাকে বলতে বলব সরেয়া তে U pel (আপেল) , তাকে আমি বাংলা শেখানোর সময় কখনই এ্যাপেল উচ্চারণ করবনা ।আশা করি ধরতে পেরেছ ভাই।
    কম বয়সে একের অধিক ভাষা বাচ্চাকে confused করে ব'লে যারা ভাবে তাদের জন্য বলছি,বাচ্চাদের ৬ বছর হওয়ার পূর্বে ব্রেনকে অধিক উপযোগী করার জন্য এর নিউরনগুলোর বেপক হারে সংযোগ হতে থাকে, সে সময় বাচ্চারা থাকে স্পঞ্জের মত । যদি সিনাপ্সের সঠিক stimulation না হলে তা পরবর্তিতে অকেজো হয়ে পরে... যারা একের অধিক ভাষাতে early age এ expose হয় , স্বভাবতই তাদের স্পীচ ডেভেলপমেন্ট এর জন্য দায়ী সিনাপ্সেস্গুলো অধিক পরিমানে আলোড়িত হয়, যেটা কিনা researcher রা বলেন বাচ্চাদের IQ বৃদ্ধিতে আরো সহায়তা করে।

    জবাব দিন
  14. জিতু তোমার লেখা পড়ে আমি চমত্কৃত ! তোমার প্রশংসা করবার মত ভাষা আমার নাই I তোমার সকল সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত একদিন হবেই হবেI আমাদের শুভ কামনা সব সময়ের জন্য রইলো I

    জবাব দিন
  15. আপু, লেখা গুলি খুব খুব ভালো লাগছে। আরো কি এই বিষয়ে লিখার ইচ্ছা আছে? যদি থাকে তবে দেরি না করে লিখে ফেলুন। আর যদি বই প্রকাশ করেন তবে আরো ভাল হয়।

    জবাব দিন
  16. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    অনেক পরে হলেও পড়লাম।
    এবং চমকৃত হলাম।
    কত ওয়াইড স্পেকট্রামেই না লিখালিখি চলতো সিসিবি-তে!!!

    সবচেয়ে ভাল লাগলো এটা জেনে -
    "এখন আমার প্লে ক্লাশের বাচ্চারা বিগিনিং সাউন্ড বা অদ্যাক্ষর এবং এন্ডিং সাউন্ড বা অন্ত্যাক্ষর চিনতে ভুল করে না"

    বাহ্‌! দারুন ব্যাপার তো!!!


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।