একটু আগে’ গেছো তুমি
“এখুনি আসছি” বলে
মুহূর্তগুলি মুহূর্তে বছরে পরিণত
বছর বছর প্রতীক্ষা শেষে
তুমি এসে
এতো বছর কাছাকাছি রইলে,
অথচ একটি মুহূর্তেই
তারা কেটে গিয়ে
আবার বছর বছর প্রতীক্ষা —
তুমি এই তো এলে বলে……
বিস্তারিত»একটু আগে’ গেছো তুমি
“এখুনি আসছি” বলে
মুহূর্তগুলি মুহূর্তে বছরে পরিণত
বছর বছর প্রতীক্ষা শেষে
তুমি এসে
এতো বছর কাছাকাছি রইলে,
অথচ একটি মুহূর্তেই
তারা কেটে গিয়ে
আবার বছর বছর প্রতীক্ষা —
তুমি এই তো এলে বলে……
বিস্তারিত»সাম্প্রতিক
আমি বৈপরীত্য বুঝি, যেভাবে আমাদের আচরণে এই বোধ পালিত হয়।
অসহ্য রোদ ত্বকভেদ করলে আমার কেবলই মনে পড়ে বিগত শীত, ঊলভেজা স্মৃতি এবং ডিসেম্বরের বিকেল। তিন মাসব্যাপী ক্রমশ নিদ্রাহরণ, যুদ্ধযাপন শেষ হয়, চল্লিশ বছরের পুরনো অভ্যাস, এপ্রিল এলেই ভালো থাকি!
আমাদের নিয়ত যুদ্ধসমূহ নথিভুক্ত হয় না।
—–
নদীপ্লট
খুব ভোরেই শহরপত্তনঃ কতিপয় বর্গাকার প্লট
ঘেসোজমিতে বাউণ্ডুলে শিশুগাছ
সিমেন্টের বানানো-
ডি-মার্-কে-শন্।
ভোরবেলা ঘুমের থেকে জেগে
সকাল দেখবো বলে
বারান্দায় এসেই
দেখি, এ কি
আমি তো গ্রীলের ফাঁক গলে
আকাশ পৌঁছে গেছি
ছোট্ট চড়ুই পাখি
দিনবদলের আশা নিয়ে দেশের জনগণ
বঙ্গবন্ধুর জ্যোষ্ঠ কন্যা করলো নির্বাচন
নৌকা মার্কায় টিকেট নিয়ে গড়লেন মহাজোট
ম্যাডাম এসে গদি জুড়লেন পেয়ে গণ ভোট।
একটা মোবাইল থিমে একটা কবিতা পেয়েছিলাম। আসল কবিতাটা খুবই সুন্দর। কবিতাটার খুবই বিচ্ছিরি একটা অনুবাদ করেছি। সবার সাথে শেয়ার করছি।
যত জোড়ে ইচ্ছা হয়
যতক্ষণ ইচ্ছা করে
কাঁদ। কারণ,
কাঁদতে কোন মানা নেই।
মনের ব্যথা মুছতে আমি যাহার কাছে আসি
পাষাণ হৃদে মোর গলে সে পরায় দুখের ফাঁসি
ব্যাকুল হয়ে পরাণ খুলে যারে ভালোবাসি
কাঁদায় আমায় দিবা রাতি, চোখের জলে ভাসি।
(১৮/০৮/১৯৯৭)
বিস্তারিত»বৃষ্টি পড়ে টুপূর টাপুর
সঙ্গী আমার মিষ্টি মধুর
ছাতার নিচে দারুণ বাহার
দিচ্ছি চুমু ঠোঁটে তাহার।
ক্লাশের সময় হচ্ছে যে পার
নেই যে কোনো তাড়া আমার
বলি আমি হোকনা দেরি
চুমোয় চুমোয় মনটা ভরি।
বাসের স্টপে হঠাৎ দেখি
বাস এসেছে বাড়ীমুখী
সঙ্গী বলে চলি এবার
চুমু দেবো কালকে আবার।
(৩১/১০/১৯৯৬)
বিস্তারিত»কেনো আমার এমন হলো
কেনো আমি পদ্য লিখে হতে গেলাম ব্যর্থ কবি
কেনো আমি শিল্পি হয়ে এঁকে গেলাম রঙ্গিন ছবি
জানতাম যদি আঁকলে ছবি ছুড়বে গালি অপবাদে
গুটিয়ে নিতাম হাতটি আমার স্বার্থপরের অপরাধে।
হৃদয়ে বাজো তুমি
জীবন্ত উষ্ণ এক শিল্পিত সুরে
আমার ক্রমক্ষয়মান অর্ধশতাব্দীর
প্রতিটি ক্ষণে ক্ষণে;
বাজো তুমি হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দনে
ফুসফুসের প্রতিটি শ্বাসে প্রশ্বাসে।
কল্পলোকের প্রতিটি গানে বাজো তুমি
মনের প্রতিটি কোণে কোণে,
বাজো তুমি পুষ্পকোমাল পায়ের নূপুরে
রংধনু রাঙ্গা ফুলের বাগানে;
হৃদয়ে বাজো তুমি
গোধূলি পার্কে নিবিড় আলিঙ্গনে
রাজধানীর ফ্ল্যাটের অনুগ্র বাহুবন্ধনে
কম্পিত চুম্বনে,
(অনেক আগের লেখা একটা কবিতা। যতদুর মনে পড়ছে, দেশে তখন রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছিল।
এই জালস্থানে এটা আমার প্রথম লেখা। আশা করি কেউ মনে কষ্ট পাবেন না।)
মুক্ত আকাশ স্নিগ্ধ বাতাস
স্বাদু জলের নদী
সবুজ পাতা তৃণলতা
বলতো আমার দিদি।
১.
“মদ ছোঁবেনা কোনদিন, আমাকে ছুঁয়ে
কথা দাও!” — অপ্রস্তুত ঠোঁট চুঁয়ে
এরপর আলগোছে
আধপেগ নীট চুমু ঢেলে
অনুনয়ে শুধায় এরকম,
“ক্যানো, আমি কি মদের কিছু কম?”
২.
ছেলেটির ঠোঁট ফাটে
মাখেনা ভেস্লিন,
মেয়েটি যত্নবান
ওরা ঠোঁটে ঠোঁটে লীন
একলা আছি, একাই রবো
একা একাই সুখ পোড়াবো।
কেউ হবেনা সঙ্গী যখন
কী লাভ দেখে মিথ্যে স্বপন,
ব্যর্থতাকে সাথী করে চলব আজীবন।
একলা আছি, একাই রবো
একলা রবে মন।
চমকে যাই শরীরে স্রোতস্বীনি জোছনা পতনের শব্দে
চমকে যাই আয়না দেখে আত্নপ্রতিকৃতির এই বিশ্বস্ত ওয়ার্কশপে
চমকে যাই নগরের শব্দে
রিকশার টুনটুন ঝংকারের বায়বীয় অনুনাদে
প্রেমিকা এবং প্রেম পৌরুষ মেরুদন্ড খুচড়া টাকা
দর্শক পার্কের গাড়ল গাছ আর হল্লা করে জেগে উঠা নাগরিক প্লাস্টিক প্রেম
চমকে যাই চায়ের কাপের ছলাৎ শব্দে
ছলকে উথলে পড়ে গাঢ় লিকারের জীবনীশক্তি কবিকূলের
চমকে যাই নক্ষত্রের রাতে বব ডিলনের এক্রোস্টিকের শব্দে
গড়াতে থাকি চমকানো চকমকি পাথর
চমকে যাই খসখসে কলম ছুরি হয়ে সাদা কাগজের হৃদপিন্ড ছিড়ে খুড়ে
একেকটা লাল চমকানো গোধূলী রঙ এর কবিতার আন্দোলনে
চমকে যেতে হয় প্লাবনের কালে ঢেউ প্রবেশের অখন্ড অবসরে
স্রোত স্রোত শুধু স্রোত চমকে যাই স্রোতের শব্দে
চমকে যাই ভালোবাসার বিষাক্ত অনুবাদে
যখন একপেয়ে দেবদূত হয়ে একটা সাদা বক
আর পাহাড়ী ম্যাগনোলিয়া গ্রান্ডিফ্লোরা সব চমকানো চিত্রকল্প স্রোতে ভাসে
চমকে দেয় আমাকে প্রথম বৃষ্টির সোঁদা আদ্র আকর্ষনী গন্ধ
এক সমুদ্র লাফিয়ে উঠে নীল ধূসর ময়লা আকাশে বিছিয়েছিল বৃষ্টি
ভেজা শরীর পরী ,চমকাতে হয় প্রকৃতি আমায় হিংসায় ফেলে
বৃষ্টি তোমায় জড়ায় চমকে যাই সুন্দর তুমি লাল রং মিশে লাল তুমি
চমকে যাই বাঁকা ঠোট বাঁকা দৃষ্টি চমকে যাই পরী ভালোবাসায় ।
অখাদ্য কবিতা দিয়ে বিরক্তির উদ্রেক ঘটানোর চেষ্টা হতে আমি বিরত হই নি।
জীবনের সাদা দেয়ালে
কালিমা লেপন করে করে
আজ যখন দেয়ালটার দিকে
চাইলাম, দেখি সাদা
কোন বিন্দু আর অবশিষ্ট
নাই। চুনকামের চেষ্টা
করে আর লাভ নাই।