বেশ কয়েক বছর আগে একজন সাহিত্যের শিক্ষক আমাদের ক্লাশে বলেছিলেন, একজন কবির কাছে কবিতা জন্ম দেয়া নাকি অনেকটা সন্তান প্রসবের মতই একটা ব্যাপার। যতক্ষন কবিতাটা বের না হয়, একটা যন্ত্রনা হতেই থাকে। আর বের হবার সাথে সাথেই এক অনাবিল প্রশান্তি। এ বিষয়ে আমার উপলব্ধি হল, মনের কথা বলে ফেলার মধ্যেই একটা বিরাট রিলিফ কাজ করে। তা সে সুখের হোক,
পরদিন পরীক্ষা। এই চিন্তায় কিনা জানি না,রাত ১২ টায় যখন ফেসবুক ব্রাউজ করছিলাম দেখলাম-পরীক্ষার হলে অ্যাডমিট কার্ড ছাড়াও যাবতীয় অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে হবে এবং তাও সত্যায়িত করে। মাথায় যথারীতি আকাশ ভেঙ্গে পড়ল এবং নিজে পরীক্ষার নোটিশ না দেখলেও সমস্ত দোষ প্রথমেই আর্মির প্রতিষ্ঠান (BUP) কে দিলাম তারপর মার সাথে রাগারাগি করে বাসা থেকে বের হলাম যদি কাগজ গুলার ফটোকপি করা যায়। বাসা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত যেয়ে (জানি যে সব বন্ধ) ক্ষীণ আশা টা দূর হোলে বাসায় ফিরলাম।
সবচে অবাক হয়েছি ক্যাকটাসের ফুল দেখে।অধিকাংশ ক্যাকটাসের ফুল হয় এবং সে ফুল অনেক দিন থাকে!!!সপ্তাহে একবার অল্প করে পানি দিলেই চলে।আলাদা করে আর কোন যত্ন নেয়া লাগেনা।চাকরির কিছু চক্করে গত বছরের শুরু থেকেই দৌড়ের উপর আছি।তাই ক্যাকটাস কালেকশন কার্যক্রম খানিকটা থমকে আছে।ইচ্ছা আছে দেশে ফিরে নতুন উদ্যমে শুরু করার।
আমাদের বাসার সামনে উপজেলা অফিস।প্রতি বছর সেখানে কৃষিমেলা নামক কিছু একটা ব্যাপার হয়।খুব ছোটবেলা স্থানীয় এক কলেজ অধ্যাপক তার পিএইচডি এর জন্য যোগার করা ক্যাকটাস দিয়ে একটা স্টল দিয়েছিলেন।তখন খুব ভাল লেগেছিল।প্রায়ই মনে পড়ত সে স্মৃতি ।মিশনে আসার বছরখানেক আগে হঠাৎ করে মাথায় পোকা ঢুকল ক্যাকটাস কালেকশন করার। কারণ দেখতে সুন্দর,যত্ন খুব বেশি করা লাগেনা।মাথায় চিন্তা আসা মাত্রই কাজে নেমে পড়লাম।তবে যোগার করতে গিয়ে টের পেলাম ব্যাপারটা অত সহজ না।কারণ সব নার্সারিতেই কিছু কমন প্রজাতির বাইরে কিছু পাওয়া যায় না।
এক একটা দিন যায়, বিষণ্ণতা কেমন জড়িয়ে জড়িয়ে ধরে। বিশ্ববিদ্যালয় পেরুনো মনটা আমার বারবার প্রশ্ন করে, এইটেই কি জীবন? ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়। একদিন বাসায় ফেরার পথে আকাশ জুড়ে হেলিকপ্টারের শব্দ। প্রথমে ভাবলাম তপন চৌধুরী বুঝি খুব মিটিং করে বেড়াচ্ছেন। (রিসেন্টলি নতুন তথ্য জানলাম যে স্কয়ারের তপন চৌধুরী নাকি জ্যামের কারণে এখনে গাড়িতে চড়া ছেড়ে হেলিকপ্টারে ওঠা শুরু করেছেন। তার প্রতি অফিসের মাথায় আছে সুদৃশ্য হেলিপ্যাড।
শেষ রাতের দিকে বৃষ্টি নামল। ঝুম বৃষ্টি। করিডরে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি ছোঁয়ার চেষ্টা করলাম। চোখের পাতা ক্রমেই ঝাপসা হয়ে এল। গাবদাকে মনে পড়ে। গাবদা মানে ওয়াহেদ। আদর করে নাম দিয়েছিলাম গাবদা। একটু মোটা ছিল। ক্যাডেট কলেজের সামরিক পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়তো একটু কষ্টও হয়েছিল। এক সন্ধ্যার কথা। সেনাবাহিনীর এক সদস্য গাবদাকে প্যারেড শেখাচ্ছে। গাবদার মোটা দেহ বেয়ে দরদর করে ঘাম নামছে। ততক্ষণে খেলার সময় শেষ।
১.
ছেলেটা গাঁজা খায়,বাট ভালো কবিতা লিখে।তিয়াশা অবশ্য কবিতার অতশত বুঝে না,বন্ধুদের মুখে অনেক প্রসংশা শুনেছে।তবে কথা বলতে পারে দারুন।চার্ম একটা!গাঁজা-ফাজা খেয়ে কী আবোল তাবোল আওড়ায়,তাও ভালো লাগে তিয়াশার।অদ্ভুত একটা লোক!লোকই তো!মুখে রুক্ষ্ম দাড়ি গোঁফ।খোচা খোচা!ম্যানলি অবশ্যই!ডার্ক এন্ড ডিপ।কবিতা লিখলেও ল্যাদল্যাদে না,ন্যাকা না।স্মার্ট এবং চালু মাল।কথা শুনলেই বোঝা যায়।স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড।কোন লুকোছাপা নেই।কেমন সরাসরি বুঝিয়ে দিলো!অবশ্য কোড করা কবিতায়।তিয়াশা কবিতা অত না বুঝলেও ঈঙ্গিতটা বুঝেছে!মেয়েদের আবার একটা এক্সট্রা ইন্সটিংক্ট থাকে কিনা!
সন ‘৭৮, ক্লাস ওয়ান।
সকাল আট কি সাড়ে আট, ফাঁকা ক্লাসঘরে দু’জন বন্ধু বসে বসে পরস্পরের টিফিন বাক্স নিয়ে মেতে উঠেছি।মা সক্কালবেলা পেট ভরে ভাত খাইয়ে পাঠাতো, ফলে বেশিরভাগ সময় টিফিনবক্সই থাকতোনা সংগে। খুব সংকোচ হতো।কিছু একটা টিফিন নিতেই হবে এমন একটা পণ করে বসতাম একেকদিন।ওর বাক্সে দেখলাম পাউরুটির মধ্যে লাল মত কিসের প্রলেপ, লোলুপ দৃষ্টিতে চেয়ে রইলাম সেদিকে।বন্ধুটি আমাকে সেই জেলি-পাউরুটির ভাগ দিলো,
কবি কিংবা লেখক- যাই বলো না কেন, তুখোড় হাত ছিল লোকটার
পদ্য কিংবা গদ্য কবিতা- প্রেম কিংবা ধিক্কার- কিছুতেই কমতি ছিল না তাঁর।
তব কেন সে দেখা পায় না এইসব কুসুমমঞ্জরী
পাবনা কিংবা ঢাকার।
মার্কিন মুলকে- য়ূরোপ উপবাসে দিনকাটে বাঙাল স্বাধীনতার।
কই- কেউতো সম্পাদকীয় লেখে না!
পত্রিকা-চ্যানেল এরা সব আড়াই নম্বর চরিত্রের কর্পোরেট পামর-দালাল।
চিন্তা করা যায়,
আজকাল এমন একটা জীবনের লোভ হয়, যেখানে আমি আসলেই একা। একা মানে নিঃসঙ্গ। একেবারে নিঃসঙ্গ। সারাদিনের শেষে বাড়ি ফিরে আমি একা হবো। বাইরে আমি যেমন তেমন, ক্লাস, হ্যাং আউট, পার্টটাইম আর ভলেন্টারি ব্যাস্ততায় মশগুল! কিন্তু নিজের জগতে একা। পুরোপুরি একাই!!!
আমার জন্যে কারো কেয়ার করা লাগবেনা। আমিও করবোনা। আমাকে কারো জিজ্ঞাসা করা লাগবেনা কি খেয়েছি, ক্লাস কেমন গেল। আমার আনন্দে কারো তালি বাজাতে হবেনা!
সাপ
অষ্টম শ্রেনীর শেষের দিকের ঘটনা। আসাদ ভাই তখন জুনিয়র প্রিফেক্ট।
আমার প্রিয় বন্ধু নাঈম আমাকে মজার এক তথ্য দিল। তথ্য চমকপ্রদ কিছু নয় কেবল ভেড়ার আচরন সম্পর্কিত, ভেড়ার পালে পশ্চাদগামী ভেড়া তার অগ্রগামী ভ্রাতাকে যথাযথ অনুসরণ করে থাকে। উক্ত তথ্য জেনে আমি ভেড়া, বড়ই আশ্চার্যান্বিত হলাম। বন্ধু আমাকে একটা উদাহরন দিয়ে ব্যাপারটা খুব ভালভাবে বুঝিয়ে দিল।
এই পর্বটা আমাদের ইসলাম(১৯৯৬-১০০২) ভাইয়ের একটি পোষ্ট (ঘুম) http://www.cadetcollegeblog.com/islam1060/15846থেকে ইনফ্লুয়েন্স হয়েছে। ক্যাডেটদের সবচেয়ে প্রিয় বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ঘুম। তারা একটু সুযোগ পেলেই ঘুমিয়ে নিতে পারে। সাধারণ ঘুমের স্থান ছাড়া ক্যাডেটদের প্রিয় ঘুমের জায়গা হচ্ছে ক্লাসরুম। আমার একটা খসড়া হিসাবে একজন মোটামুটি ঘুমপ্রিয় ক্যাডেট তার ছয় বছরের ক্যাডেট জীবনের প্রায় ৬ মাস ঘুমিয়ে কাটায় শুধু মাত্র একাডেমিক ব্লকে ক্লাস ও প্রেপটাইমে ঘুমিয়ে।
হিসাবঃ
ক্লাসের ৭ পিরিয়ডের কমপক্ষে ৩ পিরিয়ড × ৪০ মিনিট = ১২০ মিনিট
প্রেপটাইমের কমপক্ষে ১ ঘন্টা = ৬০ মিনিট
দৈনিক সর্বমোট = ১৮০ মিনিট
এই হিসাবে ১ বছরে ২০০ দিন ক্লাসে ঘুমালে মোট হবে = ৩৬০০০ মিনিট বা
= ৬০০ ঘন্টা বা
= ২৫ দিন বা ১ মাস*
তাহলে ৬ বছরে ক্লাসে মোট ঘুমানোর পরিমান হবে = ১মাস × ৬
= ৬ মাস
*(২৫ দিনে একমাস হিসাবে কারণ শুক্রবারগুলো বাদ দিয়ে)
বিঃ দ্রঃ এই হিসাবে কারও চোখে কোন ত্রুটি পড়লে লেখককে কোনভাবে দায়ী করা যাবে না।
এক বস্তা আলো নিয়ে হাটে এসেছে কিবরিয়া সাহেব
লক্ষ্য, যদি কেউ ক্রয় করে আলোকিত হতে চায় !
ইদানিং অন্ধকারে ছেয়ে গেছে চারপাশ,
সূর্য আগের মতো আলো ছড়ায় না,
শুনেছি জোনাকিরাও বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
অদ্ভুত, অদ্ভুত সেই অন্ধকার
কেউ কোন কিছু দেখতে পায় না, তাও আলোর প্রতি কারো কোন আগ্রহ নেই।
ইদানিং দৃশ্যমান শয়তান মূর্তিহীন ঈশ্বরের জায়গা নিয়ে নিয়েছে
কিংবা দৃশ্যত সুখের কাছে অনন্ত অদৃশ্য সুখের বিলুপ্তি ঘটেছে
সমাজ সভ্যতার আলো এখানে মলিন ফিকে হয়ে গেছে ,