রাধাকথন-৪

সরক্‌তি যায়ে হ্যায় রুখ্‌ সে নকাব
আহিস্তা আহিস্তা
নিকাল্‌তা আ রাহা হ্যায় আফতাব
আহিস্তা আহিস্তা।।

দরোজার ওপারেই
নগরীর ঘরে ফেরা
ত্রিতালের মতো —
সংক্রামক, রঙিন!
অদেখায় এপারে
বেড়ে চলে দিন
বুকে হেঁটে
বিষাদ আসে
বারান্দায়
সরোদে বাজায়
উতল ঝালা..

এমন সময় —
সভয়ে
ধীরপায় এসো কালা
ভুলেও বোলোনা
গোলাপ কিংবা
অন্য তুলনা

বরং আনত হও
পিঠ ছুঁয়ে
অনুনয়
কেবল অনুনয়ে
করো জয়
রাধার এটুকু
প্রণয়

বিস্তারিত»

কিছু কৈশোর… (১ম খন্ড)

(শিরোনামটা আমার প্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদের একটা আত্মজৈবনিক বই থেকে অনুপ্রাণিত।)

অলিম্পিকের দামামা বাজতে শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন হলো। অনেক ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে অলিম্পিকের আবেদন খুবই প্রবল। আমি খেলাধুলায় তেমন ভাল না বলে হয়তো আমাকে অলিম্পিক খুব একটা টানে না। তবে ২-১জন ক্রীড়াবিদকে ভালো না বেসে উপায় নেই। যেমন; উসাইন বোল্ট বা মাইকেল ফেলপস। কাল রাতে ঘুম আসছিলোনা বলে ল্যাপটপ খুলে বসেছি।

বিস্তারিত»

অপরিচিত কিংবা অর্ধ পরিচিত মানুষ ও জীবনের গল্প – ২

[ ডিসক্লেইমার : আগে একই নামে আবজাব কিছু লেখবার চেষ্টা করেছিলাম। ইচ্ছা করলো সেটাকে আরো বাড়াতে। তবে এটা সিরিজে রূপ নেবার সম্ভাবনা কম ]

কলেজ থেকে বিদায় নেয়ার সময় এক স্যার আবেগ থেকে কিছু কথা বলেছিলেন। সেই কথা গুলো মনের পর্দায় আটকে থাকে না চাইলেও। সেই কথাগুলোর সাথে আরো কিছু কথা যোগ হয়ে বরাবরই চলে আসে যে কোন বিদায় বেলায়। কথাগুলি মনে মনে আউড়াই সময়ে অসময়ে।

বিস্তারিত»

আজকে তোমার মন ভেঙে যাক ঘূর্ণিঝড়ে

আজকে তোমার মন ভেঙে যাক ঘূর্ণিঝড়ে
আজকে ভূমিকম্পে কাপুক সর্ব শরীর
জীর্ণতরীর
যাত্রীরা সব
মাঝনদীতে ঢেউয়ের দোলায় তটস্থ হোক
সবাই জানুক আমিই তোমার ধূর্ত প্রেমিক-শঠ প্রতারক!

তোমার উরুয় হোক সুনামি আমার শ্বাসে
দীর্ঘশ্বাসে যাক উড়ে সব স্মৃতির ধূলো
কয়েনগুলো
খুচরো হয়ে
মেঝের উপর পড়তে থাকুক ঝনঝনিয়ে
সবাই জানুক আমিই কেবল তুষ্ট ছিলাম তোমায় নিয়ে!

বিস্তারিত»

রাধাকথন-৩

তোয়ালে নিয়ে বসে আছি
সর্বনাশের আশায়

গ্রিলের কোণে কোণে
গর্ভিণী মেঘ জমে আছে কিছু।
হাওয়ায় চুল মেলে
দুলে দুলে
ওঠে নারকেল গাছ
বর্ষার আসন্নতায়
কেঁপে যায়
শার্সি,জানলার নরোম কাঁচ

‘মিঁয়া কি মল্লার’ ধরেছেন
রশিদ খাঁ
বিদ্যুতের ঘায়
প্রতীক্ষার সুতো
ছিঁড়ে যায়…
এমন ঘোর রাত্রিতে হায়
হেঁটেই আসছো সখা!

বিস্তারিত»

রাধাকথন-২

জুলাইয়ের এই শেষ দুপুরে
হাতে হাত ছোঁয়াবার
তুচ্ছতম দ্বিধাটুকু
পুড়ে পুড়ে
ঝরে যায়
সিগারেটের মতো,
শপাং চাবুকের চেয়েও
নির্দয় লাগে
তোর ফেস,বুক আইফোনে
অগণণ গোপিনীর ছাপ..

আমাদের কোন কদমতলা নেই আর
যমুনা কবে মজে হেজে গেছে!
গাড়িতেই চল কানাই
বারী সিদ্দিকির বাঁশিতে
ভেসে যাই
ক্রন্দসী যমুনার এপার ওপার

বিস্তারিত»

এবার তুমি ফেরাও আমায়

এখন তুমি কোথায় আছো?কেমন আছো?আমায় ছাড়া দিনগুলো সব কাটছে কেমন?বৃষ্টি দিনে জানলা খুলে দাঁড়িয়ে তুমি সবুজ দেখো?মধ্যরাতে একলা হাটো উঠোন জুড়ে?হঠাৎ যদি একলা লাগে,আলতো আঙুল ছুঁইয়ে দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়ো শুকতারাটা।আকাশ বাড়ির উঠোনজুড়ে মেঘ বিছানা মুছিয়ে দিয়ো হাতের নাড়ায়।তাতেও যদি আধাঁর থাকে,পুকুর পাড়ে যেসব জোনাক সোহাগ করে,তাদের ডেকো।তাদের সবুজ নরম মদে ভিজিয়ে নিও তোমার দুহাত।তোমার চুলে,কুসুম কোলে হাত ও বুকে এসব সবুজ জ্বলতে থাকুক।হঠাৎ ডাকুক একলা পাখি তারস্বরে।তোমার ঘরে প্রদীপ শিখায় চৈতী হাওয়া জলসা বসাক।নৃত্যরত অগ্নিশিখা দুলিয়ে কোমর বাহবা নিবে।চতুর্দশীর একঘেয়ে চাঁদ নতুন সাজে সাজবে না হয়।আর না হলে হঠাৎ পতন-নদীর জলে আচমকা ডুব।স্বচ্ছ চোখের মাছেরা সব ছুটবে তখন আলোর পিছে।যেমন আমি ছুটছি আজো।ছুটতে ছুটতে পৌছে যাচ্ছি গড়ের মাঠে,রাবার বনে।যেখান থেকে কেউ কোন দিন ফেরে না আর।তুমি আমায় ডাক না দিলে ফিরবো না আর।হাটতে হাটতে চলে যাবো শেষের খেলায়,জুয়ার আসর।তাই তোমাকে আজ অনুরোধ,এবার তুমি ফেরাও আমায়।

বিস্তারিত»

পোট্রেইট

।১।
তার মানে তুই আমাকে পোট্রেইট এঁকে দিচ্ছিস না? পিউ এর কথাটা বেশ ভারী শোনাল। কথক বলল, আর কিছু দিন সময় দে,ঠিক একেঁ দেব। সেমিস্টার ফাইনাল নিয়ে একটু ব্যস্ত। কথকের কথা শুনে পিউ এর মেজাজ খারাপ হল। কোন মতে বিরক্তি ঢেকে বলল,দেখ ভালো ছবি আঁকিস বলে তোকে আমার পোট্রেইট আঁকতে বলেছি। সেই পাঁচ মাস ধরে ঘুরাচ্ছিস। আজ কাল করতে করতে এতটা দিন কেটে গেল।

বিস্তারিত»

রাধাকথন-১

হৃষ্টপুষ্ট দিনের কংকাল পড়ে পাশে,
মেঘেরা মেতে
আদল ভাঙার স্বেচ্ছাচারিতায় –
বেলা যায়
উনুনে ফূঁ-দেয়া লাল চোখে,
বাঁশির আশে
প্রাণ সঁপে দিয়ে
পোড়াভাতের ফেনও কেমন
যমুনাপানে ঝোঁকে,
কানু রে
কান্দন চেপে আছি
সেই কবে থেকে
এবারে আমার দিনরাতের
গতর ফিরায়ে দে!

বিস্তারিত»

মা

অদ্ভুত সুন্দর এক গোধুলীর রং-এ মাখা পড়ন্ত বিকেল। পার্কের রাস্তায় একাকী হাঁটছি। দূরের মানজানো পাহাড়ের উপর পড়ন্ত বিকেলের শেষ রোদ্দুরের আলো এসে পড়েছে। আকাশে একই সাথে সাদা, কালো এবং কমলা মেঘের আনাগোনা। বিস্তীর্ন দিগন্ত একই সাথে দেখতে পাচ্ছি। পশ্চিমের দিগন্তে যেখানে সূর্য অস্ত যাবে সেদিকেই আমার ফেলে আসা প্রিয় জন্মভূমি। হাতের ঘড়িতে দেখলাম বুধবার, ১ আগষ্ট। তার মানে বাংলাদেশে এখন ২ আগষ্ট। বিশ বছর আগের ঠিক এই দিনে মন ছুটে গেল।

বিস্তারিত»

একটু শুধু ঘেঁষতে দিও কাছে

তুমি একটু শুধু ঘেঁষতে দিও কাছে
তোমার কাছে অনেক কিছু বলার আমার আছে
একটু হবে ফিসফিসানি একটু হবে কথা
একটু হবে কোলাহলে ঘেরা নীরবতা
একটি কথায় হাসবে তুমি একটি কথায় কাঁদবে
একটি কথায় তোমার মনে রহস্য দানা বাঁধবে
এক পৃথিবীর কথা জমা এক আকাশের মেঘ
এক সাগরের জলরাশি জমানো আবেগ
তোমার জন্যে কথার ঝুড়ি গোপন প্রেমের কাব্যে
বলবো আমি এখন থেকে আমায় আবার ভাববে
আবার তুমি সুর সাজাবে দূর পাহাড়ের ঝরনা ধারা
তোমার গানের উচ্ছাসে আজ বায়ুস্তর বাঁধন হারা
একটি কথা কানে কানে একটি কথা জোড়ে
একটি কথা বলে ফেলা ভালোবাসার ঘোরে
একটু কাছে আসতে দিও একটু দিও ঠাঁই
আমিতো এক পাগল প্রেমিক ঠিক ঠিকানা নাই
আবার কবে তোমার কাছে ফিরে আসার ভাগ্য হবে
আবার কবে তোমার চোখে অপেক্ষার ই কান্না রবে
আবার কবে আকাশ হয়ে মেঘ জড়াবো তোমার গায়ে
আবার কবে ছায়া হয়ে থাকবো তোমার পায়ে পায়ে
এখন অনেক দুঃসময় এক কাব্য লিখে পেট ভরেনা
এখন বুঝি বিলাসিতাও তোমার মনে দাগ কাটেনা
কবিতা নয় বাস্তবতার দু এক কথা বলবো তাই
একান্তে আজ এই প্রহরে তোমার কাছে ঘেঁষতে চাই.

বিস্তারিত»

হাবুল হোসেনের সাথে হুমায়ুন আহমেদের একান্ত আড্ডা (অপ্রকাশিত সাক্ষাতকার)

রিকশাওয়ালার ভাড়া মিটিয়ে নিজের ঘরে পা দেয়ার পরে ছোট ভাইবোনদের হুমায়ুন বিষয়ক জল্পনা কল্পনা, মুখরোচক আলোচনায় এতক্ষণ ভুলে ব্যথাটা নতুন করে জেগে উঠে হাবুলের। হুমায়ুনের মৃত্যুতে যেখানে সবাই হুমায়ুনের সাথে স্মৃতিচারণ নিয়ে মেতে রয়েছে, তখন তার ভাণ্ডার একদম খালি। তার সহকর্মীদের কেউ হুমায়ুনের সাথে এক বিকালে চা খাওয়ার গল্প লিখছে, কেউ হুমায়ুনের বাসায় বসে দেওয়া আড্ডার কথা লিখছে, সাহিত্যিক কাম সাংবাদিকরা যেখানে হুমায়ুনের মুখ থেকে বুলি বের করে নিজের কৌতুককে জাতে উঠাচ্ছে,

বিস্তারিত»

তিন তিতলী

“মেঘ বলেছে যাবো যাবো” বইটি দ্বিতীয় বারের মত পড়া শেষ করেছি। আমি তখন নবম শ্রেনীতে। ফাইনাল পরীক্ষা শেষ। ছুটি আর কয়েক দিন পর। আমাদের ক্যাডেট কলেজে অনেক নিয়ম কানুন। গল্পের বই পড়ার সময় ও সুযোগ সব সময় মেলে না। তবে এই সময়টা সবাই গল্পের বই পড়ে কাটায়। শিক্ষকরাও আমাদের মনের অবস্থা বুঝতে পেরে তেমন কিছু বলেন না। হাতে পড়ার মত কোন বই না থাকায় বন্ধু তৌফিকের কাছ থেকে নিয়ে এই বইটিই আবার পড়লাম।

বিস্তারিত»

একটি ভালবাসার গল্প

১.

এস.এস.সি পরীক্ষা শেষ করে টানা চার মাস পর ক্যাডেট কলেজ থেকে বাসায় আসলাম। ছুটিতে অনেক কিছু করার পরিকল্পনা করলাম। কিন্তু বাসায় এসে আমার মাথায় হাত। আমি কলেজে থাকা অবস্থায় আমাদের বাসা চেঞ্জ হয়েছে। নতুন বাসায় এসে কিছুটা অস্বস্তিতে পরলাম। কাউকে চিনিনা। বাসায় এসে কিছুক্ষন ধাতস্ত হওয়ার চেষ্টা করছি, এমন সময় কেউ একজন ডেকে উঠল-

–      আন্টি……………

একটা মেয়ে দৌড়ে ঘরে এসে ঢুকল।

বিস্তারিত»

এই বৃষ্টিতে আমি কোনদিকে যাবো?

এই বৃষ্টিতে আমি কোনদিকে যাবো?
কার কাছে যাবো?
ঝাপসা উত্তর,পূর্বের কুয়াশা
পশ্চিম দৃষ্টি সীমানায় খরস্রোতা
দক্ষিণে ঘিরে আসে বিক্ষুব্ধ হাওয়া
অজগরের তুমুল হা
বিদ্যুতের চাবুক,বারবার কেঁপে উঠে
পৃথিবীর সব ভয়ার্ত হরিণেরা
এই অন্ধকারে আমি
কোন দিকে যাবো
কার কাছে যাবো তোমাকে ছাড়া?
আমাদের যূথবদ্ধতার কথা জেনে সহসা বৈরী যারা
আমাদের বিচ্ছেদে তাদের উল্লাস
অবিশ্বাস ছড়ানো চন্দ্রড্রাগনেরা
এই দুর্যোগে আমি
কার হাত ছোঁবো
কার ওম নেবো তোমাকে ছাড়া?

বিস্তারিত»