৬ বছর বা ২২০৩ দিন – ২২তম পর্ব

এই পর্বটা আমাদের ইসলাম(১৯৯৬-১০০২) ভাইয়ের একটি পোষ্ট (ঘুম) http://www.cadetcollegeblog.com/islam1060/15846থেকে ইনফ্লুয়েন্স হয়েছে। ক্যাডেটদের সবচেয়ে প্রিয় বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ঘুম। তারা একটু সুযোগ পেলেই ঘুমিয়ে নিতে পারে। সাধারণ ঘুমের স্থান ছাড়া ক্যাডেটদের প্রিয় ঘুমের জায়গা হচ্ছে ক্লাসরুম। আমার একটা খসড়া হিসাবে একজন মোটামুটি ঘুমপ্রিয় ক্যাডেট তার ছয় বছরের ক্যাডেট জীবনের প্রায় ৬ মাস ঘুমিয়ে কাটায় শুধু মাত্র একাডেমিক ব্লকে ক্লাস ও প্রেপটাইমে ঘুমিয়ে।

হিসাবঃ
ক্লাসের ৭ পিরিয়ডের কমপক্ষে ৩ পিরিয়ড × ৪০ মিনিট = ১২০ মিনিট
প্রেপটাইমের কমপক্ষে ১ ঘন্টা = ৬০ মিনিট
দৈনিক সর্বমোট = ১৮০ মিনিট

এই হিসাবে ১ বছরে ২০০ দিন ক্লাসে ঘুমালে মোট হবে = ৩৬০০০ মিনিট বা
= ৬০০ ঘন্টা বা
= ২৫ দিন বা ১ মাস*
তাহলে ৬ বছরে ক্লাসে মোট ঘুমানোর পরিমান হবে = ১মাস × ৬
= ৬ মাস
*(২৫ দিনে একমাস হিসাবে কারণ শুক্রবারগুলো বাদ দিয়ে)

বিঃ দ্রঃ এই হিসাবে কারও চোখে কোন ত্রুটি পড়লে লেখককে কোনভাবে দায়ী করা যাবে না। এই হিসাব সম্পূর্ণরূপে লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বহিপ্রকাশ।

এক.
ঘুমের হিসাব নিয়ে অনেক কচলাকচলি করলাম। এবার মূল কাহিনীতে আসা যাক। কাহিনীটা আমি অন্যদের মুখ থেকে শুনেছি। আমরা তখন ক্লাস নাইন। সেদিন ছিল সরকারি ছুটি। স্বাভাবিকভাবে সেদিন প্রেপ ছিল না। তো মাগরিবের নামায পড়ে টি-ব্রেকের পর এসে ৩১৪ তে আরাম করে একটা ঘুম দিলাম। এই ঘুম নিয়েই কাহিনী হয়ে গেল।

ডিনারের ঘন্টা দিল। সবাই আস্তে আস্তে ডিনারের জন্য প্রস্তুত হতে লাগল। আমার রুমমেট ফেরদৌস, মেসবাহ, আনোয়ার সবাই আমাকে ডাকতে লাগল। আমার আর ঘুম ভাঙেনা। আমি ওদের বললাম তোরা যা আমি আসতেছি। একে একে ওরাসহ জুনিয়র ব্লকের সবাই চলে গেল। কিন্তু আমি ঘুমিয়েই রইলাম। ওইদিন ডিউটি মাস্টার ছিলেন আবু মুহম্মদ রইছ স্যার। ডাইনিং হলে আমার টেবিলমেট বড়ভাই আমার ক্লাসমেটকে জিজ্ঞাসা করলেন আমি কই? সে উত্তর দেয় মনে হয় হাসপাতালে।

তো ডিনার শেষ হল। আমার রুমমেট এসে দেখে আমি তখনও ঘুমিয়ে আছি। তারা বুঝে গেল এই বেটা ডিনারে যায়নি। তারা আমাকে ডাকতে লাগল। তাদের ডাকাডাকিতে অন্যরা মজা পেয়ে অন্য রুমের সব পোলাপাইন এসে ডাকাডাকি করতে লাগল। কিন্তু আমি বেচারা উঠি না। ২-৩ মিনিট ডাকার পর তারা মজা কম, দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। কেউ কেউ সাজেস্ট করল চোখে পানি দিতে, কেউ বলল হাসপাতালে নিয়ে যেতে। তাতে মোটামুটি একটা হুলুস্থুল ব্যাপার হয়ে গেল।

প্রথমে আমার চোখে-মুখে পানি দেয়া হল। কিন্তু তাতে কোন লাভই হল না। দুষ্ট প্রকৃতির কয়েকজন বিশেষ করে মশিক আমাকে কুতুকুতু দিতে লাগল। এবারে ব্যাপারটায় আর কেউ মজা পাচ্ছে না। সবাই সিরিয়াস দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। এরমধ্যে আমাদের ততকালীন অ্যাসিস্ট্যান্ট হাউস প্রিফেক্ট সালেহীন ভাই ঘটনাস্থলে উদয় হলেন। তিনি মত দিলেন একে বাথরুমে নিয়ে মাথায় পানি ঢালতে। ৪-৫ জন আমাকে চ্যাংদোলা করে বাথরুমের দিকে চলল। আমাকে বাথরুমের ট্যাপের নিচে বসাবার সময় আমার ঘুম ভেঙে যায়।

সবার কৌতুহলী জিজ্ঞাসা আমার কি হয়েছিল, কি অবস্থা এখন ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি হতবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম, আমি এখানে কেন? ডিনারে যাবি না তোরা? ডিনারের সেকেন্ড বেল কি দিয়েছে?

দুই.
আরেকটি ছোট ঘটনা শেয়ার করি। আমরা তখন ক্লাস টেন। ৩২৪ নং রুমের বাসিন্দা। একদিন আফটারনুন প্রেপের আগে রেস্টটাইমে জম্পেস একটা ঘুম দিলাম। আমার রুমে শুধু মেহেদী আছে। সে যাবার সময় আমাকে ডাকতে এল। আমার আরামের ঘুম সে ভেঙে দিল। অনেক বড় অপরাধ। আমার মেজাজ খুব বেশি বিগড়ে গেল। আমি ওকে মারার জন্য ওর দিকে তেড়ে গেলাম। ওকে ঘুষি মারার জন্য আমার মুষ্ঠি তুলে এগিয়ে গেলাম। কিন্তু মারলাম না। হাজার হোক ক্লাসমেট তো, আর ও তো দোষের কিছু করেনি। কিন্তু রাগে ঘুষিটা ঠিকই মারলাম, তবে সেটা মেরেছিলাম দরজার পাশের সুইচবোর্ডে। সুইচবোর্ড ভেঙে গেল আর হাতে প্রচন্ড ব্যাথা পেলাম। এরপর থেকে আমি ঘুমিয়ে থাকলে মেহেদী সহজে আমাকে ডাকতে যেত না। ডাকলেও দূর থেকে বা দরজার বাইরে থেকে ডাকত।………………………………(চলতে থাকবে)

৬৯৫ বার দেখা হয়েছে

৩ টি মন্তব্য : “৬ বছর বা ২২০৩ দিন – ২২তম পর্ব”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।