যাতনাকে সরিয়ে পাশে
যাই লিখে যাই কবিতা
ঝড়ো হাওয়ায় পড়ে বক
হয় নিদারুণ ছবি তা।
বন্ধু জোটে ভক্ত জোটে
জোটে আঁতেল সমালোচক
জোরসে হবে লেখালেখি
যা খুশি তা বলুক লোক।
লোকের বলায় কি আসে যায়,
যা খুশী তা বলুক লোক,
আম জনতার মনের কথাই
কবির পদ্য, কবির শ্লোক!
যাতনাকে সরিয়ে পাশে
যাই লিখে যাই কবিতা
ঝড়ো হাওয়ায় পড়ে বক
হয় নিদারুণ ছবি তা।
বন্ধু জোটে ভক্ত জোটে
জোটে আঁতেল সমালোচক
জোরসে হবে লেখালেখি
যা খুশি তা বলুক লোক।
লোকের বলায় কি আসে যায়,
যা খুশী তা বলুক লোক,
আম জনতার মনের কথাই
কবির পদ্য, কবির শ্লোক!
চট্টগ্রামে পানির ধারে আমার বড় হওয়া। শহরের ভেতরেই ফয়েজ লেক, পা বাড়ালেই কর্ণফুলীর তীর আর পতেঙ্গা সৈকত, একটু দূরে কাপ্তাই লেক, কক্সবাজার, টেকনাফ, উখিয়া — কত দিন যে কেটেছে এসব জায়গায়! পানির সেই টান এখনো ছাড়েনি। ভাগ্যক্রমে সহধর্মিনীরও একই নেশা। বেড়ানোর সুযোগ পেলেই আমরা খুঁজে বের করি পানির কাছাকাছি কোন জায়গা। ঘুরতে গিয়ে এমন বিভিন্ন জলাশয়ের পাশে তোলা ছবি জোর করে জুড়ে দিয়ে তৈরি এই এলেবেলে জলজ প্রেমের ছবিগল্প।
বিস্তারিত»বিনিময়
টাকাটা আমার প্রয়োজন ছিল, তবে বিনিময়টা যে এধরনের হবে সেটা আমার ধারনার ভেতরেও ছিলনা!
একটা ‘যা ইচ্ছে তাই’ ধরনের স্বাধীন শৈশব আমি পেয়েছিলাম। আমি সাঁতার শিখেছিলাম সবার অজান্তে এক বিশাল বাঁশঝাড়ের তলা দিয়ে বয়ে যাওয়া সদ্য আসা বানের পানির প্রবল স্রোতের ভেতরে এক দঙ্গল পিঁপড়ের সাথে ঘোলা পানি খেতে খেতে! আগের দিন সারাদিন ধরে আমি এবং আমার বন্ধুরা সবাই মিলে ঝাড়কাটা নদী থেকে এই বানের পানিকে আমন্ত্রন করে এখানে ডেকে এনেছিলাম।
বিস্তারিত»অন্ধকার ঘরটার স্যাঁতসেঁতে বিছানায় শুয়ে কোঁকাতে কোঁকাতে বিড়ি ফোঁকে জুন্নুন মিয়া । এ মুহূর্তে তামাকের গন্ধকে দমিয়ে দিয়ে বাতাসে পোলাও-মাংসের গন্ধ । মেয়ে আর নাতনী আসছে শহর থেকে । জুন্নুন মিয়ার স্ত্রী সালেহা বেগম মরচে ধরা নড়বড়ে শরীর নিয়েই রান্নাবান্না আর ঘরদোর গোছগাছের তদারকিতে নেমে গেছে । জুন্নুন মিয়াকে অ্যান্টাসিড এগিয়ে দেয়া,পান-সুপারি পিষে দেয়া এমনকি ঝগড়া করারও ফুরসত নেই তার। কাজের লোকের আকাল পড়েছে এই গাঁয়েও।
বিস্তারিত»মানুষজন ইদানিং বুঝে রসিকতা করে নাকি দৈব্যক্রমে ঘটে যায় সেটা চিন্তা করি। সেনানিবাস থেকে বাসে করে অফিস যাচ্ছি। ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের এই রুটে ছাড়া নতুন বাস। জ্যামে আটকা পড়ে বিরক্ত কন্ডাক্টর ছেড়ে দিল ধুমধাড়াক্কা হিন্দী গান। মিনিট দুয়েক সহ্য করার পর পিছেন থেকে গোটা কয়েক যাত্রী বজ্রনিনাদে বকাঝকা শুরু করলেন, “ঐ শালা বান্দীর বাচ্চা হেল্পার, এইটা ইন্ডিয়া পাইছস? গান ছাড়লে বাংলা গান ছাড়!” ঘটনার আকস্মিকতায় কন্ডাক্টর তড়িঘড়ি করে গান বন্ধ করে বক্স থেকে আরেকটি সিডি বের করে ছেড়ে দিতেই হেসে দিলাম।
বিস্তারিত»: দু’দিন কথা না হলেই ভেতরটা কেমন করে! মনে হয় বুঝিবা মাস পেরিয়ে বছর হতে চলল!
: ভালো আছো?
: থাক, যদি বুঝতে?
: তুমি সুন্দর ক’রে চোখে কাজল দিও ঠিক,
কপালে একটা ছোট টিপ আর ঠোঁটে লিপস্টিক!
: ইস, আমার বয়েই গেছে।
আচ্ছা, কোনটা বেশি সুন্দর লাগে কাজল, টিপ না লিপস্টিক?
: শৈশবে কপালের টিপ খুব লাগতো,
বিকেলের রোদ খানিক মরে এলে আমরা সত্যধামের ছাদে খেলতে যেতাম। আমাদের নিজেদের অতো বড় ছাদ থাকতে সত্যধামের ছাদে খেলতে যাওয়া কেনো সেটি একটি প্রশ্ন হতে পারে বটে কিন্তু উত্তর কে দেবে?
ময়মনসিংহে আমাদের বাবা চাচাদের বাড়িগুলো পাশাপাশি। আমাদের তিনটে বাড়িই দোতলা; সাদা রঙের। বড় চাচার বাড়িটি মাঝে, হাতের ডানে আমাদের বাড়ি; বাঁয়ে ছোট চাচার। আমাদের বাড়িটির সামনে বড়সড় একটি বাগানবিলাস আছে; ডালপালা মেলে সেটি তিনতলার ছাদ অবধি ছুঁয়েছে।
বিস্তারিত»
আমি অশ্রু সজল নয়নে
অস্থির আজল বনপাংশুল এক প্রেমিক
তৃষ্ণিত সাম্পান আমার, তোমার নদীতে
চলছে দীর্ঘ দিন ঠিকঠিক ।
অথচ মাঝে মাঝেই তোমাকে হারিয়ে ফেলি
মহুয়ার প্রান্তরে, কোন এক কাশ বনে,
আবার প্রান্তরের গান নিয়ে মন্দিরা বাঁজিয়ে
তোমায় পেতে চাই আমার প্রাণে।
বিশ্বাস করো, কি আকুতি আমার
তোমাকে পাবার, তোমার কাছে থাকার;
উদাস আর নিদ্রাহীন রাত্রী ফেলে
তোমার হৃদয়ে ফিরে আসার।
জীবনের পরিপ্রেক্ষিতেই সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা অকৃত্রিম।নতুন প্রান জন্মদানেরগৌরব,আনন্দের অনুভূতি অতুলনীয়।সেই সাথে চাওয়াও থাকে সন্তানের জন্য নিরাপদ,স্বচ্ছল,সৃজনশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার।এ আকাঙ্খা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি থেকেই।মানুষ নামের শব্দটির প্রতি সুবিচারের আশা থেকেই।
এই বইয়ে একজন মা তাঁর অনাগত সন্তানকে উদ্দেশ্য করে বলে গেছেন জীবনের কথা,কঠিন কঠোর বাস্তবতার কথা।বলে গেছেন মানবসৃষ্ট সমাজের নিয়মের বেড়াজালের কথা।ভারসাম্যহীন সেই সমাজের অন্ধকারে মানুষের স্বাধীনতা নামক আকাঙ্খাকে হারিয়ে ফেলার কথা।নিরন্তর বয়ে চলা জীবন স্রোতের গতিতে মানুষ নামক শ্রেষ্ঠ প্রাণীর অস্তিত্বের নৌকা বেয়েচলার কথা।শুনিয়ে গেছেন হৃদয় আর মস্তিস্কের অনুশাসিত হবার গল্প।আবেগ ,চিন্তা ভাবনাকে নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধে আবদ্ধ করে ফেলার প্রক্রিয়ার গল্প।
বিস্তারিত»এই পুষ্পনগরীতে
একদিন বিচরণ ছিলো আমাদেরও।
সন্ধ্যার মেঘমালায়
বুকে মাথা রেখে
কান্নায় ভাসাতাম
কত রাত!
রাতজাগা দুটি পাখি
অনায়াসেই নির্ঘুম অপেক্ষায়
গুনতো ক্লান্তিহীন প্রহর।
ভোরের অন্ধকার মাড়িয়ে
একরাশ আলো নিয়ে সাথে
ফিরতাম রোজ তার কাছে –
পথ চেয়ে থাকা
নিষ্পলক চোখের নোনাস্রোত তার
যখন যেতো শুকিয়ে!
বিস্তারিত»[ কবির জন্মদিনে স্মরণ ও শ্রদ্ধা হিসেবে পুরোনো এ লেখাটাকেই সিসিবি-র ফোরামে শেয়ার করলাম ]
স্বপ্ন দেখার সক্ষমতাই সম্ভবত মনুষ্য জীবের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ স্বাতন্ত্র। স্বপ্ন দেখতে পারে বলে মানুষ নিয়ত নির্মাণ করে আপন স্বভাব, সভ্যতা, সৌকর্য; তার আপন প্রভায়। মানুষ মাত্রেই বলতে পারি স্বাপ্নিক। স্বপ্নদ্রষ্টা তাই হয়তো সবাই। কিন্তু স্বপ্নস্রষ্টা ক’জন! কবিরা সম্ভবত স্বপ্নস্রষ্টাদের মাঝে অগ্রগণ্য।
একজন সহজ সরল সাবলীল বিনয়ী মানুষ,
বিস্তারিত»প্রথম কোন শিক্ষকের বিদায়ঃ
যে শিক্ষক আমাদের প্রথম পাক্ষিক পরীক্ষাটি নিয়েছিলেন এবং যাঁর পরীক্ষায় আমি আমাদের সেকশনে প্রথম পরীক্ষাতেই সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলাম, তিনিই দুর্ভাগ্যক্রমে সবার আগে আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন জনাব হাফিজ উদ্দিন খান। মূলতঃ পদার্থ বিদ্যার শিক্ষক হলেও তিনি সপ্তম শ্রেণীতে আমাদের অঙ্ক ও জ্যামিতির ক্লাসগুলো নিতেন। তিনি অত্যন্ত স্বাধীনচেতা মানুষ ছিলেন। ঐ অল্প ক’দিনেই আমরা তাঁর কাছ থেকে অনেক ভালো ভালো উপদেশ পেয়েছিলাম।
কথায় কথায় আসো তুমি,
জাপটে ধরো মনটাকে,
উস্কে দিয়ে বাধ্য করো,
কঠিন পণে আটকাতে।
একটু পরেই একটুখানি
মিষ্টি কথায় যাও ভিজে,
সব ভুলে যাও এক নিমেষে
একটু আদর আহ্লাদে!
বরফ যেমন গলে তাপে,
তেমন গলো অশ্রুতে,
কঠিন তোমার বাহিরখানি
তরল ভেতর দিকটিতে।
গলেই যদি যাবে তুমি,
আর এসোনা ক্ষণে ক্ষণে,
এই কবিতাটা প্রায় এক দশক আগে কোনও এক পূর্ণিমার মাঝরাত্তিরে শহীদুল্লাহ হলের পুকুরপাড়ে বসে লেখা। জীবনবাবুর কোবতের অত্যধিক ছায়া থাকায় এতদিন ন্যাপথালিন দেয়া দেরাজে রেখে দিয়াছিলাম।
আজ জীবনবাবুর মৃত্যুদিবসে সে দেরাজ খুলে দিলাম। সকলের জীবন আনন্দময় হোক।
বিস্তারিত»সে আমায় বলেছিল, “ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল, ভালো থেকো!”
মুহূর্তেই আমার শরীর, মন বকুলের গন্ধে ভ’রে ওঠেছিল।
আ-হা, সেই প্রিয় নারী, প্রিয় কবিতা তোমার কন্ঠে যেন প্রিয় সুর হয়ে বেজে ওঠে …
তোমার ছবির দিকে অপলক তাকিয়ে থাকি, এই অবেলায়
চোখ সরেনা, মনও ফেরেনা, পথ চলা থেমে যেতে চায়।
উনুনের পুড়ে যাওয়া কাঠ যেমন গনগনে লাল হয়ে থাকে,