প্রিয় বই- ‘হাত বাড়িয়ে দাও’ – ওরিয়ানা ফাল্লাচি

জীবনের পরিপ্রেক্ষিতেই সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা অকৃত্রিম।নতুন প্রান জন্মদানেরগৌরব,আনন্দের অনুভূতি অতুলনীয়।সেই সাথে চাওয়াও থাকে সন্তানের জন্য নিরাপদ,স্বচ্ছল,সৃজনশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার।এ আকাঙ্খা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি থেকেই।মানুষ নামের শব্দটির প্রতি সুবিচারের আশা থেকেই।

এই বইয়ে একজন মা তাঁর অনাগত সন্তানকে উদ্দেশ্য করে বলে গেছেন জীবনের কথা,কঠিন কঠোর বাস্তবতার কথা।বলে গেছেন মানবসৃষ্ট সমাজের নিয়মের বেড়াজালের কথা।ভারসাম্যহীন সেই সমাজের অন্ধকারে মানুষের স্বাধীনতা নামক আকাঙ্খাকে হারিয়ে ফেলার কথা।নিরন্তর বয়ে চলা জীবন স্রোতের গতিতে মানুষ নামক শ্রেষ্ঠ প্রাণীর অস্তিত্বের নৌকা বেয়েচলার কথা।শুনিয়ে গেছেন হৃদয় আর মস্তিস্কের অনুশাসিত হবার গল্প।আবেগ ,চিন্তা ভাবনাকে নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধে আবদ্ধ করে ফেলার প্রক্রিয়ার গল্প।

এই আমাদের জীবন।উন্নতির পিছে ছুটে চলতে গিয়ে আকাক্ষিত অনুভূতিগুলোকে হারিয়ে ফেলা। তারপর ও সুড়ঙ্গের শেষ মাথায় আলোর প্রত্যাশার মতই  সুন্দর আগামীকালের স্বপ্নে বিভোর হয়ে কালযাপন করা।কে জানে?হয়তো, আলো আসবেই!

২,০১১ বার দেখা হয়েছে

৬ টি মন্তব্য : “প্রিয় বই- ‘হাত বাড়িয়ে দাও’ – ওরিয়ানা ফাল্লাচি”

  1. ওমর আনোয়ার (৮২-৮৮)

    আমার প্রিয় লেখক ও প্রিয় মানুষ আনু মুহাম্মদ চমৎকার অনুবাদ করেছেন বইটার। সংহতি থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। অবশ্য পাঠ্য সবার জন্য। ব্লগে বইটার কথা জানাবার জন্য সৌরভ তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।


    Pride kills a man...

    জবাব দিন
    • সৌরভ(০৬-১২)

      স্বাগতম ভাইয়া 🙂
      একটানে পড়ে ফেলেছি ভাইয়া। অনুবাদ আসলেই উঁচুমাপের করেছেন।অনুবাদে সাধারণত এরকম শক্ত ভাষার গাঁথুনি দেখা যায় না।
      আর হ্যা বইটা সবার জন্য আসলেই অবশ্য পাঠ্য বলেই মনে করি। অন্তত যারা বই পড়ে আরকি 🙂


      মুক্তি হোক আলোয় আলোয়...

      জবাব দিন
    • সৌরভ(০৬-১২)

      ছোট্ট একটা বই ভাইয়া।কিন্তু কি বিশাল তার জীবন দর্শনের পরিধি। অনেকটা মোহগ্রস্ত অবস্থাতেই লিখেছিলাম নিজের ভাবনা গুলো। ছোট করেই। ধন্যবাদ আপনার মতামত দেবার ও কস্ট করে পড়ার জন্য 🙂


      মুক্তি হোক আলোয় আলোয়...

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।