কয়েকদিন ধরে ডান চোখটা লাফাচ্ছিল। যে সে লাফ নয়। একএক বার নিজে নিজে বন্ধও হয়ে যায়। লাফালাফির ব্যাপারটা ধরতে পেরেছিলাম,বন্ধের ব্যাপারটা বুঝতে পারলাম বিশ্রীভাবে। অনেকদিন পর নিজের শহর যশোরে গিয়েছিলাম। এখানে এলে আমার প্রথম কাজ সকাল সকাল বাজারে যাওয়া। সকাল সাতটার মধ্যে চাতালে মাছ চলে আসে। বিলের তাজা মাছ। মাছের প্রতি আমার নিজের কোন আগ্রহ নেই। মেয়েদের জন্যে বাজারে যাই। একেবারে লাফানো ট্যাংরা, একটু আধটু হাটতে পারা চিংড়ি এসব কিনে নিয়ে আসি একগাদা।
বিস্তারিত»প্রথম দিনের গল্প
২০০৪ সালের ১৪ ই এপ্রিল ছিলাম ময়মনসিংহে। আমার খালার বাসায় চলে এসেছিলাম। পহেলা বৈশাখ ছিল সেদিন। ক্লাস সেভেন পড়ুয়া ছেলে হিসেবে এই দিনে একটু বাইরে গিয়ে ঘুরে বেড়ানোটাই স্বাভাবিক ছিল আমার জন্য। কিন্তু প্রচন্ড নার্ভাসনেস এর কারনে সেইদিন কোন কিছুই আর স্বাভাবিক লাগছিল না আমার। পরদিন জয়নিং ডেট.. মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে। চিন্তায় সেই রাতে ঘুম হয় নি ঠিকমতন। আচ্ছা, ধান ভানতে গিয়ে আমি শিবের গীত কেন গাচ্ছি?
বিস্তারিত»কুকিং ইজ লাভ মেইড ভিসিবল
পূর্বকথনঃ দেশে থাকাকালীন সময়ে কাঁচা মাছ-গোস্ত ছুঁয়ে দেখার সৌভাগ্য হয়নি আমার। পড়াশোনা, কবিতা, ডিবেট, অথবা প্রেম বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে হেঁশেলে যাওয়ার ফুরসত মেলেনি কখনো। খাবারদাবারে মন ছিলনা বলেই হয়তো দেখতে প্যাকাটি ছিলাম। মা চিরকাল বলে এসেছেন আমার চড়ুই পাখির আহার!
পশ্চিমে এসে চারদিকে সব গুণী মানুষের ভীড়ে দেখলাম আমি একটা লেবু অবধি কাটতে পারিনা ভাল করে। বন্ধু সুদীপা সসারে আমার কাটা লেবু দেখে বলেছিল,
বিস্তারিত»বিভাজন
একটি পিৎজা কয়েকজনে মিলে
ভাগাভাগি করে খেয়ে নেয়া যায়।
জলের একটি বোতল খুলে
কয়েকজন মিলে জল পান করা যায়।
কোথাও দাঁড়াবার একটু ঠাঁই খুঁজে পেলে
আরও কয়েকজনকে পাশে ডেকে নেয়া যায়।
একটু হাসি ঠোঁটের কোণে খেলেই যদি যায়,
আর ক’জনাকেও ডেকে তার ভাগ দেয়া যায়।
কিন্তু একটি মন, তা সে যতই বড় হোক না কেন,
বিস্তারিত»ইচ্ছেদ্রবণ : ডুবি সারাক্ষণ
ইচ্ছেগুলো কেমন যেনো লাগছে ভীষণ ভারী !
মনের আকাশ জুড়ে মেঘেরা খুব করছে বাড়াবাড়ি !
বুকের নোঙ্গর ছুঁয়ে জলের বলো এ কেমনতরো ধারা !
প্রিয় স্পর্শ পেলেই কেবল মুক্তো দানা হয়ে অবাক গড়িয়ে পড়া !
আবেগ সূতোয় চাই ওরে যতো গাঁথবো অনুক্ষণ ।
স্ফটিক শাদার বিম্বে সে ততো ভাঙ্গে যখন তখন ।
বলো ! জলের সঙ্গে যদি তোমার অমনতরো জেলাসী !
বিস্তারিত»নববর্ষের প্রীতিসম্ভাষণ
বাঙ্গাল কবিয়াল ভনে শোনে পূণ্যবান
আইলোরে আইলোরে নয়া বাঙ্গালা সন
যেসবের ফুল পোঁতা বাঙ্গালার মাটিত
বাঙ্গালার লাগি পুষে বহুত পিরীত
বাঙ্গাল বলিয়া সদা গরবীত হয়
তাহাদের সকলি শুভ হইবে নিশ্চয়
তাহাদেরই তরে মম প্রীতিসম্ভাষণ
নববর্ষে লভ সুখ, ধন ও মান।
বিস্তারিত»
ম্রিয়মান মুঠোফোন দিলোনা বসন্ত জানতে
কে কখন তারে বেজেছিলো !
অনিরুদ্ধ কথকতা শিউলির ভোরে
মালায় মালায় গেঁথেছিলো !
কে কখন তারে বেজেছিলো !
বৃষ্টি ছাঁটে ঈষত ভেজা
কদম ছুঁয়েছিলো !
কে কখন নৈঃশব্দের ভীড়ে
কথার পসরায় সাজিয়ে নৌকো
সাগর পাড়ি দেবে ভেবেছিলো !
কে কখন শীতের শিশিরে
মগ্ন পায়ে হেঁটেছিলো চুপি চুপি !
অনাবিল মেঘের ভেলায় স্তুপ স্তুপ
কথা ফেরী করে নিতে চেয়েছিলো !
ছোট ছোট বিষয়
আমেরিকা ও কানাডা প্রবাসীর মধ্যে পার্থক্য ধরবেন কিভাবে? জিজ্ঞেস করুন অমুক জিনিসটার দাম কত। কানাডা বাসী বলবেন অত ইউএস অথবা অত কানাডিয়ান ডলার। অন্যজন বলবেন অত “টাকা”। একজন সৌদি আরবে থাকেন বা ছিলেন অনেক দিন। তিনি পুরো সৌদি আরব নামটা বলবেন না, বলবেন “সৌদি”। জার্মানীতে থাকেন যারা তারা দেশটাকে বলেন “জারমান”। মালয়েশিয়ার বিশাল প্রবাসী জনগন আপনার পরিচয় জানতে জিজ্ঞেস করবে, “ভাই, আপনি কি বাংলা?” বাঙালি বা বাংলাদেশি নয়- সরাসরি একে বারে “বাংলা”।
বিস্তারিত»মা

সাড়ে বারো বছর বয়স থেকে আমি ঘর ছাড়া। ১৯৭৬ সালের আগষ্ট মাসে সেই যে ক্যাডেট কলেজে ঢুকলাম তারপর থেকে ছুটি ছাটায় বাড়ি যাই গেস্টের মত। দুর্জনেরা বলে এতে বাড়ির সাথে নাড়ির সম্পর্ক কমে যায়। আমি ব্যাপারটাকে সেভাবে দেখিনা। ক্যাডেট কলেজ বারো বছরের একটা ছেলেকে উপরে উপরে শক্ত হতে শেখায়।বন্ধুরা হয়ে যায় ভাইয়ের মত। ক্যাডেট কলেজের ঘেরাটোপ থেকে বাইরে এসে আড়মোড়া ভাংতে সময় লাগে।মানুষ ভুল বোঝে।
বিস্তারিত»বিদায় ভোকাবুলারি মাস্টার
কেবল ক্লাশ সেভেনে কলেজে ঢুকলাম।। ছোট ছোট চুলে প্রায় টাক মাথায় ক্লাশে বসে আছি।। দিনটা মনে নাই। তবে সেটা ছিল ফিফথ পিরিয়ড। খাটো মতন সাদা চুলের এক স্যারের প্রবেশ ক্লাশে। সবাই চুপ।। ফর্ম শান করান হল। সব স্যার বলত ” seat easy” কিন্তু ইনি বললেন কিছুটা অন্যরকম ” seat to facile ” আমরা কোন কিছু না বুঝে আগের মতই থাকলাম। স্যার ব্যাপার টা বুঝে বোর্ডে বড় বড় করে লিখলেন FACILE.
বিস্তারিত»সাগর বেলায়
শেষ বিকেলে সাগর তীরে ভেজা বালির উপর হাঁটছি। পেছনে ঝাউবন আর পাহাড় সবুজ বনানীতে আচ্ছন্ন। সূর্য ডোবার পালায় মেঘ মুক্ত আকাশে রঙের খেলা। কোলাহল থেমে গেছে। এক প্রবীন ভারতীয় দম্পতি তখনো লম্বা চেয়ারে বসে। ভদ্রলোকের মনোযোগ হাতের চৌকশ যন্ত্রে। হয়তো কিছু লিখছেন। জীবনের শেষ বেলা এই সাগর বেলায় সূর্য ডোবার ক্ষনে সমান্তরাল কোন উপলব্ধি। মহাশয়ার ব্যাস্ততা ভিন্ন মাত্রায়। বিশাল হাতব্যাগের ভেতরে কিছু খুঁজছেন, বিরক্তির আভিব্যাক্তি স্পষ্ট।
বিস্তারিত»আর দীর্ঘশ্বাস নয় (অনুবাদ কবিতা)
আর দীর্ঘশ্বাস নয়,
হে রমণীকূল, আর কোন দীর্ঘশ্বাস ফেলো না।
পুরুষেরা তো চিরকালই শঠ ছিলো;
তাদের এক পা থাকে সাগরে তো আরেক পা তীরে,
কোনও একটা কিছুতে তারা চিরবিশ্বস্ত থাকে না।
তাই কোন দীর্ঘশ্বাস ফেলো না।
তাদের যেতে দাও,
আর তোমরা প্রফুল্ল থেকো,
দুঃখের সকল ধ্বনিমালাকে তুচ্ছ করে।
আর কোন সাদাসিধে গান করোনা,
আর কোন বিষন্ন অবসাদের
ভারী গান গেয়োনা।
এ তোমার ভিন্ন স্পর্শ

তোমা থেকে দুরে কতই না রাত কাটিয়েছি,
অথচ তোমার শীতল স্পর্শ
আমি অনুভব করেছি।
যখন আমি ছিলাম রুয়ান্ডায়,
অগনিত শিশু, নারী ও বৃদ্ধের অংগ
প্রত্যঙ্গহীন বিকলাঙ্গ লাসের সাথে
তোমার শীতল স্পর্শ
আমি অনুভব করেছি।
সুদান বা কঙ্গোতে দেখেছি-
অগনিত ক্ষুধার্ত-মানব সন্তানের
খাদ্য নিয়ে কাড়াকাড়ি।
অবরোধের নিস্পেষনের যাতাকলে পড়ে
ইরাক ও লিবিয়ার অন্নহীন,
দিনলিপিঃ Bon Appetit

বৃষ্টিভেজা শনিবারে বন্ধু অরিন্দমের সাথে থাই কুজিনে খেতে গিয়েছিলাম। মাইল পাঁচেক ড্রাইভ করতেই তার পছন্দের রেস্তোরাঁটিতে পৌঁছে গেলাম। আমরা ভোজনবিলাসী মানুষ কিন্তু খাই ক্যালরী মেপে। দু’জনের জন্য খাবার অর্ডার করলে কখনোই শেষ করতে পারিনা। তাই বলি, তোমার পছন্দের সুপ আর এপেটাইজার বলো, আমি অর্ডার করছি মেইন ডিশ। দু’জন মিলে ভাগাভাগি করে খাওয়া যাবে। ও চাইলো ফ্রাইড ক্যালামারি আর কোকোনাট সুপ। আমি চিংড়ি নাকি চিকেন নেবো এই নিয়ে ‘ইনি মিনি’
বিস্তারিত»বৃষ্টি -১০
সমস্ত বিকেল ধরে
সাদাটে আকাশে
কে যেন
আঁকছেই
মেঘের পরে মেঘ,
খসখস খসখস –
৩বি ৪বি পেন্সিলে
জানলায়
থেকে থেকে’
সূঁচলো সরেখ বিদ্যুৎ।
গ্রীলের ছায়া
দেয়ালে ঝনঝন করে ওঠে –
মহাসাগর পাড়ি দিয়ে
হাইওয়ে ধরে ছোটে
টিনের চাল, থিরথির কচুপাতা
ডালের বড়া, মায়ের সবুজ শাড়ি
ধু ধু পার্কিং লটে
বৃষ্টির বাজনা দেখে
উনুনে-ফুটন্ত-ভাতের ঘ্রাণ আসে
আসে ডিমের সস্তা কারি;