বৃষ্টি -১০

সমস্ত বিকেল ধরে
সাদাটে আকাশে
কে যেন
আঁকছেই
মেঘের পরে মেঘ,
খসখস খসখস –
৩বি ৪বি পেন্সিলে

জানলায়
থেকে থেকে’
সূঁচলো সরেখ বিদ্যুৎ।
গ্রীলের ছায়া
দেয়ালে ঝনঝন করে ওঠে –
মহাসাগর পাড়ি দিয়ে
হাইওয়ে ধরে ছোটে
টিনের চাল, থিরথির কচুপাতা
ডালের বড়া, মায়ের সবুজ শাড়ি

ধু ধু পার্কিং লটে
বৃষ্টির বাজনা দেখে
উনুনে-ফুটন্ত-ভাতের ঘ্রাণ আসে
আসে ডিমের সস্তা কারি;

এমন দিনে
সিডি কিংবা ল্যাপটপে নয়,
প্রাচীন কোন ক্যাসেটেপ্লেয়ারে
মায়ের পছন্দের গানগুলো
বাজাতে বড় ইচ্ছে করে

৩,৮৫৪ বার দেখা হয়েছে

২৫ টি মন্তব্য : “বৃষ্টি -১০”

  1. মোকাব্বির (৯৮-০৪)

    কর্কশ শব্দে ফাটল ধরলো আকাশে। ভাঙা টুকরো অবশ করে দিতে চাইছে উষ্ণ রক্ত-মাংস। কাঁপা হাতের কুঠুরীতে নিঃশব্দে পুড়ছে আমেরিকান স্পিরিট। সোঁদা মাটির গন্ধ যদি গ্রেইট ভ্যালু টেট্রাপ্যাকে কিনতে পারতাম? 🙂

    বরাবরের মত অপূর্ব। কড়া রোদ উঠেছে। তবুও যেন বৃষ্টির গন্ধ পেলাম! 🙂


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
  2. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    আকাশজোড়া মেঘ থাকলেও পাত্তা দেইনি মোটে। বিকেল থেকে শিলাবৃষ্টি শুরু হল। বিজলী বাতি চলে গিয়ে পুরো এলাকা আঁধারে ডুবে ছিল ছয় ঘণ্টার জন্য! আশেপাশে গ্রোসারী, রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে সব দোকানপাট বন্ধ করে দিতে হয়েছে। ট্র্যাফিক বাতিও ছিলনা রাস্তায়। নুয়ে পরেছে সব প্যানসি আর বেগুনি টিউলিপ। স্প্রিং ফ্লাওয়ার সব লুটিয়ে পরেছে পথের ধারে। রাত প্রায় একটায় পাওয়ার এলে আমার কন্যারত্ন বলল, মনে হলো হলোকস্ট থেকে বেঁচে এলাম!

    বরাবরের মত অনবদ্য, নূপুর দাদা! ক্যাম্নে পারো তুমি??

    জবাব দিন
  3. সাইদুল (৭৬-৮২)

    পুরো কবিতাটিই অসাধারণ, অনেকক্ষণ ধরে সমালোচকের চোখে দেখার চেষ্টা করলাম শেষ পর্যন্ত মনে হলো,

    নুপুর,
    তুমি সারা দুপুর
    লিখছো যেসব পেন্সিলে

    সেসব ছবি
    হচ্ছে কপি
    হাজার মনের স্টেন্সিলে


    যে কথা কখনও বাজেনা হৃদয়ে গান হয়ে কোন, সে কথা ব্যর্থ , ম্লান

    জবাব দিন
  4. লুৎফুল (৭৮-৮৪)

    এখানে এখন আবার পড়লাম । আবার আপ্লুত হলাম ।
    সরেখ বিদ্যুত আলো জ্বেলে যেনো ঝকঝকে তুলে আনলো ৩বি ৪ বি পেনসিলের ছাপে স্মৃতিপট জুড়ে থাকা বৃষ্টিসিক্ত সব সময়, স্থান আর ঘ্রাণ !
    আহা বৃষ্টির কাছে যাবার লাগি উন্মুখ হলো প্রাণ ।

    জবাব দিন
  5. নাফিস (২০০৪-১০)

    ক্যাসেট প্লেয়ারে পঙ্কজ উদাস এর গান শুনতো আব্বু। আমার তখন ছোটবেলা। ক্যাসেট প্লেয়ার মানেই আমার কাছে শৈশব এর কোনো অলস বিকালে পঙ্কজ উদাসের গান।
    কবিতা নিয়ে কোন জ্ঞান নেই আমার , তবুও অনেক কবিতা পড়ে ভালো লাগে কেন জানি। এবারও একই অনুভূতি। জানিয়ে গেলাম কমেন্ট করে 🙂

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।