কে কখন তারে বেজেছিলো !
অনিরুদ্ধ কথকতা শিউলির ভোরে
মালায় মালায় গেঁথেছিলো !
কে কখন তারে বেজেছিলো !
বৃষ্টি ছাঁটে ঈষত ভেজা
কদম ছুঁয়েছিলো !
কে কখন নৈঃশব্দের ভীড়ে
কথার পসরায় সাজিয়ে নৌকো
সাগর পাড়ি দেবে ভেবেছিলো !
কে কখন শীতের শিশিরে
মগ্ন পায়ে হেঁটেছিলো চুপি চুপি !
অনাবিল মেঘের ভেলায় স্তুপ স্তুপ
কথা ফেরী করে নিতে চেয়েছিলো !
আর দীর্ঘশ্বাস নয় (অনুবাদ কবিতা)
আর দীর্ঘশ্বাস নয়,
হে রমণীকূল, আর কোন দীর্ঘশ্বাস ফেলো না।
পুরুষেরা তো চিরকালই শঠ ছিলো;
তাদের এক পা থাকে সাগরে তো আরেক পা তীরে,
কোনও একটা কিছুতে তারা চিরবিশ্বস্ত থাকে না।
তাই কোন দীর্ঘশ্বাস ফেলো না।
তাদের যেতে দাও,
আর তোমরা প্রফুল্ল থেকো,
দুঃখের সকল ধ্বনিমালাকে তুচ্ছ করে।
আর কোন সাদাসিধে গান করোনা,
আর কোন বিষন্ন অবসাদের
ভারী গান গেয়োনা।
এ তোমার ভিন্ন স্পর্শ

তোমা থেকে দুরে কতই না রাত কাটিয়েছি,
অথচ তোমার শীতল স্পর্শ
আমি অনুভব করেছি।
যখন আমি ছিলাম রুয়ান্ডায়,
অগনিত শিশু, নারী ও বৃদ্ধের অংগ
প্রত্যঙ্গহীন বিকলাঙ্গ লাসের সাথে
তোমার শীতল স্পর্শ
আমি অনুভব করেছি।
সুদান বা কঙ্গোতে দেখেছি-
অগনিত ক্ষুধার্ত-মানব সন্তানের
খাদ্য নিয়ে কাড়াকাড়ি।
অবরোধের নিস্পেষনের যাতাকলে পড়ে
ইরাক ও লিবিয়ার অন্নহীন,
বৃষ্টি -১০
সমস্ত বিকেল ধরে
সাদাটে আকাশে
কে যেন
আঁকছেই
মেঘের পরে মেঘ,
খসখস খসখস –
৩বি ৪বি পেন্সিলে
জানলায়
থেকে থেকে’
সূঁচলো সরেখ বিদ্যুৎ।
গ্রীলের ছায়া
দেয়ালে ঝনঝন করে ওঠে –
মহাসাগর পাড়ি দিয়ে
হাইওয়ে ধরে ছোটে
টিনের চাল, থিরথির কচুপাতা
ডালের বড়া, মায়ের সবুজ শাড়ি
ধু ধু পার্কিং লটে
বৃষ্টির বাজনা দেখে
উনুনে-ফুটন্ত-ভাতের ঘ্রাণ আসে
আসে ডিমের সস্তা কারি;
নির্লজ্জ
জল নুপুরের শব্দে, আমাকে ফেলে
ওরা প্রায় বাইরে চলেই এসছিল
নির্লজ্জের মত ……
ভ্রুকুটি আর চোখ রাঙ্গানিতে
ফিরে গেল ওরা ওদের
শব্দহীন আলোহীন ঘরে
থাকুক তো ওরা গভীর অন্ধকারে
নিঃশব্দে আঁধারের চৌকাঠ ধরে
আমার পরাজিত স্বপ্নের দল
ফেসবুকে পুর্বে প্রকাশিত
বিস্তারিত»এপিটাফ
নাম না জানা শহীদ মুক্তি যোদ্ধাদের কথা ভেবে
যাও পাখি, উড়ে যাও,অন্য কোথাও
এখানে ঘুমিয়ে আছে এক বিপ্লবী
তোমাদের গানে তার ভেঙে যাবে ঘুম
চারিদিক হয়ে থাক নিথর নিঝুম
শুয়ে আছে গায়ে দিয়ে ঘাসের চাদর
কোথায় প্রেমিকা তার হায়
কে করে আদর
রাইফেল পড়ে আছে তার
হাতে নেই ধারালো ড্যাগার
বিপ্লবী মিশে আছে এ মাটির সাথে
সব চেয়ে ভালো যাকে বেসেছিলো সে
যেতে যেতে বলেছিলো নেড়ে দুই হাত
যদি রোখে সকলেই রেখে কাঁধে কাঁধ
কেটে যাবে দুর্দিন আর কালো রাত
***
বহু দিন হয়ে গেছে পার
বিপ্লবী জেনেছে কী আর ?
চকোলেট ও চুমু
আর কিছুদিন পরেই জানি
আসবে তুমি আমার কাছে,
পকেটটাতে হাত ঢুকিয়ে
দেখবে তাতে কি কি আছে।
যাবার সময় তোমার গালে
থাকবে জানি খয়েরি দাগ,
আমার মুখে রেখে যাবে
তোমার মিষ্টি চুমুর স্বাদ।
উৎসের খোঁজে
এর উৎস কোথায় জানি না
কোনো সাগরের তলদেশে?
নাকি কোনো পাহাড়ের হ্রদে?
এর উৎস খুঁজে পেতে আমি
সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা চালিয়েছি
মহাভারতের সেই প্রসুত অণ্ডে খুঁজেছি
বিগ-ব্যাং থিওরিতেও কিছু লেখা নেই।
খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত এই মন
যখন শুয়েছিলো অরণ্যের ঝরানো পাতায়
ছায়াপথ থেকে কেউ এসে বলে
“এই আমি! হৃদয়ের কাছে!
যুগ যুগ ধরে তোমার প্রেমের উৎস!”
১৩.০১.২০১৫
বিস্তারিত»আমার মৃত্যু ভাবনা

মৃত দেহের প্রতি আমাদের আবেগ উথলে ওঠে,
সকল কাজ ফেলে ফুলের তোড়া নিয়ে ছোটে,
লোক দেখানো শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের হিড়িক বটে।
কখনো কখনো পাড়া, মহল্লা, দেশ, জাতি এমন কি সরকার
উতলা হয়ে রাষ্ট্রীয় সালাম দেয়,
পতাকা দিয়ে কফিনের বাক্স ঢাকায়,
দেশ জুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রেখে সম্মান দেখায়।
বিস্তারিত»
সিসিবি-তে কবিতা পাঠ
সাবিনা চৌধুরী অনেকদিন ধরেই পিছনে লেগে আছেন একটা ভিডিও ব্লগ যেন নামাই, সেইজন্য।
নানা অজুহাত দিয়ে অনেক সময় পার করলাম। কিন্তু শেষমেষ বুঝলাম, ফিতা না কাটা পর্যন্ত এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ নাই।
যদিও প্রধান অজুহাতই ছিল, “আমি তো ফটোজনিক না” – কিন্তু সাবিনা ওটা মানতে রাজী না।
অনুরোধের ঢেকি গিললাম কিন্তু তা যে ভবিষ্যতেও হবে সেই গ্যারান্টি কিন্তু নাই।
আমি তো পারি কেবলই “পাঠ-প্রচেষ্টা”
বিস্তারিত»থাকুক বাকী
ঠকবাজের মাঝে খাঁটি জনকে
চিনতে পারলাম না;
কাছের মানুষটিকে আজো, হায়!
বুঝতে পারলাম না।
ধরো যদি সত্যি বলি-
মুখ দেখেই, মন পড়তে পারি;
তখন তুমি আমায়
যদি আর চাঁদমুখ না দেখাও!
আমি তাই মিথ্যেবাদী;
ছিটে-কথার ঝাঁজ থাকুক বাকী,
আশি শতাংশ-ই ঢের বাপু
সবটা হলে বলবে – অমানুষ একটা!
আমরি বাংলাদেশ

যতদূর যাও, যেখানেই যাও
দেখিবে আনিন্দ্য সুন্দর আমরি বাংলাদেশ
আছে চির সবুজের স্নিগ্ধতা ,
যদি ফিরি পৃথিবীতে পূর্ণবার
খুঁজে নেবো ঠিকানা তমার-আমরি বাংলাদেশ
বৈশাখ জৈষ্ঠ মিলে আছে তোমার গ্রীষ্মের প্রখরতা ।
আকাশ উদাস, চোখ ছল ছল-
আঝড়ে ঝড়ে জল আর জল ,
বর্ষার বৃষ্টি আনে প্রসন্নতা ,
এতো স্রোষ্টার সৃষ্টি,
বিস্তারিত»দৃশ্যত অদৃশ্য প্রেম
কালো কোন ছবির ফ্রেমে
রঙিন স্বপ্ন বুনবো বলে –
তোমায় তাতে বাঁধবো যেন
তোমার পাশে ছায়ার মত
সারাটাক্ষণ দেখবে আমায়,
ভাববে না আর কারো কথা,
সব্বাইকে বলবো, ‘ দ্যাখো,
আমার পাশেই স্বপ্ন আমার,
দুজনকে কেমন মানায়, বলো? ’
ফ্রেমে বন্দী যুগল ছবি
একদিন সেই সীমানা ছেড়ে –
প্রজাপতির পাখায় নেমে –
গরমিল
এক শীতের সকালে একটি সূর্যমুখীর সাথে গল্প করছিলাম,
বলেছিলাম, তুমিতো সারাদিন সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকো,
এবার একটু বিশ্রামে যাও, তোমার হয়ে আমি তাকিয়ে থাকবো।
সে বলেছিল, আমার যে সাধনা, তাতো তোমার মাঝে নেই,
পারবে কি পলকহীন তাকিয়ে থাকতে? এর উত্তর আর দেয়া হয়নি।
এক গ্রীষ্ম-মধ্যাহ্নে একটি উদাস ঘুঘুর ডাক শুনে দৌড়ে গিয়েছিলাম,
বলেছিলাম, সেই কখন থেকে এমন বুকফাটা ডাক ডেকে যাচ্ছো,
বিমূর্ত বিলাস
মনোরমা মরালীর মত লম্বা গ্রীবায় তোমার
তালুর পেছনটা দিয়ে একটু ছোঁয়া দিতে চাই,
ইচ্ছে হয় চিকণ থুতনিটাকে একটু ধরে দেখি,
আংগুলের ডগা দিয়ে ওজন মাপার মত করে।
টিপছাড়া কপালের মাঝখানটাতে নিখুঁতভাবে
একটি উজ্বল টিপ এঁকে দিয়ে দেখি কতটা জ্বলে!
আরক্তিম কপোল যুগলে খুঁজে পাই কিনা দেখি
একটি তৃষ্ণার্ত অলির বসার মত কোন স্থান।
কালো চোখের তারার ঝিকিমিকি দেখে দেখে
নির্নিমেষ কাটাতে চাই জীবনের বাকীটা প্রহর।