মা কে নিয়ে দিবস কিসের
মা তো প্রতিদিনের
দিবস পালন করে কি আর
কমবে বোঝা ঋণের?
মা আমার পাশে থাকুক
এই তো আমি চাই
মায়ের পায়ের নিচে যেন
হয়গো আমার ঠাই ।
মা কে নিয়ে দিবস কিসের
মা তো প্রতিদিনের
দিবস পালন করে কি আর
কমবে বোঝা ঋণের?
মা আমার পাশে থাকুক
এই তো আমি চাই
মায়ের পায়ের নিচে যেন
হয়গো আমার ঠাই ।
চলে যায়, উড়ে যায়..
শাবকেরা বড় হলে উড়ে যায়,
তাদের শাবকেরাও উড়ে যায়,
পক্ষীমাতার বুক খালি করে উড়ে যায়…
নীড় খালি পড়ে থাকে, পক্ষীমাতার চোখে ভাসে
দু’ফোঁটা নীর, আর বুকে বাজে শুন্যতার হাহাকার!
যে বুকের উষ্ণতা দিয়ে সে তাদের ঢেকে রাখে,
পরম আদরে ঠোঁটে তাদের আধার ধরে রাখে,
সেই বুক খালি হয়ে আসে, একদিন নিমেষে,
যখন তারা চলে যায়,
কখনো আমার মাকে
শামসুর রাহমান
কখনো আমার মাকে কোনো গান গাইতে শুনিনি।
সেই কবে শিশু রাতে ঘুম পাড়ানিয়া গান গেয়ে
আমাকে কখনো ঘুম পাড়াতেন কি না আজ মনেই পড়ে না।
যখন শরীরে তার বসন্তের সম্ভার আসেনি,
যখন ছিলেন তিনি ঝড়ে আম-কুড়িয়ে বেড়ানো
বয়সের কাছাকাছি হয়তো তখনো কোনো গান
লতিয়ে ওঠেনি মীড়ে মীড়ে দুপুরে সন্ধ্যায়,
পাছে গুরুজনদের কানে যায়।
কথারা বুক পকেট থেকে সন্তর্পণে
এগুচ্ছিলো নিকটবর্তী কণ্ঠস্বরের পানে ।
দিকচিহ্ন ছিল না জানা ।
গন্তব্যের ঠিকানা
তা ও না …
বাহানা,
তবু সে শব্দের শরীরে সাজাবে ভাবনা,
বাতাসের গায়ে আঁচড় কেটে কয়খানা
রেখে যাবে চিহ্ন দ্যোতনা,
আর কিচ্ছু না ।
ওখানে কখনও এক বাক্স দেশলাই
দিয়েছিল ক্ষোভ জ্বালাই জ্বালাই ।
একবার আধ প্যাকেট কড়কড়ে সিগারেট
বুকের মধ্যে এনেছিল হাসফাঁস ক্যাবারেট ।
আমি বেয়ে চলেছি, আমি বেয়ে চলেছি,
সাগর পাড়ি দিয়ে আবার বাড়ী পানে
আমি বেয়ে চলেছি উত্তাল ঢেউ ধেয়ে,
তোমার কাছাকাছি যেতে, মুক্ত হতে!
আমি উড়ে চলেছি, আমি উড়ে চলেছি,
পাখির মত আকাশ চিড়ে উড়ে চলেছি,
উত্তুঙ্গ মেঘমালা ভেদ করে উড়ে চলেছি,
তোমার সাথে সাথে থাকতে, মুক্ত হতে!
শুনতে কি পাও, তুমি শুনতে কি পাও?
রাতের আঁধারে গভীর তিমিরে,
সাবিনার দশ মিনিটের পিয়ানো শোনার প্রতিক্রিয়ায় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রায় দশ মিনিটের এই কবিতা পাঠ… (বেশী বোরিং লাগলে, দুঃখিত!!)
ক্যামেলিয়া
নাম তার কমলা,
দেখেছি তার খাতার উপরে লেখা।
সে চলেছিল ট্রামে, তার ভাইকে নিয়ে কলেজের রাস্তায়।
আমি ছিলেম পিছনের বেঞ্চিতে।
মুখের এক পাশের নিটোল রেখাটি দেখা যায়,
আর ঘাড়ের উপর কোমল চুলগুলি খোঁপার নীচে।
কোলে তার ছিল বই আর খাতা।
মায়াভরা ধানসিঁড়ি বেয়ে
জীবনানন্দ চলে গেছে বহুদূর
মায়াবতী ললনারাও
চলে গেছে সাথে।
আজ তার বালুময় বুকে
কোন প্রেম নেই,
এ নদীর উদোম বুকে
কি খোঁজে মাছরাঙা আজ?
এক আকাশ দূরে জীবনানন্দ
তার ধানসিঁড়ি বুকে নিয়ে
বেঁচে আছে বেশ,
তার অনেক নীচের দেশে
ধানসিঁড়ি মরে গেছে কবে
শঙ্খচিল,
বিস্তারিত»একটু আগুন দেবেন?
ক্ষমতা আপনার আসীম অপার।
পারেন পোড়াতে সবুজ বন-
ভয়াবহ দ্বাবানলে মাংস পোড়া ঘ্রান
অগনন হারিণ শাবকের,
দগ্ধ মাটির হাহাকারে নিরব নির্বিকার।
অথবা নিমেষে আঙ্গুলের ইশারায়
ধুলিকনা হয় সাজানো নগরী,
অযুত স্বপ্নের হাতে বোনা জাল
অন্ধকারে ছিন্ন ভিন্ন প্রেতপূরী।
বিপুল শক্তি অমিত ক্ষমতা-
তার লক্ষভাগের ছিটেফোঁটা কনা,
তাও তো চাইনি আমি।
দুটি ব্যাকুল হৃদয়ের মাঝ দিয়ে
যখন ভালবাসার কোন নদী প্রবাহিত হয়,
দেবতারাও তখন কান পেতে শোনে,
নৈঃশব্দের মাঝে বলা তাদের সকল কথা।
প্রেমিক যুগল যখন হাতে হাত রেখে
ভালবাসার নদীতীরে এক লয়ে পথ চলে,
নদীর কুলুধ্বনি তখন থেমে যায়, কারণ
নদীও তখন শোনে নৈঃশব্দের কথা বলা।
অন্ধকার অরণ্যেও যদি প্রেমাকুল দুটি হৃদয়
একান্তে বসে চুপিসারে বলে কিছু হৃদয়ের কথা,
সাহস করে জীবনবাবুকে আরেকবার স্মরণ করলাম। কিন্তু নেপথ্যে সুর জুড়ে দেবার স্পর্ধা হলোনা। জীবনানন্দে সুর না বসালেই যেন ভালো লাগে শুনতে
___________________________________________________________________________________________
তোমার নগ্ন নির্জন হাত
জীবনানন্দ দাশ
আবার আকাশে অন্ধকার ঘন হয়ে উঠেছে :
আলোর রহস্যময়ী সহোদরার মতো এই অন্ধকার।
যে আমাকে চিরদিন ভালোবেসেছে
অথচ যার মুখ আমি কোনদিন দেখিনি,
সেই নারীর মতো
ফাল্গুন আকাশে অন্ধকার নিবিড় হয়েছে উঠছে।
পড়ন্ত বিকেলের সোনালী রোদ্দুরটুকু ভালো লাগে।
সোনালী সূর্যটা রক্তিমাভা ধারণ করার আগেই,
দখিনের থাই এলুমিনিয়াম জানালার পাশে দাঁড়াই,
দৃষ্টি মিলিয়ে দেই সবুজ বৃক্ষাদির শাখা প্রশাখায়।
নিবিষ্ট মনে দেখি ক্লান্ত পাখিদের ঘরে ফিরে আসা,
সবুজ টিয়াদের ঝাঁকে ঝাঁকে এসে সবুজ গাছে বসা।
গোধূলির শেষ আলোটুকু দেখতে বড় ভালো লাগে,
দিনান্তের শেষ আয়োজনে প্রকৃতির অপূর্ব সমন্বয়।
ক্লান্ত মানুষের ন্যায় পাখিরাও নিজ ঘরে ফিরে আসে,
এটাই নিয়ম নিয়তির,,,,,,,,,,,
যতটা সময় ধরে কেউ,
পাশে থাকে বেঁচে
খোঁজেনা কেউ তাকে
এটাই নিয়ম নিয়তির,,,,,,,,,,,
মোহনার কাছে এলে ঢেউ,
ভাটিতে যায় বেড়ে
ডাকেনা উজানে তাকে
এটাই নিয়ম নিয়তির,,,,,,,,,,,
মৌমাছি কানামাছি মৌ
যাপিতের কথাছলে
সাধে সুরেলা বিনাশে
এটাই নিয়ম নিয়তির,,,,,,,,,,,
বাপ্পী খান
১২টা ২১মিনিট
১৮/০৪/২০১৫ইং
~ মোম (এক) ~
অতোটা শখের সুদৃশ্য মোম
কি করে কতোটা পোড়াবে তারে
অপেক্ষা অনল কিছুটা হলেও তা জানে ।
১৯৮৯
~ মোম (দুই) ~
মোম হয়ে জন্মেছো যখন, পুড়ে তো যেতে হবেই ।
কেনো মিছেমিছি তবে রোদ-বৃষ্টি, সকাল-সন্ধ্যা
আর সময় অসময়ের দোহাই !
১৯৮৯
~ হোম (এক) ~
মোমশিখা জ্বালায়ে আমি
চেয়ে দেখি স্থির মন করি ।

স্মৃতি আসলে কোন এক সুখ স্বপ্ন
যা বহু কাল পরেও মনে পড়ে যায়।
মনে পড়ে সেই ত্রিমহিনীর গাবতলা,
কলেজ রোডের পথ প্রান্তরের নিমতলা।
আমি যৌবনের ফেলে আসা দিনের কথা ভেবে
আনমনা হয়ে যাই, খুঁজে ফিরি সেই পথ।
যে তুমি আমার কৈশোরের হেঁটে যাওয়া
পথ ধরে প্রতিদিন জেগে ওঠা কোন রথ।
বিস্তারিত»সালতামামি ১৪২১
ঋতুভেদে বাংলাদেশের রুপবৈচিত্র্য কেমন ? প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে পদ্য বা গদ্য নিয়ে সালতামামি ১৪২১ লেখলে কেমন হয় ? ভেবেছিলাম ১৪২১ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে। ওপর আলার রহমতে জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় , শ্রাবণ ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ,ফাল্গুন , চৈত্র পেরিয়ে অবশেষে পৌছালাম আরেক বৈশাখে । বৈশাখ ১৪২২। বছরের প্রথম দিনেই সালতামামি প্রকাশ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আলসেমিতে কাজটা হয়ে ওঠেনি। এদিকে কালবৈশাখী অজুহাতে লোডশেডিং আরও ঝামেলা তৈরী করছে।
বিস্তারিত»