তিনখানা কবিতা


ফোন, টেক্সট কিংবা ইমেইল করা যাবে না – নিষেধ করেছো তাই।
ইনবক্স, ভাইবার কিংবা হোয়াটসএপ করা যাবে না – ব্লক রেখেছো তাই।

এমন কিছু কি করতে পারলে না, যেন মনেই না পড়ে আর তোমায়?
তাইলেই তো ল্যাটা চুকেবুকে যেতো একেবারে……

চাওয়াটা কি একটু হয় বেশি হয়ে গেল?

কি করেই বা আর তুমি করতে তা –
এইটুকুই যেখানে নিজ মুখে জানাতে পারো না যে
“এইখানেই সম্পর্কের পরিসমাপ্তি। ভুলে যেও আমায়।”

অবশ্য, ভুলতে বললেই কি আর ভোলা যায় সব?
ভোলা কি সম্ভব?
তুমি কি পেরেছো ভুলতে সব, স-অ-ব –
সুখস্মৃতি? কিংবা দুঃখস্মৃতি??

যেকোনো মানুষ চলে গেলে ছায়াও সাথে সাথে যায় তাঁর,
পছন্দের মানুষ চলে গেলে, স্মৃতির ছায়া পিছনে পড়ে রয় –
সুখ ও দুঃখের স্মৃতি, আনন্দ ও বেদনার স্মৃতি……

২৫শে মার্চ ২০১৪


খুব ইচ্ছা হয় ভুলে যাই সব।
অস্বীকার করি সব যোগাযোগ
সকল কথোপকথন। অথচ,
প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগ –
ভুলতে দেয় না কোন কিছুই…

কললগ মনে করিয়ে দেয়
শেষ কবে কবে কখন কতটা সময়
কথা হয়েছিল, তোমার সাথে।

ভাইবার, হোয়াটসএপ, ইনবক্স
ঠিক ঠিক দেখিয়ে দেয় –
কবে কখন কি কি কথা হয়েছিল
তোমাতে আমাতে।

এইসব স্মৃতির সাগর সাতরে
কি করে ভুলি, ভুলে থাকি সব?
আর তুমিই বা কি করে পারো
উটপাখি তো আর নও……….

২৫শে মার্চ ২০১৪


চৌত্রিশে পৌছুনো একাকিনী ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো
ষাটোর্ধ কবিগুরুকে বগলদাবা করে একত্রে
পরিভ্রমন করে চলেন অর্ধেকটা পৃথিবী।

সার্তের সাথে দারুন উষ্ণ ও আবেগের এক সম্পর্কে
ঢুবে থাকতে থাকতেই চৌত্রিশ বা কাছাকাছি একটা সময়ে
সিমন দ্য বুভ্যর কাছে টেনে নেন ওলগাকে সমকামে।

চৌত্রিশে বা তার আশেপাশে, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে
তসলিমা নাসরিন সর্বতো ভাবে ঘনিষ্ট হয়ে উঠেছিলেন
তিন বা তারও অধিক জনের সাথে।

চৌত্রিশ পেরুনোর পর মেরিলিন
কাছাকাছি পৌছে সিলভিয়া প্লাথ
অথবা আমাদের খুব কাছের নভেরা দীপিতা
কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যান।

আজকাল কোন একাকিনী যখনই চৌত্রিশে পৌছান
আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি
তাঁর মন ও মননে কি ঘটছে, তা জানতে ও বুঝতে।
আমার খুব জানতে ইচ্ছা হয়,
বয়স হিসাবে চৌত্রিশ কি কেবলই একটি সংখ্যা?
নাকি ঘোরে পাওয়া একটি কালান্তর –
কারো কারো জন্য মনে ও বাস্তবে?

কেমন করে চলে যাওয়া যায়,
তেত্রিশ থেকে এক লাফে পয়ত্রিশে?
চৌত্রিশকে না মাড়িয়ে।
বলতে ইচ্ছা হয় –
হে একাকিনী
থেমে থাকো তেত্রিশেই যতক্ষন না
আমি এসে দেখা দিচ্ছি তোমার পয়ত্রিশে।

২৫শে মার্চ ২০১৪

৮৫৬ বার দেখা হয়েছে

১৬ টি মন্তব্য : “তিনখানা কবিতা”

  1. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    ভাল লাগলো পারভেজ ভাই। তিন নন্বরটা চমকে দিলো, ইন্টারেস্টিং 🙂


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      "তিন নন্বরটা চমকে দিলো"
      বাস্তবতা এইরকমই নাটকিয় হয় কখনো কখনো।
      আমার না-গল্পগুলো কি পড়েছিলে?
      তাহলে তো এতটা চমকানো ঠিক হয় নাই। তাই না?
      একটার লিংক দিচ্ছি। বাকিগুলো ওখানেই পেয়ে যাবে।

      কেন যেন মনেহয়, আজকাল চমকানোর মত ঘটনা খুজতে হয় না।
      চোখ-কান খোলা রাখলে, নিজ থেকেই সেগুলো সামনে এসে ধরা দেয়......
      😛 😛 😛 (সম্পাদিত)


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
      • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

        আপনার না গল্প সিরিজ পড়েছি পারভেজ ভাই। কারো কাছ থেকে ফার্স্ট হ্যান্ড অভিজ্ঞতা শোনা না হলেও এসব নিয়ে হালকা ধারনা ছিল।

        তিন নম্বরে আসলে চমকে দিয়েছে ৩৪ বছরের কাকতালীয়তা।


        আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
        আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

        জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      তোমারে মুগ্ধ করতে পারা তো বিরাট কৃতিত্ব।

      লক্ষ করেছো, এইবার লিখার সাথে সাথেই কিন্তু পোষ্ট করি নাই।
      তোমার উপদেশ মেনে অপেক্ষা করলাম।
      আরো কিছু কাটা ছেঁড়া করলাম।
      অবশেষে পোস্ট করলাম।

      এটাও হয়ে থাকতে পারে আকর্ষন করতে পারার একটা কারন।

      কি, আমি কেমন ইন্সট্রাকশন-ফলোয়ার???


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
      • নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

        এভাবে বললে মনে হয় আমি একটা মাস্টার মশাই।
        আরেকটু মাস্টারি করি -- 'ল্যাঠা 'হবে মনে হয়। 🙂

        আমি কোন আমলে কি বলেছি সেটা আমারো মনে নেই।
        তবু, আপনার মন্তব্যের শেষ প্যারায় মনে হল -- শিক্ষার এসকল অনুষঙ্গকে এমন উদারভাবে হৃদয়ে ধারণ করেছেন বলেই আপনি প্রিয় শিক্ষক, অনুকরণীয় মানুষ।
        :hatsoff:

        জবাব দিন
  2. নাফিস (২০০৪-১০)

    ভালো লেগেছে পারভেজ ভাই। তিন নাম্বার এর অনেক গুলো লাইন কিন্তু খুব চিন্তা উদ্রেককারী।
    ধরে নিচ্ছি সামনে আরো অনেক কবিতা পাবো !
    সিসিবি এসে এখন ভালো লাগে। :tuski: :gulli2:

    জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      "সিসিবি এসে এখন ভালো লাগে।"

      আমার অভিজ্ঞতায় ও হিসাবে কমপক্ষে ওয়ান-থার্ড ক্রিয়েটিভ এক্সক্যাডেটদের প্ল্যাটফর্ম সিসিবির ঝুলে পড়াটাই ছিল একটা অসহ্য ব্যাতিক্রম।
      আমারতো মনেহয় আমরা সেটা পিছনে ফেলতে পেরেছি।

      আশা করছি, সকল হতাশাবাদিদের মুখে ছাই দিয়ে আবারো আগের কাছাকাছি জমজমাট হয়ে উঠবে সিসিবি।

      সিসিবির আড্ডা ফিচারের চেয়ে আর্কাইভিং ফিচার যে অনেক অনেক শক্তিশালী, সেটা বুঝতে মনেহয় একটু সময় লাগছে, এই যা...


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
  3. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    আমিও সিসিবি ভালা পাইগো, ভাইয়া! 😛

    কবিদের মাঝে দেখি জশিলা 'পেম' চলছে এখন! আমার কিন্তু বেশ লাগছে পড়তে, জানো! তোমার আর নূপুরের নিক্বণ শুনবার জন্য কান পেতে রইলাম।

    তিন নম্বরের পরই কিন্তু ঘটনার শুরু...

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।