নাবিকের মনের নোঙর

ছুটি শেষে যে নাবিক গৃহত্যাগ করে,
ফিরে চলে পোতাশ্রয়ে নোঙর করা
তার জাহাজ পানে, জিজ্ঞেস করোনা
তাকে কখনো তার গন্তব্যের কথা।

তার মনে গেঁথে থাকে ফেলে আসা
সব প্রিয়জনের কান্নাভেজা মুখ, আর
বাংলার শ্যামল প্রান্তরে রেখে যাওয়া
তার পদচিহ্নের মৃন্ময় সজীব স্মৃতি।

অচিরেই সেসব স্মৃতিগুলো মিশে যাবে
সাগরের নীল জলে, রয়ে যাবে শুধুই
ভালোবাসার এলোমেলো ব্যক্ত অব্যক্ত
কিছ কথামালা আর ধূসর কিছু কল্পনা।

দ্রুতপদে সে গ্যাংওয়ে পার হয়ে যায়,
অপসৃয়মান আবাসে তার ঠাঁই খুঁজে নেয়।
চঞ্চল মনে এপাশ ওপাশ ঘুরেফিরে দেখে,
ফিরে আসে অবশেষে রেলিঙের ধারে।

চোখ মেলে সে দেখে সাগরের সফেন ঢেউ,
পেছনে পড়ে থাকে স্মৃতিময় কথকতা ধূসর।
আনমনে চলা নাবিকের মনের নোঙরখানি
বাঁধা থাকে কোন সাগরের তীরে, কে জানে!

 

পাদটীকাঃ ছুটি শেষ হওয়া নাবিকের মনে থাকে বিদায় ব্যথার চোরাস্রোত। একরাশ বেদনার অনুভূতি আর কিছু প্রাপ্তিরও রেশ তার মনকে উদ্বেল করে তোলে। সামনে বিস্তৃত কর্মক্ষেত্র, পেছনে ফেলে আসা মধুময় স্মৃতি। অতি সংযমে সে মনের আবেগকে ধরে রাখে।

ঢাকা
১৫ এপ্রিল ২০১৫
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

১,০০৬ বার দেখা হয়েছে

৮ টি মন্তব্য : “নাবিকের মনের নোঙর”

  1. মাহবুব (৭৮-৮৪)

    বিদায় চিরকালীন বেদনার। এই নাবিকের মত অন্যেরাও, যারা আপন জন ছেড়ে দূর প্রবাসে এসেছে কাজে বা পড়াশোনার জন্য, এরাই সবাই আপনার এই সুন্দর কবিতায় নিজেদের ছায়া দেখবে। :hatsoff:

    জবাব দিন
  2. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    কবিতা পড়ার জন্য ধন্যবাদ সাবিনা, মন্তব্যের জন্যেও।
    "সাগরের নীলের সাথে রঙহীন কত যে অশ্রু ঝরে পরে সে তো নাবিক ছাড়া আর কেউই জানে না" - সমব্যথী মন, বোঝে কী বেদন!

    জবাব দিন
  3. লুৎফুল (৭৮-৮৪)

    জাহাজ ভিড়তে থাকে একের পর এক বন্দর ।
    নাবিকের চোখ কি বুকের দামামা
    এতোটুকু থামাতে পারে না সে নোংগর ।
    তার চোখে লেগে থাকে সংসার, সবুজ শ্যামলিমা ।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।