কর্ণফুলীর মুহূর্তেরা

ফিরে যদি যেতেই হয়
তবে আজ আর দীর্ঘশ্বাস নয়;
আজ শুধু মেনে নেয়ার পালা।
যুদ্ধ করতে করতে সবগুলি তারা খসে গেছে
দূরত্ব ক্রমশ হয়েছে সমুদ্রের মত
তবুও একটি মুহূর্ত কোথাও উল্লেখিত হয়নি।

তুষারে কি ঢাকা পড়েছে তোমাদের শহর?
মধ্য রাতের নীল রঙ দেখার ইচ্ছায় কি রাত জাগা হয়?
চাঁদের সাথে মেঘেদের লুকোচুরি
আঙ্গুস এবং জুলিয়াস্টোনের গান এখনো কি বাজে?

বিস্তারিত»

সাতাশ বছর আগে – পাঁচ

যে জল ঝরার শব্দে
নির্জনতার ঘুম আরো গাঢ় হয়;
সেই চোখ দুটো আমি তোমার সামনে রাখছি
তুমি কি দু পায় মাড়িয়ে যাবে, নীলা?

ঘুম যখন তন্দ্রায় এসে নামে
আমি তোমাকে হাতের নাগালে পাই নীলা;
কতবার ছুয়েঁ দেখতে চেয়েছি তোমার চুল
চুলের ভেতর হাত চালিয়ে ঝর্ণা বানিয়েছি;
নীলা, আমার হাতের নাগালে নয়,
তোমাকে নি:শ্বাসের মাঝে চেয়েছি।

বিস্তারিত»

সাতাশ বছর আগে- চার

এমন অনাহূতের মত যাওয়া আসা ভালো লাগে না।

এমনি করে এক একটা অলস দিন আসে,
ভাসিয়ে নিয়ে যায় কেনো আমায় একা, নীলা?

সময় থেমে থেমে চলে, নষ্ট ঘড়ির মত;
এমন না চলে থেমে থাকে না কেন?
চুপ করে বসে বসে সময়ের হৃদস্পন্দন গুনতাম!

এমন অযাচিত যাওয়া আসা ভালো লাগেনা, নীলা।

মড়াঁ কাঁধে নিয়ে হাঁটবার মত
সময় আমার কাঁধে চেপে দীর্ঘপথ পাড়ি দেয়।

বিস্তারিত»

মৌ

মৌ,
জন্মান্তরে সাহসী হবো।

এ জন্মে-
পরাজিত সৈনিকের মতো
মাথা নিচু করে ফিরেছি আমি।

জন্মান্তরে এমন হবে না।
জন্মান্তরে সাহসী হবো।

তোমার হাতে হাত
চোখে চোখ রেখে –
হৃদয়ের সব কথা বলবো।
তুমি তৈরি থেকো।

নিসঙ্গ প্রহরে মনে হয়
পূর্বজন্মেও আমাদের দেখা হয়েছিলো।
সেবারও ফিরেছি আমি
শূন্য হ্রদয়ে ।

বিস্তারিত»

সাতাশ বছর আগে -তিন

নীলা তুমি হাত বাড়িয়ে কি আমাকেই খুঁজছো?

আমার আমিত্ব আমায় অস্বীকার করে,
তুমিও কি আমার অস্তিত্ব অনুভব করোনা?
তোমার এলোচুলে হাত দিয়ে দেখ
আমার দৃষ্টি এখনো প্রথিত আছে
তুমি কি কখনো অনুভব করনি, নীলা?
তোমার পরিপাটি কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে
আমার ঘ্রাণ মিশতে দাওনি;
সোনালী আর কমলা তোমার কাপড়ের ভাঁজে
আমার হাত দূর থেকে নির্বিঘ্নে ছুঁয়ে গেছে
তাও কি তুমি অনুভব করনি?

বিস্তারিত»

আজ আমার মন ভাল নেই

আজ আমার মন ভাল নেই। তাই-
আজ সকালে কোন পাখি ডাকেনি,
আমিও তেমন নিবিষ্ট মনে ডাকিনি
তোমাকে সারাদিনে, হে দয়াময় প্রভু!

আজ আমি
নতুন কোন কবিতা লিখতে পারিনি।
কী বোর্ডে সমন্বয়হীন চাপ দিলেও,
মনিটরে কোন চেনা অক্ষর ভেসে ওঠেনি।

আজ আমি
কোন কবির কবিতাও পড়তে পারিনি।
মনিটরে কবিতার কালো অক্ষরগুলো
ঝাপসা হতে হতে ফিকে হয়ে গিয়েছিল।

বিস্তারিত»

হাঁপরের টানে

বিবেক আছে,
তাই ক্রন্দনও আছে।
ঔচিত্যবোধ আছে,
তাই দহনও আছে।

মনের ঘন্টা বেজে চলে,
ঢং ঢং করে বেজে যায়।
অদৃশ্য কামার চুপি চুপি
বুকের হাঁপর টেনে যায়।

হাঁপরের টানে জ্বলে ওঠে
অগ্নিশিখা ও কয়লা দগ্ধ।
লোহা কাঁসা তামা সবই
ছাঁচে পড়ে হয় পরিশুদ্ধ।

ঢাকা
০৪ এপ্রিল ২০১৭
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

বিস্তারিত»

সাতাশ বছর আগে – দুই

নির্জন রাত, এখন সবাই ঘুমিয়ে
খোলা আকাশের নীচে একা একা জেগে রয়েছি;
দুরন্ত বাতাস কান ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়। নীলা,
আমিই কি একা একাই হেঁটে চলেছি? তুমি কি নেই আমার সাথে?

নাকি সাথে সাথে হাঁটছিলে ছায়ার মত, কোথাও থেমে গেছো?

এখন অনেক রাত- ভোর হতে বেশী বাকী নেই,
শেষ রাতের মেঘগুলো শেষ বারের মত উত্তরে চলে যাচ্ছে।
চাঁদ খুব ঘনঘন উকি দিচ্ছে আর হারাচ্ছে,

বিস্তারিত»

সাতাশ বছর আগে- এক

কদিন আগে একটা কবিতা লিখবার চেষ্টা করেছিলাম। ফেসবুক ওয়ালে পোষ্ট করা আছে। কি হয়েছে আল্লাহ মালুম, তবে রফিক আজাদের একটা কথা মনে আছে, জীবনে যার নারী নাই সে কবিতা লিখবে কিভাবে?

যাইহোক, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, মাঝে মাঝে দুই এক লাইন লিখতাম, এরপর এক সময় বসে কম্পাইল করে একটা কবিতা দাঁড় করাতাম। নিশ্চিন্তে বলতে পারি এইগুলা কবিতা না। কারন কবিতা একটা সময়ে বা বিভিন্ন সময়ে একটা নির্দিষ্ট ভাব নিয়ে লিখতে হয়।

বিস্তারিত»

দেশাত্মবোধক গানঃ সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য…..

দেশের গান করতে গেলে আমার মধ্যে অনেক বেশি আনন্দ আর আবেগ এসে ভর করে। দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন যাপন করার জন্যই এমন হয় কি না জানিনা। গত বছর বড়দিন এর ছুটিতে বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সুযোগ হয়েছিল গ্রাম এর বাড়িতে যাবার। বরাবর এর মতোই গ্রামে গেলে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হই। এবারও দেখলাম হলুদ রাঙ্গা সর্ষে ক্ষেত, মেঠো পথ, আর চারিদিকে সবুজ আর সবুজ, মনটা জুড়িয়ে যায়।

বিস্তারিত»

অন্তর্গত দাবানলের ভিতর বসবাসকারী তাবৎ কবিদের প্রতি রইলো বিশ্ব কবিতা দিবসের শুভেচ্ছা

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে কবিতার জন্য একটা বিশেষ দিন পালনের এক রীতির শুরু। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো প্রতি বছর ২১ মার্চ তারিখে এ দিন পালনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।

আজ ‍’বিশ্ব কবিতা দিবস’ (World Poetry Day)। গোটা বিশ্ব যে দিবস পালন করছে তা আমরা কতোটা জানি-মানি পালন করি! কবিতাকে কতোটা ব্যবচ্ছেদ করি, কবিকে করি কতোটা! কাব্যচর্চা বা কাব্য আন্দোলন আসলে কোথায় পড়ে আছে আমাদের নিজেদের দেশে সমাজে কী সাহিত্য চর্চার ডেঁরায়।

বিস্তারিত»

অন্ধকার

আমি অন্ধকার দেখেছি

রাত্রির কোমল শরীরে যার প্রগাঢ় ছায়া।

আমি অনেক হেঁটেছি;

শহরের এমাথা-ওমাথা,এগলি-ওগলি

প্রহরীর সজাগ দৃষ্টিতে যখন ক্লান্তির মায়া।

হঠাৎ থেমেছি

পায়ের চলার শব্দ থামিয়ে কান পেতেছি

বাতাসের পরে ভেসে আসে কার দীর্ঘশ্বাস?

নাকি কান্নার আভাস?

হৃদয়ে? নাকি অন্ধকারে?

অনেক বৃষ্টির পরে-

যেমন ধুসর মেঘের আকাশ।

বিস্তারিত»

মায়াবতী মেঘ

এক মায়াবতী মেঘ আমায় ছায়া দিয়েছিল,
হাওয়ায় ভেসে ভেসে আমার কাছে এসেছিল।
সে মেঘ আমায় কথার ছলে গল্প বলেছিল,
তার গল্প শুনে আমার চোখে স্বপ্ন ভেসেছিল।

মায়াবতী মেঘের বুকে অনেক কান্না জমা ছিল,
দেখতে পেলাম চোখ দুটো তার যখন ঝরেছিল।
যখন তৃষিত এক মরু বুকে তার অশ্রু পড়েছিল,
লক্ষ গোলাপ একটি রাতেই হঠাৎ ফুটেছিল!

ঢাকা
০৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

বিস্তারিত»

শেষ আশ্রয়

নাম্বারটাও বন্ধ করে দিলে!
কিছুই রাখলে না আমার জন্য!
কই? কখনো তো কোন বিরক্ত করি নি
তবে কেন?

জান! মাঝে মাঝে যে
রং নাম্বার গুলো থেকে কল আসত তোমার
ওইযে, যে কল গুলোয় ওপার থেকে
কেউ কথা বলত না-
তুমি হ্যালো হ্যালো বলে
বিরক্ত হয়ে ফোন রেখে দিতে,
হয়ত ইংরেজীতে খুব সুন্দর করে বলতে-
“স্ট্রেঞ্জ!

বিস্তারিত»

জীবনের খসড়া খাতায়

ইচ্ছে হলেই সব কথা বলা যায় না। তবে না বললেও-
কিছু কিছু মনের কথা ছড়িয়ে পড়ে আকাশে বাতাসে,
না বলা কথাগুলো মাঝে মাঝে ভেসে ওঠে চোখে মুখে।
যার শোনার, সে শুধু শুনেই যায়, মুখে কিছু বলে না।
যার দেখার, সে দেখে শুধু মনে মনে ছবি এঁকে যায়।

এ জীবনে অনেক কথা শুধু কল্পনায় বলা হয়ে থাকে।
অনেক কথা আমৃত্যু না বলাই থেকে যায় মনের মাঝে।

বিস্তারিত»