একটি ছোটগল্প, অন্যটি চতুর্দশপদি

প্রেম বনাম ফ্লার্ট

অহন আমি জাইনা গেছি, তুমি তারে ঘেন্না করো
ক্যান? ক্যান বা তার কথাগুলান বিষের লাহান
ঠেকে তোমার কানে? বুঝো নাই, তোমারে সে যে বড়
বাইসাছিল ভালো। তোমার জন্য পর্বত-প্রমান
প্রেম সাজাইয়া, হাত মেইললা – বইসা ছিল সে,
অপেক্ষার প্রহর গ্যাছে, আর তার প্রেম বাড়ছে।
কিন্তু তুমি যে তাঁর কাছে প্রেম চাও নাই, সেইটা
সে জানতেও পারে নাই।

বিস্তারিত»

অজেয়

(উইলিয়াম আর্নেস্ট হেনলি রচিত এই কবিতাটা অনুবাদের আগ্রহ জাগে Invictus সিনেমাটি দেখার পর। মূল কবিতার স্বাদ অনুবাদে রইল কতটুকু তা নিয়ে যদিও সন্দিহান। )

কুমেরু থেকে সুমেরু নামছে রাত অবিরাম
সব ছেয়ে যায় নরকের আঁধারে
তারই গহ্বর হতে জপি ঈশ্বরের নাম
যিনি হয়তো দিয়েছেন অজেয় সত্তা আমারে।

দুঃসময়ের ছোবলে আহত হয়েছি বারবার
কিন্তু শিউরে উঠি নি আমি,

বিস্তারিত»

ভালবাসা একপলক

শেষ বিকাল
যখন সোনা রোদে পৃথিবী মায়াময়
পার্কের ভিতর দিয়ে হেঁটে চলা যুবক
এক টুকরা কাগজ কুড়িয়ে পায়।
কেউ ঝালমুড়ি খেয়ে ফেলে গেছে-

শিউলি ফুলে সাদা হয়ে আছে পথের পাশে ফুটপাথ
শৈশবের দিন মাখামাখি হয়ে আছে শিউলির সাথে
হৃদয়ের পটে আঁকা
স্মৃতির ভিতর যত্নে রাখা।
রুপালী আলোর জালে যেন জড়ানো আঁধার-

ফুলগুলো সে মাড়িয়ে যেতে পারে না
না পা ফেলা যায়
পাশ কাটানো ও দায়
এমনই তার টান!

বিস্তারিত»

সব ফিরিয়ে দিলাম

সেদিন অফিস বন্ধ ছিল আমার
সকাল থেকেই তুমুল বৃষ্টি
এমন দিনে মতিঝিল থেকে ফিরছিলাম সাভারের বাসায়।
.
বিআরটিসি’র ডাবলডেকার বাসের
দোতলার কয়েকটা জানালায় কাঁচ ছিল না
উপরে তাই যাত্রী ও ছিল কম
নাই বললেই চলত.. আমি একাই ছিলাম শুধু।
ভেজা সিটে বসতে অনীহায় নীচতলায় অনেক গাদাগাদি
তাই দেখে
দোতলায় ভাঙ্গা জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখে দেখে ভিজে চলেছিলাম।

বিস্তারিত»

যাবার বেলায়

আমার দুয়ারে শব্দেরা কড়া নাড়ে,
হিমেল বাতাসে কাঁপে সন্ধ্যার ছায়া
অস্ফুটে ডাকে ইশারায় চুপিসারে,
‘আয়, চলে যাই, ফেলে রেখে সব মায়া!

কোথায়, কখন, উড়ে যেতে হবে হুট—
ঝরা পাতাদের তা কি কভু জানা থাকে?
এই পড়ে থাকা, এই দেয়া কোন ছুট,
অচেনা পথের শীতার্ত বাঁকে বাঁকে!

কনীনিকা থেকে সব আলো মুছে ফেলে
হাতড়ে হাতড়ে গোধূলির পথ চলা,

বিস্তারিত»

কবিতার শহর

আজ রাত কবিতার নয়,
অন্য কোন রাতে না হয় লিখব।
আজ রাত জেগে থাকার, ঘুম আসে না বলে-
দিঘীর জলের উথালপাথাল দেখব।

নগর থেকে আজ রাতটা একটু দূরে,
একটু বেশীই নিস্তব্ধ।
প্রেয়সীর বাহুডোরে আটকে নেই এ রাত-
শুধুই ঘ্রাণহীন আর বাকরুদ্ধ।

দূরের কুকুর ডাকছে থেমে থেমে, এক নাগাড়ে
কোন এক নীশাচরীর আশে পাশে।
আজ রাস্তা শুধুই ওদের,

বিস্তারিত»

রাতের কথা

যে প্রেম-প্রতিজ্ঞা ছিলো সেদিন প্রাতে-
অবহেলার আঁচড়ে রক্তাক্ত হলো ভর দুপুরে।
সূর্যের নিষ্ঠুরতায়-
অনুভূতি পুড়িয়ে-
অপেক্ষার আশ্রয়ে-
আশ্রয়ের অপেক্ষায়-
মাথা রাখলাম এক বিকেলের কাঁধে।
কিন্তু, সে ভার সে সইবে কেন?
হাত বাড়িয়ে অধিকারটুকু চাইতেই-
মুখ ফিরিয়ে চলে গেলো সে।

ধূলায় লুটানো মুখ আকাশপানে তুলতেই
সন্ধ্যাতারা ডাকল হাতছানিতে।
স্নিগ্ধতার আকর্ষণে-
স্বপ্নের আমন্ত্রণে-
বন্ধনের মায়াজালে-
মায়াজালের বন্ধনে-
আমার সবটুকু সঁপে দিলাম তার পায়ে-
শাঁখের ধ্বনির মতই মিলিয়ে গেলো সে।

বিস্তারিত»

কোন এক বজ্রাহত পথিকের প্রতি

ওহে বজ্রাহত পথিক, কান পেতে তুমি শোন,
জীবনের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়, কখনো ছিল না।
তুমি বাক হারিয়েছো? হতচকিত, দিশেহারা?
চক্ষুস্মান হয়েও দৃষ্টিহীন? ওঠো পথিক, ওঠো।
শিরদাঁড়া সোজা কর, ঋজু মনে এগিয়ে যাও।
দৃষ্টি মেলে ধরো সুদূর দিগন্তে আর উচ্চাকাশে।

উঠে দাঁড়াও, সম্মুখে এগিয়ে চলো দৃপ্ত পদযোগে।
শোন, ঝিরিঝিরি দখিনা বাতাস কী বলে তোমায়।
বলে, আমি উত্তরে যাচ্ছি,

বিস্তারিত»

একটি গান, দুইটি সনেট

গান
তুমি চাইলে মনোবিদের সাথে করে নেবো সন্ধি,
তোমার কথায় মেনে নেবো আমি বুদ্ধি-প্রতিবন্ধি।
যদি বলো মানবো আরো, ধুর্ত ছিলাম আমি,
তোমার জন্যই করেছিলাম কতই না ভন্ডামি।

একটি কথা বলার আছে যাবার প্রাককালে,
তোমার জন্য সব কলঙ্ক পরবো আমি ভালে।
তুমি শুধু খুশি থেকো, হয়ো অনেক সুখি,
আর যেন না হতে হয় আমার মুখোমুখি।

কাঁদা যে আমি ছুড়ি না,

বিস্তারিত»

~ প্রবাসে পরবাসে নেই, সাত সকালে বেরিয়েছে সে; বহুকাল পর বাড়ী গেছে ~

বলা হয় কোনো লেখা পড়ে পাঠকের মনে যখন সেই দ্যোতনাটি জেগে ওঠে – আর সে ভাবে, ‘আরে এ যে আমারও কথা’; তখনই সে লেখাটা সার্থক লেখা হয়ে ওঠে। যতো বেশী পাঠকের মনে এমন ধারণার জন্ম দিতে পারে কোনো লেখা, ততো বেশী পাঠকপ্রিয়তা, ততো বেশী জনপ্রিয়তা পাবে তা; পাবে দীর্ঘায়ু। সহজ শাদামাটা ভাবে তাই বলাই যায় যে, বিভিন্ন ভাষার শীর্ষ কবি ও লেখকরা যখন লেখেন, এমনটা ভেবে এরকম কিছুই লেখেন।

বিস্তারিত»

অনুরোধ

[কবিতা বড়ই সংক্রামক। কথাটা প্রায়ই ভাবি, কিন্তু বলা হয়ে ওঠে না।
পূর্ণেন্দু পত্রীর এই পংক্তিগুলো চোখে পড়লো, আজ সকালে, এক বন্ধুর স্ট্যাটাসে।
\\ যখনই পেতেছো হাত,দিয়েছি উপুড় করে প্রাণ, তবু আমি একা,
তবু আমার কেউ নও তুমি,
আমিও তোমার কেউ নই,
আমাদের অভ্যন্তরে স্রোতস্বিনী আছে সেতু নেই। //
আর কোত্থেকে যেন নীচের এই কথা গুলো ভেসে এলো মাথার ভিতরে।

বিস্তারিত»

স্বপ্ন বিলীন

অনাবিল শুভ্রতার পাপড়িতে সপ্নগুলো খুঁজে পেয়েছিল তাদের রং
ভবিষ্যৎের আকাশে তারা উড়েছিল ক্ষণিককাল
শুন্যতার মাঝে পূর্ণতার অনুভূতি দিয়েছিল চিরন্তনতার ছোয়া
কিন্তু হঠাৎ, সম্ভ্রান্ত নির্বোধ শ্রেণীর কতিপয় উদ্ভট, আবেগহীন প্রথা
আভিজাত্যর ট্যাংকের তলে পিষ্ট করে হাসল ড্রাকুলার পিশাচী হাসি
নিরবতার মঞ্চে না বলা কথাগুলো বিলীন হয়ে যায় মহাকালের অদৃশ্য পাতায়
অচিনপুরের হাতছানি আর স্রস্টার স্পন্দন এখন ক্ষতগুলোর নিরাময়
স্বর্গের প্রতিিট পরমাণুর প্রতি ব্যথাতুর বসুন্ধরার হাজারো সালাম

বিস্তারিত»

চোখের ভাষা

কিছু কিছু ছবি আছে, চোখ ঝলসে দেয়।
ওরটাও তেমনই, যেন আলোর ঝাপটা।
একবার চোখ পড়ে তো সরানো যায় না।
জোর করে সরালেও প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে।

কিছু কিছু মুখ আছে, ভালোবাসার আধার।
হাজার অচেনা হলেও ভালোবাসা দিয়ে যায়।
দেখে যেন মনে হয় সেটা আজন্ম চেনামুখ,
চোখ দুটো বারেবারে হাতছানি দিয়ে ডাকে।

নক্ষত্রের মত ঝিকিমিকি করা ওদুটো চোখে
চোখ পড়লে কিছুতেই স্থির থাকা যায় না।

বিস্তারিত»

আমার শহীদ কাদরী

“সহসা সন্ত্রাস ছুঁলো। ঘর-ফেরা রঙিন সন্ধ্যার ভীড়ে
যারা তন্দ্রালস দিগ্বিদিক ছুটলো, চৌদিকে
ঝাঁকে ঝাঁকে লাল আরশোলার মত যেন বা মড়কে
শহর উজাড় হবে, – বলে গেল কেউ – শহরের
পরিচিত ঘণ্টা নেড়ে খুব ঠাণ্ডা এক ভয়াল গলায়
এবং হঠাৎ
সুগোল তিমির মতো আকাশের পেটে
বিদ্ধ হলো বিদ্যুতের উড়ন্ত বল্লম!”

‘বৃষ্টি, বৃষ্টি’ কবিতাটি প্রথম কখন পড়ি মনে নেই,

বিস্তারিত»

নিঃসঙ্গ সঙ্গী

“ও মাঝি! মাঝি ও…!”

যাহ্‌, শেষ নৌকাটাও গেলো চলে!

হতবিহ্বল আমি, ঘাটে দাঁড়িয়ে নিরুপায়,

সামনে এক বিশাল মরা নদী –

পানি যৎসামান্য, নিস্তরঙ্গ,

স্থির ধ্যানমগ্ন সন্ন্যাসী যেন এক!

বাঁধানো সিঁড়ি পাঁজরের হাড়ের মতন

সাক্ষ্য দিচ্ছে-

ক্ষয়ে যাওয়া অতীতের।

কান পাতলেই,

নিস্তব্ধতা ছাপিয়ে ওর দীর্ঘশ্বাস শোনা যায়-

হুহু করে বলতে থাকে যেন-

“আজও কেউ নেই!”

 

বিস্তারিত»