সাতাশ বছর পরে- তিন

মাঝরাতে একা হাটতে গিয়ে পুরনো পথে দেখা হলো।
“নীলা তুমি এখানে কেনো, এখন কেনো, একা কেনো?
সারাদিন তোমায় খুঁজি, কোথায় হারিয়ে গেছো?
একা সময় কাটে না, বসেই আছি কখন তোমায় দেখবো।”

নীলার সেই তীক্ষ্ণ চাহনী, যা বুকে তীরের মতো লাগে
হেসে ফেললো, “আমি কি আর সবার মাঝে আছি?
তুমি খোঁজ, একা খোঁজ, তোমার কাছে ধরা দেবার জন্য
এই পথে, আমাদের পথে, দিনের পর দিন অপেক্ষায় থাকি।”

এ এমন ছেলে মানুষি, এতো খুঁজে ফিরি, তবু পাই না।
বারবার ভুলে যাই কখন কোথায় প্রথম দেখা হয়েছিলো,
সেই পথ মাড়ানো হয় না, নীলা এখনো ভোলেনি।
আমি শুধু খুঁজি চেনা পথে, প্রথম দেখার রাস্তাটা ছাড়া।

নীলা ডাকলো, কাছে এসে বসতে বললো, শুনতে চাইলো
সমস্ত কথা, প্রতিটি কথা যা এতো দিন জমা ছিলো বুকে
আমি বললাম, “কত কথা শোনার সময় আছে তোমার?
এতো কথা আছে, বলে শেষ করতে পারবো না, নীলা।”

আবারো হাসলো, বললো “আমি জানি। তুমি একা
যা বলবে শুধু তাই শুনতে চাই, কে কি বলে তাও জানি।
সময় কম, তুমি না বললেও সব শুনতে পাই, বোঝ?”
বললাম, “না বললেও যদি বোঝ, তবে শুধু তোমায় দেখি?”

ভালোবাসার মাঝে একটা ছোট বোঝাপড়া আছে,
যদি সব কথা বলেই বোঝাতে হয় তাহলে সময়
কোথায় ভালোবাসার? অনেক কথা বুকে জমা আছে
বুকে হাত দিলো, আবারো হাসলো, বললো “সব শুনেছি।”

সেই নীলা, একই নীলা, কিছু বলবার আগেই মনের
কথা পড়ে নিতো। এখনো বোঝে। কেন শুধু কবিতার মত
কি বলবো ঠিক করতে বসি? যে বোঝার, বুকে হাত দিয়ে
চোখ দেখে বুঝবে। “নীলা, আমিও তোমার কথা শুনছি।”

৪,০১৫ বার দেখা হয়েছে

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।