আমেরিকা থেকে এসেছি কয়েক দিন আগে। এখনো এক সপ্তাহ হয়নি। বন্ধুদের সাথে দেখা সাক্ষাত করে বেড়াচ্ছি। এরকম একদিন দুপুরের শেষে এক বন্ধুর বাসা থেকে নিজের বাসায় ফিরছি। আমাদের বাসার সামনে আসতেই দেখি নীচে আব্বা দাঁড়িয়ে আছে। আব্বা আমাকে দেখে হেসে বলল যে, তাড়াতাড়ি উপরে যা, তোর এক আমেরিকা ফেরৎ বন্ধুর বউ এসেছে। একটু অবাক হলাম। কে আসল আবার? আব্বা সহ উপরে আসলাম। ঘরে ঢুকে দেখি বেশ লম্বা সুশ্রী একটি মেয়ে সাবলীল ভাবে কথা বলে যাচ্ছে আম্মার সাথে।
বিস্তারিত»দ্বিতীয় পর্ব
তুমি আমার বুকের কাছে
দুখের কাছে
ওম রেখেছো
ক্লান্তি পেতেই ঘুম রেখেছো
মেঘলা দিনে হাত বাড়াতেই বৃষ্টি দিলে
চৈত্র দিনে ফুল দিয়েছো দু’হাত ভরে
শেষ বিকেলে গান শোনালো বুলবুলিতে
স্বপ্নে বিভোর দিনগুলিতে
আকাশ এসে রঙ ঢেলেছে সারাবেলা
বারান্দাতে এক চিলতে রোদের খেলা
তুমি আমার দুঃসময়ে সঙ্গী ছিলে
আমায় তুমি নিয়ে যেতে কাজলবিলে
সারা আকাশ উপুর হয়ে দেখতো মোদের পদ্মচুরি
মেঘের ঘুড়ি
ঘুরে ঘুরে ছায়া দিতো চিলের সাথে
জোৎস্না রাতে
চুপটি পায়ে আসতে তুমি আমার চোখে স্বপ্ন নিয়ে
স্বপ্নে মোরা দেখতে পেলাম বিজন বনের সবুজ টিয়ে
চিত্রা হরিন,রঙিন চিতা
ভালোবাসার লাল কবিতা
তাদের সাথে রঙধনুরা ঘুরতে এলো এই পাড়াতে
এসব কিছু ঘটলো কেবল তোমার হাতের ইশারাতে।
পাগল মন!
মন কি এবং মনের কাজই বা কি ? কিভাবে চলে মনের কাজ কারবার ? কখনোই সংজ্ঞায়িত করা হয়তো সম্ভব হবে না।
মনে কি থাকবে আর কি থাকবে না ? ব্যাপারটা ‘মনই’ নির্ধারণ করে ।আজব ! অনেক গুরুত্ব পূর্ণ , অতীব গুরুত্ব পূর্ণ ঘটনা হয়তো বেমালুম ভুলে আছি, আবার অনেক বছর আগের নেহায়ত সাধারণ কিছু হয়তো মনে জ্বল জ্বল করে জ্বলছে। যেন এইতো গতকাল ঘটে যাওয়া ঘটনা ।
বিস্তারিত»অক্সিডেন্ট আর ছায়াশ্রমিক- মধ্যিখানে ব্রেনার পাস
রোমে আসার আগে শুনতাম এই শহরে নাকি ৩০,০০০ বাঙালি আছে, আসার আগে বিশ্বাস হয়নি। কিন্তু আসার পর মনে হচ্ছে সংখ্যাটা এরও বেশি হতে পারে। আমি থাকি মূল শহরের বাইরে গ্রামমত একটা জায়গায়, আশেপাশে অনেক খোলা জায়গা, পাশেই ইউনিভার্সিটি। শহরকেন্দ্রে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ১ ঘণ্টা, বাসে ২০ মিনিট আর মেট্রোতে ৪০ মিনিট। প্রধান বাস এবং ট্রেন স্টেশনের কারণে কেন্দ্রটির নাম তেরমিনি (Termini)। এখান থেকেই শুরু অভিবাসীস্থানের।
বিস্তারিত»আমার দেখা ‘৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ।(সাত)
যুদ্ধের ভয়াবহতা ধীরে ধীরে টের পেতে লাগলাম । এলাকায় পাক আর্মি যেমন তাদের লোকবল বৃদ্ধি করতে লাগলো, সাথে সাথে মুক্তি বাহিনী ও দিন দিন শক্তিশালী হতে লাগল। বাঙ্গালী বীর যোদ্ধা ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিমের নেত্রীত্বে মানিকগঞ্জ ,তাল তলা এলাকায় ভয়াবহ সম্মুখ সমরে নাকানি-চুবানি শুধু নয় প্রকৃত অর্থেই ওরা ‘পানিতে চুবানি’ খেতে লাগলো ।
বাজার ঘাটে গানবোটের সমারোহ বাড়লো । মুক্তি বাহিনীর ভয়ে থানার ঘাটির আশে পার্শের বাজার,
বিস্তারিত»আমার দেখা ‘৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ!(ছয়)
শুনে বাবা খুশী হওয়ার বদলে গম্ভীর হয়ে পড়লেন।কারন টা দুদিনেই বুঝা গেল। আবার গ্রামে আর্মি আসছে।এবং এবার আর ফ্রেন্ডলি নয়।দুদিনেই গ্রামটার প্রান চঞ্চল্ল্য কোথায় যেন হারিয়ে গেল। কেমন থমথমে হয়ে পড়লো। শিশুরা কান্না করলে ও “আর্মি আসছে” বলে চুপ করানো হয়।
বর্ষার থৈ থৈ পানি চারিদিকে। রাস্তা ঘাট থক্-থকে কাঁদায় ভরপুর। আর্মিরা পারত পক্ষে থানা থেকে বেরুতে চাইতো না। সুদৃঢ় ব্যাংকার পরিবেষ্টিত হয়ে থানায়ই থাকা নিরাপদ মনে করতো।
বিস্তারিত»দেশে ফেরার গল্প – তিন
ট.
অনেকদিন পর দেশের সকালবেলার নিরেট আলো চোখে এসে লাগলে যে কি ভাল লাগে তা বলে বোঝাবার না। সকাল ব্যাপারটাই আসলে খুব স্নিগ্ধ। কেমন মোলায়েম পেলব আলো, নতুনদিনে জেগেওঠা মানুষজন, শহরের ব্যস্ত হয়ে ওঠার প্রস্তুতি – সব মিলে বেশ একটা আয়োজন। এয়ারপোর্ট থেকে বাসায় যাচ্ছি। এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে প্রথম চোখে পড়লো এয়ারপোর্টের মুখেই বেরিয়ে হজ্জ্ব ক্যাম্প-এয়ারপোর্ট এবং এয়ারপোর্ট-উত্তরা সড়কের সংযোগে যেখানে লালনের ভাষ্কর্য হবার কথা ছিল সেখানে কেমন যেন বাইন মাছের মতো পেঁচানো পেঁচানো একটি স্থাপত্য।
আমার দেখা ‘৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ!(পাচ)
১৫০০০ ফিট উপর থেকে সবুজ শ্যামল দেশটা কে কত সুন্দর লাগছে। ছোট ছোট ম্যাচ বক্স এর মত ঘর বাড়ি ,পুকুর।এর চেয়েও ছোট মানুষ। পিঁপড়া থেকেও ছোট ।এত উপর থেকে দেখা যাবে কিনা সন্দেহ। তাদের এই জমিনএ এই তাণ্ডব, এত হানা-হানি।আল্লাহ্ তালা নিশ্চয় উপর থেকে অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করছেন ও হাসছেন।ভাবনাটা সাংঘাতিক।ছোটদের এরকম ভাবতে নেই ।শাস্তি যোগ্য অপরাধ।
সবুজ পোশাক, সবুজ টুপি পরা বিমান বালা এবার ভালো ব্যাবহার করেই ‘কে,রাহমান’
বিস্তারিত»বাংলাদেশ বদলাবেই
১
আজ থেকে ৩ বছর আগে মাত্র কেবল সেকেন্ড ইয়ারে পা দিয়েছি। আমাদের একটা কোর্স ছিল (নাম ভুলে গেছি) সেখানে ইন্টারন্যাশনাল বিযনেস পড়ানো হতো। বড় অর্থনীতি কিভাবে ছোট অর্থনীতিকে খেয়ে ফেলে তাই শিখছিলাম। বেনিয়া গোষ্ঠী (পড়ুন রাষ্ট্র) যারা আগে এলাকা দখল করে শোষন করত এখন তারা বিশ্বায়নের নামে অর্থনৈতিকভাবে শোষন করে। তারা ঋণ নিতে বাধ্য করে আবার তার কারনে তাদের নির্দেশিত পথে চলতেও হয়।
বিস্তারিত»আমার দেখা ‘৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ!(চার)
কোরবানীগঞ্জ-খাতুনগঞ্জ ।চট্টগ্রামের, তথা দেশের আমদানি-রফতানি ব্যবসার তৎকালীন প্রান কেন্দ্র ।’জলিল-হাকিম ম্যানসনের’ চার তলায় বাবার অফিসের একাংশ পরিষ্কার করে মহাসুখে নতুন সংসার গুছিয়েছেন মা। চারিদিকে উর্দু-গুজরাটি-বোম্বাইয়াদের ভিড় । হাসি খুশী ভদ্র সুন্দর ব্যবহার । মূলতঃ ব্যবসায়ী সম্প্রদায়।
মজার ব্যপার হল, দেশকে ধ্রুত আবার স্বাভাবিক অবস্তায় ফিরিয়ে নিতে বদ্ধ পরিকর পাকিস্তানী ‘হুকুমত’ এইসব এলাকাকে এড়িয়ে চলছিলো । যাতে পূর্ণোদ্দমে অর্থনীতি আবার সচল হয়।
কিন্তু জেলখানার মানুষের আবার স্বাভাবিক জীবন ?
বিস্তারিত»আমার দেখা ‘৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ!(তিন)
‘৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘটনা এত ব্যাপক, এতো বিশাল যে চাক্ষুষ সাক্ষী প্রতিটি বাঙ্গালী নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লিখলে দশ বিশ খণ্ডের বই হয়ে যাবে। তাই ভাবছি, শুধু সেই সব ঘটনা লিখবো, যেগুলি কিশোর মনে সবচেয়ে বেশী ছাপ ফেলছিল।
কালুরঘাট শাহ সাহেবের বাড়ীতে বেশ আছি। শহরের বাইরে, এদিকের মানুষের ভাবখানা , আমরাতো জিতেই গেছি। ওদের এখন এদেশ থেকে লেজ তূলে পালাতে যতক্ষণ বাকি! কিন্তু এর মধ্যে শুরু হলো ”
বিস্তারিত»আমার দেখা ‘৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ!(দুই)
আমরা আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছিলাম এক মহা বিস্ফোরণ এর দিকে। এগিয়ে আসছিলো ২৫ শে মার্চ, পশ্চিম পাকিস্তানী দের সেই মহা পরিকল্পনার রাত!
ওদের নাকি বাঙালীদের আর প্রয়োজন নাই। ওরা শুধু আমাদের ৫৫ হাজার বর্গ মাইল মাটি চায়, তাই ‘ অপারেশন সার্চ লাইট ‘ জ্বালিয়ে মেরে ফেলতে চায় আমাদের সবাইকে। মাটির সাথে গুঁড়িয়ে দিতে চায় ওরা আমাদের সকল ঘড়-বাড়ী, মসজিদ-মন্দির, স্কুল-কলেজ । এরই নাম নাকি ”
বিস্তারিত»একটি ন্যাংটা হওয়ার গল্প ও কিছু কথা … …
১.
ঘটনার শুরু আমার ছোট বোনকে দিয়ে। হঠাৎ প্রসঙ্গক্রমে একদিন ওকে জিজ্ঞাসা করলাম, বলো তো বাংলা ভাষা কবে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায়? ওর সহজ-সরল উত্তর: ১৯৫২। আমি একটু রেগে গিয়ে বললাম, এটাও ঠিকমত জানো না! এরপর ওর সাথে আরেকটু কথা বলে বুঝলাম, বিভিন্ন রচনা-বই আর Text বই পড়ে পড়ে “জাতীয় জীবনে ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা” – এই টাইপের রচনা লেখার জন্যে ভাষা আন্দোলন নিয়ে ওর যতটুকু জানা-শোনা তা-কে ২/৩ লাইনেই সাজিয়ে ফেলা যায়।
আমার দেখা ‘৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ।(এক)
(চল্লিশ বছরের পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করে নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলি লিখতে চেষ্টা করেছি । তথ্যগত ভুল ভ্রান্তি হয়ে যেতেও পারে , তবে সঠিক ঘটনা পরম্পরা কৈশোর এর দৃষ্টিতে যা দেখেছি , সহজ ভাবে উপস্থাপন করতে চেষ্টা করেছি।)
১৯৭১ সাল। সবে তখন ক্লাস ফাইভে উঠেছি।অবাক বিস্ময়ে চারিদিকে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলি দেখি। কোনটা বুঝি , কোনটা বুঝিনা , কেন এমন হয় ??
বিস্তারিত»তারেক মাসুদ এবং আমরা
জহির রায়হান, আলমগির কবীর, এবং তারেক মাসুদ আমাদের ফিল্মের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র; এদের তিনজনকেই আমরা অকালে হারিয়েছি । আবিশ্বাস্য হলেও সত্যি জহির রায়হানকে হত্যা করেছে আল-বদর/রাজাকার, তাও ১৬ই ডিসেম্বরের পরে, আর আলমগীর কবীর, এবং তারেক মাসুদ দুজনকেই হারাতে হল সড়ক দুর্ঘটনায়। তারেকের “মাটির ময়না” আমাদের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের চলচিত্র এবং উল্লেখ্য যে, মাটির ময়নার পুরটাই আমাদের মাটির রস সিঞ্চিত। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের ছাত্র,
বিস্তারিত»