ইসসিরে! কতদিন পর সিসিবি আড্ডা!

লাবলু ভাই গাড়ির ইঞ্জিন ইস্টার্ট দিতে দিতে কহিলেন, চলো বৎস, “খাদ্য দর্শন” নামক দোকানে চলো। আগে আগে পৌঁছাইয়া সবাইকে গ্রহণ করিতে হইবেক। আমি সামনের সীটে বসিতে বসিতে কহিলাম- জী আজ্ঞে।

তো ব্যাপারটার শুরু এইভাবেই।

ফুড ভিশনে পৌছে বুঝলাম ভীষণ রকমের আগেই পৌছে গেছি আমি আর লাবলু ভাই। আমাদের দেখা মাত্র বেশ ভালো রকমের স্বাস্থ্যের অধিকারী এক হাসিখুশি ছেলে তড়াক করে উঠে দাঁড়িয়ে লম্বা মাপের সালাম দিলো। আমি আর উত্তর দিলাম না। হাজার হইলেও লাবলু ভাই গুনে গুনে মাত্র পঁচিশ বছরের সিনিয়র। উত্তরটা না হয় সেইই দিক। তারপর দেখি আমার দিকেও তাকিয়ে সালাম ঠুকে দিলো। কী মুশকিল! ভাবলাম দোকানের মালিক পক্ষের কেউ। বেশ আদব কায়দা জানে, চেয়ারে বসতে বসতে ভাবলাম। তারপর পরিচয় জিজ্ঞেস করলাম। “ভাই, আমি রায়েদ, ০২ ব্যাচ” – উত্তরে বললো সে। দোকানের মালিক পক্ষ হঠাৎ করে চোখের সামনে তিন ব্যাচ জুনিয়র হয়ে গেল। কী তামশা! আমি খানিকটা টাশকি সহকারে বললাম – ও আচ্ছা!

ইফতারের তখনো বহুত সময় বাকি। তারপর আমরা তিনজন বসে বসে আয়েশ করে মারা যায় এমন মাছির সন্ধানে চারপাশ তাকাতে লাগলাম। মাছি খুঁজতে খুঁজতে দরজার দিকে তাকাতেই হঠাৎ দেখি জুনা ভাই, হাতে হিরো হোন্ডার নায়কের মত হেলমেট। ভিতরে ঢুকেই আমাদের দিকে তাকিয়ে জুনা ভাই ঝুনা একখান হাসি দিলেন। হাসি মিলাতে না মিলাতেই শাওন ভাই এসে ঢুকলেন রুমে। তারও একটু পর ০২ ব্যাচের রাফি। এদিকে আন্দালিব ভাইও চলে এসেছেন। স্বগোত্রীয় বৃক্ষ দেখে জুনা ভাই পাতা দুলিয়ে হাসি দিলেন আন্দালিব ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে। আমরা প্রাণভরে শ্বাস নিলাম। বুঝতে পারলাম হঠাৎ করে রুমে ফ্রেশ অক্সিজেনের সাপ্লাই বেড়ে গেছে।
এই কজন মিলে বেশ কতক্ষণ বসে থাকার পর আড্ডায় যোগ দিলেন “মিস টিটো” ভাই।তবে আড্ডায় এসেও টিটো ভাইয়ের শেষ রক্ষা হলোনা। আড্ডা শেষেও তিনি মিস টিটোই রয়ে গেলেন। পুরো সময় জুড়ে “হাউ টু মেইনটেইন এবসল্যুট সাইলেন্স ইন এ নয়সি রুম” নামের কোন টিভিসি করার প্ল্যান তার মাথায় ঘুরতেসিলো কীনা কে জানে! তো এরপর একের পর এক মানুষ আসা শুরু করলো আরো- তানভীর ভাই, রিবিন ভিই, সামিউর ভাই, হাসান ভাই এবং কাইয়ুম ভাইয়ের উত্তরসূরী হিসেবে “ডুমুরের ফুল – পার্ট টু” সিনেমার নামভূমিকায় নাম লেখানো কাম্রুল ভাই। অবশ্য বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে এই সিনেমার সাইড নায়কএর রোলটা এ যাত্রায় তানভীর ভাইই করতেসে। নায়িকা কে বলেন তো? … কে আবার? – দিহান দ্য গ্রেট আহসান! (ভাগ্যিস মইন ভাই কানাডা থাকে!)

আকাশ এত মেঘলা ছিলো যে আকাশ দা তাই একলা আসলেন না, সাথে আনলেন ভাবীকেও।

অত:পর, ইংরেজী বাক্য রচনার মত – আওয়ার জয়েস নিউ নো বাউন্ড হোয়েন দরজা দিয়ে মালসিংহ ফয়েজ ভাইয়ের প্রবেশ ঘটলো। জুনা ভাইয়ের দিকে হঠাৎ তাকিয়ে দেখি ফয়েজ ভাইকে দীর্ঘ ত্যাগ তীতিক্ষা আর অপেক্ষার পর অবশেষে দেখতে পারার আনন্দে শার্টের হাতায় চোখের পানি মুছতেসেন। আমি জুনা ভাইয়ের দক্ষিণ হস্ত চেপে ধরে সান্ত্বনা দিতে দিতে বললাম – ইসসিরে! আর কাইন্দেন্না!

এদিকে যার জন্য আজকের পার্টির আয়োজন সেই শান্তা আপাও চলে এসেছেন। শান্তা আপা দেখতে তার ব্লগগুলোর মতই সুন্দর আর স্নিগ্ধ। ওদিকে ডিমের হালুয়া নিয়ে ততক্ষণে চলে এসেছে রাখাল বালিকা স্যামিয়া হুসেইন ও তার বান্ধা গরু রায়হান আবীর। চলে আসলেন জিতুপিও মারজুমণিকে সাথে করে।

কিন্তু সবাইকে তাক লাগিয়ে ইনজুরি টাইমে গোল করে বসলেন লিভারপুলের এহসান ভাই। উনি আসবেন ভাবিনি। উনাকে তাই অসংখ্য ধন্যবাদ।

ভাবসিলাম মাস্ফ্যু ভাইকে মিস করবো, কিন্তু ফয়েজ ভাই সে সুযোগ দিলেন না, উনার গ্যাস সংকটের জন্য সবাই সারাক্ষণ এত বেশি চিন্তামগ্ন হয়ে গেলো যে কেউ বাকি কিছু ভাবার টাইমই পাইলোনা। কামরুল ভাই তো পারলে তিতাস গ্যাসের মালিকানা ফয়েজ ভাইয়ের নামেই লিখে দেয়!

ইফতার শেষে উদয় হলেন ব্লগ এডু আহসান ভাই, ভাবি এবং ওবায়দুল্লাহ ভাই। আড্ডা ততক্ষণে তুঙ্গে। সিসিবি নিয়া সিরিয়াস আলাপের মাঝে হঠাৎ করে ফেসবুকে উল্টাপাল্টা গ্রুপ নিজে নিজে খুঁজে না পাওয়ায় হা হুতাশ করা ফয়েজ ভাইয়ের বিলাপ শুনতে পাওয়া গেল অস্ফূট সুরে। আমরা সবাই গ্যাস সংকটের পাশাপাশি ফয়েজ ভাইয়ের মনের ব্যাদনার সাথেও সমব্যথী হলাম। পাশাপাশি মিস করলাম আমিন ভাই, চায়ে ওয়ালা, লাভবী ভাই সহ সকল বৈদেশি ভাই বেরাদরদেরও। আর কাইয়ুম ভাইয়ের জন্যেও গায়েবী জানাযা পড়া হবে কীনা সেটা নিয়ে একদফা কথা হয়ে গেল। একসময় ডিনার টাইমও চলে আসলাম, বহুদিন পর সিসিবি পরিবারের সবাই মিলে পেটপুরে আড্ডা সহকারে পেটপুরে ডিনার করলাম। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পেরিয়ে সেই রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত আমাদের সবার বয়স কমে কুড়ি বছরে এসে থেমে থাকলো সেই কয়েক ঘন্টার জন্য।

ইসসিরে! কবে যে আবার এমন একটা আড্ডা হবে!

১,৩৬০ বার দেখা হয়েছে

১৫ টি মন্তব্য : “ইসসিরে! কতদিন পর সিসিবি আড্ডা!”

  1. এহসান (৮৯-৯৫)

    বুঝতে পারলাম হঠাৎ করে রুমে ফ্রেশ অক্সিজেনের সাপ্লাই বেড়ে গেছে.... তোমার লেখা বরাবরের মতই মজার হইসে। গ্যাস নাই বলে কালকে ফয়েজ ভাইরে একটু বেশী কাঠ/বাশ দেয়া হয়ে গ্যাসে। কাম্রুল পোলাটা বেশী বদ হয়ে গেসে। ডিমের হালুয়াটা মজা ছিলো। আমি ভদ্রতা কইরা কম খেয়ে ফেলসি, সামনে দেখি রবিন পুরা প্লেট পুরাইয়া খাইসে 🙁

    জবাব দিন
  2. আসিফ খান (১৯৯৪-২০০০)

    "পুরো সময় জুড়ে “হাউ টু মেইনটেইন এবসল্যুট সাইলেন্স ইন এ নয়সি রুম” নামের কোন টিভিসি করার প্ল্যান তার মাথায় ঘুরতেসিলো কীনা কে জানে!" :khekz: =)) :khekz: =))
    একনিঃশ্বাসে পুরা লেখা পড়ে ফেললাম। ইসসিরে! লেখাটা হঠাত শেষ হয়ে গেলো।

    জবাব দিন
  3. সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

    পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং অদিবাসী সম্পর্কিত জমজমাট আলোচনাএ আমার মেয়ের গুরুত্বপূর্ণ মতামতের কথা কেউ উল্লেখও করলো না,

    হুম, লন্ডনেও অনেক মারামারি হচ্ছে

    :((


    You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।