একটি ন্যাংটা হওয়ার গল্প ও কিছু কথা … …

১.
ঘটনার শুরু আমার ছোট বোনকে দিয়ে। হঠাৎ প্রসঙ্গক্রমে একদিন ওকে জিজ্ঞাসা করলাম, বলো তো বাংলা ভাষা কবে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায়? ওর সহজ-সরল উত্তর: ১৯৫২। আমি একটু রেগে গিয়ে বললাম, এটাও ঠিকমত জানো না! এরপর ওর সাথে আরেকটু কথা বলে বুঝলাম, বিভিন্ন রচনা-বই আর Text বই পড়ে পড়ে “জাতীয় জীবনে ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা” – এই টাইপের রচনা লেখার জন্যে ভাষা আন্দোলন নিয়ে ওর যতটুকু জানা-শোনা তা-কে ২/৩ লাইনেই সাজিয়ে ফেলা যায়। এরপর একটু ঘাটাঘাটি করলাম আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্লাস ৫/৬/৭ এর পাঠ্যবইয়ের ইতিহাস অংশগুলো। দেখলাম, সব জায়গায়ই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে “ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস”টাকে প্রায় ৪/৫ লাইনের মধ্যেই বেধে ফেলেছে। ঘটনাগুলো অনেকটা এরকম: জিন্নাহর “উর্দু এবং উর্দুই …” ঘোষণা -> নাজিমুদ্দিনের ঘোষণা -> ছাত্রদের ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল বের করা -> রফিক, শফিক, সালাম, জব্বারের মৃত্যু … ব্যাস, ভাষা আন্দোলন শেষ। ও আমাকে ওর পড়া সবগুলো বই এনে দেখাল যে, এর কোনটাতেই ১৯৫২ এর ২১ এ ফেব্রুয়ারির মিছিলের পড়ে ভাষা আন্দোলন সম্পর্কিত আর কোন তথ্য নেই। আমার বোনকে আর খুব বেশি দোষ দিতে পারলাম না। এরপর ফেসবুকে একটা জরিপ চালিয়ে দেখলাম যে ফেসবুক-বন্ধুদের অধিকাংশেরই ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে জ্ঞান আমার বোনের মতই। বুঝলাম যে, এদের অধিকাংশই জানে না যে “২১ শে ফেব্রুয়ারি “জাতীয় শহীদ দিবস” হিসেবে পালন করতে পারার পিছনে যুক্তফ্রন্টের অবদানের কথা … ” জানে না, “ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নামটাও … …”। আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রশ্নে জানাটা এককথায় একলাইন: ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। অধিকাংশই জানে না যে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস”এর স্বীকৃতি আদায় করার পেছনে প্রবাসী সালাম-রফিককে কতটা কষ্ট করতে হয়েছে! ফেসবুকে একুশ নিয়ে Wall কাঁপিয়ে status দেয়া বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে বুঝলাম যে আমাদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসটা এখন ১ দিনের (২১ শে ফেব্রুয়ারি) ছকে আঁটকে পড়েছে। কয়েক বছর পরে সেটা হয়ত বাধা পড়বে ১ ঘণ্টার ছকে আঁটকে পড়বে। কারণ ইতোমধ্যেই গ্রামীণফোন এটাকে ” ৩০ মিনিটেই ইতিহাস রচনা” হিসেবে দাবী করে !!! ২১ শে ফেব্রুয়ারি এখন শুধুই একটা উৎসবের উপলক্ষ! একটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র! চুরি হতে হতে আমাদের এই বিশাল আন্দোলনের ইতিহাসটা এখন মাত্র কয়েকটা লাইনেই বন্দী হয়ে আছে! আজকালকার অনেকেই জানে না, “আমার ভাইয়ে রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি …” গানটার লেখক কিংবা গায়ক কে ছিলেন! ভাষা আন্দোলনের সুবিশাল ইতিহাসটা এখন ন্যাংটা প্রায় …

২.
কয়েকদিন আগের কথা। আওয়ামী-লীগ খুব ঘটা করে ৬০ বছর পূর্তি উৎযাপন করল। বুয়েটে “আওয়ামী-লীগের জন্মদিন পালন” নিয়ে খুব উল্লসিত ছাত্রলীগের কয়েকটা ক্লাসমেট আর জুনিয়রকে জিজ্ঞেস করলাম, তারা আসলে আওয়ামীলীগের জন্মের শানে-নুযূলটা জানে কিনা। খুব অবাক হয়ে উপলব্ধি করলাম, এদের কাছে “আওয়ামীলীগ” আর “শেখ মুজিব” প্রায় সমার্থক শব্দ! এদের ১ জনকেও পেলাম না যে জানে আমাদের ইতিহাসের কোন পর্যায়ে কীসের প্রয়োজনে “আওয়ামী লীগ”-এর জন্ম হয়েছিল! অথচ এরা একেকজন “জয় বাংলা … জয় বাংলা …” বলে দিনরাত গলা চেঁচায়! উপলব্ধি করলাম যে, ‘প্রতি বছর জন্মদিন পালন করলেও আওয়ামীলীগের ইতিহাস আর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়, এটা পুরোপুরি চুরি হয়ে গেছে শেখ পরিবারের হাতে !’ যে আওয়ামীলীগ এক সময় ৬/৭ কোটি মানুষের সম্পদ ছিল, তা আজ চুরি হয়ে গেছে একটা পরিবারের হাতে!!! আর তাইতো জননেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের জন্মদিনে শুধু তার বাবার কবরেই শ্রদ্ধা জানান, অকপটে “আওয়ামী লীগ”কে তার পারিবারিক সম্পত্তি মনে করেন; আর আমরা “নৌকার নতুন প্রজন্ম” নাম নিয়ে সেই জন্মদিন পালনের কেক খাই … … কোটি বাঙালির প্রাণের সম্পত্তি “আওয়ামী লীগ”এর ইতিহাসটাও আজ ন্যাটা … …

৩.
আমাদের জাতীয় জীবনের এক অমূল্য অর্জন নিজেদের একটা পতাকা। ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে সব জাতীয় উৎসবে আমাদের রাষ্ট্রনেতারা জাতীয় সঙ্গীতের তালে তালে পতাকা তোলেন। অথচ গত কয়েকটা মাসে শ’খানেক বন্ধুর সাথে কথা বলে বুঝলাম, আমাদের পতাকার ইতিহাসটাও চুরি হয়ে গেছে! আমাদের পতাকার ডিজাইনার হিসেবে “কামরুল হাসান” এর নাম আজ সর্বজন স্বীকৃত। কিন্তু এর পুরো কৃতিত্বটা আসলে তার প্রাপ্য নয়! আমাদের পতাকার প্রকৃত ডিজাইনটা করেছিলেন “শিব নারায়ণ দাস” বুয়েটের শেরে-বাংলা হলের একটা রুমে বসে। আমি গত কয়েকটা মাসে শেরে-বাংলা হলের অনেকের সাথে কথা বলে দেখলাম, এরা কেউই জানেনা, “সারা দেশ জুড়ে যে পতাকাটা পত পত করে ওড়ে তার যাত্রাটা শুরু হয়েছিল এই হল থেকেই !” কী করে জানবে বলুন, দোষটা যে ওদের নয়! বুয়েটে শেরে-বাংলা হলে ৪/৫ বছর কাটিয়ে গেলেও এটা জানার কোন উপায় যে নেই! কারণ জাতীয় জীবনের ইতিহাসের এই অংশটার কোন স্মারক শেরে-বাংলা হলে সংরক্ষণ করা হয়নি! কিংবা তার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি কেউ! আমাদের ইতিহাসে “শিব নারায়ণ দাস” আজ একটা চুরি যাওয়া নাম! এক সময় হয়ত “কামরুল হাসান” নামটাও হারিয়ে যাবে! জয় কিংবা পুতুলের ছেলে দাবি করবেন তাদের Grand-Grand Papa স্বপ্নে এই পতাকা পেয়েছিলেন! কিংবা রহমান পরিবারের কেউ দাবী করবেন যে, এই পতাকার জন্ম হয়েছিল ১৫ আগষ্ট, তাই ১৫ আগষ্ট হবে “জাতীয় পতাকা দিবস” ! কিংবা Grameen Phone বিজ্ঞাপন করবে ১ মিনিটেই আকাশ থেকে ধপাস করে নাজিল হল যে পতাকা ! ন্যাংটা আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক পতাকার ইতিহাসটাও … … …

৪.
আসলে আমার এই লেখাটার স্বার্থে উপরের উদাহরণ কয়টা ব্যবহার করলাম মাত্র। এ রকম চুরির লিস্ট নিয়ে একটা পোস্ট দিলে সেটাও হয়ত কয়েক শত লাইন হয়ে যাবে। আসলে জাতি হিসেবে আমরা হয়ত গর্ব করতে পারি। কিন্তু যাদের নিয়ে আমাদের এত গর্ব, আমাদের দেশে সেই কৃতি সন্তানেরা কখনোই খুব একটা সম্মান পায় নি। আর এ জন্যে কি আমরাই দায়ী নয়? এ দেশে চিরাচরিত-রাজনীতিবিদদের হাত ধরে যত উন্নতিই হোক না কেন – সেটা আমাদের দেশকে কতদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে, তা নিয়ে আমি সন্দিহান। কারণ আমাদের অধিকাংশ নেতাই আসলে “যথার্থ শিক্ষিত” নন। কিংবা “শিক্ষা” এদের অন্তরে পৌঁছায়নি। এদের অধিকাংশই ঠিকমত দেশের ইতিহাস জানে না। কিংবা জানলেও স্বার্থের বিবেচনায় সেই ইতিহাস স্বীকার করতে চায় না। অথচ নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম, মূল্যবোধ – এগুলো গড়ে তোলার জন্যে এই ইতিহাসের বিস্তার অনেক বেশি জরুরী। এদেশ যাদের কাছে “ঋণী”, সেই মানুষগুলো আমাদের কাছে যথার্থ রাষ্ট্রীয় সম্মান পায়নি কখনোই। অনেকেই পায়নি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। আর তাই প্রতি পাঁচ বছরে আমাদের “দেবতা” বদলায়! ইতিহাস চুরি যায় প্রতিদিন। আওয়ামী লীগের আমলে দেশের ইতিহাস আটকে যায় “ছয় দফা থেকে ৭৫” এ , আর বিএনপি আমলে “২৭ শে মার্চ কালুরঘাট থেকে ৮১ পর্যন্ত” এসে। যত রাজনীতিবিদদের গালাগালি করি না কেন, দেশের এই করুন-রুগ্ন দশার জন্যে কি আমরা একটুও দায়ী নই? নিজের পরিবারে নিজের সন্তানকে দেশের ইতিহাসের শিক্ষা দিয়েছি আমরা কয়জন? কিংবা নিজের ছোট ভাইবোনদের? আমরা আমাদের ইতিহাসকে লালন করিনি, তাই দিনে দিনে চুরি যাচ্ছে আমাদের সব রাষ্ট্রীয় ঐতিহাসিক সম্পদ। শত বছরের পুরনো লালনের আখড়ায়ও আজ হাত পড়েছে চোরেদের! সেদিন বেশি দূরে নয়, যখন লালনের আখরা বসবে GP-House এ, আমাদের তরুণরা ভাববে, লালন ছিলেন গ্রামীনফোনের একজন CEO !!!

স্বার্থান্বেষী শাসকমহল নিজেদের স্বার্থেই মূলত ইতিহাস Modify করে। এ বছর এক লাইন Modify করতে পারলে পরের বছর তার ফল ভোগ করতে পারবে – এই আশায়। নব্বইয়ের দশক থেকেই এদেশে “নামকরণ” এর একটু নতুন রেওয়াজ চালু হয়েছে। পাবলিক টয়লেট থেকে শুরু করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সবকিছুতেই এই ব্যাধির ছোঁয়া লেগেছে। গত বিএনপি আমলে বরিশালে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েই তার নামকরণ করা হল “জিয়া”র নামে! বরিশালে কী এমন একজন কৃতি সন্তানকেও খুঁজে পাওয়া গেল না ? জীবনানন্দ দাশ, অশ্বিনী কুমার দত্ত কিংবা ব্রজমোহন দত্তরা কি বরিশালের জন্যে কিছুই করেন নি ??? একটা নভোথিয়েটার করা হল, তার নামও সেই “নামকরণ” তত্ত্ব দিয়ে, এদেশে কি এমন একজন বিজ্ঞানীও পাওয়া গেল না যার নামটা টাঙানো যেত নভোথিয়েটারের দরজায় ??? অন্নদাশঙ্কর রায়ে “পারী” গল্পটা হয়ত পড়েছেন অনেকেই। দেশের ইতিহাস তথা কৃতি সন্তানদের সম্মান জানানোর কী যথার্থ উপায় বের করেছে ফরাসীরা। অথচ আমরা আঁটকে গেলাম একটা “শেখ-রহমান” আবর্তে !!!

৫.
প্রথম তিনটি অনুচ্ছেদে জানা-অজানার যে কয়টি উদাহরণ দিলাম, তা শুধু দেয়ার জন্যে নয়। একজন মানুষকে সব জানতে হবে – তা নয়। কিন্তু ধরনের এই তথ্যগুলো নতুন প্রজন্মের এ জন্যে জানা জরুরী যে এগুলোর সাথে কৃতজ্ঞতাবোধ জড়িত। এদেশ অনেক ঋণে ঋণী। প্রতিবছর ১৬ই ডিসেম্বর/২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরেই প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধে যান পতাকা তুলতে। আমরা কি পারতাম না একবারের জন্যে হলেও শিবনারায়ণ দাসের উত্তরাধিকারী কাউকে খুঁজে এনে একবার রাষ্ট্রীয়ভাবে পতাকা উত্তোলনের সুযোগ দিয়ে শিবনারায়ণ দাসের প্রতি সম্মান জানাতে? প্রতি একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদমিনারে প্রথম ফুলটা দেন প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতি; অথচ আমরা পারি না প্রতিবছর ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত কাউকে দিয়ে প্রথম ফুলটা দেয়াতে ? অথচ প্রথম শহীদ মিনারটা ঠিকই উদ্বোধন করেছিলেন শহীদ-শফিউরের বাবা! এগুলো হয়ত শুধুই আনুষ্ঠানিকতা হবে, কিন্তু তবুও তো একটা রাষ্ট্রীয় সম্মান। আমাদের রাষ্ট্রীয় আচার আচরণ কখনোই কারও কাছে ঋণ স্বীকার করতে চায় না। আর তাইতো অনেক সময়ই দাবীও শোনা যায়, “৯৯ সালে আমাদের আমলেই ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে” !!! আর এভাবেই মুখে মুখে চুরি যায় আমাদের ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধটাও এখন কয়েক লাইনের ইতিহাসে পরিণত হয়েছে। কোন পাঁচ বছরে সেটা থাকে “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা”র নামে “মুক্তিযোদ্ধা কোঠা” বানিয়ে চাকরি বাণিজ্যের মাঝে, আর অন্য পাঁচ বছরে সেটা থাকে “জামাত ইসলামীর ১৬ ডিসেম্বরে মিষ্টি বিলানো”র মাঝে। কোন পাঁচ বছরে সেটা থাকে “জয় বাংলা … বাংলার জয় … হবে নিশ্চয় …” গানে, পরের পাঁচ বছরে সেটা হয়ে যায় “প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ; জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ …”। মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ আসলেই প্রথম ২/৩ লাইনে কোন রকমে ” … আবাল বৃদ্ধ-বনিতা সবাই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল …” বলেই শুরু হয় ব্যক্তিগত কৃতিত্ব চুরির পর্ব।

৬.
আজকালকার তরুণদের মাঝে যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে “জামাত ইসলামীকে গালি দেয়া” একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। ৭১ এ কর্মকাণ্ডের জন্য জামাত ইসলামীর কতিপয় নেতা শুধু গালি নয়, গালির থেকে বেশি কিছু প্রাপ্য এদের। কিন্তু ব্যাপারটা খটকা লাগে তখনই যখন দেখি, একাত্তরে পাক-জামাত বাহিনীর গণহত্যা নিয়ে ফেসবুক-ব্লগ কাঁপিয়ে দেয়া তরুণেরা পাহাড়ে গণহত্যা নিয়ে কিছুই বলে না। একদিন হঠাৎ এক বড়ভাই ফেসবুকে তার একটা নোটের লিংক দিয়ে লাইক দিতে বললেন; গিয়ে দেখলাম জামাতীদের গালি দিয়ে ব্যাপক এক প্যারোডি লিখেছেন। সাথে সাথে তুললাম পাহাড়ে গণহত্যার প্রসঙ্গটা। দেখলাম, ভাইয়ের ইন্টারেস্ট নাই। আমি “যুদ্ধাপরাধীদের সাফাই” গাইছি না মোটেই। কিন্তু এই ফ্যাশন সুলভ গালি দেয়া, আর জামাতিদের গালি দিয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের ধিক্কার জানাই। আমাদের দেশের তরুণরা ইতিহাসটা জেনে জামাতিদের গালি দিক, তারা ন্যায়-অন্যায়টা ইতিহাস থেকে জানুক। তাহলেই তারা সত্যিকারের অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সোচ্চার, তারা পাহাড়ে গণহত্যার প্রতিবাদেও সোচ্চার হবে, তারা সব অন্যায়ের সমান প্রতিবাদ করবে। দেশপ্রেমটা অন্তরে জন্ম নিক। অন্যসব কিছুর মত “দেশপ্রেম”টাও হালের ফ্যাশনে পরিণত হয়ে গেলে এই দেশটার ডুকরে কাঁদা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না।

৭.
আমাদের ইতিহাসটা এতটাই চুরি যাওয়া যে একজন প্রধানমন্ত্রী ভরা মজলিসে দাড়িয়েও অকপটে ইতিহাস বিকৃত করে ঘণ্টা খানেক বক্তৃতা দিতে পারেন অনায়াসেই। কিছুদিন আগে ভাষা আন্দোলনটাও শেখ পরিবারের চুরির নজরে পড়েছে। ইতিহাসের এই অংশটায় শেখ সাহেবের তেমন নাম আসে না – এটা মেনে নিতে পারে না তার উত্তরাধিকারীরা। তাই হয়ত চুরির লিস্টে নতুন এই জিনিসটা যোগ করা। শেখ মুজিব আমাদের ইতিহাসের একটা উজ্জ্বল নক্ষত্র। কিন্তু তাই বলে বাঙালির ইতিহাসের সবই তার স্বপ্ন থেকে এসেছে – এমনটা নয়। দেশের ইতিহাসটা প্রতিদিন চুরি যাচ্ছে বলেই হয়ত দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে এমন ইতিহাস-চুরির সাহস দেখাতে পারেন। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন আসা একটা ছেলে দেখলাম “ছাত্রলীগ” নিয়ে বেশ উৎসাহী, বুয়েটে আসার ৬/৭ সপ্তাহ না যেতেই রাজনীতি চিনে বসেছে। একদিন রুমে ডেকে কিছুক্ষণ গল্প করলাম, তারপর প্রশ্ন করলাম, তোমার রাজনৈতিক আদর্শ কে? অকপট উত্তর, “শেখ মুজিবুর রহমান।” জানতে চাইলাম, মুজিবের জীবনাদর্শ, রাজনৈতিক আদর্শের উপরে কোন বই পড়েছ? সরল উত্তর : “না”। তাহলে সে তোমার আদর্শ হল কীভাবে? ছেলেটা আমার দিকে উপহাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, “কী যে বলেন ভাই, শেখ মুজিবের আদর্শ জানতে বই পড়া লাগে !” আমি নিশ্চুপ, আমার কিছুই বলার নেই। ইতিহাস চুরির সুযোগটা যে আমরাই করে দিচ্ছি !!!

৮.
মাত্র ত্রিশ/চল্লিশ বছরে আমাদের ইতিহাস বিকৃতির যে করুণ দশা, তাতে আগামী একশ বছর পরে এই ইতিহাসের কী অবস্থা হবে, তা নিয়ে আমি সন্দিহান! আসলে আমাদের ইতিহাসটাও “নোংরা রাজনীতি” আর “কর্পোরেট বেনিয়া”দের হাতে পড়েছে। প্রায় ন্যাংটা হয়ে যাওয়া এই ইতিহাস পুরোটা ন্যাংটা হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই দেশ, এই ইতিহাস বাঁচাতে হলে শিক্ষিত তরুণদের রাজনীতিতে আসতেই হবে, রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতেই হবে। আমরা কি পারি না পরিবার থেকেই এই ইতিহাস-চর্চাটা শুরু করতে। আমরা কি পারি না আমাদের ইতিহাসের প্রতিটি কৃতি সন্তানকে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে। আমাদের ইতিহাসটা অনেক সংগ্রামের, অনেক গর্বের। ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে বলেই আমাদের তরুণদের মাঝে আজ “দেশপ্রেম” হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের ইতিহাসটাই হতে পারত আমাদের দেশ গড়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। আমরাই আমাদের ইতিহাসকে লালন করিনি। আমরাই আমাদের কৃতি সন্তানদের মূল্যায়ন করিনি। অথচ এই দেশপ্রেমটা যাদের মাঝে ছিল, তারা দেশের মাটি ছেড়ে শত শত মাইল দূরে থেকেও দেশটাকে ভালবেসেছেন। তাইতো দেশ ছেড়ে দেশান্তরী হয়েও কানাডায় বসে আব্দুস সালাম আর রফিক কাজ করেছিলেন বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাইয়ে দেয়ার জন্যে। কী অবাক কাণ্ড, কেউ যখন দূর পরবাসে বসেও স্বার্থহীনভাবে দেশের চিন্তা করে, অন্য কেউ তখন দেশের মাটি দেশের ইতিহাস চুরির নেশায় মত্ত। পার্থক্যটা এখানেই যে, পরবাসে থাকলেও তাদের দুজনের অন্তরেই ছিল দেশের গৌরবজ্জ্বল সংগ্রামী ইতিহাস; আর দেশের এই চোরদের মাঝে এই জিনিসটারই বড় অভাব। অথচ ৯৯ সালের পরে ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে” শীর্ষক কোন ইতিহাসে আমাদের পাঠ্যবইয়ে স্থান পায়নি এই দুই ভিন্নধারার ভাষা-সৈনিকের নাম!!! কলেজে থাকতে এক স্যার একবার বলেছিলেন, “নিজের মূলকে যারা ভুলে যায়, তারা কখনো বড় হতে পারে না।” আমাদের হয়ত আজ সেই দশাই হচ্ছে। দিনে দিনে আমরা আমাদের শিকড়গুলো হারিয়ে ফেলছি। আর তাই হারিয়ে যাচ্ছে দেশপ্রেম … … আসুন না, পরিবার থেকেই ইতিহাস চর্চাটা শুরু করি। দেশের কৃতি-সন্তানদের অবদান, সাহসিকতার গল্প বলে আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেশের প্রকৃত ইতিহাস জানতে উদ্বুদ্ধ করি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেই দেশপ্রেম … … … ।

৪,৯২৪ বার দেখা হয়েছে

৩৪ টি মন্তব্য : “একটি ন্যাংটা হওয়ার গল্প ও কিছু কথা … …”

  1. সামিয়া (৯৯-০৫)

    ভাইয়া অত্যন্ত লজ্জার সাথে স্বীকার করছি যে আমি নিজেও ভুলে গেছিলাম কবে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়া হয়। আমি নিজেও আওয়ামী লীগের ইতিহাস জানতাম না, (শেষ পড়েছি বোধহয় পাঠ্য বইতে, সেই দুই এক লাইন, তারপর আর আগ্রহ বোধ করিনি), আর ছয় নম্বর প্যারাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমনকি গত একটি পোস্টে আমি খেয়াল করলাম সিসিবি ব্যতিরেকে অন্য দুটো ব্লগেই এই গণহত্যার সপক্ষে কথা বলতেই মানুষ বেশি সোচ্চার। ভাষা আন্দোলন আর মুক্তিযুদ্ধ করা একটি জাতির পক্ষে এধরণের ব্যবহার অত্যন্ত অশোভন।

    যারা আমার মতন ভুলে গেছেন বা জানেন না, তাদের জন্যঃ বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায় ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারী। আওয়ামী লীগের ইতিহাসের জন্য এখানে দেখুন। পতাকার ব্যাপারটা তো তারিক বলেই দিয়েছে।

    তারিক ভাইয়া, তোমাকে অনেক ধন্যবাদ এই লেখাটির জন্য। তুমি নিজে লিখেছো বলে হয়ত টের পাওনি কতটা সুলিখিত আর স্পেসিফিক হয়েছে। আর অবশ্যই সুপাঠ্য, আমি একবারের জন্যও মনোযোগ হারাইনি।

    জবাব দিন
  2. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    উপায় নাই।
    কোনও চেঞ্জ হবে না।
    কালকেই একজন বলছিল ক্যাথরিন মাসুদকে রক্ত দেবার জন্য হাজার মানুষের ভিড় হয়েছিলো। (দেশে থাকলে আমিও হয়তো যেতাম।)
    তাকে বললাম তারেক মাসুদ যদি নির্বাচন করতেন তবে পেতেন ১০ ভোট।
    তো এই হল অবস্থা।

    রফিক, জব্বার এদের কেউ একজন পুলিশের ইনফরমার ছিল বলে (জাতীয় অধ্যাপক)আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন।
    আরেকজন নাকি ঢাকায় বেড়াতে এসেছিলেন।

    যাই হোক আমরা দর্শক; দেখেই যাবো।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
    • মো. তারিক মাহমুদ (২০০১-০৭)

      আপনার কমেন্টের সাথে পুরোপুরি একমত নই। আমরা চিরকাল দর্শক আর রাজনীতিবিমুখ থাকতে চাই না। পরিবারেই শুরু হোক রাজনীতি ও দেশপ্রেম চর্চা - এটাই আমার এই পোস্টের মূল উপজীব্য।

      আব্দুর রফিক এবং সালাম - দুজনেই ৭১ এ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। পরবর্তিতে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তারা "Mother Language Lovers Club" নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। মূলত এই সংগঠনের ব্যানারেই ১৯৯৮ সালে International Mother Language Day এর প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পরে একসময় পুরো ব্যাপারটা নিয়ে বিস্তারিত লিখব ভাবছি।

      জবাব দিন
  3. রাফী (০৪-০৮)

    ধন্যবাদ তারিক ভাই!!

    খালি একটা জিনিস জানার ছিল - আমাদের দেশে কোন স্থাপনা কি ফজলুর রহমান খান -এর নামে আছে? বা কুদরত-ই-খুদা - তাঁর নামে?

    অন্তত জগদীশ চন্দ্র বসু'র নামে তো আছে... তাই না?

    জবাব দিন
  4. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    দারুন একটা বিষয় তুলে ধরেছ তারিক, এভাবে চোখে আঙ্গুল দিয়ে আমাদের দৈনতা দেখিয়ে দেয়া দরকার, কারন এর দায় আমাদের নিজেদেরই। আমাদের একান্ত ব্যক্তিগত লাভ ক্ষতির বিষয়গুলো ছাড়া আর কো ব্যাপারেই আগ্রহ নেই, মাঝে মাঝে কোন হট নিউজে একটু গলাবাজি করা। আমরা সবাই যার যার তৈরী করা বাবলের মাঝে সুখে শান্তিতে বসবাসের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

    আমি নিজেই শিব নারায়ন দাস সম্পর্কে আজকেই প্রথম শুনলাম, আর আব্দুর রফিক আর সালাম এবং বিদেশে তাদের কার্যক্রম নিয়ে কিছুটা শুনলেও বিস্তারিত কিছু জানি না... আশা করি শীঘ্রই এ নিয়ে তোমার লেখা পাব।

    আবারো ধন্যবাদ তারিক লেখাটার জন্য :thumbup:


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  5. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    ভালো কাজ করেছো তারিক। ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।

    তোমাদের প্রজন্ম যখন শেকড় খুঁজে ফিরবে, তখনই জাগবে, বদলাবে বাংলাদেশ। :thumbup:


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
    • মো. তারিক মাহমুদ (২০০১-০৭)

      জাগতে যে আমাদের হবেই লাবলু ভাই। আসলে আপনারা অনেক কিছু দেখেছেন, তাই অনেক সহজেই দেশটাকে ভালবেসেছেন। আমাদের প্রজন্ম তেমন কিছুই দেখেনি, জানার সুজোগও তেমন হয়নি, কিংবা আমাদের কেউ জানতে উৎসাহিত করেনি। তাই আমাদের অন্তরে দেশপ্রেমটাও সেভাবে গাঁথেনি। তবুও আশা করি, আপনাদের অনুপ্রেরণা আমাদের পথ দেখাবে।

      জবাব দিন
  6. হায়দার (৯২-৯৮)

    অনেক অনেক দিন পর সিসিবিতে আসলাম।
    Very mature blog. Super Like :thumbup:
    I feel proud of you Tarik.
    তবে নিজের কাছেই লজ্জা পাচ্ছে যে, ইতিহাসের অনেক অংশই জানা ছিলনা।
    লিংকের জন্য ধন্যবাদ। তোমার আরো লেখা আশা করছি।

    পাহাড়ী আর বাঙালীদের সমস্যা নিয়ে কিছুটা জানতাম।
    যেটা খারাপ লাগে তা হলো, এটা নিয়ে অধিকাংশ বাঙালীরা কোনো কেয়ারও করেনা।
    এ পর্যন্ত বেশ কিছু পাকিস্তানীদের সাথে পরিচয় হয়েছে এবং ওরাও পাকিস্তানের সেপারেশন সম্বন্ধে
    তেমন কিছু জানেনা। কেন যেন মনে হয়, আমরা ওদের চেয়ে মোটেও ভালো কোনো জাতি নই।

    জবাব দিন
  7. নাফিজ (০৩-০৯)

    শিবনারায়ণ দাসের ব্যাপারটা হালকা পাতলা জানতাম...কিন্তু কোন রেফারেন্স জানতামনা বলে কোন তর্ক বা আলাপে এটা বলার ভরসা পাইনি...আজকে রেফারেন্স পেয়ে ভালো লাগলো। রেফারেন্স ছাড়া বললেই আবার সেই "এহহ...বুয়েটের ভাব কত" টাইপ কথা শুরু হয়ে যেত।

    ভাইয়া আপনার লেখার অধিকাংশের সাথেই পুরোপুরি একমত। হালের "ইয়ো" প্রজন্মকে আসল সত্যটুকু জানানো আসলেই এখন অনেক বড় একটা গুরুদায়িত্ব...জেনে তাদের মধ্যে কোন দায়বোধ আসবে কিনা জানিনা, তবুও জানানো প্রয়োজন।আরো কিছু সময় হয়তো লাগবে, কিন্তু আমার ধারণা, তারা একদিন ঠিকই সত্যিটা গ্রহণ করবে।আশা করতে দোষ কি!

    ছাত্র রাজনীতি নিয়ে আপনি বোধহয় একটু কমই বলে ফেলেছেন।কয়জন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছাত্র এখন আদর্শের থোড়াই কেয়ার করে? ( নিজের প্রতিষ্ঠানের কথাই ভাবুন..) আজকে যাদের দেখছেন "জয় বাংলা"র মিছিলে, দুবছর পরেই সেই তাদেরকেই দেখবেন "বাংলাদেশ জিন্দাবাদ"এর মিছিলে। নেতা খুশি, কর্মীর পকেট গরম-সেও খুশি।আদর্শ নিয়ে ভাবার টাইম কই?
    আমার ধারণা খুব ভাল হতো যদি দেশের ছাত্ররাজনীতি কিছুদিনের জন্য বন্ধ করে দেয়া যেতো ...এই মুহূর্তে ছাত্র রাজনীতি দেশের মঙ্গলসেবায় এমন কোন আহামরি "যুগান্তকারী" অবদান রাখছে কিনা সন্দেহ-


    আলোর দিকে তাকাও, ভোগ করো এর রূপ। চক্ষু বোজো এবং আবার দ্যাখো। প্রথমেই তুমি যা দেখেছিলে তা আর নেই,এর পর তুমি যা দেখবে, তা এখনও হয়ে ওঠেনি।

    জবাব দিন
  8. Mahamudul (92-98)

    তারিক, অনেকের মত আমি ও এর অনেক কিছুই জানতাম না।----- তোমার মতের সাথে আমি ও এক মত ভাল ও শিক্ষিত লোকের রাজনিতিতে আসা উচিত। আর না হলে যে আমাদের ভবিষ্যত খুবই অন্ধকার।
    অসাধারণ লেখা-------- :hatsoff:

    জবাব দিন
  9. Bhaia apni onek valo likhesen. Kintu rajnitibid der kotha, desher shadhinotar kotha ba vasha andoloner kotha niye ekjon bangali hishebe apnar kosto ba onuvuti thik ase, kintu ekta bideshi company ke er moddhe tene anar ki holo? Grameenphone er upor apnar emon ki rag je shob jaigai ei company ke tene enesen? Tahole onno bideshi company gulo ki Bangladeshe eshe amader desher jonno deshprem dekhasse? Apni 30 minuter kotha likhesen, kintu ekattorer chiti er kotha keno likhlen na? Okhane to muktijuddher shomoyer

    জবাব দিন
  10. Bhaia apni onek valo likhesen. Kintu rajnitibid der kotha, desher shadhinotar kotha ba vasha andoloner kotha niye ekjon bangali hishebe apnar kosto ba onuvuti thik ase, kintu ekta bideshi company ke er moddhe tene anar ki holo? Grameenphone er upor apnar emon ki rag je shob jaigai ei company ke tene enesen? Tahole onno bideshi company gulo ki Bangladeshe eshe amader desher jonno deshprem dekhasse? Apni 30 minuter kotha likhesen, kintu ekattorer chiti er kotha keno likhlen na? Okhane to muktijuddher shomoyer onek chithi prokash kora hoyese. Pore dekhben boi ta, shadhinotar onek kisui jante parben.

    জবাব দিন
  11. নুরুল আনোয়ার সেতু (০২-০৮)

    ভাই, ভালো লাগলো লেখা টা পড়ে ।আশা করি, এটা পড়ে আমাদের মতোন ইতিহাস অজ্ঞ জাতি ইতিহাস জানার চর্চা করবে এবং সত্যটাকেই খুজবে।। :thumbup: :thumbup: :thumbup:

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।