জীবনের জার্নাল – ১৪

একাকীত্বঃ
যারা দুষ্টুমি করে জ্বর এনেছিলো, তারা মহা আনন্দে বাড়ী চলে গেলো। আমার সত্যি সত্যি জ্বর এলো, তাই আমি রয়ে গেলাম শুনশান, ক্যাডেটবিহীন এমসিসি’র নিস্তব্ধ প্রান্তরে। বড্ডো একাকী বোধ করতে লাগলাম। দিন কাটেনা। আমি ছাড়া আর বাকী যে তিন চারজন ছিলেন, তারা সবাই সিনিয়র, কিন্তু খুবই ভদ্র। তারা আমার প্রতি অত্যন্ত সদয় ব্যবহার করতেন। আমার কাজ ছিলো তারা যদি কখনো কোন আলাপ শুরু করেন,

বিস্তারিত»

ঢাকার শুনানি, ঢাকায় শুনানি (চ)

শ্যাম্পু কিনতে ভুলে গিয়েছিলাম। বাথরুমে অনেক দিন আগে থেকেই দেখছি মেরিল বেবী শ্যাম্পুর একটি শিশি পড়ে আছে। সম্ভবত আমার ভাতিজি ওয়ারিশার মাস তিনেকের অবস্থানের সময় কেনা হয়েছিল। রাত বাজে প্রায় দেড়টা। ঈদের পরে প্রথম অফিসের আগের রাতে ঘুমাতে দেরী হয়ে যাচ্ছে চিন্তা করতে করতে শিশিটা হাতে নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখে নিলামঃ ‘E-09/16’ যাক তাহলে এখনো তারিখ আছে। হাতে নিয়ে মাথায় ডলে দিতেই পরিচিত সেই গন্ধ। শিশুদের গায়ের সেই চিরচেনা গন্ধ।

বিস্তারিত»

গল্পটা একটু অন্যরকম হতে পারত

গল্পটা একটু অন্যরকম হতে পারত।
হ্যা। একটু অন্যরকম।

রাতুল বেশ কিছুক্ষণ ধরে বসে আছে করিডোরের বেঞ্চে।এমনিতে অনেক অশান্ত প্রকৃতির। কিন্তু আজ ওর অপেক্ষা করতে একটুও খারাপ লাগছে না। বরং বুকে একরাশ আশা। অনেক স্বপ্ন। মিরপুর স্টেডিয়ামে প্রাকটিস গ্রাউন্ডের পাশে বসে আছে। দূর থেকে দেখছে তার সেই স্বপ্নের মানুষ গুলোকে প্রাকটিস করতে। ও এসেছে বোলিং ট্রায়াল দিতে। ছোটবেলা থেকেই খুব ভাল ক্রিকেট খেলে।

বিস্তারিত»

নিউরনে আলাপনঃ দুই

: আমার ঈর্ষা হয় ভীষণ! কারো কারো ব্যাপারে!
: আমার ব্যাপারেও?
: কিন্তু শুধু ঈর্ষা দিয়েই আর কী হয় বলো?
: হয়তো কিছুই হয়না … পড়েছিলাম মেয়েদের ঈর্ষাটাই ভালবাসা! যত বেশি ঈর্ষা, তত বেশি ভালবাসা!
: তোমার ব্যাপারে কি না তা বলা যাবে না, যেমন তুমি অনেক কিছুই বল না।
: হুম, আমি চিরকেলে মুখ চোরা … মনে মনে মন চুরি,

বিস্তারিত»

গোয়িং বাটন

সকালে খবরের কাগজে চোখে পড়েছিল, আজ চৈত্রের ২৩ তারিখ।

রাস্তায় বেরিয়ে ‘চৈত্র’ শব্দটা আবার মাথায় উঁকি দিল। কাঠফাটা গরম পড়েছে। এমন আগুনগরম দুপুরে হলুদ পাঞ্জাবী পরা হিমুরা ঘোরের জগতে চলে যায়। আমি হিমু নই, এই নারকীয় মধ্যাহ্নের ভেতর মহাকাব্য খোঁজার চেষ্টা আমার কাছে অনাবশ্যক বিলাসিতা। অসহ্য লাগছে… একটা রিকশা পেলে মেয়েদের মত হুড তুলে চলে যেতাম।

অবন্তী মেয়েটা আসলে পাগল আছে!

বিস্তারিত»

আই ওয়াজ টাচড বাই এন এঞ্জেল

বান্ধবি পর্ব
========
কথা ছিল, এইরকম এক সন্ধ্যায়
তুমি আসবে।
তোমার ঝোলায় থাকবে
স্মিরনভ অথবা ভদকা এবসলিউট।
কথা ছিলো, আকন্ঠ পান করবো
আমরা দুজন, সারাসন্ধ্যা ধরে……

বিয়ারের পরেই তোমার প্রিয় পানীয়
ব্লাডি মেরি সাজাতে তাই
টমাটো জুস, লেমন জুস,
টাবাস্কু আর সল্ট-পিপার নিয়ে
বসেছিলাম আমি।
আর নিজের জন্য ছিল প্রিয় পানীয়
ভদকা-লাইমের সকল উপকরন,

বিস্তারিত»

Too much Water in Wrong Place (চীনা বিড়ম্বনা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা – ১)

আমেরিকা আসার পর সবচেয়ে বেশি যা দেখেছি আর মাঝে চাইনিজ মানুষজন অন্যতম। তাদেরকে নিয়ে মনেহয় সবারই কম-বেশি অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি আমার কিছু শেয়ার করলাম।

 ক্লাস শুরুর আগে একটা ইন্টারন্যাশনাল ষ্টুডেন্ট অরিয়েন্টশন হয়। তা অরিয়েন্টশনের দিন, আমার পাশে বসেছিল এক চাইনিজ ছেলে, জনি (ইংরেজি নাম)। তা কথায় কথায় জানতে পারলাম সে পরিবেশ বিজ্ঞানে ০২ সেমিষ্টারের জন্য এসেছে, ট্রান্সফার ষ্টুডেন্ট বলে যাকে। তা নিজের ফীল্ডের কাছাকাছি বলে ভাবলাম কথা চালিয়ে যাই।

বিস্তারিত»

নিউরনে আলাপনঃ এক

: জানো, এখানে খুব বৃষ্টি হচ্ছে?
: জানি আজ সারারাত বৃষ্টি হবে।
: আমি তোমার সাথে দু’টো কথা বলার জন্য ভেতরে ভেতরে ছটফট করি ভীষণ!
: রাতে যদি কখনো বৃষ্টি নামে বুঝে নিও সব কাজ শেষে ঘরে ফেরার মত
আমি মেঘ হয়ে এসেছিলাম, তোমার ছাদের ওপর ভাসে আমার বুকে জমে থাকা জল!
: ইস, তাই বুঝি?
: হুম, হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছুঁলেই আমায় ছোঁবে …

বিস্তারিত»

আমি কেন ডঃ রমিত আজাদের কৃতকর্মের বিরুদ্ধে এত সোচ্চার — এডমিন সমীপে

গেল দুদিন খুব ঝক্কি গেল। ব্যাস্ততার কারণে অনেক প্রিয় লেখা পড়া হয় না, মন্তব্য করা হয় না।
মাঝেমধ্যে ঢুঁ মেরে চলে যাই। হঠাৎ ডঃ রমিত আজাদের সাম্প্রতিক একটি লেখায় অস্বাভাবিক ট্রাফিক লক্ষ্য করে কৌতূহলী হয়ে উঠি।
প্রসঙ্গৎ বলে রাখা ভালো, ইতোপূর্বে নানান কারণে তিনি সিসিবিতে হতাশার কারণ হয়েছিলেন দফায় দফায় – তা সেসবার বিস্তারে যাচ্ছিনা, অনেকে অবগত আছেন – প্রয়োজনে পুরনো লেখা উত্তোলন করে দেখয়ে নিতে পারেন (অবশ্য কোন ভায়াবহ দুর্যোগ যে নেমে আসবেনা তার নিশ্চয়তা দিতে পারবোনা)।

বিস্তারিত»

ডক ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় (ভূমিকা পর্ব)

ভানুঃ (গুনগুন করে নিজের মনে কীর্তন গাইছে) 
ভজো দুহাত তুলিয়া ভজো কাঞ্চন গোঁসাই …
তাঁর জোরে সবাই তোমায় বাপ ডাকবে ভাই …
ওরে থাকলে তিনি ট্যাঁকের মাঝে বুকে বাড়ে বল …
স্ত্রী পুত্র ভাই বন্ধু তোমার পদতল …
ওরে টাকাই ধর্ম টাকাই কর্ম কলিযুগের সার …
সত্য নিষ্ঠা আইন কানুনের মাথায় ঝাঁটা মার …
ভজো দুহাত তুলিয়া…

আগন্তুকঃ আরে আরে দেখি,

বিস্তারিত»

স্বার্থান্ধ ব্যাখ্যা আর চর্চাই ধর্মকে দেয় অন্ধত্বের ঠুলি ও পরিচিতি

বৌদ্ধ ধর্মের প্রাথমিক কথায় কলা হয়েছে পাঁচটা বিষয় থেকে দূরে বা বিরত থাকতে, আর চারটা বিষয়কে আত্মস্থ চর্চায় আনতে। বিরত থাকা বা দূরে থাকার বিষয় কয়টা হলো – ১. প্রাণীহত্যা – না করা, ২. আদিন্নাদানা – অর্থাৎ নিজে অর্জন না করে কোন কিছু ভোগে বা দখলে না নেয়া, ৩. মিথ্যাচার – থেকে বিরত থাকা, ৪. কামেসু মিথাচারা – অর্থাৎ কামের বশবর্তী হয়ে খারাপ কোনো কাজ না করা,

বিস্তারিত»

সেইসব গল্পঃ এক

মেঘ ক’রে আসে চারিদিকে। বুক ভরা জল নিয়ে চুপ ক’রে বসে থাকে। বৃষ্টির ধারা হয়ে নেমে আসে না। প্রিয় কবি রুদ্র-এর কবিতা মনে পড়েঃ
“এলে মনে হয় তুমি কোনদিন আসতে পারোনি।
চলে গেলে মনে হয় তুমি এসেছিলে,
চলে গেলে মনে হয় তুমি সমস্ত ভুবনে আছো।”
কী অদ্ভুত এই মন দখল ক’রে নেবার খেলা, দখল ছেড়ে দেয়া, দখল বুঝে নেয়া, কিংবা কোনদিনই দখল না পাওয়া!

বিস্তারিত»

নিশাতের গল্প


এক রাশ বিরক্তি নিয়ে ঘুম ভেঙ্গেছে আজকে নিশাতের। রুমে বড় বড় জানালা দিয়ে আসা রোদে চারিদিক আলোকিত, হাত বাড়িয়ে ফোন অন করতে গিয়ে মনে পড়লো আগের রাতে চার্জশূন্য হয়ে বন্ধ হয়ে গেছিল। কয়টা বাজে জানার উপায় নেই। রুমে কোন ঘড়ি নেই, না না আছে। কিন্তু মেরামতের অভাবে দীর্ঘ দিন যাবৎ বিকল পড়ে আছে। বিছানায় শুয়ে শুয়েই নিশাত ভাবতে শুরু করে ওর রুমে কোন ক্যালেন্ডারও নেই।

বিস্তারিত»

ঝড়ের বেগে ফাইল শেয়ার করুন SHAREit দিয়ে

অ্যাণ্ড্রয়েড ফোন আর ল্যাপটপ পিসির মধ্যে সংযোগ স্থাপন নিয়ে বেশ ঝামেলায় ছিলাম। ইউএসবি পোর্টে সমস্যা। কেবলে সমস্যা। ড্রাইভার নাই। ম্যালা হ্যাপা। ব্লটুথেও ঝামেলা কম নয়। একটা যন্ত্র আরেকটাকে চিনতে পারে না। পাসওয়ার্ড চায়। গতি কম। আরেক জনের ফোনের কিছু পছন্দ হল।সে টা নিতে হলে এপিকে ফাইল দরকার। আরও কত কি ? এর সমাধান পেলাম শেয়ার ইট অ্যাপের কাছে।লেনোভো কোম্পানী তৈরী করেছে দুর্দান্ত এই অ্যাপটি। প্রথম দিকে শুধু অ্যাণ্ড্রয়েড থেকে অ্যাণ্ড্রয়েডে ডেটা আদান প্রদান করা যেত।

বিস্তারিত»

শিরোনামহীন প্রবাস কথন

কিছু একটা লেখার ইচ্ছে ছিল সবসময়। ইচ্ছেটা মাথা মাঝে মাঝেই জেগে উঠে, আবার তা হারিয়েও যায়। তেমন ভাবে লেখা হয় নি কখনই, বলাও হয়ে উঠেইনি। নীরব দর্শক হয়েই থেকেছি বেশিরভাগটা সময়।
সেই ২০১২ সালের অগাষ্ট মাসে পাড়ি জমিয়েছিলাম এই আমেরিকাতে। উদ্দেশ্য হাইড্রোলজি ও জিওস্পেশ্যাল টেকনলোজিতে উচ্চ্তর জ্ঞান আহরন। বাল্টিমোরের পাঠ চুকিয়ে বর্তমানে অ্যামারিলো নামক এক গ্রামে চাকুরির প্রয়োজনে স্থানান্তর। এই তিন বছরের কিছু বেশি সময়ে নানা রকম দেশি-বিদেশির সাথে পরিচয়-আলাপ হয়েছে।

বিস্তারিত»