ঢাকার শুনানি, ঢাকায় শুনানি (চ)

শ্যাম্পু কিনতে ভুলে গিয়েছিলাম। বাথরুমে অনেক দিন আগে থেকেই দেখছি মেরিল বেবী শ্যাম্পুর একটি শিশি পড়ে আছে। সম্ভবত আমার ভাতিজি ওয়ারিশার মাস তিনেকের অবস্থানের সময় কেনা হয়েছিল। রাত বাজে প্রায় দেড়টা। ঈদের পরে প্রথম অফিসের আগের রাতে ঘুমাতে দেরী হয়ে যাচ্ছে চিন্তা করতে করতে শিশিটা হাতে নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখে নিলামঃ ‘E-09/16’ যাক তাহলে এখনো তারিখ আছে। হাতে নিয়ে মাথায় ডলে দিতেই পরিচিত সেই গন্ধ। শিশুদের গায়ের সেই চিরচেনা গন্ধ। স্মৃতি-অনুভূতির এক অদ্ভূত খিচুড়ি এবং বেসামাল খিচুড়ি। কারণ ত্রিশের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা যুবক বেবী শ্যাম্পু দিলেই তো আর শিশু হয়ে যাবে না। এতটুকু লিখতে লিখতে শুকিয়ে এসেছে চুল। বাচ্চাদের শ্যাম্পু আর বড়দের শ্যাম্পুর মাঝে গন্ধ বাদে কো পার্থক্য আছে কিনা জানিনা কিন্তু মাথায় হাত বুলিয়ে মনে হচ্ছে চুল অন্যান্য সময়ের চাইতে অনেক মোলায়েম। ভালইতো। এখন থেকে মায়ের চোখ এড়িয়ে বেবী শ্যাম্পু মাথায় ঢেলে দিতে হবে। গন্ধের তীব্রতা যদি আগামীকাল পর্যন্ত থাকে তবে যাত্রা পথে মাতৃ-পিতৃকূল বাঁকা চোখে তাকাবার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। যাকগে। ঘুমিয়ে পড়ি।

পৃথিবীতে সৌর বিষয়ক যত ঘটনা হয় তা ঘটে পুরো পৃথিবীর উপর কিন্তু সেটা দেখতে পাবার ক্ষেত্রে খুব নির্দয় এক বৈষম্যের শিকার হই আমরা কর্টকক্রান্তি অঞ্চলের মানুষেরা। যত আনন্দ ছড়িয়ে আছে উত্তর ও দক্ষিণে। প্রথমেই আসি অরোরা বা মেরূপ্রভার কথায়। এই ঘটনাটি দেখতে হলে আপনাকে উত্তরে (অরোরা বোরেলিস) কিংবা দক্ষিণে (অরোরা অস্ট্রেলিয়াস) যেতে হবে। সৌভাগ্যবশত আমেরিকার উত্তর সীমান্তে বছর দুয়েক বসবাস করার সুবাদে কিছুটা হলেও এই চমকপ্রদ আলোক-নৃত্য দেখার সুযোগ আমার হয়েছিল। তবে সেটার জন্যেও শীতের রাতে বেশখানিকটা পথ গাড়ি দিয়ে পাড়ি দিয়ে অন্ধকার হৃদের সামনে গিয়ে দেখতে হয়েছে। জানুয়ারীতে দেশে চলে আসার পর দেখি মার্চ মাসে মিশিগান টেকের বন্ধুরা ক্যাম্পাসের বাইকিং ট্রেইলে দাঁড়িয়েই দেখেছে ঘটনাটি। অর্থাৎ খুব জোরালো সোলার ফ্লেয়ার পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে আঘাত করেছিল। যত শক্তিশালী ফ্লেয়ার আঘাত হানে, মেরু থেকে তত নিচের এলাকা থেকে দেখা যায় এই অরোরা। এরপরে আসি পারসিডস উল্কাবৃষ্টি। এই ঘটনাটির সত্ব যেন কিনে নিয়েছে উত্তর মেরু। অর্থাৎ এটি দেখতে হলে আপনাকে উত্তরের যেকোন দেশে থাকতেই হবে। ঠিক চলচ্চিত্রের মত মাটিতে শুয়ে মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙাকে ব্যাকড্রপে রেখে প্রায় শ-খানেক উল্কার ছুটোছুটি যেকোন মানুষের দেখা উচিৎ। এ যেন এক অদ্ভূত ভৌতিক অভিজ্ঞতা। অথচ আমরা কর্কটক্রান্তির জনগণ মাসের প্রথম চাঁদ খুঁজে পেতেই হিমশিম খাই! সর্বশেষ স্বপ্নভঙ্গ হলো গত কয়েকদিন আগের সুপারমুন এক্লিপ্স বা চন্দ্রগ্রহণের সময়। খুব আগ্রহ নিয়ে গ্রহণের সময়সূচী বের করতে গিয়ে দেখি দক্ষিণ এশিয়া ঢোকার ঠিক আগের অক্ষাংশ থেকে শুরু করে সেই জাপান পর্যন্ত অংশে এই খানিকটা বিরল ঘটনা দেখা যাবে না। খুব খারাপ। এগুলো পৃথিবীর ষড়যন্ত্র।

নিজের দিনলিপিগুলো পড়ে দেখলাম। মনে করতে পারছিনা তবে আমি খেয়াল করলাম আমার দিনলিপির ফরম্যাটটা হলো দুটো মিঠা শেষে খাট্টা। অর্থাৎ মিষ্টি দুটো কথা বলে শেষে একটি চলমান ইস্যুতে ফাঁকাগুলি, টিয়ারগ্যাস, প্রয়োজনে রাবার বুলেট ছোড়ার চেষ্টা করি। এবার সেটা করবো না। কত কিছু ঘটে গেল, ঘটে যাচ্ছে কিন্তু এইসব বিষয়ে একদম মুখে বাবুই পাখির বাসার মত সেলাই করে দিয়েছি। বরং একটি মজার ঘটনা বলি। ফৌজের মুখে বাঁশি এক জাদুকরী জিনিস। ক্যাডেট কলেজতো বটেই সামরিক বাহিনীর সাথে যারা জড়িত তারা বুঝবেন আমি কি বলতে চাইছি। অর্থাৎ ছেড়ে দেয়া দমের তারতম্য করে বাঁশির মাধ্যমে উনারা এক তরঙ্গসম শব্দ তৈরী করেন যেটা শুনলেই আপনার মাঝে এক ধরনের ব্যতিব্যস্ততা, আতংক শুরু হয়ে যাবে। সেনানিবাসের রজনীগন্ধা (ওয়ার্কশপ) চেকপোস্টের সাথে সংলগ্ন কাফরুল এলাকায় যাতায়াতের জন্য (বহু বছর আগে খোলা ছিল, পরে একটি ছোট গেটের প্রচলন করা হলো যার প্রচলিত নাম হলে ‘পকেট গেট।’ সেটাকেও সম্প্রতি প্রাক্তন ছিটমহল আঙ্গরপোঁতার সাথে বাঙলাদেশের মূল ভূখন্ডের যোগাযোগের নিয়মের মত নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হলো। সকালে কিছুক্ষণ, এরপর দুপুর, বিকাল, ও রাতে প্রতি সেশানে ঘন্টাখানেকের জন্য কিছুক্ষণ। যাক কেন-কিভাবে সেই কথায় না যাই) পকেট গেটটি সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটার সেশান শেষ করে বন্ধ করবে করছে। ঠিক সেই মূহুর্তে ওয়ার্কশপ বাসস্টপে এসে যাত্রীবোঝাই (মূলত কাফরুলগামী) বাস এসে থামলো। সবাই বাস থেকে নেমে জোড় কদমে হাঁটছে। যাকে বলে এক ঝাঁক আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। হঠাৎ দূর থেকে ভেসে এলো সেই ব্যতিব্যস্ত করে তোলা বাঁশির শব্দ। তালা হাতে দাঁড়িয়ে আছেন মিলিটারি পুলিশ মহোদয়। প্রচন্ড ক্লান্তির মাঝেও হাসি পেল যখন আমার আগেই সবাই দুলকি চালে দৌড়াতে শুরু করলো। ঠিক যেন প্রিন্সিপাল প্যারেডের জন্য বিকেলে গেমস বাদ দিয়ে প্র্যাক্টিসের ফল-ইন। এতটাই ক্লান্ত ছিলাম যে এই বিষয়ক ক্যাডেট কলেজের কোন সুখস্মৃতি মনে করতে পারলাম না। ঘুরে ফিরে শুধু মনে হতে লাগলো ঐ যে বাঁশি হাতে সজল স্টাফ দাঁড়িয়ে আছেন আর চিকন কর্কশ গলায় আমার ভুল নাম চিৎকার করছেন, “মোতাকাব্বের, ডাবল্লাপ।” কি আর করা। শেষ মূহুর্তে মাইলটেস্টে সবাই তাক লাগিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতেই এক দৌঁড়ে সবাইকে পিছে ফেলে গেট দিয়ে বের হয়ে এলাম। বাহবা দেয়ার মত কেউ ছিলনা।

পরবর্তী অংশটুকু পড়ে অনেকের জ্বুলুনি হতে পারে। সাবধানতা অবলম্বন করুন।

সিসিবি নিয়ে অনেক কিছু লিখা দরকার ছিল, কিংবা আছে। হয়তো সামনে লিখবো তবে আজকে বেশী কিছু নয়। বলতে চাই কয়েকটি কথা। ডঃ রমিতের নিম্মমানের লেখা আমজনতা ধরে ফেলার পর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হা-হুঁতাশ করেছেন কিভাবে তাদের অবর্তমানে নষ্টের দখলে চলে গিয়েছে সিসিবি। তাদের প্রতি আমার একটাই অনুরোধঃ আপনার অবর্তমানে আপনি দয়া করে সিসিবিকে আপনার বাপের সম্পত্তি ভাববেন না। যদি এই সম্পত্তির উপর দাবি আদায় করতে চান তবে আগে চেহারা দেখিয়ে যান। আপনাদের claim-in-absentia (নতুন শব্দ) এর বিরুদ্ধে আমি তী্ব্র প্রতিবাদ জানিয়ে গেলাম। সিসিবি তার স্বর্ণযুগ পার করে এসেছে এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু পরবর্তীতে একাধিক বছর ধরে চলমান সেই খরার মাঝে একটু উৎসাহের বৃষ্টি পেয়ে গুটিগুটি পায়ে সাহস নিয়ে মাটি ফুঁড়ে বের হয়েছে নতুন-সবুজ কবি-লেখকেরা। হাল ছেড়ে দিয়েছে, চলে গিয়েছে বেশীরভাগ পাঠকেরা। কিন্তু নতুনদের আসাও থেমে থাকেনি। আপনারা একজন (কথিত) লেখক-গবেষকের কর্মকান্ডকে মানদন্ড ধরে পুরো সিসিবির এই নতুন লেখকদের ছুড়ে ফেলে দিতে পারেন না। সেই অধিকার আপনাদের একসময় ছিল কিন্তু আপনাদের বর্তমান অনুপস্থিতিতে তা মূলত অকার্যকর হিসেবে জারী আছে। ডঃ রমিতের ব্যাপারে আশাকরি এ্যাডমিন প্যানেল খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। কিন্তু এরমাঝে বর্তমান লেখকদের লিখা ও পাঠকদের পঠন দ্বিগুণ উদ্যমে চলতে থাকুক এই প্রত্যাশা রইলো। ইংরেজীতে সম্ভবত একটি কথা বলেঃ there is so such thing as bad publicity. আশা করি সবাই বুঝতে পারছি।

৮,৫৯৪ বার দেখা হয়েছে

৮৬ টি মন্তব্য : “ঢাকার শুনানি, ঢাকায় শুনানি (চ)”

  1. মাসুম (৯২-৯৮)

    Internet এর অলস বিচরনকারীরা এখন অনেকটাই facebook কেন্দ্রীক। তাই facebook এর পাশাপাশি আর একটা সাইটে যেতে অনেকেই উত্সাহ হারিয়ে ফেলেন। আর মোবাইল ব্যবহরকারী যারা facebook app ব্যবহার করে তাদের জন্য এটা আর একধাপ বেশী কষ্টকর। এখানকার লেখাগুলো সরাসরি facebook notification এ দেখার ব্যবস্থা করলে মনে হয় ভাল হত।

    জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      "Internet এর অলস বিচরনকারীরা এখন অনেকটাই facebook কেন্দ্রীক" - আসলেই কি?
      অলস বিচরনকারীরা যেই কেন্দ্রিকই হোক, তারা পড়ে না, দেখে, আর লাইক শেয়ার মারে।
      আর সেলফোনে আজকাল সিসিবি দেখাটা এতই সহজ, যে দিনের মধ্যে সেলে আমি কোনটা বেশী করি, ফেবু দেখা নাকি সিসিবিতে উকি দেয়া - বলা আসলেই কঠিন।

      এখানে যারা নিয়মিত লিখেন, অনেকের লিখার সাথেই এতটা ঘনিষ্টতা, যে নতুন লিখা এলে না পড়া পর্যন্ত অস্থিরতায় ভুগি।
      অন্যদেরও হয়তো তাই হয়।
      আর নিজের লিখাটাতো একটা চাপ।
      বিরাট চাপ...
      মাথায় এলে, না নামানো পর্যন্ত ভার হয়ে থাকে মাথা।
      যাহোক, দুচার দিন ঘোরাঘুরি করো আবার, দেখবা, ছেড়ে থাকতে মন চাইবে না... 🙂 🙂 🙂 (সম্পাদিত)


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
      • মাসুম (৯২-৯৮)

        "Facebook passes 1.39B monthly active users, 890M daily active users, and half a billion mobile-only users" ।আমি লেখক নই পাঠক। সাহিত্য তৈরী আমার প্রতিভায় কুলায়না তবে পড়তে ভাল লাগে। আমার দৈনন্দিন কাজে facebook ব্যবহার করতেই হয় এবং ওখানে যতটুকু সাহিত্য পড়তে পারি তাতেই অবসর কেটে যায়। আমি জানি আপনার মত অনেকের জন্য ccb হচ্ছে প্রানের অংশ। তাই আপনি মোবাইল কেন পাথরে খোদাই করে হলেও এখানে লিখবেন। তবে উদ্দেশ্য যদি হয় পাঠক সংখ্যা বাড়ানো সেক্ষেত্রে যত বেশী মাধ্যম ব্যবহার করা যায় সেটাই মনে হয় ভাল

        জবাব দিন
        • পারভেজ (৭৮-৮৪)

          দেখলাম, চার বছর পর কমেন্ট করতেছো, তাও এমনভাবে যেন, গতকালও এইখানেই ছিলা।
          কমুনিটি ব্লগের এই হলো মজা।
          যেন নিজের বাড়ি।
          কত বছর কোথায় ছিলা, ডাজন্ট ম্যাটার।
          ফিরলা মানেই ঘরে আছো। এইটা কি কম কিছু?

          ফেবুর সাথে তো ব্লগের কোন কম্পিটিশন নাই রে ভাই। যে যার জায়গায়।
          তবে ফেবুতে আমি খুব কম মানুষরেই পড়তে দেখি। খালি টানে আর টানে। আমিও তাই করি। অস্বিকারে করি ক্যামনে?
          তুমি পড়লে তো সেটা খুবই ভাল।

          আমি কনভিনিয়েন্সের কথা বলছিলাম।
          সিসিবির এখনকার পেইজটা সেল ফোনেও দারুন কনভিনিয়েন্ট। ট্রাই করলেই বুঝবা।
          না লিখলেও, পড়াটা খুবই সম্ভব। আগেরটার চেয়ে।

          আরেকটা সমস্যা হলো, এটা তো বানিজ্যিক কিছু না যে কেউ এটার রিডারশীপ বাড়াবে। বাড়ানোর দায়িত্ব নেবে।
          নিজ থেকে কেউ না এলে আসলেই কিন্তু কিচ্ছু করার নাই......


          Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

          জবাব দিন
  2. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    মোকাব্বির, ভাল লিখেছো।
    না পড়ে ঘুমিয়ে গেলে একটা মিস হয়ে যেতো...
    শেষ প্যারাগ্রাফটাতে কিছু আশার আলো দেখলাম যেন।
    কিন্তু মাসুমের অজুহাত দেখে কিছুটা নিরাশাও যে জাগলো না, তা না।

    আসলে লিখালিখি এবং পড়াপড়ি কিন্তু নীড বেইজড।
    আজকাল বুঝি, একটা লিখা যখন মাথায় আসে, না নামানো পর্যন্ত ঘুম আসে না।
    আবার কারো কারো লিখা ঘুমে ঢুলু ঢুলু চোখেও না পড়ে উঠতে পারি না।

    এই ব্যাপারগুলো নিজ থেকে না এলে ফেসবুক কেন, লেগবুকে (পায়েরসাথে পোস্টইট প্যাডে লটকে দেয়া) দিলেও কোন লাভ নাই।
    দেখি এই "রমিত সুনামি"-র পর যদি কিছু পরিবর্তন চোখে পড়ে.........


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      নীচে থেকে কমেন্ট দিয়ে উপরে উঠছিলাম। ঠিক আপনার কমেন্টে এসে ছুট লাগাতে হলো। সেটা শেষ করে এই বাসায় এসে বসলাম। যাক উইকেন্ড। আরাম করে কমেন্ট করি। আসলে কিছু লিখার খু্ঁজে পাচ্ছিনা বেশ কয়েকদিন ধরেই। ডঃ রমিত ভাইকে আসলে আমি কিছুটা হলেও ধন্যবাদ দিব। উনার জঘন্য কর্মকান্ডের জন্যেই মাসুম ভাইয়ের মত পুরোনো পাঠকেরা চার বছর পরে সিসিবিতে মন্তব্য করছেন। নতুন পুরোনো মিলিয়ে প্রচুর লিখা পড়ছেন। গত দুদিন ধরে গণহারে মানুষজন অনলাইন। বর্তমানে সাধারণত রেজা শাওন কোন গল্প লিখলে এরকম গণহারে মানুষজন অনলাইন পাওয়া যায়। এটা ঠিক যে ফেইসবুকের কারণে অনেক পাঠক আমরা হারিয়েছি কিন্তু আমার মনে হয় এটাকে যদি ভাল ভাবে দেখতে চাই তাহলে আমি বলবো ফেইসবুকের জোয়ারে আমাদের পাঠক সমাবেশের এক ধরনের পিউরিফিকেশান হয়েছে। অর্থাৎ যারা আসলেই কিছু পড়তে চায়, পড়ে আনন্দ পেতে চায় তারা এখনো বাঙলার ব্লগগুলোতে ঢুঁ মারছে। এদের সবারই হয়তো ফেইসবুক প্রোফাইল আছে। লেখকদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সিসিবির দুঃসময়ের পর হতে বর্তমান পর্যন্ত সিসিবিকে যতটুকু পথ পাড়ি দিতে হয়েছে আমি বলবো কোমা থেকে বিছানায় উঠে বসার চাইতেও বড় সাফল্য। এবং এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে আমার আপনার মত নতুন পুরাতন মিলিয়ে এক ঝাঁক লেখক। এদেরকে কেউ ডিসক্রেডিট করার চেষ্টা করলে আমি ছেড়ে কথা বলবো না।


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
      • পারভেজ (৭৮-৮৪)

        আমিও ভাবতেছিলাম, ঘটনা কি?
        সবাইরে রিপ্লাই দিচ্ছে, আমারে রিপ্লাই দ্যায় না ক্যারে?
        এখন বুঝলাম, ঘটনাটা...
        রেজা শাওনের লিখা মিস করছিলাম গতকালই।
        তুমি মনে করায়ে ক্ষুধাটা চ্যাগায় দিলা...
        সিসিবির এই সেপ্টেম্বর সুনামিটা আসলেই ওভার ডিউ ছিল (রমিতের নাম ইচ্ছা করেই নিলাম না আর। নেবোও না)।
        এর মধ্যদিয়ে আরেকটা জিনিষ বুঝলাম অন্যান্য ব্লগ সম্পর্কে।
        "ব্লগ কেউ পড়ে না"।
        অনেকটা ফেবু স্ট্যাটাসের মত।
        এমন ব্যাঙের ছাতার মত ব্লগার গজিয়েছে আর বানের জনের মতো তাদের বিশাল সব লিখা আসতে থাকেযে পড়াটা সম্ভবও না।
        ফেবু স্ট্যাটাসের মত চোখ বুলায়, লেখক আমার ঘরানার কিনা। তারপরে একটা কমেন্ট ঠুকে দেয়। অনেকটা এরকম:
        ১) বেশ বড় ব্লগের জন্য - "খুব পরিশ্রমের একটা কাজ। কীপ ইট আপ।
        ২) মাঝারি সাইজের ব্লগ - বেশ খাটা-খাটুনি করেছে। দারুন বস...
        ৩) অন্যান্য - সুপার, গুড ভাল... ইত্যাদি।
        ফেবুতে যা শুধু লাইক টিপেই সারা যেতো...
        তাই পিউরিফাইং কনসেপ্টের সাথে একমত...

        যা বলছিলাম, সুনামিটার, কারনে সিসিবি অনেক রিফাইন্ড হবে ভবিষ্যতে...
        আর তাই পাঠের গুনগত মানও মনেহয় বাড়বে...


        Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

        জবাব দিন
        • ইশহাদ (১৯৯৯-২০০৫)

          ১। "সেপেটেম্বর সুনামি" নামটা ভাল শোনাচ্ছে। আপনার গবেষণাধর্মী পোস্টের শিরোনাম এটিই থাকুক। 🙂

          ২। রেজা শাওন পুলাডা একটা অভিশাপ! হ্যারে কলেজে থাকতে পাঙ্গা দেইনাই দেইখা আফসোস হচ্ছে... :chup:



           

          এমন মানব জনম, আর কি হবে? মন যা কর, ত্বরায় কর এ ভবে...

          জবাব দিন
          • পারভেজ (৭৮-৮৪)

            "রেজা শাওন পুলাডা একটা অভিশাপ!"
            অভিশাপ মানে? যে সে অভিশাপ না, মহা অভিশাপ!!!
            ও যখন লিখে, অন্ততঃ দুই সপ্তাহের জন্য সিসিবিতে ট্রাফিকের ঝড় বয়ে যায় ঠিকই কিন্তু অন্য লিখার হীটে তখন নামে খরা।
            আমরা দুসপ্তাহের জন্য লিখালিখি থেকে বিরতি নিতে বাধ্য হই।
            কি লাভ লিখে, কেউ তো তা এখন পড়বে না...
            পাঠককুল যে এখন "রেজা-শাওনাক্রান্ত" কারন এখন চলছে রেজা-শাওনপক্ষ বা রেজা-শাওনকাল।

            সিসিবির এই রেজা-শাওনকালটা খুব একটা আসে না, কিন্তু এলে দারুন সময় কাটে তখন।

            লিখালিখির কিছু থাকে না বলেই খালেকের গল্পে কমেন্ট-বন্যা পড়া, পাল্টা কমেন্ট করায় দারুন কাটে সময়টা।

            রেজা-শাওন আসে স্থবির সিসিবিতে এক পশলা বৃষ্টি নিয়ে। আর আমরা সিসিবি-লাভাররা অপেক্ষা করি সেই বৃষ্টির।

            ভাবছি, এবারের অভিশাপটা কবে আসবে???

            ডিসক্লেইমার: রেজা শাওনের মত, আরও অনেকেই ব্যক্তিগত ভাবে আমার জন্য বৃষ্টি নিয়ে আসে সিসিবিতে।
            অনেক সময়েই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি তাদের লিখা পাবার জন্য।
            বিরতি বেশি দীর্ঘ হলে মন উসখুস করে, খারাপও লাগে। কিন্তু বলতেও পারি না, "যাও লিখো" - কি জানি কি ব্যস্ততায় আছে......
            (দুঃখ বাড়ে, যখন দেখি, এরকম কেউ কেউ একেবারে হাত ধুয়ে ফেলেছে সিসিবি থেকে)
            আমার জন্য ওরা প্রত্যেকেই এক একটা রেজা শাওন। তারপরেও রেজা শাওনের কথা বললাম, সবার বোঝার সুবিধার্থে।
            আমার জন্য না হয় অনেক রেজা শাওন আছে, (ভার্চুয়ালি জীবিত বা মৃত) অনেকের তো একটাই রেজা শাওন।
            তাদের কি হয়??? (সম্পাদিত)


            Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

            জবাব দিন
            • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

              খেয়ালিপনাই মনে হয় বড় লেখকের এক ধরণের বৈশিষ্ট্য। আমরাই বরং দিনলিপির ম্যাগি নুডুলস ২ মিনিটে তৈরী করে ছেড়ে দেই। 😛 ওদের আজকে এক প্যারাগ্রাফ তো তিন মাস পরে এক লাইন--এভাবে আগায়। রেজা শাওনরা লেখা দিলে বরং নিজের লেখার কষ্ট কমে যায়। ওখানে গিয়ে আড্ডায় বসে পড়লেই হলো। 😛 😛 একটা বিষয় অবশ্য জেনে রাখা ভাল, এই ছেলের কিন্তু সিসিবি মানেই সব। ভাল লেখে বিধায় আরো অনেকের মত সিসিবিকে লঞ্চিং প্যাড হিসেবে ব্যবহার করেনি। সিসিবিতে ছিল, সিসিবিতেই আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে জানিয়েছে সে।


              \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
              অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

              জবাব দিন
  3. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    আমি মেয়েদের সাথে সুইমিং এ গেলে ওদের শ্যাম্পুই ব্যবহার করি।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  4. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    সবচেয়ে পজিটিভ দিক এইটা যে রমিত ভাই এর লেখা বিষয়ক প্রশ্ন অন্য কোন ব্লগ বা মাধ্যম থেকে আসেনি। সিসিবিয়ান রাই এই ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছে।
    হ্যা এডমিনদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      নূপুরদা ধীরে ধীরে ফিরে আসতে চাইবার ইচ্ছাটুকু তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। বাকিটা ভবিষ্যত জীবন সঙ্গীনীর জীবন বিষয়ক পদক্ষেপের উপর নির্ভর করবে।


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
  5. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    🙂 🙂 🙂 🙂

    কতদিন পরে এলে, ভাইয়া! মিসডডড ইউ!

    কানে কানে বলি, আমি কিন্তু বেবি লোশন থেকে শুরু করে বেবি সাবান, শ্যাম্পুও ব্যবহার করি, মোকা! বাচ্চাদের প্রডাক্টে অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় বলেই এই বয়েসে আমার বাবু সাজা! জারের বেবি ফুড মোটামুটি অখাদ্য টাইপ হলেও পিসপাস নামের স্লাইমি খিচুড়ির অপভ্র্রংশটি খুব একটা মন্দ নয় যদি একটু ঘিয়ের ফোড়ন দেয়া যায়।

    তোমার দিনলিপি লেখালেখি অব্যাহত থাকুক!

    জবাব দিন
  6. কাজী সাদিক (৮৪-৯০)

    সুপারমুন এক্লিপ্স দেখার জন্য আর ছবি তোলার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। কিন্তু ভৌগলিক ভাবে "ঠিক" জায়গায় থেকেও আকাশ ভরা মেঘের জন্য চাঁদের টিকিটাও দেখতে পাইনি। পৃথিবীর উপর রাগ কমেছে একটু?

    জবাব দিন
  7. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    দশটি মন্তব্যের কোঠা পূরণ হয়ে গেছে। তাই নতুন করে এখানে তোমার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি, মোকা।

    অতিশয় নিম্ন রুচির ব্লগ সন্দেহ নাই। এটিই তার মৌলিক লেখা; নাকে রুমাল চেপে পড়তে পারো। আসল খেল তো মন্তব্যের কোঠায়।

    গতকাল আমাদের একজন ব্যাচমেট আমাকে একটি ম্যাসেজ পাঠিয়েছেন। মিঃ আজাদের সাথে নাকি আমার দুটি মিল আছে। প্রথমটি তিনি আমার ব্যাচমেট এবং দ্বিতীয়টি আমরা উভয়েই সিসিপি ছিলাম।

    শেষে তিনি অবশ্য 'ছিছি' বলে 'পি' করতে ভুলেন নাই B-)

    জবাব দিন
  8. মোকাব্বির (৯৮-০৪)

    আপা আপনি সিসিপি ছিলেন?! এই জন্যইতো এত এগ্রিকালচারাল গুণ আপনার মাঝে! 😮


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
  9. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    ১ম অনুচ্ছেদঃ বেবি শ্যম্পু তো দারুণ জিনিস। চোখে লাগলে চোখ জ্বলে না, কান্নাও পায় না। 😀

    ২য়ঃ আমরা যারা সুপার মুন দেখতে পাই নি তারা ভাব মেরে বলতে পারি- আসলে সুপারমুন নিয়ে আমার অত আগ্রহ নেই। যেদিন ব্যাটমুন দেখা যাবে সেদিন উৎসাহ নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকব! (কপি রাইটঃ জিমি কিমেল) 😛

    ৩য়ঃ কিছু কিছু দেশ আছে ব্যাটন এবং বাঁশি ছাড়া জীবনেও লাইনে থাকতে পারে না। আমরা নিঃসন্দেহে সেই সব দেশের একটি!

    ৪র্থঃ কি পরিপ্রেক্ষিতে কথাগুলো বললি জানি না দেখে মন্তব্য করতে পারছি না।
    তবে, গত কিছুদিনের প্রাণ চাঞ্চল্যে মনে হচ্ছে 'দাগ থেকে যদি দারুণ কিছু হয়, তবে দাগই ভাল!' 😀


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  10. মুজিব (১৯৮৬-৯২)

    আকাশ দেখা নিয়ে আফসোসের কথা কি আর বলব? থাকি বিলেতে। আলাস্কা বাদে আমেরিকার যে কোনো স্টেটের চেয়ে ঢের ঢের বেশি উত্তর মেরুর কাছে। বাসায় এক-নলা, দো-নলা মিলিয়ে গোটা চারেক আকাশ দেখার সরঞ্জামও আছে। তবুও ঠিক মত আকাশ দেখা হয় না। কি কারণ? লাইট পলুশান। শহরের বাড়িঘর আর রাস্তার আলোর কারণে ঘরের কাছের বৃহস্পতি-শুক্রকেই খায়েশ মিটিয়ে দেখতে পাই না, আরোরা আর মিল্কিওয়ে তো সুদূর পরাহত। একদিন এ লাইনের এক মার্কিনদেশীয় ওস্তাদ বুদ্ধি দিল - লোকালয় থেকে দুরে যাও, যে কোন দিকে ঘণ্টা দুয়েক গাড়ি চালালে দেখবে একেবারে লাইট পলুশন মুক্ত কোন জায়গায় চলে এসেছ। বুদ্ধিটা মনেও ধরল। কিন্তু ক্যামনে কি? আমার বাসা থেকে যেদিকেই যাই না কেন, ঘণ্টা দুয়েক গাড়ি চালালে হয় লন্ডন, নয়তো বার্মিংহ্যাম নয়তো ব্রিস্টল নয়তো সাউথাম্পটন - এরকম কোন না কোন বড় শহরের এক্কেবারে পেটের মাঝখানে গিয়ে যাত্রা শেষ হয়! ব্রিটেনের যে কোন স্থান থেকে যাত্রা শুরু করি না কেন, বড় শহর থেকে দুই ঘণ্টার দূরত্বে যাবার কোন উপায় নাই.... 🙁 🙁 ~x( :(( :bash:


    গৌড় দেশে জন্ম মোর – নিখাঁদ বাঙ্গাল, তত্ত্ব আর অর্থশাস্ত্রের আজন্ম কাঙ্গাল। জাত-বংশ নাহি মানি – অন্তরে-প্রকাশে, সদাই নিজেতে খুঁজি, না খুঁজি আকাশে।

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      আপনারা বরং আরো বেশী বিপদে। মানে আপনাদের ঠিক মত পলুশান ছাড়া আকাশ পেতে হলে একম ওদের গন্ডগ্রামে যেতে হবে। তা মনে হয় না ৫-৬ ঘন্টার ড্রাইভিং দূরত্বের মধ্যে আছে। এই একটি দিক দিয়ে কপাল ভাল ছিল আমার। ঘন্টাখানেকের উত্তরে ড্রাইভ করলেই একদম জনমানব শূন্য বনজঙ্গল কিংবা লেক সুপিরিয়রের পাড় এসে পড়ে।


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      জোকটা কোন এঙ্গেলে আসলো ভাই ধরতে পারলাম না। মাথা ইদানিং একদম ভোঁতা হয়ে গেসে। আন্দাজে বলছি, সোনা সিরিজ লিখলেই কি। দরবারে সেই হাজার লোকের সমাগম যে আর নেই। লেখকের বেঁচে থাকা পাঠকের মাঝে।


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      নিচের মন্তব্যে ছোট ভাই ধরায় দেয়ায় এইবার সোনা সিরিজের ষাড় মর্ম বুঝতে পারলাম! ভালই তো ফুড ফর থট দিলেন। "সোনাবহুল সিসিবি" এই নামে একটি সিরিজ চালু করা এখন সময়ের দাবী! 😀


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
        • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

          চিন্তা করে দেখলাম সিসিবির স্বর্ণযুগ নামে যদি কোন সিরিজ চালু করতে যাই, সেটা বস্তুনিষ্ঠভাবে লিখার জন্য আমাকে যেই পরিমাণ মেটা এনালিসিস করা লাগবে সেটা যেকোন লেখার পিছনে ব্যয় করা শ্রমের চাইতে বেশী হবে! চিন্তা করেন অন্যান্য স্বর্ণযুগ এনালিসিস করতে কতই না কষ্ট হওয়ার কথা! 😛 😀


          \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
          অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

          জবাব দিন
          • ইশহাদ (১৯৯৯-২০০৫)

            ইয়ে... মোকা ভাই,

            এত কষ্টের কি আছে? অন্যদের লেখা থেকে যে নেবেন তা তো কোথাও অস্বীকার করবেন না। আপনি চাইলে প্রতিটি ব্লগ ও ব্লগারের নাম উল্লেখ করতে পারবেন, তবে সেটা করবেন না কারণ অনেকগুলো সূত্র ব্যবহার করতে হবে। আর এটা তো কোন আনুষ্ঠানিক গবেষণাপত্র নয়, যে এখানে পাতা লাইন ধরে সাইটেশন করতে হবে। আপনার যেকোন মৌলিক গবেষণামূলক বই বা গবেষণাপত্রে নিশ্চয় সেটাই করে থাকেন। ইন্টারনেটে একটু সার্চ দিলেই আমরা সেইসব বই ও গবেষণাপত্রগুলো দেখতে পাব।

            এটা আনুষ্ঠানিক গবেষণাপত্র নয়, সামান্য প্রবন্ধমাত্র। যেখানে বিভিন্ন জনের লেখার সাহায্য নিয়ে কিছু সাজাবেন, নিজেরও কিছু কাজ থাকবে। বিভিন্ন লেখা পড়ে তা একজায়গায় সাজানো এবং কোন একটা বিষয় উপস্থাপনাও তো প্রবন্ধের একটা কাজ। আপনার কি ধারণা, পাঠকেরা জানিনা যে কোন একটি প্যারাগ্রাফ কপি করে তা গুগলে সার্চ দিলেই কে কোথায় কি লিখেছে তা বেরিয়ে আসে? সিসিবির কাহিনী অন্য কারো লেখা থেকে না নিয়ে কি কোন উপায় আছে? আপনি কি নিজ চোখে উনাদের দেখেছেন? কথা বলেছেন উনাদের সাথে? কোন ব্লগে বা সিসিবিতে যারা আপনার পূর্বে এইসব কাহিনী লিখেছেন, তারাও কি অন্য কারো লেখার সাহায্য নিয়ে লেখেননি? সিসিবিতে যা লেখা আছে, তা তো সিসিবি থেকেই পড়বো। বা সামুতে যা লেখা আছে, তা তো সামু থেকেই পরবো। নূপুর'দার কাছে মোটামুটি সবগুলো ব্লগই (সফট কপি) আছে। এর কয়েকটি নিশ্চয় পুরোটাই পড়েছেন, আর কয়েকটি বিভিন্ন সময়ে পড়তে পারবেন। সিসিবির কোন ব্লগ পড়ে সেটা আবার নিজে কম্পোজ করা কষ্টসাধ্য। তাই নেটে সেটা যেখানে আছে সেখান থেকে কপি-পেষ্ট করে নিলে কষ্ট কম হয় ও সময় বাঁচে। 'সিসিবি'-র খুব সম্ভবত কোন হার্ড কপি নেই। সেটা আপনাকেই কম্পোজ করতে হবে। পাঠকরা যদি চায় যে এই জাতীয় প্রবন্ধে, একটি আনুষ্ঠানিক গবেষণাপত্রের মতো আপনি থার্ড ব্রাকেটে প্রোপার সাইটেশন দিয়ে তা উল্লেখ করেন, তা করতে পারেন, সমস্যা নাই।

            সবশেষে লিখবেন
            তথ্যসূত্র: সিসিবিতে প্রাপ্ত বিভিন্ন ব্লগ ও প্রবন্ধ। সকল সিসিবিয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন। :grr: (সম্পাদিত)



             

            এমন মানব জনম, আর কি হবে? মন যা কর, ত্বরায় কর এ ভবে...

            জবাব দিন
  11. সাকেব (মকক) (৯৩-৯৯)

    আত্মপক্ষ সমর্থনে বলি যে, আমি প্রায়ই চুপিচুপি ঢুঁ মেরে যাই, কিন্তু স্বৈ*চারী চীনা সরকারের সেন্সরশীপের উৎপাতে লগইন করা হয়না। কি ফিল্টার জানি লাগাইসে যে, লগইন বাটনে ক্লিক করে গরুর মাংস চুলায় বসায় দিলে "হাউজ" পেজ আপলোড হইতে হইতে মাংস সিদ্ধ হয়ে যায় x-(


    "আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
    আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস"

    জবাব দিন
  12. লুৎফুল (৭৮-৮৪)

    বটে ।
    কথাতো বলা যায়ই বটে ।
    কমিউনিটি ব্লগের ভালো মন্দ সেই কমিউনিটির বাইরের কেউ তো এসে তৈরী করবেনা।
    তবে না এসে ভাব নেওয়াটা ভুল বলেই জানে নিশ্চিত লোকে এ তল্লাটে ।

    তবে এই সুবাদে পুরোনোরাও ফিরে এলে ব্লগ লাভবান ও প্রাণবন্ত হবে আরো নিশ্চিত।

    জবাব দিন
  13. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    বেবি শ্যাম্পুর গন্ধ এখন আমার কাছে আমার পোলার গন্ধের সমতুল্য, নাকে আসলেই মনে হয়, পোলা কাছে আছে। আর ছুটির দিন গুলোতে ওর গোসল করানোর সুযোগটা কোন ভাবেই হাতছাড়া করিনা, সেখানে শ্যাম্পু, লোসনের যথেচ্ছ ব্যবহার তো চলেই।

    আর্ম চেয়ার ক্রিটিকদের ইগনোর করা শিখে গেছি। সাথে না থেকে শুধু বাইরে থেকে গেল, গেল আওয়াজ দিয়ে ইন আওয়ার টাইমে কি করতাম আর না করতাম বলে বেড়ানোদের গোনায় ধরা বাদ দিতে হবে।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      ধন্যবাদ ভাই। বস্তুনিষ্ঠতার বিচারে লেখা কই যায় সেটা নিয়ে না বলি। তবে আমার লেখার মন্তব্যের পাতায় একটা টঙ এর চায়ের দোকান বসে যায় যে করেই হোক। না হয় আমি বসাই! 😛


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।