না-গল্প পাঁচ(ঘ) – তোড়ার কথা: ফেরা

প্রথম কিস্তি
না-গল্প পাঁচ(ক) – তোড়ার কথা: ফ্ল্যাশব্যাক

দ্বিতীয় কিস্তি
না-গল্প পাঁচ(খ) – তোড়ার কথা: শাওন-রিটা অধ্যায়

তৃতীয় কিস্তি
না-গল্প পাঁচ(গ) – তোড়ার কথা: নেপাল অধ্যায়

চতুর্থ ও শেষ কিস্তি
মায়ের বাসায় ফেসবুকের স্ট্যাটাস চেক করছে তোড়া। ঘুরেফিরে ইচ্ছা, রাশেদ কিছু দিল কিনা, সেটা জানার।
নাহ্‌ তেমন কোন কিছু চোখে পড়ে না। কাঠমান্ডু পৌছে একবার জানিয়েছে। এরপর তেমন কোন কথা হয়নি। ফোন করে টুকটাক আলাপ সেরেই ব্যস্ততার কথা বলে কেটে দেয়। এখানে আসার পর তোড়া প্রেগন্যান্সির ব্যাপারটা কনফার্মড হয়েছে। খুশিতে নেচে উঠেছে ওর মনটা। কিন্তু এই খবরটা ফোনে জানাতে ভয় পাচ্ছে। শেষ যেদিন সন্তান নেয়া সম্পর্কিত যে আলাপ হয়েছিল রাশেদের সাথে, সেখানেও এখনি এসব “ঝামেলায়” জড়ানোতে প্রচন্ড অনাগ্রহ দেখেছে। তোড়া বুঝতে পারছে, এইভাবে দূর থেকে বলাটা ঠিক হবে না। সামনাসামনি বললে হয়তো অন্যরকম কোন ফিলিং হতেও পারে রাশেদের।
তোড়া ভাবে, রিটার ফেইসবুক পেইজে একবার উকি দেয়া যাক না? একসাথেই আছে হয়তো।
ওখানে কিছু স্ট্যাটাস কিছু ছবি পেল যার বেশির ভাগেই রাশেদও আছে। তোড়া ভাবে, যাক বেঁচে বর্তে যে আছে, তাতে কোন সন্দেহ নাই।
হঠাৎ দেখে, বহুদিন পর স্কাইপিতে নক করছে শাওন। শাওনের সাথে নিম্নলিখিত আলাপ হয় তোড়ার:
শাওন: আছিস?
তোড়া: কি খবর? বিদেশে গিয়ে তো কোন যোগাযোগই করিস না। বউ-এর সাথে যে সারাক্ষন স্কাইপিতে থাকিস, সে খবর পাই। মাঝেমধ্যে আমাদের একটু হাই হ্যালো করলেও তো পারিস, নাকি?
শাওন: কি যে বলিস না? পড়াশুনার খুব চাপ যাচ্ছে। একটু ফ্রী হয়ে নেই…
তোড়া: তো এখন আবার কেন?
শাওন: আর বলিস না, রিটা নেপাল যাবার পর থেকে তেমন একটা যোগাযোগ হচ্ছে না। খালি বলে ওখানে নাকি খুব ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। সময় করে উঠতে পারে না। আবার কখনো কখনো বলে, ব্যান্ড উইডথ কম তাই ছবি আসে না। এত কি ব্যস্ততা, বুঝি না? রাশেদ ভাইরে বল ওর ব্যান্ড উইডথ একটু বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে আর ব্যস্ততা একটু কমিয়ে দিতে। জানিসই তো, আমাদের আবার স্কাইপিতেই সংসার ধর্ম পালন করতে হয়। খিকজ…
তোড়া: কি বলিস এইসব? এমনভাবে বলতেছিস যেন তোরা স্কাইপিতে ফোন-সেক্স করিস?
শাওন: ভালোই তো বুঝস। তবে এটা ফোন-সেক্স না, হবে স্কাইপি-সেক্স। এত বুঝিস ক্যামনে, তোরাও করিস নাকি?
তোড়া: ছিঃ!! কস কি মমিন? যাক, তো কাজের মানুষ কাজে আছে সমস্যা কি? থাকুক একটু ব্যাস্ত। তবে শুনেছি ওখানে গভীর রাতে অনেক ওয়াইফাই ফ্রী ইউজ করা যায়। ওগুলো তো উইজ করতে পারে। করে না ক্যান?
শাওন: কি জানি, বুঝি না। ফোন দিলেই খালি এইটা ঐটা হাতি ঘোড়া বুঝায়। দিনের বেলায় বলে রাশেদ ভাইর সাথে আছি, প্রেজেন্টেশন নিয়ে ব্যাস্ত। আর রাতের বেলায় বলে কি সব এনালাইসিস নিয়ে ব্যস্ত আছে। পরে কথা বলবে। একদমই বুঝতে পারছি না।
তোড়া: শোন, সাথে কিন্তু আরও দুইটা পোলা গেছে। দ্যাখ কারো সাথে আবার কোন লটর-পটর বাধাইছে নাকি!
শাওন: ধ্যাত! কি যে বলিস না?
তোড়া: এমনিই, মজা করলাম। কিন্তু একদমই না আসাটা একটু কেমন যেন! আমারেও আজকাল রাশেদ তেমন কিছু জানায় না। অবশ্য রিটার ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে মনেহল, ভালোই আছে।
শাওন: আমি তো আবার ওর ফ্রেন্ডলিস্টে নাই। জানি না ওসব। যাহোক জানলাম। ভালোই হলো। আর হ্যাঁ রাশেদ ভাইকে বলিস কিন্তু রিটাকে মাঝে মাঝে একটু ফ্রি করে দিতে। বুঝিস তো ক্যান। ঠিক আছে? বাই।
তোড়া: আচ্ছা। বাই।

তোড়া কি একটু অবাক হয়? হয়তোবা।
দেশে থাকতে যে মেয়ে সারাক্ষন স্কাইপিতে অনলাইন থাকে, বিদেশে গিয়ে এইভাবে হাওয়া, তাও খোঁড়া অজুহাতে? বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করে তোড়া। কিন্তু সহজ কোন সমাধান পায় না।

দেশে ফিরে এসে একেবারে বাসায় পৌছে ফোন করে রাশেদ,
– পৌছেছি। কবে ফিরতে চাও?
অভিমান হয় তোড়ার। কেন, জানতে চাওয়া কেন? বলতে পারতো না “রেডি হও, তোমাকে নিতে আসছি”
বন্দুক যখন তোড়ার কাঁধে রেখেই চালাতে চাচ্ছে, ও বলে-
– শরীরটা এখনো খুব ভাল না। আরও দুচার দিন থেকে যাই।
– আচ্ছা থাকো। যা ভাল মনেহয়, করো।
আরও বেশী অভিমান হয় তোড়ার। কান্নায় গলা বুঝে আসে। কি হতো বললে, “সেকি কথা? তাহলে চলবে কেন? না না তুমি রেডি হও আমি এক্ষুনি আসছি তোমাকে নিতে”। কিন্তু না, রাশেদ তা বলে না। ফোন কেটে দেয়।
এইবার তোড়া কেঁদেই ফেলে, বালিশে মুখ ডুবিয়ে।

দু’দিন হলো, রাশেদ এসেছে। প্রথমদিন অফিস থেকে ফেরার পথে এসেছিল তোড়াকে দেখতে। লাফিং বুড্ডা এবং আরও কি কি সব দিয়ে গেল। প্রেগন্যান্সির কথাটা ওকে জানিয়েছে তখন তোড়া। শুনে রাশেদ শুধু বলেছে, “ও”। তোড়া ঠিক বুঝতে পারলো না, এই ও এর মানে কি? খুশি নাকি অখুশি?
আজ আর আসেনি রাশেদ। বললো, অনেক কাজ জমে আছে, সেগুলি সারবে অনেক রাত পর্যন্ত।
তোড়ার মনে হলো, আরও কটা দিন মায়ের বাসায় থেকে গেলে মন্দ হয় না। এর মধ্যে রাশেদ ওর কাজ-টাজ গুছিয়ে নিক।
রাশেদ কে কল করে তোড়া।
– শোনো, আমি আরও সাতদিন এখানে বিশ্রাম নেই। শরীরটাও ভাল না, তাছাড়া তুমিও ব্যস্ত যখন। তোমার ব্যস্ততা একটু কমুক তারপরেই না হয় ফিরি, কি বলো?
– আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি যা ভাল বোঝো।
অবাক হয় তোড়া। এ কোন রাশেদ? কোন কিছু নিয়ে জোরাজুরি নেই? না নে? আর্গুমেন্ট নেই? সুবোধ বালকের মত তোড়ার সব কথা মেনে নিচ্ছে! ওর স্বাভাবিক আচরনের সাথে একদমই যায় না এসব। অবাক হয় তোড়া। পরিবর্তন কি নেপাল ভ্রমন জনিত নাকি ওর অসুস্থ্যতা জনিত? তোড়ার ভাবতে ভালোই লাগে যে ওর প্রেগন্যান্সির খবর শুনে রাশেদের মধ্যে বিরাট একটা পরিবর্তন হয়েছে। আগের মত কথায় কথায় আর জবাবদিহিতা করে বেড়াতে হবে না হয়তো তাঁকে।
– শোনো, একটা সুটকেস গুছিয়ে রেখে এসেছিলাম। অফিস যাবার আগে বা পড়ে একটু নামিয়ে দিয়ে যেও, কেমন?
– আচ্ছা।

তোড়ার সাথে কথা শেষ হতেই রিটাকে ফোন করে রাশেদ। মেঘ না চাইতেই পাওয়া এই বৃষ্টির খবর দেয়। ঠিক হয় অফিস থেকে আলাদা আলাদা বেরুবে দুজনই ক্লায়েন্ট মিটিং-এর অছিলায়। আসল ডেসটিনেশন রাশেদের বাসা। গাড়ি নেবে না কেউই। রাশেদ আগেই পৌছে থাকবে। রিটা গিয়ে সোজা উঠে যাবে। আর একান্তই যদি কেউ জানতে চায় যে কোথায় যাবেন, বলবে “তোড়া আপুর ফ্ল্যাটে যাবো” – ব্যাস।

প্রথম দিনটা দারুন কাটলো ওদের। সব কিছু এজ প্ল্যানড। নেপালে কাটানো অসম্ভব সুন্দর সময়গুলোর যে রেশ তখনও মন ছুঁয়ে ছিল, সেগুলো আবার ফিরে এলো।

দ্বিতীয় দিনে বাধলো বিপত্তি। তাঁরা যখন কিছু একটার মাঝখানে ছিল, হঠাৎ রাশেদের ফোন বেজে ওঠে। ব্যস্ততার জন্য ধরা হয় না। বেজে বেজে থেমে যায়। একটু পর আবারও যখন বেজে ওঠে, ওরা তখন আরও চড়ে আছে। আর তার মধ্যেই রিটার চোখ পড়ে স্ক্রীনে। বলে ওঠে,
– তোড়া আপু কল দিচ্ছে।
– কেটে দাও।
ফোনটা উল্টো করে রাখা ছিল বলেই হোক অথবা অন্যের ফোন ব্যবহারে অনভ্যস্ততার জন্যই হোক অথবা উত্তেজনায় হিতাহিত জ্ঞানশুন্য হয়ে পড়ার জন্যই হোক, বামে স্লাইড করে কেটে দিতে গিয়ে বরং ডানে স্লাইড করে কানেক্ট করে ফেলে রিটা।
আর দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ফোনে ওদের মিলন কালিন যাবতিয় বাক্যালাপ, চিৎকার-শিৎকার শুনতে শুনতে তোড়ার কাছে একে একে সব ধাঁধাঁর উত্তর মিলতে থাকে।

এমন একটা অভিজ্ঞতার জন্য কোনই প্রস্তুতি ছিল না তোড়ার। দুপুরে রিকশা নিয়ে বেরিয়েছিল টুকটাক কিছু কেনাকাটা করতে। ভাবলো, “সপ্তাহখানেক বাসায় যাওয়া হয় না, যাই একটু দেখে আসি, কি করে রেখেছে রাশেদ”।
মেইন ডোরের লক খোলার পর যখন দেখলো তা ভিতর থেকে বন্ধ, হঠাৎ খুবই আতংকিত বোধ করলো সে। চোর-ডাকাত ঢুকেছে নাকি?
রাশেদ বলেছিল ও ক্লায়েন্ট মিটিং-এ থাকবে দুপুরে। কোন ডিসটার্ব যেন না করে। কিন্তু এই জরুরী পরিস্থিতিতে ফোনটা না করে পারে নাই।
ফোন বেজেই চলে, কিন্তু উল্টো দিকে রাশেদ ধরে না। তোড়া ভাবে, সাইলেন্ট নাকি? উত্তেজনা ও আতংকে প্রথমে খেয়ালই করে না যে ঘরের মধ্যেই তা বাজছে।
শেষ দিকে যখন তা বুঝতে পারে, বিস্ময়ের শেষ সীমায় পৌছেছে সে। বেল টেপার আগে, নিশ্চিত হতে তাই আবার কল দেয় তোড়া।
হ্যাঁ, যা ভেবেছে তাই। ঘরের ভিতর থেকেই বেজে চলছে রাশেদের ফোনের সেই পরিচিত রিংটোন। কি ব্যাপার, বাসায় ফোন ফেলে গেল নাকি রাশেদ? তাই বা কি করে হয়। আজই তো কথা হলো কতবার। অথবা হতেও পারে। কাছাকাছি থাকা কোন ক্লায়েন্ট ভিসিট শেষে এসেছিল কিছু একটা নিতে অথবা দু’ঢোক হুইস্কিতে গলাটা ভেজাতে। তখন ফেলে গিয়ে থাকবে হয়তো।
বিয়ের পরপর ঘটা কথা মনে পড়ে তোড়ার। হঠাৎ হঠাৎ ভর দুপুরে এসে হাজির হতো রাশেদ। ক্লায়েন্ট ভিসিটে এসেছিল। ফিরে যাবার আগে এক রাউন্ড আদর সোহাগ চাই ওর। ওর ভাষায়, “অফিস টাইমে এসব করার নাকি অন্য মজেজা আছে”। কি সব যে বলে এক এক সময়, হাসি পায়।
রিং বেজেই চলে, কেটে দেবে নাকি ভাবে তোড়া। বাসায় ঢুকে পড়া চোর আবার না রাশেদের সেল ধরে বসে। ভাবতে ভাবতে কেউ একজন ফোনটা রিসিভ করে। একটা মুহুর্ত সময় থেমে থাকে অপরিচিত কোন গলা শোনার অপেক্ষায়।
কিন্তু না কোন হ্যালো শুনতে পায় না তোড়া। বরং আদুরে গলায় কথা বলতে থাকা দুই নর-নারীর কথোপকথন ভেসে আসে তার কানে। আর একে একে উত্তর মিলতে থাকে কয়েকদিন ধরে জমা যাওয়া প্রশ্নগুলোর।
দুটো কন্ঠই তার পরিচিত।
– কেটে দিয়েছো, ভাল করছো? এই অসময়ে ফোন চো*তে আসছে। আবার বলে কিনা, প্রেগন্যান্ট। বিয়ের দু বছরও হয়নি, কত ব্যস্ততা চলছে, এর মধ্যে প্রেগনেন্ট হওয়ার কি হলো? প্রোটেকশন নেবে না? এম আর করানোর কষ্টটা তো তোকেই পোহাতে হবে, নাকি? বাদ দাও। চলো, নেপালের মত ডার্টি টক শুরু করো তো দেখি আবার। ওটা কিন্তু পারো ও দারুন!!
– শুধু আমিই পারি, নাহ্‌? তুমি কম কিসে?
– আচ্ছা, দুজনেই পারি। এখন বলতো দেখি, আমরা কি করতেছি এখন?
– জানো না বুঝি? কচি খোকা? আমরা এখন চু*তেছি?
– ও মাই গাড, আই উইল ডাই। ভদ্র ভাষায় “লাভ মেকিং করতেছি” না, নিউট্রাল ভাষায় “সেক্স করতেছি”-ও না। একদম সবচেয়ে র, সবচেয়ে ক্রুড শব্দটাই তোমার পছন্দ হলো? এই রকমের একটা ডার্টি পার্টনারের সাথে এইরকম একটা ডার্টি সেক্সে পার্টিসিপেট করা তো রিতিমত স্বপ্নেরও অতীত!!!
– আজও গতকালের মত আরেকটা “চমৎকার” হবে, তাই না?
– যে ভাবে চলছে শুধু চমৎকার না এক্কেরে “মহা-চমৎকার” হতে বেশী বাকি নাই। যাকে বলে “মহা-চু* মুদে একাকার” আর কি………
আর বেশী শুনতে পারে না তোড়া। কান বনবন করা শুরু করে দুজনের কথা শুনে। চোখে অন্ধকার দেখে সে। কি করবে ভেবে পায় না। কোন সীন ক্রিয়েট করতে ইচ্ছা হয় না তার আর।
ওদের শেষ হলে, নীচে নেমে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আবার কল করে সে।
এবার রাশেদ ফোন ধরে।
– কি ব্যাপার? অফিস আওয়ারে বারবার এত কল দিচ্ছো ক্যান?
– রাশেদ, জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখো। আমি নিচে। নিজের ফোন নিজেরই কাটা উচিৎ ছিল তোমার। কাটার বদলে রিটা ভুল করে কানেক্ট করে দিয়েছিল। আর আমি তোমাদের ডার্টি সেক্স, ডার্টি টকিং-এর পুরোটাই শুনে ফেলেছি। আর তাতে অনেক প্রশ্নের উত্তরও এখন আমার কাছে পরিষ্কার। তোমার ইদানিংকার উদারতা, প্রেগন্যান্সি নিউজে মন্তব্য না করা থেকে শুরু করে রিটার স্কাইপিতে অনুপস্থিতি পর্যন্ত সব কিছু। তুমি কি আমার কথা বিশ্বাস করছো?
– তুমি কি কোন সিন-ক্রিয়েট করতে চাচ্ছো?
পর্দা সরিয়ে তোড়াকে দেখতে দেখতে ঠাণ্ডা গলায় জিজ্ঞাসা করে রাশেদ।
– আমাকে কি তোমার সেরকম মনে হয়?
– তাহলে দাঁড়িয়ে আছো কেন?
– তোমাদের যাওয়াটা দেখতে চাচ্ছি। অভিসারের শেষে এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতিতে দুজনের কি প্রতিক্রিয়া হলো, তা না বুঝে যেতে ইচ্ছা করছে না।
কিছুক্ষণ পর তোড়ার উপস্থিতিকে সম্পুর্ন ইগনোর করে এমন ভাবে কথোপকথনরত অবস্থায় দুজনে নেমে আসে, রিকশায় চেপে বসে এবং তোড়ার চোখে আড়ালে চলে যায়, এক মুহুর্তের জন্যও তাঁদের মধ্যে অনুতাপের কোন পরশ তোড়ার চোখে পড়ে না।
তোড়া শুধু ভাবে, কি অদ্ভুত! কি অদ্ভুত!!

অত্যন্ত বিমর্ষ মনে ল্যাপটপের সামনে বসে তোড়া ভাবে, কার সাথে এই কথাটা শেয়ার করা যায়?
রেডিলী কারো কথা মনে পড়ে না তার। হঠাৎ শাওনের কথা মনেপড়ে। ভাবে, ওর মতই প্রতারিত শাওনও। দেখি তো কি ভাবছে ও।
স্কাইপিতে শাওনকে খোজে তোড়া।
– তুই কি আছিস? আমি কিন্তু এখন জানি, কেন রিটা তোকে নেপাল থাকতে স্কাইপিতে সময় দিতে পারে নাই। তুই কি শুনতে চাস?
অপেক্ষা করে তোড়া। দেখে, লম্বা কি কি যেন টাইপ করেই যাচ্ছে শাওন। অনেকক্ষন পর শাওনের লিখা ওঠে তোড়ার স্ক্রিনে। শাওন লিখেছে,
– রিটা সম্পর্কে রাশেদ ভাইকে জড়িয়ে আজেবাজে কোন কথা আমার কাছে বানিয়ে বলার দরকার নেই, তোড়া। কিছুক্ষণ আগেই রিটার সাথে শুধু কথাই না, লাইভ ভিডিও-সেক্সও হলো স্কাইপিতে। তখন জানলাম, ওর এত সুন্দরী হওয়াটা, ক্যারিয়ারে এত সুন্দর সুচনা করাটা আবার লাভিং একটা পারফেক্ট (ওর ভাষায়) হাসবেন্ড পাওয়াটা তুই একদমই সহ্য করতে পারিস না। ওকে ভিষন ঈর্ষা করিস তুই। আর তাই, প্রায়ই ফোনে ওকে রাশেদ ভাই-এর মত ফেরেশতার মত একজন মানুষকে জড়িয়ে নানান উল্টা-পাল্টা প্রশ্ন করিস। এটা ঠিক না। তোর আসলে চিকিৎসা দরকার। এই সন্দেহ প্রবনতা কিন্তু কিওরেবল ডিজিজ। খুব ভাল হয়, এখনই চিকিৎসা শুরু করলে। আমি কি একজন বিশ্বস্ত সাইকিয়াটিস্টের নাম্বার পাঠাবো?

তোড়ার আর উত্তর দিতে ইচ্ছা হয় না।
সে বসে বসে ভাবতে থাকে, ক্যাডেট কলেজে পড়লেই, ভাল ছাত্র হলেই কি – এরকম বোকা হতে হবে সবাইকে?
-শেষ-

আরও কিছু না-গল্প

একটি না-গল্প: সার্ভিস চার্জ

আরেকটি না-গল্প: বেল্ট কাহিনী

না-গল্প তিন: তোড়ার জন্য

না-গল্প চার : আড়াইখানা ব্রেক-আপ কাহিনী

১,৭৯০ বার দেখা হয়েছে

৪ টি মন্তব্য : “না-গল্প পাঁচ(ঘ) – তোড়ার কথা: ফেরা”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।