একটু পরেই চলে যেতে হবে। শুধু মনে হচ্ছিল কী দরকার ছিল এভাবে বন্দী এক জীবনে আমাকে পাঠিয়ে দেবার? কিন্তু মুখ দিয়ে টু শব্দটি করার উপায় নেই। এতদিনে যে শাসনে ছিলাম । সবার ছোট হলে যা হয় আর কী। এতদিন বড় আপুর ছায়াতলে ছিলাম। যা কিছু অর্জন আমার তার ৮০%তার অবদান। যা ভেবেছিলাম তাই। আপু জিজ্ঞেস করে বসল-
– এবার তো একা থাকতে হবে। পারবি তো?
বাক্স (পর্ব ১ – মানুষটা)
নিথর, নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে আছে মানুষটা। নাকে দু’টো আতর লাগানো তুলো গোঁজা। তার দিকেই অবাক নয়নে তাকিয়ে আছে তার ছোটো নাতনী হৃদিতা।
– ভাইয়া, দাদার নাক থেকে ওটা খুলে দাও না, দাদা তো নিঃশ্বাস নিতে পারছে না।
অর্ক তাকে কিভাবে বলবে যে দাদা আর কখনো শ্বাস নেবেন না। সেও তো এ বিদায় মেনে নিতে পারছে না; মনে মনে অনেকবার ভেবেছে দাদা এখনই জেগে উঠবে;
বিস্তারিত»স্বাধীন দেশের পরাধীন নাগরিক
১২ বছর বয়সে যখন ক্যাডেট কলেজএর গেট দিয়ে প্রবেশ করলাম তখন দু’ ধরনের অনুভুতি ভর করেছিল আমায়।প্রথমত স্বপ্ন পুরন হওয়ার আপ্লুত এক আনন্দ, দ্বিতীয়ত অচেনা এক নতুন পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার অজানা এক আতঙ্ক। সেদিন নিজেকে অনেক বড় মনে হছিল, কিন্তু এখন যখন ক্লাস ৭ কিংবা ৮ এর কোন ছেলের দিকে তাকাই তখন নিজে নিজে চিন্তা করি আসলে কতটা ছোট ছিলাম আমরা।
সেই ক্ষুদ্র বয়সে কৈশোর জীবনে বাবা-মা পরিবার পরিজন ছেড়ে বের হয়েছি।
বিস্তারিত»আব্বু’র জন্য লেখা
গতকাল হঠাৎ করেই মেহেদির “মা” কে নিয়ে লেখা ব্লগটি পরে একটা ব্লগ লিখতে ইছা হল। জীবনে কখনও ব্লগ লিখিনি, তাই সব সময়ই মনে হত এই ব্লগ লেখা হয়ত আমার জন্য নয়। হয়ত ব্লগ লেখার মত যথেষ্ট যোগ্যতা আমার নেই। কিন্তু আজ হঠাৎ সিধান্ত নিলাম লেখার। আদৌ জানি না কেমন হবে। ভুল ত্রুটি নিজ গুণে ক্ষমা করবেন প্রথম ব্লগ বলে। লেখার সিধান্ত নেয়ার পর প্রথমেই মনে হল যে আমার প্রথম ব্লগটি লিখবো “আমার বাবা”
বিস্তারিত»মা, আমার মা……………
আজ “মা” দিবস নয়। তারপরও আজকের লেখাটা মাকে নিয়েই লিখলাম।
ফটিকের গল্পটা মনে আছে? “ছুটি” গল্পে ফটিক কেমন নির্বিকার ভাবে মাকে বলে গেলো, ” মা, আমার ছুটি হয়েছে, আমি যাচ্ছি……”।
ফটিকের সেই বিদায় কেন জানি আজ অবধি আমাকে কাঁদায়।
আমার মা একটু পাগলা কিসিমের। সন্তানের জন্য এত অফুরন্ত ভালোবাসা একজন মা কিভাবে বুকে ধারন করে রাখতে পারে, তা আমি আমার মাকে দিয়েই বুঝেছি।
বিস্তারিত»টুশকি জুনিয়ার ১.০
জমজমাট সিসিবি তে টুশকি কে খুব মিস করছি। সায়েদ ভাই তো ভুলেও এদিকে আসেন না। কিছু দিন আগে (চোখের নিমিষে ২/৩ বছর কেটে যায়) আমি টুশকি জুনিয়ার নামে একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম। সেই ধারাবাহিকতায় জমজমাট সিসিবি তে আবারও ছোট টুশকির আগমন।
১। প্রাণবন্ধু স্যার সব খেলাতেই রেফারীর দায়িত্ব পালন করতেন। ফুটবল কম্পিটিশনের সময় ১৬তম ব্যাচের মাসুম ভাইয়ের হ্যান্ডবল হল নিজেদের গোল পোষ্টের খুব কাছাকাছি।
বিস্তারিত»ভালোবাসার সেকাল, একাল……।।
[ ১৪-০২-২০০৮, বেলা ১২ টা ]
খরদুপুরে শাহবাগের মোড়ে দাড়িয়ে থাকা এক তরুণ। হাতে একগুচ্ছ গোলাপ। বেশকিছুক্ষন পর হাতের মোবাইলে পরিচিত রিংটোন-
মোবাইলের এপাশ ঃ হ্যালো
ওপাশ ঃ তুমি কোথায়?
এপাশ ঃ শাহবাগের মোড়ে ফুলের দকানের সামনে।
ওপাশ ঃ এইতো আমি চলে এসেছি, কতক্ষণ ধরে wait করছিলে?
এপাশ ঃ বেশি না, মাত্র ১ ঘণ্টা!!
ওপাশ ঃ আহারে……এইতো তোমাকে দেখতে পাচ্ছি…।
কোন আশ্রয় নেই বলেই … ..
ছুটি দেখতে দেখতে একেবারে শেষপ্রান্তে এসে গেল। ব্লগ লেখাই হলো না। এর মাঝে মনে পড়ে গেল গত সপ্তাহের কথা। অন্যরকম দিনগুলোর স্মৃতিময়তায় লেখা এই স্মৃতিকথা…
দ্বিতীয় পর্বের সবচেয়ে বড় এক্সারসাইজ ছিল লৌহকপাট। আর এখন তৃতীয় পর্বের প্রথম বড় এক্সারসাইজ রণগতি। এটার কষ্ট একটু বেশী যে হাঁটতে হয় অনেকটুকু পথ।
“দেখতে দেখতে লৌহকপাট থেকে রণগতি। আজ লেখার এই সময়টা চমকপ্রদ। সেবার পুরো একটা নোটবুক লিখেছিলাম ট্রেঞ্চ এ বসে।
বিস্তারিত»হাবিবুল্লাহ স্যারের অপ্রত্যাশিত চিরবিদায়
ছোটবেলায় আব্বার কাছে শুনতাম ‘কলেজের বারান্দায় পা না রাখলে নলেজ হয়না’।১৯৯৩ সালের ২০শে মে সপ্তম শ্রেনীতেই ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের আঙ্গিনায় পা রাখার মাধ্যমে আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়।নলেজ হয়েছে কিনা জানিনা কিন্তু আমার কলেজ যে অনেক নলেজেবল স্যারের উপস্থিতিতে নলেজের আধার ছিল তা বেশ বুঝতে পারি।
কলেজে গিয়েই হাউস মাস্টার হিসেবে পাই ইংরেজীর হাবিবুল্লাহ স্যার কে।অনেক জ্ঞানী,ড়ায়নামিক,মানষিকভাবে অনেক তরুন সেইসাথে কড়া।একদিন উইকএন্ড মুভি শো হচ্ছিল অডিটরিয়ামে।আমি তখনো যাইনি,হাউসে ফাঁকি মারছিলাম।হাউসের সামনে স্যারের কাছে ধরা।স্যার খুব শান্তভাবে জিজ্ঞেস করলেন কেন যাইনি।আমি আমতা আমতা করে কিছু বলতে গেলেই আমাকে ধরার জন্য থাবা দিয়েছেন।আমি যখন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলাম স্যারও আমাকে ধরার জন্য রীতিমত দৌড়।ধরতে না পারলেও ঐ বয়সে ভালই ধাওয়া দিয়েছিলেন আমাকে।স্যার কোন এক টার্মে আমার রেজাল্ট শীটে হাউস মাস্টারের কমেন্টে লিখলেন “সম্ভাবনাময় ক্যাডেট” যা আমার মনে খুব দাগ কেটেছিল।কালে কালে বেলা অনেক গড়িয়েছে স্যারও অবসর জীবনে চলে গিয়েছেন।গত রিইউনিয়নে(ডিসেম্বর ২০০৯)অনেকদিন পর স্যারের সাথে দেখা।সালাম দেয়ার পর স্যারকে বললাম,
ক্রিকেট কিংবা বাবার গল্প
আব্বু বাংলাদেশের খেলা দেখছ? বাংলাদেশ কি অসাধারন খেললো !
আমার আব্বার কল, বাংলাদেশ জিতলে এই কল একটা রুটিন এর মত, খেলা শেষ হবার সাথে সাথে আব্বা এই কল দিবেই দিবে। ক্রিকেট খেলা মানেই আব্বা সারাদিন টিভি এর সামনে মোটামুটি আঠার মতো লেগে থাকবেন, বাংলাদেশ ভাল করলে স্নেহ ভরা চোখে তাকিয়ে থাকবেন,আর খারাপ করলে করুণ হয়ে যাবে তার মুখ। গত বিশ্বকাপ এর সময় আমাদের পুরান টিভিটা সমস্যা করায় আব্বা কিনলেন সাদা কাল টিভি ,যুক্তি হলো সাদা কাল টিভি হলে ব্যাটারি দিয়ে খেলা দেখা যাবে!!
বিস্তারিত»টুকরো স্মৃতি: অস্তিত্বের স্বীকৃতি
১
দুই বছর আগে যখন প্রথম এই কার্ডিফ শহরে এসেছিলাম, খুব মুগ্ধ হয়েছিলাম এই শহরের ল্যান্ডস্কেপ দেখে। পুরো ইংল্যান্ডে অনেক বাঙালি থাকলেও, কার্ডিফে বাঙালি খুবই কম। তখন কারো সাথে পরিচয় হলেই জিজ্ঞাসা করত, ‘হোয়্যার ইউ ফ্রম, আর ইউ ফ্রম ইন্ডিয়া?’ কেন জানি খুব গায়ে লাগতো আমার ইন্ডিয়ান পরিচয়টা, সবারই মনে হয় লাগে প্রথম প্রথম। জোর গলায় বলতাম, ‘নো, আই এম ফ্রম বাংলাদেশ’। নিশ্চিতভাবেই পরের প্রশ্ন,
দেয়াল পত্রিকা এবং কিছু আবোল তাবোল
আমি, পাবন।
সিরিয়াসনেস শব্দটা আমার অভিধানে মোটামুটি অনুপস্থিত ছিল, আছে এবং থাকবে এই ব্যাপারে সবাই ৯০% এর বেশী নিশ্চিত।
তা হঠাৎ আজকের এই “EMOTIONAL ATTYACHAR” এর রহস্য কি ?
Wall Paper বা সোজা বাংলায় দেয়াল পত্রিকা।
আমার জন্মদিন ২০ফেব্রুয়ারি এবং [আমার কোন পাপের ফল আল্লাহ জানেন] দেয়াল পত্রিকা প্রতিযোগিতা চিরকাল ২১ফেব্রুয়ারি।
আমি “ক্রিয়েটিভ রাইটার” না এবং কপাল পুড়ল ওইখানেই !
আ মরি বাংলা ভাষা
১
বেশ কিছুদিন ধরে দাঁতের ব্যথায় ভুগছি। এদেশে ডাক্তারের এপয়েনমেন্ট পেতে রীতিমত গলদঘর্ম হতে হয় আর সেখানে যদি হয় আমার মতো মেডিক্যাল ইন্সুরেন্সহীন হতভাগি তাহলে তো আর কথায় নেই। বহু চেষ্টা তদবির এর পর অবশেষে একজন ডেন্টিষ্ট এর এপয়নমেন্ট পাওয়া গেলো। কিন্তু সমস্যা বাঁধলো ডাক্তারকে নিয়ে। ডাক্তার বাবাজি সাক্ষাৎ আমেরিকান। তিনি বিভিন্ন রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর আমার সমস্যাটি তাকে খুলে বলতে বললেন।
বিস্তারিত»স্বপ্ন…২
লিখব লিখব করেও লেখা হচ্ছে না।ক্যাডেট কলেজ ব্লগে প্রথম লেখা টা লিখি এক বছর আগে…(আসলে লাস্ট ইয়ার নভেম্বরে…তাই বললাম যে এক বছর পার হয়ে গেছে… O:-) ) তারপর বেশ কিছু পাঠকের সাড়া পেয়েছি, কেউ চেনা কেউ অচেনা, ভাল লেগেছে সবার কমেন্টস গুলো। ইচ্ছা ছিল তারপর আর লেখার, কিন্তু লেখা হইনাই। ব্যস্ততা তো ছিলই, আর আলসেমি টা ছিল প্রধান।টাইপ করে লেখা আসলেই আনেক কষ্টের।
মানুষ সব সময় স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করে,
বিস্তারিত»০৪ঠা ফেব্রুয়ারী ২০১১,স্বপ্ন না কি সত্যি????
সেই সেপ্টেম্বর ২০১০ থেকে দেশে আসি আসি করে আর আসা হয়ে উঠছিল না। আইভরি কোস্টের ঘাড়-তেড়া প্রেসিডেন্টের তেড়ামির বলির পাঠা হয়েছিলাম আমরা। যাই হোক দেশে ফিরলাম সেজন্য নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হচ্ছিল। তবে এয়ারপোর্ট রোড ধরে যখন এগুচ্ছিলাম তখন ভাগ্যটাকে ততটা সুপ্রসন্ন মনে হচ্ছিল না। তবে দেশে ফেরার আনন্দে সেটাকেও কেন জানি উপভোগ্য মনে হচ্ছিল। গত ১লা ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরলাম। বহুল প্রত্যাশিত এই ঘরে ফেরাটা আরও এক নতুন মাত্রা পেল ৪ তারিখে এসে।
বিস্তারিত»