দেয়াল পত্রিকা এবং কিছু আবোল তাবোল

আমি, পাবন।
সিরিয়াসনেস শব্দটা আমার অভিধানে মোটামুটি অনুপস্থিত ছিল, আছে এবং থাকবে এই ব্যাপারে সবাই ৯০% এর বেশী নিশ্চিত।
তা হঠাৎ আজকের এই “EMOTIONAL ATTYACHAR” এর রহস্য কি ?

Wall Paper বা সোজা বাংলায় দেয়াল পত্রিকা।

আমার জন্মদিন ২০ফেব্রুয়ারি এবং [আমার কোন পাপের ফল আল্লাহ জানেন] দেয়াল পত্রিকা প্রতিযোগিতা চিরকাল ২১ফেব্রুয়ারি।
আমি “ক্রিয়েটিভ রাইটার” না এবং কপাল পুড়ল ওইখানেই !
ক্যাডেট কলেজ এর সাথে সম্পৃক্ত মোটামুটি সবারি জানার কথা ২-৩ মাস আগে শুরু করলেও আগের ২-৩ রাত সারারাত জেগে জেগে Wall Paper শেষ করতে হয়।
সুতরাং ৯ম থেকেই আমার Birthday আর Happy থাকে না [৮ম এ রিউনিয়ন ছিল]।
আমি লিখতে পারি না, গল্পও মাথায় খুব একটা আসে না কিন্তু কোন লেখাকে “চুয়িং গাম” এর মত টেনে টেনে লম্বা করা কিংবা দর্জির মত কাচি চালিয়ে ছোট করার কাজটা খুব ভাল পারতাম। তার উপরে ছিল “Blank Space Writer” এর “Permanent Post”.
সুতরাং সবাই ঘুমানোর সময় পেলেও আমি পেতাম না।

ভালই লাগত!

হাউস এর সব চাইতে হরর ভাইরাও কেন জানি ভাল হয়ে যেতেন, যেসব ভাইয়ের ফুট-ফরমাস খাটতে খাটতে জান পানি হয়ে যেত তারাও কেন জানি আমার কখন কি লাগবে তার দিকে মনযোগী থাকতেন, “ফল-ইন লেট” বা “পিটি-শু ময়লা” HP ভাই এর চোখ যেন কিভাবে এড়িয়ে যেত। গার্ডেনিং কম্পিটিশন এর জন্য ক্লাসমেটরা যখন রোদের মাঝে গার্ডেন এ গড়াগড়ি খাচ্ছে তখন আমি আরামসে বসে বসে “Cut+Paste” করছি।
এমনকি House Tutor Sir রা পর্যন্ত ক্লাস এ পড়া খুব একটা ধরতেন না !

উপরি হিসাবে ছিল মুড়ি-চানাচুর পার্টি। এরকম সময় সিনিয়র ভাইদের কাজই ছিল হাউসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আর পাঞ্জাবীর নিচে যেসব জুনিয়র খাবার নিয়ে হাউস এ যেত ওগুলো “Wall Paper Fund” থুক্কু “Wall Paper FOOD Fund” এ দান করা !

একবার দেখি ১১শ এর দুজন ভাই হুবহু একই গল্প আমার হাতে দিয়ে বললেন “কোন কিছু চেঞ্জ করতে হইলে আমার কাছে আসব”! আমি হাতে নিয়ে একবার এদিক তাকাই আরেকবার ওদিক তাকাই, পরে নামের জায়গায় দুজনের নাম ছাপা হল [বলা বাহুল্য, আসল লেখক …………. নাহ থাক, ওপেন সিক্রেট!]

সব চাইতে মজা হয়েছিল সেবার যখন ***** ভাই মাস্তি মারতে এসে হাউস মাস্টার স্যার কে দেখে JP পাওয়ার আশায় তড়িঘড়ি ব্রাশ আর নেট হাতে স্প্রে করা শুরু করল আর হাউস মাস্টার স্যার আবিষ্কার করলেন ***** ভাই ইতোমধ্যে আমাদের ২ মাসের সাধের দেয়াল পত্রিকার ১৪টা বাজিয়ে ফেলেছেন!

এখন মনে পড়ে প্রায় প্রতিটা Birthday আমি ভুলে যেতাম আর রাত ১২:৩০-১:০০ এর দিকে আমার জুনিয়র চুপি আমার পাশে তার হাতে বানানো কোন একটা কার্ড দিয়ে আমাকে Wish করত। তারপরে “হাউস কালচার” ভাই এর মায়া জেগে উঠলেও “বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্রতর স্বার্থ বর্জন” হয়ে যেত এবং হতভাগা পাবন আবার হাউস সৈনিক হয়ে দেয়াল পত্রিকার সেবায় নিয়জিত হয়ে যেত।

যাই হোক, এইখানে এখন ২৩ফেব্রুয়ারি।

মনে থাকবে আরেকটা UNHAPPY BIRTHDAY আর মনে থাকবে HAPPY WALL PAPER থুক্কু ‘দেয়াল পত্রিকা’, যার জন্য আমি আজকে সত্যিই বাংলায় লিখতে পারছি!

১,৭৬৪ বার দেখা হয়েছে

১৯ টি মন্তব্য : “দেয়াল পত্রিকা এবং কিছু আবোল তাবোল”

  1. মামুন (২০০২-২০০৮)

    দেয়াল পত্রিকা নিয়ে আমারও এমন অনেক স্মৃতি মনে পড়ল। করতে বিরক্ত লাগলেও, করা শেষ করে দেয়াল পত্রিকাটার দিকে তাকালে সত্যি খুব ভালো লাগতো। :clap:

    জবাব দিন
  2. রকিব (০১-০৭)

    ভালো লিখছো মিয়া। কলেজে দেয়াল-পত্রিকা প্রকাশনায় আমি অবশ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতাম। এই ধরো, সব কাজ শেষ হলে গিয়ে দেখে আসা, অডিটরিয়ামে গিয়ে মনোযোগ দিয়ে ঘুমানো। লেখা এবং আঁকার হাত সবিশেষ ভাল থাকায় কোন কালেই সিনিয়ররা ডাকেন নাই আমারে। 😀
    অফটপিকঃ ঐ মিয়া, মিল্কী ভাইরে ধইরা এখানে নিয়ে আসো।


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।