ফুলি বেগম যেদিন বিয়ের পিঁড়িতে বসলো, সেদিন সে মনে মনে অনিশ্চয়তার দোলাচল আর কিছুটা চাপা উত্তেজনায় চঞ্চল ছিলো। বিয়ের আগে সে বাবুল মিঞাকে পরিবারের অন্যান্য সবার সামনে বসে চাক্ষুষ দেখার আর তার সাথে মাত্র দুই একটা কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলো। দুই একটা কথা আর দুই একবার দৃষ্টি ও হাসি বিনিময় ছাড়া তেমন উল্লেখযোগ্য আর কিছুই ঘটেনি। কন্যা সম্প্রদানের সময় প্রথানুযায়ী বুকফাটা কান্নাকাটির পর সেই যে সে সোজা বাবুল মিঞার ঘরে চলে এলো,
বিস্তারিত»কনকপ্রভা
কনকপ্রভা,
তুমি মাঘের কোমল রোদ্দুর হয়ে এসেছিলে,
তেমনই থেকো, এই আছো এই নেই।
এই অরণ্যচারীর নিভৃত নিবাসে
এক চিলতে সোনালী রোদ্দুর হয়ে থেকো।
আলোছায়া হয়ে মিশে রবো একসাথে।
কনকপ্রভা,
তুমি আষাঢ়ের মেঘ হতে চেওনা।
এমনিতেই তুমি আমার ভেতরে
শান্ত স্রোতস্বিনীর ন্যায় সততঃ প্রবাহমান।
তুমি নরম রোদ্দুর হয়েই থেকো,
গায়ে মুখে মেখে হবো, আঁধারেও চক্ষুস্মান!
অকবির আবোলতাবোল প্রলাপ
এক
ফোডর্ ফ্যাশনিস্টায় চাবি ঘুরাতেই ম্যাসেনজারে বার্তা এলো, আছো?
এন্ড্রোমেডার ওপার থেকে আসা সামান্য এই ‘আছো’ তে দিন শেষে
মেঘের আকাশে লীলাময় রংধনু!
মৃদঙ্গ সুর অথবা কুহকিনী কার্ডিনালের ঘোরলাগা ডাক
এ যেন পেনসেলিনার উদ্দাম সুর;
আতখা টানে ঘর থেকে বাইরে যাবার ডাক!
দুই
ছ’টা বেজে কুড়ি,
সাতটা পেরিয়ে সতের মিনিট হাওয়া,
আটের কাটা করছে ছুঁই ছুঁই
এখনো তুমি গুয়াডালুপে একা?
গুডবাই ইউরোপ
এবছরের মতো বিদায়, ইউরোপ!
মস্কো এয়ারপোর্টে ট্রানজিট লাউঞ্জ থেকে।
[এইটাকে পরবর্তী ব্লগের বিজ্ঞাপণ ধরে নেওয়া যেতে পারে]
বিস্তারিত»The River – আনন্দ শঙ্কর
ইদানিং
নদীর মতন আসেনা কেউ!
তার মতন ঢেউ
তুলে কেউ বলেনা –
চলো,
ছলোছলো
চোখ মুছে নিয়ে
এলে যে কি নির্ভার
হতাম! কি দিয়ে
তাকে ডাকি,
বুকে রাখি
ভেবে বার করার
আগেই, আনন্দ,
আপনি বাজালেন
দি রিভার!
মে ২৭, ২০১৫। ফেসবুক
বিস্তারিত»ঢাকার শুনানি, ঢাকায় শুনানি (ঙ)
প-তে পযুক্তি (র-ফলা নাই)
আমি যদি বলি গত তিন বছর ধরে আমি একটি প্রযুক্তির উপর বসে আছি তাহলে আপনি কি ভাববেন? “এ আর এমন কি? সবাই কোন না কোন ধরনের প্রযুক্তির উপর বসে আছে।” কিন্তু আমি আপনাকে বলবো আমার কথাটি আক্ষরিক অর্থে নিতে। কারণ প্রযুক্তিটির নাম কর্নিং গরিলা টেকনোলজি। বর্তমান যুগের সিংহভাগ স্মার্টফোন কিংবা ট্যাবলেটগুলোর স্ক্রীণ যেই প্রযুক্তির কাঁচ দিয়ে বানানো হয় সেই প্রযুক্তি।
আলো এবং অন্ধকারের উপাখ্যান
আমার আকাশ থেকে আলো করে চুরি
সাজাও নক্ষত্ররাজি তোমার আকাশে,
এটা ঠিক শোভনীয় নয়
এটা নয় মানবিক।
তবু ক্ষমা করে দিলাম,
একটু আলোই তো করেছ চুরি
আমার দশ দিগন্তের অন্ধকারে
কেউ বসাতে পারোনি ভাগ।
ঊষা থেকে গোধূলি পর্যন্ত
অবাধ আলোর মিছিল থেকেই
নিয়ে নেব আলোর ভাঁড়ার,
বিস্তারিত»কী হবে?
সূর্যটা শেষমেষ
সাগরের তরল বুকেই ডুবে যায়!
আগুনের ফুলকিগুলো
শেষমেষ ছাই হয়ে জলে মিশে যায়।
কী হবে কাঠিন্য দিয়ে,
তারল্যের বুকেই যদি লিখা থাকে
শেষ ঠিকানাটা।
সব কিছু দ্রবীভূত হয়,
যদি রসায়নটা ভালো করে জানা থাকে।
দিগন্তে যে সূর্যটা হারিয়ে যায়,
ভূঁই ফুঁড়ে সে আবার বের হয় পরদিন।
আবার আলো জ্বালে, উত্তাপ ছড়ায়,
পজিটিভিটি
নিজেকে একেবারে মেলে ধরতে পারি না
আর কারো কাছে, শুধুমাত্র তুমি ছাড়া।
আমার জীবনের সকল অর্জনগুলোর সার-সংক্ষেপটাকে
সামেশন করে যখন কারো কাছে নিবেদন করতে যাই,
কি করে যেন ফলাফলের আগে
একটা মাইনাস চিহ্ন বসে যায়।
তোমার কাছেই শুধু পজিটিভ মূল্য পায়
আমার সকল অকিঞ্চিৎকর নিবেদন।
ঢাকা
০৬ মে ২০১৫কাছেই
স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
দিনলিপিঃ স্যাডেল ইয়োর ড্রিমস বিফোর ইউ রাইড ‘এম
দেশে যাতায়াতের জন্য এমিরেটস এয়ারলাইন্স আমাদের পছন্দের। ওদের প্লেনে উঠলেই দেশ দেশ একটা ভাব চলে আসে। তারা অনলাইনে এমিরেটসের মুভি লিস্টের পাত্তা লাগায়, সামনের দিকে সিটের বুকিং দেয় সাথে সাথেই। বাড়ির বাইরে পা দেয়া মাত্র আমার খাই খাই একটা ফিলিং শুরু হয়ে যায় সব সময়। যাত্রায় ভোজন নাস্তি’ কথাটি আমি খুব মানি। ভারী খাবার খাইনা বটে কিন্তু সামান্য বাদাম বা প্রেটসেলস অথবা আধা কাপ কমলার জুসে বেশ চলে যায়।
বিস্তারিত»পাঠ প্রচেষ্টা : এক আশ্চর্য সঙ্গমের স্মৃতি
এক আশ্চর্য সঙ্গমের স্মৃতি – ১
———————–
সৈয়দ শামসুল হক
বারান্দায় বসে আছি আমরা। রাত ১১-৩০।
ছাইদান রাখো না ঘরে, তাই পিরীচ
দিয়েছিলে। ছাই উড়ছে মৃত জোনাকির মতো ।
লোকে যা জানে না, মেলে ধরছি প্রণয়ের ক্ষত;
যেন তুমি চিকিৎসক জোছ্নার ক্লিনিকে আজ, তোমার সমুখে।
থামের অন্ধকারে, হাতের চাঁদনামা চিবুকে
কি সাবধানে ধারণ করে আছো মমতা
যা তোমার।
কলেজে রোজা
ক্লাশ সেভেনের বাচ্চা তখন।কলেজই ঠিক মত বুঝতে পারলাম না। দুপুরে ক্লাশ লিডার জিজ্ঞাসা করল শবে বরাতে রোজা রাখব কি না!!! ক্যাডেট কলেজে রোজা!!! ক্যামনে কি??
বুকে দম নিয়ে মুন্না ভাই কে জিজ্ঞাসা করতে যাব যে ওইদিনের শিডিউল কি তার আগেই মুন্না ভাই নিজে থেকে বলল,
– মজা আছে বুজছ!! রোজা রাখলে সারাদিন ঘুমাবা।
আমার চোখ দুটা বড় বড় হয়ে গেল। কন্ঠে অনেক বিস্ময়।।
অডিও ব্লগঃ রেলগাড়ির গান
প্রতিবার দেশে গেলে আমার বাবা তারার জন্য একজন মাষ্টারমশাই নিযুক্ত করেছেন গান শেখাতে। পঁচিশ তিরিশের দীর্ঘকায় শ্যামবর্ণ একটি ছেলে সপ্তাহে তিনদিন আসতেন তালিম দিতে। একদিন বাবা বললেন তারা একা গাইবে কেনো, মাগো? তুমিও বসে যাও হারমোনিয়াম নিয়ে। অনুশীলনের অভাবে কন্ঠে লালিত্যের ঘাটতি থাকলেও পিতা জানেন তার কন্যার বুকে সুরের নিত্য আনাগোনা! ডো-রে-মি-ফা ভুলে যাবার বহু বছর পর আবারও সারগামে ডুব দিলাম বাবার মন রাখতে।
গৌতম নামের মাষ্টারমশাই এর সাথে আমাদের মা মেয়ের খুব ভাব হয়ে গেল।
বিস্তারিত»প্রলাপ – ১৪
সে-কথাগুলো কেবলি ভাসতে থাকে।
আকাশের এক টুকরো ফাঁকে
কি করে এঁটে যায়
মস্ত জীবনের সবগুলো ছবি
হার্ড ডিস্ক, যত নেগেটিভ
মামুলি সব লোনাজল,
কথা অনর্গল
তাকে প্রলাপ বলে ভুল করে
ছুঁড়ে ফেলে
হাত মুখ মুছে নিয়ে
জীবনে জীবন ঘষে
আগুন জ্বালাবার মিছে
প্রয়াস নিয়ে
যখন ফুলে ফুলে
দুলে দুলে উঠছে
সব-পেয়েছি-র হাওয়া,
আশা নিরাশা
কালি কলম সবই ছিল,
সাদা কাগজ, তাও তো ছিল,
চিঠিও লেখার ইচ্ছে ছিল, কেবল…
লিখবো যাকে, সে ছিল না!
উথাল পাতাল ইচ্ছে ছিল,
কাব্য করার সাধ্য ছিল,
চোখেও গভীর স্বপ্ন ছিল, শুধু…
স্বপ্নদেবীর খোঁজ ছিল না!
দু’চার চরণ পদ্য লিখে,
কেটে দিতাম পর নিমেষে,
কি হতো আর ওসব রেখে, যখন…
পদ্য পড়ার কেউ ছিল না!