আমার কৃষ্ণকায় নির্ঘুম রাতগুলোতে জালালুদ্দিন রুমি এলেন খানিক আলোর দিশা হয়ে। প্রভাতের ঝরে পড়া শিউলির মত সবার অলক্ষে নিজের অসামান্য সুর আর সুরভিটুকু বিলিয়ে রুমি আমার ঠাকুরের মতই বলতে চাইলেন, তোমারে দাও আশা পুরাও তুমি এসো কাছে। আমি সেই সময়ের কথা বলছি যখন বেনে জ্যোৎস্নার আলো আমায় ভাসিয়ে নেবার বদলে নিমজ্জিত করেছে অপার অন্ধকারে। কাঁচের জানালার ফোঁকর গলে যে এক টুকরো আকাশ আমার ঘরে ঢুকে পড়তো তার সাথেই আমার নিত্যদিনের যোগাযোগ ছিল শুধু।
বিস্তারিত»“যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চল রে!”
বেগুনি না খেলে কি রোজা সহীহ হবে না, নাকি? আমার যতদূর মনে পড়ে গত রমজানে আমাদের বাসায় বেগুন কেনা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। কাচাবাজারে গিয়ে যখন দেখতাম কেউ কোন দোকানদারের সাথে তুমুল দরদাম করছে/করছেন। আমি খুব বিনয়ের সাথে বোঝাতাম, বেগুনের দাম বেশি, আপাতত কেনা বন্ধ রাখেন, দাম এমনিতেই পড়ে যাবে। আমার কথায় অনেকে আমাকে পাগল মনে করে তাকাত। আবার অনেকে মনে হয় কনভিন্সডও হতো। এটা ছিল একান্তই আমার এবং আমার পরিবারের নিরব সমাজিক আন্দোলন।
বিস্তারিত»অন্য আয়োজন
তুমি আমি মিলে কত না হৈ হুল্লোরে আর
কতনা আয়োজন করে সাজালাম এ জীবন!
তুমি আমি মিলে…
তুমি আমি মিলে যেদিন ‘আমরা’ হয়ে গেলাম,
কতনা সহজে ভুলে গেলাম,
একদিন আমরা তো শুধু আমিই ছিলাম।
তুমি আমি মিলে একসাথে কত দৌড়ঝাঁপ করে
একসাথে হাঁপিয়েও উঠলাম,
হৃদস্পন্দন একটু থিতু হতেই আবার দৌড়ালাম!
তুমি আমি মিলে ঘাটে বাটে থেমে তুলে নিলাম
জীবনের কত না সোনালী সঞ্চয়,
ধোঁয়া ও স্বপ্ন
চায়ের কাপের ধোঁয়াগুলো
শূন্যে মিলিয়ে যায়, তবে-
তারা আকাশ ছুঁতে পারেনা।
বাকরুদ্ধ মনের কষ্টগুলো
যদিও ঊর্ধ্বপানে ধায়, তবুও-
তারা আকাশ খুঁজে পায় না।
শুধু অবুঝ মনের স্বপ্নগুলো
ধোঁয়া হয়ে যায় অভ্র ফুঁড়ে,
কোন নিশীথ রাতের বৃষ্টিপাতে
আবার স্বপ্ন ফেরায় নয়ন জুড়ে।
ঢাকা
১৪ জুন ২০১৫
স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
আমার এ কবিতাটার ভাবানুসরণে “Dreams And Smoke”
বিস্তারিত»ত্রিরঙ্গ-চতুরঙ্গে মানসপটে ফৌজদারহাটের পঞ্চভুত
পাহাড়-সমুদ্র-সমতট। পাহাড় তো নয়, ঢেউ খেলানো ভূমির বাঁক যেনো ছন্দবদ্ধ তালে-লয়ে অবিরাম আছড়ে পড়ছে খোল-করতাল-মাদলে-বীণায় মনের গহীণ সন্তর্পে। সমতটের বিস্তৃতি অন্তর্গত ভাবনা-চিন্তা-চৈতন্যে ক্রমশ: বাড়িয়ে যেতে থাকে তার বিস্তার। আর সমুদ্র ! বিশালত্বে উদ্বেল সুপ্রসারিত দু’হাত মেলা মনের ক্যানভাসে, আঁকে ছবি অন্তহীন, ভেঙে দিয়ে গোপন সব প্রকোষ্ঠ। এই তিনের সাথে জুড়ি দেয়া অবারিত উদার আকাশ ত্রিবৈচিত্রের নিয়ত উন্মীলন সংগী। আর কি চাই !
একটি মানুষ।
বিস্তারিত»ভ্রম
শুধুই উচ্চারিত শব্দে
‘ভালবাসি’ কে বলেছে কবে?
যতটুকু বলেছে মুখে
চোখদুটি বলেনি কি
শতগুণ বেশি?
শুধুই বৃষ্টিতে কি ভিজেছে এ তনু
হৃদয়ের ঝড়-জলে ভেজেনি কি কিছু?
মেঘ কেটে এই বুকে
জাগেনি কি নীলাকাশ?
বাজেনি কি মেঠো পথে নূপুরের ঝঙ্কার?
খোলাচুলে এই পথে যায়নি কি সেইজন?
বিস্তারিত»দিনলিপিঃ সিসিবিয়ানদের আড্ডার গল্প
মায়ের দেয়া কল্কাপাড়ের শাড়ি পরবো নাকি কর্ণ স্টা্রচে ইস্তিরি করা কড়কড়ে সুতির একখানা টিউনিক পরবো ভাবতে ভাবতেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। সিসিবির সরব ব্লগারদের প্রায় কাউকেই চিনিনা তাই দু’ চারজন নিরব পাঠককে কল করে বলি, চলে এসো ক্লাবে। জোরসে আড্ডা হবে সকাল সকাল! কিন্তু আজই কি কারণে যেন কারো কারো ব্যস্ততা খানিক বেশী। কারো হয়তো মায়ের খুড়তুতো দিদির মেয়ের পাকা দেখা আজই, কেউবা ঢাকার বাইরে মধুচন্দ্রিমায়।
বিস্তারিত»তোমার শখের পসরা
আমার ঘরের নিভৃত একটি কোণে
রয়েছে তোমার এক নিজস্ব ভূবন।
সেখানে কখনো প্রবেশ করিনি আমি।
তবে বাহির থেকে দেখেছি কি সুন্দর করে,
সাজিয়ে রেখেছো তোমার শখের পসরা
একটি আলমারীর ক্ষুদ্র পরিসরে, থরে থরে।
কতনা যতন করে রেখেছো সেখানে,
ছোট ছোট সব শখের পজেশনগুলো,
শাড়ীর পরতে পরতে, এভাঁজে ওভাঁজে,
গোপন কুঠুরির কোন গোপনতম স্থানে।
আর পরখ করে দেখ সেসব অমূল্য রতন
যখনি সময় পাও,
মমতা – আনন্দ শঙ্কর
কথাগুলো কি করে
গান হয়ে যায়
কি করে কী-বোর্ডে
ওঠে সুর
তোমার মমতামেদুর
মেসেজ আসে —
উদ্ভাসিত ফেস, বুক
আনন্দ, মমতার
এমন শঙ্কর
দেখিনি আগে
ছিল কোথা
সুখের এ অসুখ!
আশা জাগানিয়া কথকতা
বিগত দুই সপ্তাহ গরমে আমরা বঙ্গ সন্তানরা খুবই কাহিল। সম্প্রতি অধিক বৃষ্টিতে প্রধান দুই মহানগরীর জনজীবন নর্দমা এবং বৃষ্টির পানির মাখামাখিতে পর্যুদস্ত। সফরকারী ভারত দলের সামনে প্রথমদিনে বেকায়দায় পড়া বাংলাদেশ দলকে বঙ্গমাতার আশীর্বাদপুষ্ট বৃষ্টি কিছুটা রেহাই দিয়েছে বটে। দিনকাল কাটছে ব্যস্ত। অসাবধানে পড়ে গিয়ে গিন্নি পা মচকে ফেলেছেন, সংসারের অবস্থাখানা তাই একটু নড়বড়ে। আমি বাঙ্গালি বীরপুঙ্গব, কুটোটি নেড়ে খেলেও আমার ইজ্জত যাবে, তাই অবস্থার আশু কোন প্রতিকার নেই।
বিস্তারিত»দিনলিপিঃ মোহনভোগ, জাজা এবং মাতা-পুত্রী সমাচার
গ্রিটসের মোহনভোগ রান্না করেছিলাম ব্যাপক আয়োজন করে। গ্রিটস হলো হলুদ ভুট্টার গুড়ো, যা বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। আমাদের দেশের সুজির চাইতে একটু বড় দানার এই গ্রিটস ইউরোপ, আফ্রিকা অথবা এশিয়ার দেশ গুলোতে কোথাও পোলেন্টা, কোথাও মাহলামা আবার কোথাওবা কুকু নামে পরিচিত। নরম আর সহজপাচ্য বলে আমেরিকার বুড়োবুড়িদের কাছে সকালের নাস্তায় গ্রিটস পছন্দের খাবার। সামান্য মাখন ছড়িয়ে, নুন আর গোল মরিচে গ্রিটস খেতে আমার মন্দ লাগেনা।
বিস্তারিত»স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
১। ক্যাডেট কলেজ ব্লগের সাথে পরিচয়ের ৭ বছর পূর্ণ হতে চললো। এই ৭ বছরে কখনো অনলাইন হয়েছি কিন্তু সিসিবিতে ঢুঁ দেইনি এরকম ঘটনা চেষ্টা করেও মনে করতে পারছি না। সময় এবং সুযোগ থাকলে তাই সবসময়ই সিসিবির সাথে আপডেট থাকা হয়।
২। এই পুরো সময়ে প্রায় দেড়শোর মত ব্লগ লিখেছি, যার অধিকাংশই রীতিমত আবোল তাবোল বকর বকর। মানের চেয়ে পরিমানের দিকেই সব সময় নজর ছিল আমার,
বিস্তারিত»বায়োস্কোপ
ফুলি বেগম যেদিন বিয়ের পিঁড়িতে বসলো, সেদিন সে মনে মনে অনিশ্চয়তার দোলাচল আর কিছুটা চাপা উত্তেজনায় চঞ্চল ছিলো। বিয়ের আগে সে বাবুল মিঞাকে পরিবারের অন্যান্য সবার সামনে বসে চাক্ষুষ দেখার আর তার সাথে মাত্র দুই একটা কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলো। দুই একটা কথা আর দুই একবার দৃষ্টি ও হাসি বিনিময় ছাড়া তেমন উল্লেখযোগ্য আর কিছুই ঘটেনি। কন্যা সম্প্রদানের সময় প্রথানুযায়ী বুকফাটা কান্নাকাটির পর সেই যে সে সোজা বাবুল মিঞার ঘরে চলে এলো,
বিস্তারিত»কনকপ্রভা
কনকপ্রভা,
তুমি মাঘের কোমল রোদ্দুর হয়ে এসেছিলে,
তেমনই থেকো, এই আছো এই নেই।
এই অরণ্যচারীর নিভৃত নিবাসে
এক চিলতে সোনালী রোদ্দুর হয়ে থেকো।
আলোছায়া হয়ে মিশে রবো একসাথে।
কনকপ্রভা,
তুমি আষাঢ়ের মেঘ হতে চেওনা।
এমনিতেই তুমি আমার ভেতরে
শান্ত স্রোতস্বিনীর ন্যায় সততঃ প্রবাহমান।
তুমি নরম রোদ্দুর হয়েই থেকো,
গায়ে মুখে মেখে হবো, আঁধারেও চক্ষুস্মান!
অকবির আবোলতাবোল প্রলাপ
এক
ফোডর্ ফ্যাশনিস্টায় চাবি ঘুরাতেই ম্যাসেনজারে বার্তা এলো, আছো?
এন্ড্রোমেডার ওপার থেকে আসা সামান্য এই ‘আছো’ তে দিন শেষে
মেঘের আকাশে লীলাময় রংধনু!
মৃদঙ্গ সুর অথবা কুহকিনী কার্ডিনালের ঘোরলাগা ডাক
এ যেন পেনসেলিনার উদ্দাম সুর;
আতখা টানে ঘর থেকে বাইরে যাবার ডাক!
দুই
ছ’টা বেজে কুড়ি,
সাতটা পেরিয়ে সতের মিনিট হাওয়া,
আটের কাটা করছে ছুঁই ছুঁই
এখনো তুমি গুয়াডালুপে একা?