(ডিসক্লেইমারঃ আপনি মেডিকেল লাইনের না হলে পোষ্টটি একটু কম উপভোগ্য হবে, এই জন্য ক্ষমাপ্রার্থী)
আমেরিকার মেডিকেল কলেজগুলোর স্টুডেন্টরা ৩য় বছর থেকে হাস্পাতালে কাজ করা শুরু করে, যাকে বলে ক্লিনিকাল রোটেশন। ক্লিনিকাল রোটেশনের সময় তাদের রুগী দেখার পাশাপাশি মেডিকেল চার্টে রুগীদের স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যবলীগুলোও লিপিবদ্ধ করতে হয়। নতুন এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক মেডিকেল স্টুডেন্টই প্রথম প্রথম কিছুটা হিমসিম খায়, যার ফলস্বরূপ মেডিকেল চার্টে তাদের এন্ট্রিগুলো একটু হাস্যকর রূপ নেয়…তারই কিছু উদাহরন এইখানে উপস্থাপন করলাম…
আ মরি বাংলা ভাষা
শব্দগুলো সব উঠে আসছে, বিমর্ষ অভিমানী বাংলা ভাষা আমার। এত শ্রম দিয়ে এত যতনে লেখাটিকে সাজালাম, শব্দে বাক্যে খেলিয়ে কবিতা বানালাম, গান এনেছিলাম কণ্ঠে, অশ্রুপ্রবণ দুটো হৃদয় নিয়ে উপন্যাস লিখেছিলাম, টুসকি বানালাম, ছবিতে ছবিতে ভরিয়ে সেদিনের বেড়ানো, পিকনিক মাতালাম তবু আমার লেখা থেকে শোকার্ত সব শব্দেরা মিছিল করে কালোব্যাজ নিয়ে বেরিয়ে আসছে কেন। সামান্য লেখক আমি, যে কোন লেখায় একটি শব্দ কি মাত্রা উল্টে পাল্টে গেলে কি ভীষণ বিভ্রান্তি হতে পারে আমার থেকে বেশি কে জানে।
বিস্তারিত»এলেবেলে
রমযানের ঈদের পরের সপ্তাহে আমেরিকা আসা অব্দি দিনগুলো কেটে যাচ্ছে এলোমেলো, একেবারেই। পড়ায় আছি, কিন্তু মন নাই। আজ এই পড়ি তো কাল সেই।দেশে থাকতে একটা পেপার লিখছি আমার তিন নম্বর এমএ ডিগ্রীর লোভে, সেইটা নিয়েও সুপারভাইজারে টালবাহানা করছেঃ বেশি চালাকি করে লিখছিলাম একটা একাডেমিক জার্নালকে মাথায় রেখে যেন সুপারভাইজার আপ্রুভ করা মাত্র ছাপানোর জন্য পাঠাতে পারি, এখন খাইছি ধরা। সুপারভাইজার কয় আরেকটা থিওরেটিক্যাল ফ্রেমওয়ার্ক আমার ড্যাটা থেকে আরো কি সব নাকি ‘আবিস্কার’
বিস্তারিত»আমি আছি….
জেনো, এই আমিই..
তোমার মাঝরাতের,চোখ পালানো ছন্নছাড়া-ঘুম।
জেনো, এই আমিই..
তোমার কপোলে,নীল জোছনার নিষ্পাপ-চুম।
খুঁজে পাবে আমায়..
তোমার জানালায়, আর ওই খোলা-বারান্দায়।
খুঁজে পাবে আমায়..
চুমু-সংক্রান্ত
ঘাসে ছুঁড়ে ফেলে
দুপদাপ চলে গেছে
বলে কেমন তিরতির
কাঁপে দেখো,
তবে কি অভিমান মানে
ওই আধখাওয়া পেয়ারা?
সবুজ চিবুক ঘিরে থাকা
দাঁতের আধখানা-বৃত্ত
অসংঙ্গায়িত…
দীর্ঘ সময় ধরে শুনছি
জলপ্রপাতের অন্যরকম শব্দ
ছিমছাম পাহাড়ী সন্ধ্য্যায়
পানি পড়ার ছেড়া ছেড়া শব্দ
আমি শব্দ দিয়ে সংজ্ঞা দিতে পারি নি
জল পতনে বাতাস কাপার শব্দকে
ফুল ও নারী
প্রলাপ-২
ছাইরঙা মেঘের ভেতরে মাথা গুঁজে দালানগুলো সব দাঁড়িয়ে, আত্মহননের প্ররোচনা নিয়ে কোথাও কোথাও দুয়েকটা জানলা কি বিপজ্জনকভাবে খোলা যেন বৃষ্টি এলেই টুপটাপ লাফ দেবে বিমর্ষ শহরবাসী! নীচে রাস্তায় লালবাতি-ভাবনায় জমে গেছে যানবাহনের ঢল। বিষাদের সবথেকে পলকা ভারটুকুও সরাতে না পেরে রাশভারী ক্রেনটি শেষমেশ ঘাড়কাত ক’রে দূরে বিজ্ঞাপনের হাসিমুখ দেখে খুশি হবার ভান করে…..
শেষে বৃষ্টি নেমে এলে জেগে ওঠে হাউজিং এর বিজ্ঞাপনী বনাঞ্চল,
বিস্তারিত»প্রলাপ
তোমার বাহুমূল, পিঠের দু’পাশ থেকে
রক্তের ফোঁটাগুলো
গড়িয়ে
এলোমেলোভাবে
নেমে
যেতে
যেতে
ফুলে পরিণত হয়ে গিয়ে
ভেতরে ভেতরে যদিও
উসকে দিচ্ছে যাবতীয় আগুন,
বারংবার বারংবার
তবু চিৎকার করে চলেছি
ডানা-কাটা-পরীদের আমি দু’চোখে দেখতে পারিনা……
বিস্তারিত»প্রবাসে দ্বিতীয় ঈদ, ঈদ মোবারক … একটি ফাউল পোস্ট
প্রথমেই বলে নেই , এটি আমার জীবনের প্রথম কোনো লেখা ।জীবনে প্রথম বারের মতো কোনো লেখা লিখছি (পরীক্ষায় রচনা ,ভাব সম্প্রসারণ এইসব বাদে .. কারণ এই গুলা সব সময় না পরে লিখতাম ) তাই সবার কাছে এই পোস্টটিকে একটি ফালতু পোস্ট হিসেবে দেখে আমার ভুল ক্রুটি ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য আহবান জানাই ।
যখন লিখছি তখন ভোর চার টা চৌত্রিশ মিনিট ,১৭/১১/২০১০, কোভেন্ট্রি,ইংল্যান্ড ।
ঈদ মোবারক
অনেকদিন পর সিসিবি’তে আসলাম। ঈদের দিনে। বাংলাদেশে সবাই এখন কুরবানী নিয়ে ব্যস্ত। আর আমি সারাদিন ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস করে এসে ক্লান্ত শরীর টেনে টেনে চারতলার বাসায় ঢুকলাম।
ঘণ্টা খানেক পর ঈদের দাওয়াতে গেলাম পাশের এক বাসায়। আজ বাংলাদেশী আর পাকিস্তানীরা ছাড়া আর সবাই ঈদের নামাজ পড়ল। বাংলাদেশীরা, আসলে বলা ভালো হানাফিরা, কাল ঈদের নামাজ পড়বে। কাল আমার ক্লাস বিকেলে। কাজেই, আমিও কাল জামাতে শামিল হবো।
বিস্তারিত»চুমু-সংক্রান্ত
১।
পুরনো বইয়ের ভাঁজ থেকে
টুপ করে কখন
ঝরে গিয়ে
পিঠে ডানা
জুড়ে নিয়ে
অসমাপ্ত চুমুর
সেই লুকনো বুদ্বুদটি
তোমার ঠোঁটের
উদ্দেশে
শেষে
একাই
উড়াল দিলে
২।
কাজ কি সখী শতকথায়,
তারচে’ এসো
মেতে উঠি
চারটি ঠোঁটের কথকতায়…
রহমত আলির সাথে পাঁচ মিনিট
প্রায় অন্ধকার কক্ষ। আলো বলতে শুধু জানালা থেকে আসা বিকেলের রোদ। বিছানায় দেখা যাচ্ছে একজন নব্যবৃদ্ধিপ্রাপ্ত মেদবিশিষ্ট চল্লিশোর্ধ পুরুষকে। তার শরীর থেকে নেমে আসা ঘাম মৃদু আলোতেও দেখতে কষ্ট হয় না, মাথার উপরে ফ্যান সর্বশক্তি নিয়ে ঘুরছে। একই সাথে তার হাতে একটা পাখাও দেখা যাচ্ছে, সম্ভবত তিনি ফ্যানের পরিচর্যায় সন্তুষ্ট নন। পরনের পাঞ্জাবিটা ঘামে পুরোপুরি ভেজা, অন্যহাতে লুঙ্গি ধরে আছেন। মাথায় টুপি আছে এখনো। খাটের উপর বসে আছেন তিনি,
বিস্তারিত»জন্ম নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গ
দেশের সরকার তো সেই আদ্দিকাল থেকে জন্ম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরা ই ব্যাস্ত। আজ এই পরিকল্পনা তো কাল ওই কর্মসূচি।কিন্তু বিধিবাম সব ক্ষেত্রে ই ব্যাপার টা হয়ে যাচ্ছে “বাঘের মত গর্জন করে ব্যাঙের মত লাফ”। অবশ্য অস্বীকার করব না যে আমাদের দেশের জন্ম নিয়ন্ত্রণ অনেকটা ই করা গেছে, যদি ও জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ব্যাপার টা এখন ও মারাত্মক হুমকি হয়েই রয়ে গেছে।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে “জনসংখ্যা বাড়লে সমস্যা টা কি?”
জানি যারা পড়ছেন তাদের কেউ কেউ already প্রস্তুত হয়ে গেছেন আমার এই কথাটার যথোপযুক্ত উত্তর দেওয়ার জন্য।
বিস্তারিত»রকিব হাসান থেকে সৈয়দ আবুল মকসুদ

তিন গোয়েন্দা যখন পড়া শুরু করলাম তখন আমি হয়ত ফোরে পড়ি।সারাদিন মাথা গুঁজে রহস্যের সমাধান পড়তাম আর কিশোর পাশাকে হিরো বানিয়ে ফ্যান্টাসিতে ভাসতাম।তিন গোয়েন্দা পড়ার আগে আমি তেমন একটা গল্পের বই পড়তাম না।ছোটবেলায় আমার সমসাময়িক সবাই যখন সারাদিন কার্টুন দেখে কিংবা কমিক পড়ে ফিক ফিক করে হাসে,আমি সেই সময়ে ব্যস্ত খেলাধুলা নিয়ে।অনেক ছোট থেকেই আমার ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা মারাত্মক।আমি আর আমার চেয়ে ৪ বছরের বড় চাচাতো ভাইটি বাড়ির উঠানকে মাঠ বানিয়ে প্রতিদিন সবাইকে যন্ত্রনা দিতাম।আরেকটু বড় হলে আমরা উঠানের পাশাপাশি বড় মাঠেও খেলা শুরু করলাম।আমার খেলার সাথী ছিল আমার বড় ভাইয়ের বন্ধুরা,আমি আমার বয়সী বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলা শুরু যখন আমার ভাইয়ের বন্ধুরা ক্রিকেট ছেড়ে ফুচকা খাওয়া কিংবা চায়ের দোকানে আড্ডা দেয়ার মাঝেই বেশি মজা খুজে পেল।আসলে আমার বয়সি ছেলেরা তখন বরফ-পানি বিংবা ছোয়াছোয়ি খেলা থেকে অবসর নিয়ে মাত্র ক্রিকেট ময়দানে নাম লিখিয়েছে।অবশ্য তাদের সাথে বেশিদিন খেলার সৌভাগ্য আমার হয়নি।ক্লাস ফোরে থাকতে আমি ঢাকায় চলে আসি আর বিদায় জানিয়ে আসি বাল্যবন্ধুদের।