জন্ম নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গ

দেশের সরকার তো সেই আদ্দিকাল থেকে জন্ম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরা ই ব্যাস্ত। আজ এই পরিকল্পনা তো কাল ওই কর্মসূচি।কিন্তু বিধিবাম সব ক্ষেত্রে ই ব্যাপার টা হয়ে যাচ্ছে “বাঘের মত গর্জন করে ব্যাঙের মত লাফ”। অবশ্য অস্বীকার করব না যে আমাদের দেশের জন্ম নিয়ন্ত্রণ অনেকটা ই করা গেছে, যদি ও জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ব্যাপার টা এখন ও মারাত্মক হুমকি হয়েই রয়ে গেছে।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে “জনসংখ্যা বাড়লে সমস্যা টা কি?”

জানি যারা পড়ছেন তাদের কেউ কেউ already প্রস্তুত হয়ে গেছেন আমার এই কথাটার যথোপযুক্ত উত্তর দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমি এই রকম ভয়ংকর প্রশ্ন করার সাহস পেয়েছি একটা আজব ব্যাপার চিন্তা করে।

আচ্ছা ধরুন দেশে কুকুরের সংখ্যা হঠাৎ অথবা ধীরেধীরে ভয়ংকর ভাবে বেড়ে গেল। সে ক্ষেত্রে কি করনীয়? Ultimate উত্তর আসবে “কুকুর নিধন প্রকল্প” শুরু করা। কথা টা লিখতে গিয়ে কলেজ এর কথা মনেপড়ে গেল। কি অদ্ভুত উপায়ে ই না কুকুর গুলো মারত, কত না কসরত।(জানি না অন্য কলেজ এ ব্যাপার টা হত কি না কিন্তু বকক তে মাঝে মাঝে ই কুকুরের পরিমাণ বেড়ে যেত,বাইরের কুকুরের অপপ্রবেশ কারনে।তাই সেখানে প্রায় ই কুকুর নিধন প্রকল্প নেয়া হত।) যা ই হোক এমন একটা ব্যাপার শুনেছি অস্ত্রেলিয়ায় নাকি ইতোমধ্যে শুরু ও হয়ে গেছে। সেখানে নাকি কি সব উপায়ে ক্যাঙ্গারু নিধন করা হচ্ছে,পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারনে। তো এবার আমাদের দেশে ই ফিরে আসি। ধরুন ব্যাপার টা কুকুরের ক্ষেত্রে না হয়ে ‘গাড়ি’র ক্ষেত্রে হল (বলা যেতে পারে ৪ চাক্কা গাড়ি)। বেশির ভাগ কুকুরেরই না হয় মালিকানা নাই, কিন্তু ওই ৪ চাক্কা গুলোর তো মালিকানা আছে, বরং এটা ই বলতে পারি ‘শক্তিশালী মালিকানা’। এদের তো আর কোন নিধন প্রকল্পের আওতায় আনা সম্ভব না। আসলে “গাড়ির ক্ষেত্রে হল” কথা টা বলার অবকাশ আর নেই। ব্যাপার টা ইতোমধ্যে ঘটে ই গেছে। মানুষ না হয় চিপায় চাপায় মাথাটা রাখতে পারলে ই হয়ে যায়,শরীরটাকে গুঁটিয়ে মুটিয়ে। গাড়ি তো আর সেভাবে রাখা সম্ভব না,যদি কিনা কোন বাঙালির মাথা থেকে কোন অভিনব বুদ্ধি না বের হয়। সেটা ভবিষ্যতের উপর ই ছেড়ে দিলাম। তাছাড়া মানুষের তো মৃত্যু আছে,অবধারিত। গাড়ীর তো আর মৃত্যু নাই। সংখ্যার তুলনায় খুব কম গাড়ি ই পরিত্যাক্ত বা নষ্ট হয়ে পরে থাকে। বরং বিদেশের পরিত্যাক্ত গাড়িগুলো তারা সূক্ষ্ম চালাকি করে আমাদের দেশে ই পাঠিয়ে দেয়, তা ও আবার অর্থের বিনিময়ে। সে কারণে ই বলি মাঝে মাঝে দেশে দাঙ্গা ফ্যাসাদের দরকার আছে। অন্তত কিছু গাড়ীর তো মৃত্যু (অপমৃত্যু) হয়। দেশে যেভাবে হয়ে ৪ চাক্কার পরিমাণ বাড়ছে যদি কখনও transformers মুভির মত transform হওয়া শুরু করে, আর যুদ্ধ ঘোষণা করে মানুষের বিরুদ্ধে তো আমরা যে  পুরো দৌড়ের উপর, ব্যাপার টা চিন্তা করেছেন।

এবার বলুন আমার প্রশ্নটা কি একেবারে ই অযৌক্তিক?

শেষে আমার কোন এক ফেসবুক বন্ধুর একটা স্ট্যাটাস না দিয়ে পারলাম না।

“বাংলাদেশের গাড়িগুলো যদি আকাশে উড়তে পারত, জ্যাম তবুও রয়ে ই যাবে”।

১,৩৪১ বার দেখা হয়েছে

১০ টি মন্তব্য : “জন্ম নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গ”

  1. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

    ঢাকায় গাড়ির সংখ্যা এতোওওও বাড়ছে। কালকে বিএনপির আগুন লাগালাগির কাহিনি শুনে লোকজন মনে হয় গাড়ি বের করতে ডর খাইছে। আর তাতেই সন্ধ্যার পর ঢাবি থেকে মিরপুর পর্যন্ত রাস্তা পুরা ফাঁকা!

    তবে এখন নাকি নতুন গাড়ির সিএনজি কনভার্সন বন্ধ করে দিসে। অবশ্য তাতেও লাভ হবে বলে মনে হয়না, বাঙালির এতো পয়সা যে প্লেনের ফুয়েল দিয়া চালাইতে হইলেও তারা গাড়ি চালানোর সামর্থ্য রাখে...

    জবাব দিন
  2. রেজওয়ান (১৯৯৪-২০০০)

    পুরোটাই ইচ্ছার ব্যাপার। বেইজিং এ একদিন জোড় গাড়ি, একদিন বেজোড় গাড়ি রাস্তায় বের হয়। সিংগাপুর এ গাড়ি কিনতে একটা ফ্লাট এর দাম দেয়া লাগে। হংকং এ গাড়ি পার্কিং এর ভাড়া ফ্লাট ভাড়ার সমান। আমাদের দেশেও কিছু একটা তো করাই যায়। শুধু ইচ্ছার ব্যাপার।

    জবাব দিন
  3. আমিনুল (২০০০-২০০৬)

    গাড়ি কমার কোন সম্ভবনা আমি দেখি না,দেশে উচ্চ মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত বাড়ছে,সাথে বাড়ছে গরীব।উচ্চ মধ্যবিত্তরা এখন গাড়ির জন্য রীতমত দৌড়াচ্ছে আর উচ্চবিত্তদের না বলাই শ্রেয়......স্ত্রী-সন্তানের মিলিয়ে ৩/৪ টা গাড়ি একেকটা পরিবারের।তবে দোষ এদের কাউকে দেয়া আমি নৈতিক মনে করি না,তারা ট্যাক্স দিয়েই ঘামের পয়সা দিয়ে গাড়ি কিনছে।আমি মনে করি মূল দায়িত্ব সরকারের,পাবলিক ট্রান্সপোর্ট কনভিনিয়েন্ট করতে পারলেই এই দশা থেকে খানিকটা মুক্তি পাওয়া যাবে।আর ঢাকায় মানুষের আসা যথাসম্ভব কমাতে হবে.........নাইলে একদিন গাড়ি শুধু না,আমাদেরই উড়ে চলতে হবে কিংবা বেইজিং এর মত জোড়-বিজোড় করে বের হতে হবে!!!

    জবাব দিন
  4. হায়দার (৯৮ - ০৪)

    পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এর অবস্থার উন্নতি হলে গাড়ির পেছনে মানুষ কম দৌড়াবে। অন্ততঃ সিএনজি ও ট্যাক্সি ক্যাব গুলা যদি নিয়ন্ত্রন করা যায়। এছাড়া প্রথম গাড়িতে ট্যাক্স স্বাভাবিক রেখে, একই পরিবার ২য় গাড়ী কিনতে গেলে অনেক বেশী করের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সিঙ্গাপুরে এমন নিয়ম আছে, ২য় গাড়ীতে প্রায় ৫ গুন বেশী ট্যাক্স দিতে হয়।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।