অসমাপ্ত…

ফজরের আজান শুনে ঘুম ভেঙ্গে যায় কাশেম আলীর। অযু করে নামায পড়ে সে। পাশে শুয়ে অঘোরে ঘুমাচ্ছে তার স্ত্রী আর চারটি ছেলেমেয়ে। কাশেম আলীর তিনটি মেয়ে আর একটি ছেলে। বড় মেয়েটির বয়স সতেরো, ছেলে মানিকের এগার আর বাকি দুই জমজ মেয়ের বয়স সাত বছর। নামায শেষে ডেকে তোলে তার স্ত্রীকে। বলে, “খাইতে দেও, আর মানিকরে ডাইকা তোল”।

ছেলেটির গায়ে ধাক্কা দিয়ে ডেকে তোলে তার মা।

বিস্তারিত»

আমার ব্যাচমেট দের জানাই ঈদ মোবারক

নতুন জুতা (সাদা ও কালো), নতুন স্যান্ডেল(চামড়ার ও স্পঞ্জ), জুতার কালি(সাদা ও কালো), জুতার ব্রাশ…। লিস্টে এগুলা দেখে আমি ভাবতেছিলাম পড়তে যাচ্ছি নাকি জুতা পালিশ করা শিখতে আল্লাহই জানে। সুঁই থেকে শুরু করে আন্ডারওয়ার সব কিছু নতুন নিয়ে ২০ইঞ্চি ট্রাভেলীং ব্যাগের ওজন প্রায় এক মণের কিছু বেশী বানিয়ে ১৯৯৮ সালের এই দিনে বিকেল বেলা স্বেচ্ছায় গিয়ে জেল খানায় ঢুকলাম। ঐ দিন এই সময়ে (দুপুর বেলা) পাবনা শহরে বসে বিরীয়ানী খাচ্ছিলাম আর বাপের দিকে তাকাইয়া তাকাইয়া ভাবতেছিলাম একটা লোক কতখানি হারামী হলে নিজের এতটুকুন নিস্পাপ ছেলেকে এরকম করে বাসা থেকে দূরে পাঠিয়ে দিতে পারে।

বিস্তারিত»

সমান্তরাল

কথা বলা ছাড়া অন্য কোনো কাজে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ব্যাপারটা আশরাফ সাহেব একদমই বোঝেন না। সবুজ বাটন চেপে কথা শুরু। আর লাল বাটন চেপে কথা শেষ। এর বাইরে মোবাইল ফোন বিষয়ে তার জ্ঞান ডাবল জিরো। তিন দশকের বেশি সময় ধরে সরকারি চাকরি করে অবসর নিয়ে এখন নামকরা প্রাইভেট কোম্পানিতে গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসে থাকা লোকটার ইংরেজি জ্ঞান খারাপ না। ছেলেরা ছোট থাকতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় গ্রামার বই নিয়ে বসতেন তিনি।

বিস্তারিত»

সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন ২০১৩ নিয়ে সম্পূর্ণ নিরাপদ(!!!) দূরত্বে থেকে কিছু কথা…

ফেইসবুক নোট থেকে কিছু সংযুক্ত-বিচ্চুতির পর তুলে দিচ্ছিঃ

সরকার ও সংবাদ মাধ্যমকে প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে শিরিষ কাগজ মোড়ানো বাঁশ দেয়ার জন্য একটি নোট লিখছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়লো সম্প্রতি পাশ হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০১৩ এর সংবাদটি। রৌদ্রজ্জ্বল আকাশে বজ্রপাতের মত মজাদার দুটো নতুন সংযুক্তি হিসেবে রয়েছেঃ ক) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসকের ক্ষমতা আরো খর্ব করা, এবং খ) ফেইসবুক, টুইটার, স্কাইপ, ইত্যাদি যেকোন যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য-উপাত্ত আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করা।

বিস্তারিত»

প্লট

রেডিওতে বিবিসি সংলাপ শুনছিল আসিফা।হঠাৎ কে যেন তার পাশে এসে বসল।অপরিচিত একটা কণ্ঠস্বর বলে উঠল, ‘আসিফা আপু।’

‘কে?’

‘আমাকে চিনবেন না আপু।আমি মার্জিয়া।পাঁচতলায় থাকি।ডাইনিংয়ে, ক্যান্টিনে, জামালের দোকানে আপনাকে প্রায়ই দেখি। আমার এক বান্ধবী- সুমনা, চেনেন বোধহয়।ও আমাকে বলল আপনার একজন ভলান্টিয়ার দরকার।’

‘হ্যাঁ আপু, তা তো দরকার।দু’জন আমাকে রেকর্ডিংয়ে সাহায্য করত। একজন বাড়ি গেছে। আরেকজনের পরীক্ষা। তা কখন কখন সময় দিতে পারবে ?

বিস্তারিত»

পুরুষ তুমি মানুষ হবে কবে

On Dress of Women 09.06.2013

কিছু তথাকথিত ‘পুরুষ’ মানুষ সামাজিক মাধ্যমে নারীর ছবি দেখলে ওড়না কিভাবে পড়া উচিত, মাথায় স্কার্ফ কিভাবে পড়তে হবে কিম্বা হিজাব পড়ার জন্য নারীদের ‘জ্ঞানদান’ শুরু করেন। ফেসবুকে আমার কন্যাসম এক তরুনীর একটি ছবিতে ওড়না নিয়ে এক ‘পুরুষ’-এর মন্তব্য পড়ে এতোটাই বিরক্ত ছিলাম যে মেয়েকে প্রশ্ন করলাম “তুমি প্রতিবাদ করলে না কেন?” জবাবে ও জানালো, লোকটি ওই রকমই। প্রতিবাদ করতে গেলে কথা বাড়ে।

বিস্তারিত»

একটি কান্না, অতঃপর আমার জয়……

ছোটবেলা থেকেই কেঁদে জিতে যাওয়া ব্যাপারটার সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। যখন তখন চোখের জল ফেলাটাকে আমরা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আমরা হার না মানা জাতি। কখনো কারো সাথে কোন কিছুতেই হেরে যেতে আমরা নারাজ। আমাদের মূলমন্ত্র যেন- “কর্মে যদিও হয় পরাজয়, কান্নায় জয় হবে নিশ্চয়”।

শৈশবে হয়তো মারামারিতে কারো কাছে হেরে গিয়েছি, কান্নায় কিন্তু ঠিকই জিত হয়ে গেছে। কিংবা বাবা-মায়ের কাছে আবদার করে কিছু পাইনি,

বিস্তারিত»

লেঃ মাহমুদ এবং আমাদের গল্প…

আমাদের গল্পটার শুরু গ্রীষ্মের কোন এক মধ্য দুপুর থেকে। অন্য দুপুরগুলোর মত সেই দুপুরটাও অলস হতে পারত, কিন্তু সেদিন দুপুরের অলসতার সুযোগ ছিল না। কারন সেই দুপুরে দেশের বিভিন্ন জায়গার,বিভিন্ন চেহারার কিছু ছেলের ‘আমি থেকে আমরা’ হবার দিনের সূচণা হতে চলেছিল।০৭ মে,২০০২ সালের সেই রৌদ্রজ্জল দুপুরকে সাক্ষী রেখে আমরা একে একে খাকী পোশাকে নিজেকে জড়াই, আর নিজের অজান্তে ৫৪টি মন কখন যেন নিজেদের মত করেই জড়িয়ে গেছে,

বিস্তারিত»

দুটি অনু পরমানু


মেঘলা আকাশে গুড় গুড় গর্জন
টিনের চালে অবিরাম বৃষ্টির শব্দ
দূর পাহাড় ঘেষে লেকে একা নৌকা
দরজার ও-পাশে একটি কুকুর
অমনোযোগে পেয়ালার চা হিম।


দিনের সময়ের সাথে বদলে যায়
আমার জানালা।
ভোরে মেঘে ঢাকা পাহাড়;
কেবল ছেড়েছে ঘুম ভেঙে আড়মোড়া ।
দুপুর রোদে সবুজ পাহাড়;
কাপ্তাই হ্রদের জলে নীলাভ সখ্যতা।

বিস্তারিত»

উত্তরাধিকার এর উইল সংক্রান্ত…

তোমায় করে যাচ্ছি
আমার ‘উত্তরাধিকার’।
আমার ভল্টে যতটুকু ভালো
তার ষোল আনাই পাবে তুমি।
আর কালিমাটুকুর সবটুকু
ট্র্যাভেলারস চেক করে
আমি চলে যাচ্ছি আজ।

জীবনের সব পাপগুলো শুষে নিয়ে
তোমায় দিয়ে গেলাম বিশুদ্ধ শুভ্রতা।
উইলে লিখে দিয়েছি তোমার নামে
আমার মরে যাওয়া স্বপ্ন গুলো।
ইচ্ছে মত ডানা মেলতে দিও ওদের।
বিদায় নেবার আগে তাই আমার
এহেন প্রথাগত সৌজন্যতা।

বিস্তারিত»

আমঃ গ্রাম থেকে অফিসে!

আমাদের ছোট বেলায় মে জুন মাসের দিকে ১ মাসের একটা ছুটি পাওয়া যেত। সেই ছুটি আমাদের কাছে আম কাঠালের ছুটি নামে পরিচিত ছিল। নানা বাড়ী গিয়ে আম কাঠাল খাওয়া ছাড়া আরো যে কাজটি আমরা তখন করতাম সেটা হল নিজের এলাকায় গাছ গাছালির নিয়মিত খোজ খবর রাখা। কোন বাড়ীতে কয়টা আম গাছ আছে, কয়টাতে এবার আম এসেছে, কোন গাছের আম কেমন এসব বিষয়ে আমরা তখন বিশেষজ্ঞ হয়ে যেতাম।

বিস্তারিত»

সাবান

কলিং বেলের শব্দে কিছুটা বিরক্ত হয় শারমিন। আজ শনিবার। ছুটির দিন। ছুটির দিনে বাসায় অপরিচিত কেউ আসেনা। পারভেজ এই দিন বাসায় থাকে। সারাদিন পারভেজকে নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়। ঘর গোছানো,টুকটাক রান্না বান্না। এছাড়া ইদানিং আরো একটা কাজ বেড়েছে। ছোট কাঁথা সেলাই করা। অসময়ে মাথা ব্যথা আর বমি বমি ভাব জানান দিচ্ছে ভালোবাসাবাসির প্রথম ফুল ফুটতে বেশি দেরি নেই। শারমিন বিরক্ত ভাব নিয়ে দরজা খুলল।
আরে তুমিহ?

বিস্তারিত»

“অবশ অনুভূতির চিঠি”

জানালার বাইরে ছিল অতি সাধারণ সবকিছু। একটি সবুজ ধানক্ষেত, আমের বাগান কনক্রিট রোড, ধুপি শপ, রেশন স্টোর, পানির ট্যাংক। প্রথম দিন যেমন নতুনত্ব ছিল সেদিনটাও কোন পার্থক্য ছিল না অনুভবের। জানালায় একবার দাড়িয়ে শেষবারের মত দেখলাম আমার ছবির ফ্রেমটা। জীর্ণ অথবা রংয়ের যত্নে লুকিয়ে থাকা রডগুলো ছুঁয়ে মনে হল ক্ষুদ্র অথচ প্রাণের কিছু অংশ রেখে যাচ্ছি। গতকাল রাত থেকে আমার অনুভুতিগুলো অনেকটা্ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

বিস্তারিত»

ক্যাডেট কলেজ প্রাচীর

১) একবার দুইজন ক্যাডেট রাতের অন্ধকারে কলেজের প্রাচীর টপকে গেল সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে। হাউসে ফিরে আসার সময় তাঁরা হাউসের পেছনে এসে উঁকি মেরে দেখলো যে হাউসের সামনে হাউস বেয়ারা আর একজন স্টাফ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গল্প করছেন। ক্যাডেট দুইজন ভাবলো যে, চোরের মন পুলিশ পুলিশ না করে স্বাভাবিকভাবে হাউসে প্রবেশ করলে তাদেরকে কেউ কিছুই বলবে না। এই ভেবে তাঁরা হাউসের পেছন থেকে বেরিয়ে এসে হাউসে ডুকতে যাচ্ছিলো।

বিস্তারিত»

বুক পকেট

সকাল সাড়ে সাতটা। বিছানায় উপুড় হয়ে ঘুমাচ্ছে সোহেল। সুমন এসে গায়ে ধাক্কা দিয়ে ডাকে, “এই সোহেল ওঠ, ক্লাসে যাবি না?” সোহেল ঘুমের মধ্যে উত্তর দেয়, ‘‘না দোস্ত, প্রক্সিটা দিয়ে দিস’’। ‘‘ঠিক আছে, তুই ঘুমা শালা’’ বলে রুম থেকে বেরিয়ে আসে সুমন।

ক্লাস আটটায়। হল থেকে ক্লাসে যেতে সময় লাগে ৫-৭ মিনিট। মাঝখানে ক্যান্টিনে নাস্তা করতে হবে তাই একটু আগেই বের হয় সে। দুটো পরোটা আর একটা ডিম ভাজি দিয়ে নাস্তা করতে করতে সারা দিনের একটা কাজ কর্মের একটা পরিকল্পনা করে ফেলে সুমন।

বিস্তারিত»