০৪/০৭/২০১৩ এই দিন টিতে আমি আমার জীবনের তিনটি নতুন আনন্দময় মুহূর্তের সন্ধান পেয়েছিলাম।
১মঃ আমি লেখক হিসেবে খুব ভাল না হলেও আমি অনেকদিন ধরেই লেখার মতো কোন প্লট পাচ্ছিলাম না। ধন্যবাদShuvro Saleh আমাকে সুন্দর একটি প্লটের সন্ধান দেবার জন্য,( যা আমার জীবনের একটি ক্ষুদ্র সময়ের সঙ্গে মিলে যায় )।
২য়ঃ আমি আমার জীবনে প্রথম বারের মতো দুর্ঘটনায় মারাত্মক অসুস্থ একজন রোগীর জন্য রক্ত দান করলাম।
বাংলাদেশে এখন গণমাধ্যম, বিশেষ করে অনলাইন গণমাধ্যমের যুগ চলছে। দেশে বর্তমানে কত শত যে অনলাইন পত্রিকা আছে তার কোনো হিসাব নেই। হাতে কিছু টাকা হলেই যে কেউ একটি মিডিয়া হাউসের মালিক হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সংবাদজগৎ এবং পাঠক সমাজের কতটা উপকার হচ্ছে জানি না, তবে হলুদ সাংবাদিকতার প্রকোপ বাড়ছে। একটাই কারন, প্রতিযোগিতা। শত শত অনলাইন পত্রিকার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে, বিজ্ঞাপন পেতে হলে অবশ্যই আলেক্সা র্যাংকিং-এ উপর দিকে থাকতে হবে।
২০০২ থেকে ২০০৮।আমার ক্যাডেট লাইফ।ভালোয় মন্দে মিশিয়ে কেটেছে জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর এই ছয়টি বছর।যেকোন ক্যাডেটের এই ছয়টি বছর কাটে অনেক ঘটনাবহুল।আমিও ব্যাতিক্রম না,মাঝে মাঝে মনে হয় আমার ক্যাডেট লাইফ একটু বেশিই উরা-ধুরা।কলেজের গল্প করতে কার না ভালো লাগে?ছয় বছরের ছোট ছোট ঘটনা নিয়ে আমার এই সিরিজ ‘ক্যাডেট কলেজ কড়চা’।আগেই বলে নেই ঘটনাগুলো ক্রমানুসারে সাজানো নয়।যেটা আগে মনে আসবে সেটাই লিখবো আগে।
আমাদের (২০০২-০৮) ছয়টি বছর কেটেছে আফসোস করতে করতে।আমরা কলেজে গিয়েই শুনেছি বের হয়ে যাওয়া ব্যাচগুলোর দুর্ধর্ষ কাজকর্মের কথা,শুনেছি কলেজ পালিয়ে মরডান মোড়ে গিয়ে শাবনুরের সিনেমা দেখে পুষ্টির মিষ্টি নিয়ে কলেজে ফেরার কথা,শুনেছি আগের এক্স ক্যাডেটদের বীরের মতো জুনিয়র পিটানোর কথা।তারা নাকি জাম্বুরা,কাঁঠাল,পেয়ারা এমন কোন ডাল নেই যা দিয়ে জুনিয়র পিটায় নাই।আমরা না পারছিলাম আগের ক্যাডেটদের মতো দুঃসাহসী হালাকু খাঁ হতে,
একটা গান শুনছি বেশ কয়েকদিন ধরে। রবীন্দ্রনাথ এর “আমার মন কেমন করে……”। ঘুরে ফিরে বারবার শুনছিলাম গানটা। শুনতে শুনতে আমারও মন কেমন করে উঠছিলো। জানিনা গানটি লেখার সময় রবিঠাকুরের মন তার প্রেমিকা কিংবা কোন আপনজনের জন্য কেমন করছিল কিনা। কিন্তু আমার ‘মন কেমন’ করে উঠছিলো কিছু তুচ্ছ, ক্ষুদ্র জিনিসের জন্য। আমাদের সবারই এই রকম অসংখ্য মন কেমন করা স্মৃতি আছে। এই জিনিসগুলো আমরা নিজেরা ছাড়া আর কেউ বোঝেনা;
#কলেজে প্রায় ই কঠিন কোনো পরীক্ষার দিন সকালে ক্লাসরুমে এসে একটা মৃদু অসন্তোষের গুঞ্জন শোনা যেত।আস্তে আস্তে সেই গুঞ্জন টা একটা তীব্র আন্দোলনে রূপ নিত। আমার মতো সেই সমস্ত ক্যাডেট যারা “ওস্তাদের মাইর শেষ রাতে” এই মতবাদে বিশ্বাস করে তারা পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে চিল্লা চিল্লি শুরু করতো । এরপর নানা দিকে কাহিনীর জল গড়াতো। একশন কমিটি গঠন করা হতো। এই পার্টি থেকে যথাযথ দিক নির্দেশনা দেওয়া হতো।
-‘শামীম, তোমার ছেলের যে বয়স তাতে করে গিফট বা এই জাতীয় কিছু দিয়ে তুমি মন জয় করতে পারবে না।‘ ডিপার্টমেন্ট এর ক্যাফেটারিয়াতে বসে কফি খেতে খেতে বললেন ডঃ আনিসুজ্জামান। শামীম হাসানের চেয়ে সিনিয়র হলেও তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান।
-তাহলে আপনিই বলুন, আমার কি করা উচিৎ…
-প্রতিটি ছেলের কাছেই তার বাবা হচ্ছে তার প্রথম হিরো।
আধাসামরিক ক্যাডেট কলেজে বেসামরিক প্রেমিকা থাকা শুধু কষ্টের নয়, ভয়াবহ কষ্টের।প্রতিবার ছুটির শেষে প্রিয়
মানুষটিকে ফেলে কলেজে যেতে অনেক কষ্ট হয়।ক্যাডেট কলেজ, সে এমন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, যেখান থেকে মুক্ত পৃথিবীর খোঁজ নেয়া অসম্ভব প্রায় । আর্মি হেড কোয়ার্টারের স্বেচ্ছাচারিতায় মুঠোফোনের বেতার তরঙ্গ তখনো জায়গা করে নিতে পারেনি ক্যাডেট কলেজের সেই চৌহদ্দিতে। তবুও সমস্ত কলেজ প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে কখনো আন্ডারগার্মেন্টস এর নিচে,কখনো মোজার ভেতর,মোটা বইয়ের পৃষ্ঠা কেটে,ব্যাগের কোনায়,এংলেটের মধ্যে,
ভাগ্যের নির্মমতায় আর চারপাশের মানুষের পরিহাসে
জানটা যখন ফালা ফালা, একা কাইন্দা-কুইট্যাঁ শেষ;
কালা-খোদার কাছে চিৎকার কইরা কাইন্দাও ফায়দা নাই,
তাই ভাবতে ভাবতে নিজের ভাগ্যটারেই দেই অভিশাপ।
ক্যান যে আমার কপালটা ঐ লোকগুলার মতো হইল না:
তাদের আছে ধন-মান, চেহারা-সুরত, কিংবা বন্ধু-ভাগ্য;
বাঞ্ছা করি অমুকের মতো দক্ষতা, তমুকের মতো ক্ষমতা,
১।
-হাই ড্যাড, কেমন আছো?
প্রশ্নটা শুনে শামীম হাসান কিছুটা থতমত খেয়ে গেলেন। একমাত্র সন্তানের সাথে তিনি কখনোই তেমন আন্তরিক বা বন্ধুত্বপূর্ণ হতে পারেন নি। অনেকবারই চেষ্টা করেছেন কেয়ারিং বাবা হবার জন্য, কিন্তু ছেলের সাথে ‘লিটল টক’ দিয়ে আলাপ শুরু করতে গেলে এমন অবাক ও বিস্ময়মাখা এক্সপ্রেশন দেখেছেন যে কথা আর বেশি দূর কখনো এগোয় নি। আজ শিমুলের আকস্মিক এই পরিবর্তন কিছুটা অবাক হবার মতন বৈকি!
হাতে ব্লেড নিয়েও চামড়ায় বসায় আর কয়জন! আমরা আসলে ভাবিই এভাবে… কিন্তু বসায়,অনেকেই বসায়। প্রতি স্কুলে, প্রতি কলেজে, প্রতি ভার্সিটির কোন না কোন ক্লাসে দুই একটা ছেলে বা মেয়ে থাকবেই যারা এই জিনিস নিজেদের কোমল হাতে এপ্লাই করে ফেলেছে, যারা বন্ধুরা “মুড়ি খা” বললে মুড়ি খাবার বদলে ঘুমের ওষুধ গিলেছে। বোকা বাচ্চাগুলো বোঝেনা বন্ধুরা বা মা বাবা মুড়ি খা” বললে মুড়িই খেতে হয়, “দূরে গিয়ে মর”
– অ্যাই অন্তু! নামবি না?
বারান্দার রেলিঙ এ গাল ঠেকিয়ে বৃষ্টি দেখছিল অন্তু। নিজের নাম কানে আসতেই নিচের দিকে তাকাল। পাশের বিল্ডিঙের রাকিব ডাকছে ওকে।
– বৃষ্টির ভেতর নিচে নেমে কী করবো? খেলা হবে নাকি? আর কেউ নেমেছে খেলতে?
– পলাশ ভাই ব্যাট বল নিয়ে উনাদের সিঁড়িতে বসে আছে। চার পাঁচজন হলে শর্ট পিচ খেলা হবে।
– দাঁড়া দেখি আম্মা নামতে দেয় নাকি
বিধাতা কিংবা প্রকৃতি যাই বলি মানুষ কে বাঁচতে শেখায় যুদ্ধ করে। মাঝে মাঝে অবাক লাগে যে অসম কোন কিছুই প্রকৃতি মেনে নেয়না । নর-নারীর প্রেম প্রকৃতির বিধানের অদ্ভুত এক রহস্যময় দিক।
আবেগ খুব তাড়া করে মাঝে মাঝে। অদ্ভুত সেই অসম প্রেমের গল্প। নায়ক নায়িকা নেই,আছে শুধু পাগলামি,উষ্ণতার অনুভূতি। চোখ বন্ধ করে নেয়া চুলের মিষ্টি গন্ধ কিংবা কাছের বান্ধবীর কাছে শোনা নির্ঘুম রাতের কথা ;
ঘটনা ১ : ডিনার এ গেলাম ডাইনিং এ। দুপুরে ইউএস গভর্নমেন্ট এক্সাম ছিল। পরীক্ষা থাকলে যা হয় আরকি ! পেটের ভেতর অদ্ভুত কিছু আওয়াজ হচ্ছিল। খাওয়া দাওয়ার রুচি কমে গিয়েছিল ভয় এর চোটে! তাই পরীক্ষার এই সীমাহীন টেনশনে লাঞ্চ ই করা হয় নাই ! সো ডিনারের সময় বিশাল ক্ষুধার্ত অবস্থায় টেবিল আসলাম। টেবিলে বসে দেখি একটা স্পেশাল টাইপের সুপ সার্ভ করা। আমার স্কোয়াড লিডার আমাকে বললো ওটা টেস্ট করতে।
আমাদের কলেজে সিনিয়রদের মজা করার একটা কমন ট্র্যাডিশন ছিলো প্রথমে ভুত-প্রেত অশরীরী আত্মার কাহিনি পিচ্চি পোলাপানের মাথায় শক্তভাবে গেঁথে দেওয়া এবং এরপর প্রাক্টিক্যালি ভয় দেখানো। তাই আমরা প্রায়ই রাতের বেলায় সাদা কাপড় পরা অশরীরীদের ব্লকে হাঁটতে দেখতাম,আমাদের জানালায় টোকা মারতে দেখতাম এবং ছাদে প্যারেডের ধুপধাপ আওয়াজ শুনতাম।এগুলো আসলে কারা করতো তখন বুঝতে পারি নাই।
যাইহোক, এরকম ঘটনা ঘটলে কি ক্লাস সেভেনের পোলাপান রাতে ঠিকমতো ঘুমাইতে পারে?
মাঝে মাঝে মনে হয় ভালবাসার মত জিনিসগুলো অপরাধের পর্যায়ে পড়ে যার শাস্তি অপরাধীকে ব্রাশ ফায়ার করে মেরে ফেলা । ব্রাশ ফায়ার করার কেউ ছিলনা তো ভেতরেই কাজ যা হওয়ার শেষ !
কি অদ্ভুতই না ছিল আবেগ গুলো। জানো তো আবেগপ্রবণ মানুষ গুলোকে নিয়েই বিপদ। পাওয়ার তালিকাটা হিসাবেই আনেনা কখনো । ভাল থাকে দেয়ালের উপর একসাথে বসে থাকায়,শেয়ার করা ফুচকায় ,আড্ডায় ,কবিতায় , ডিফারেন্সিয়েশন এর ম্যাথ বুঝানোর আড়ালে বাসায় গিয়ে বসে থাকায়,কাঁটাবন এ মাছ না খরগোশ কে কোনটা নিবে সেই ঝগড়ায়,কিংবা ওই যে মনে পড়ে কি শাহবাগ মোড়ের ফুলের দোকান গুলোর কথা…সেদিন গিয়েছিলাম জানো?